মেজর ডালিম বাংলাদেশের ইতিহাসের না বলা সত্যকে জানুন

 

 

 
 
..ডালিম বলছি
..যা দেখেছি যা বুঝেছি যা করেছি
..জীবন বৃত্তান্ত
..সমসাময়িক ভাবনা
..প্রকাশিত বইসমগ্র
..কিছু কথা কিছু ব্যাথা
..ইংরেজী ভার্সন    
 

গোজাডাঙ্গার না ভুলা স্মৃতি

 
   
 

পশ্চিমবঙ্গের ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী শহর বশিরহাট। শহরের প্রান্ত ঘেষে বয়ে চলেছে ইছামতি নদী। নদীর অপর তীরে গোজাডাঙ্গা BSF এর মোর্চা। BSF মোর্চা ছাড়িয়ে সীমান্ত বরাবর একটা বাধঁ। বাধঁ পেরিয়ে গেলেই সীমান্তের ওপারে ভোমরা বিওপি। বাধঁটাতে স্থাপন করা হয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের দুর্ভেদ্য ডিফেন্স। বাধেঁর অদূরেই একটি আম্রকুঞ্জে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্প। কমান্ডার ক্যাপ্টেন সালাহ্‌উদ্দিন। আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও একজন দুর্ধর্ষ মুক্তিযোদ্ধা। প্রায় শ’পাচেঁক মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে গোজাডাঙ্গা ক্যাম্প। পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্তের ভেতর বাধেঁর উপর মুক্তিযোদ্ধাদের দুর্ভেদ্য ডিফেন্সকে উৎখাত করার বারংবার হামলাকে ব্যর্থ করে দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা সমুন্নত রেখেছে জানবাজ মুক্তিযোদ্ধারা। এপ্রিল মাস থেকে মুক্তিযুদ্ধ শেষ হওয়া পর্যন্ত এ অবস্থান থেকে অনেক চেষ্টা করেও খানসেনারা স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা নামাতে পারেনি। তাদের প্রত্যেকটি আক্রমণকেই বিপর্যস্ত করে দিয়েছে মুক্তিযোদ্ধারা।

আমি তখন ৮নং সেক্টরে গেরিলা এ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করছিলাম। হঠাৎ একদিন ক্যাপ্টেন সালাহ্‌উদ্দিন জরুরী তলব করে পাঠাল। বনগাঁ হেডকোয়াটার্স থেকে বন্ধু ও সহযোদ্ধা সিএসপি কামাল সিদ্দিকীকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে উপস্থিত হলাম গোজাডাঙ্গায়। সেখানে পৌছে দুপুরের খাওয়া খেয়ে বসলাম আমি, সালাহ্‌উদ্দিন ও কামাল। জরুরী তলবের কারণ জিজ্ঞেস করলাম সালাহ্‌উদ্দিনকে। ও বলল, একটা কঠিন অপারেশনের কথা ভাবছে সে। ওই ব্যাপারে আমার সাথে পরামর্শ করার জন্যই ডেকেছে আমাকে। অপারেশনটা জটিল এবং দুরুহ।

ভোমরা থেকে ৫মাইল ভেতরে মাহমুদপুর গ্রামের স্কুল প্রাঙ্গনে পাক আর্মির কোম্পানী হেডকোয়াটার্স। সেটাকে রেইড করার কথা ভাবছে সালাহ্‌উদ্দিন। উত্তম প্রস্তাব। একটা শক্তিশালী Fighting Petrol নিয়েই এ অপারেশন করতে হবে। সালাহ্‌উদ্দিন মেনে নিল আমার প্রস্তাব। ঠিক হল ৫০জনের একটা Fighting Petrol নেয়া হবে। হাতিয়ার হিসেবে থাকবে এলএমজি, ষ্টেনগান এবং রকেটলাঞ্চার। দলের দুই-তৃতীয়াংশ দিয়ে গঠিত হবে ফাইটিং গ্রুপ। এক তৃতীয়াংশ দিয়ে গঠন করা হবে কভারিং গ্রুপ। গোয়েন্দাদের খবর অনুযায়ী ব্যাটালিয়ন হেডকোয়াটার্সকে পাহারা দিচ্ছে দু’টি প্লাটুন। হেডকোয়াটার্স কোম্পানীর তৃতীয় প্লাটুনটি এগিয়ে এসে বিওপি থেকে মাহমুদপুর যাবার একমাত্র রাস্তার উপরে পজিশন নিয়ে অবস্থান করছে। ঠিক হল মূল সড়ক দিয়ে যাওয়া হবে না। শত্রুপক্ষের ডিফেন্স এড়িয়ে সোজা টার্গেটে পৌছাতে হবে আমাদের।
 
বাধেঁর পর বিশাল এলাকা নিয়ে বিস্তৃত দাতভাঙ্গার বিল। শ্বাপদসংকুল পদ্ম ও শাপলায় ছাওয়া দাতভাঙ্গার বিলের কোথাও কোমরপানি আবার কোথাও গলাপানি। জলজ উদ্ভিদের দাম ঠেলে নৌকায় যাওয়া সম্ভব নয়। যেতে হবে হেটে। বর্ষাকাল। বিলের এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের হদিস মেলা ভার। তার উপর দিয়ে হেটে পাড়ি দিতে হবে। সাথে অবশ্য থাকবে অভিজ্ঞ গাইড। বিপদসংকুল জেনেও এ পথই এখতিয়ার করার সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা। এ পথে গেলেই সম্ভব হবে খানসেনাদের চোখে ধুলো দিয়ে টার্গেটে পৌছানো। ঠিক হল রাত দশটায় যাত্রা শুরু করা হবে। টার্গেট এট্যাক করা হবে শেষ রাতের দিকে।

দুপুরের পরই আকাশে কালো মেঘের ঘনঘটা দেখা দিল। সন্ধ্যার আগেই শুরু হল বৃষ্টি। কালো আকাশ চিরে বিদ্যুৎ ও বর্জ্রের ঘনঘটা। ঝড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টি। এর মাঝেই যেতে হবে আমাদের। প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের জন্য আল্লাহতা’য়ালার রহমত। এ ধরণের দুর্যোগ আমাদের টার্গেটে নিরাপদে পৌছাতে সাহায্য করে। ঠিক হল আমি হব ফাইটিং গ্রুপ কমান্ডার। সালাহ্‌উদ্দিন হবে কভারিং গ্রুপ কমান্ডার। যদি আমাদের কোন বিপদ ঘটে তবে কামালের নেতৃত্বে যাবে রি-ইনফোর্সমেন্ট; আমাদের সাহায্যার্থে।

সময়মত রাত দশটায় দুর্যোগের মধ্যেই বিস্‌মিল্লাহ বলে শুরু হল আমাদের যাত্রা। গাইড চলেছে আগে আর আমরা সবাই চলেছি নিঃশব্দে তার পেছনে। প্ল্যানিং করার সময় হেটে বিল পাড়ি দেবার ব্যাপারটা যত সহজ মনে করেছিলাম বাস্তবে ঠিক ততটাই কঠিন প্রতিপন্ন হল। অত্যন্ত দুর্গম পথ। কোমরপানি, গলাপানি, নিচে নরম কাদাঁ আর কাটার দাম। এর মধ্য দিয়ে নিজেকে বয়ে নিয়ে যাওয়া অতি কষ্টকর। কাটাঁর আচঁড়ে পা দু’টি ক্ষতবিক্ষত হয়ে যাচ্ছিল। প্রথম প্রথম অসহ্য যন্ত্রনা হচ্ছিল। কিন্তু কিছুদুর অতিক্রম করার পর পা দু’টো প্রায় যেন চেতনাহীন হয়ে পড়ল। ফলে জ্বালা-যন্ত্রনা অনেকটা গা সহা হয়ে এল। মুখবুঝে এগিয়ে চলছিলাম। মাথার উপর কালো মেঘে ঢাকা আকাশ। বাতাসের শো শো শব্দ, আচমকা বিদ্যুৎ ও কানফাঁটা বর্জ্রের গর্জন। বিদ্যুৎ এর আলোয় আমরা পথ দেখে এগুচ্ছিলাম। পথের শেষ নেই। দুর্গম প্রকৃতির সাথে যুদ্ধ করে এগিয়ে চলেছি আমরা এক আকাশ বৃষ্টি মাথায় করে। চারিদিকে অন্ধকার। ঝড়বৃষ্টির আলোড়ন, বিলের পানির ঢেউ এর ছলাৎছলাৎ শব্দ মিলিয়ে এক অদ্ভুত পরিবেশ। মাঝেমধ্যে আমাদের পায়ের শব্দে উড়ে যাচ্ছে দাম কুচড়িতে লুকিয়ে থাকা কোন নাম না জানা পাখি। পদ্ম-শাপলার ঝোপে কোথাও জ্বলছে আর নিভছে আলেয়া। এভাবে প্রায় চার ঘন্টা একনাগাড়ে হেটে আমরা বিল পেরিয়ে একটা গ্রামে এসে পৌছালাম। গ্রামের প্রায় সবগুলো বাড়িই দেখলাম খালি। গাইড জানালো বর্ডার এলাকার গ্রাম। খানসেনাদের অত্যাচারে সবাই পাড়ি দিয়ে আশ্রয় নিয়েছে সীমান্তের ওপারে শরনার্থী শিবিরে। এ গ্রামটার পরেই মাহমুদপুর। রাত তখন দু’টোর বেশি। একটি খালি ঘরে আমরা সবাই কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেবার জন্য অবস্থান গ্রহণ করলাম। সে বাড়িটাকেই ঠিক করা হল আমাদের RV হিসেবে। কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর আমি ও সালাহ্‌উদ্দিন আরো দু’জনকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম টার্গেট রেকি করতে। গাইড রয়েছে সাথে। ও আমাদের পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল। গভীর রাত তাই সমস্ত গ্রামটাতেই কেমন যেন একটা অদ্ভুত নিঃস্তব্দতা বিরাজ করছিল। দু’একটা কুকুর পথে ঘেউ ঘেউ করে উঠল। এছাড়া কোন সাড়া শব্দ ছিল না। আমরা অতি সর্ন্তপণে এগিয়ে চললাম বাড়ি ঘরের মধ্যে দিয়ে পায়ে চলার পথ দিয়ে। আধঘন্টার মাঝেই পৌছে গেলাম মাহমুদপুর গ্রামের স্কুল ঘরের কাছে।

একটা দোচালা টিনের ঘর। ঘরটি দক্ষিনমুখী। সামনে একটি মাঠ। সেখানে রয়েছে ৭/৮টি তাবু। মাঠের প্রান্ত ঘেষে ডিস্ট্রিক বোর্ডের রাস্তা পশ্চিম দিকে সোজা চলে গেছে ভোমরা পর্যন্ত। রাস্তার পর রয়েছে একটি দিঘী। দিঘীর উত্তর পাড়টা মাঠের মুখোমুখি। বেশ উচুঁ। ঠিক করলাম ডিস্ট্রিক বোর্ডের রাস্তা পার হয়ে ফাইটিং গ্রুপ পজিশন নেবে দিঘীর পাড়ে। সেখান থেকেই আচমকা হামলা পরিচালনা করা হবে রকেটলাঞ্চার এর সাহায্যে। কভারিং গ্রুপ ডিস্ট্রিক বোর্ডের রাস্তাকে কভার করে স্কুল ঘরের পশ্চিম এবং পূর্ব দিকে অবস্থান নিয়ে প্রস্তুত থাকবে যেকোন রি-ইনফোর্সমেন্ট এর মোকাবেলা করার জন্য। একই সাথে তারা খতম করবে পলায়নকারী খানসেনাদের। রেকি শেষে আমরা ফিরে এলাম RV -তে।
 
পরিকল্পনা অনুযায়ী আমরা দু’টি ভাগে বিভক্ত হয়ে পৌছালাম টার্গেটে। আমি আমার দল নিয়ে রাস্তা পেরিয়ে পৌছে গেলাম দিঘীর পাড়ের নির্দিষ্ট জায়গায়। সালাহ্‌উদ্দিনরা পৌছে গেল তার নির্দিষ্ট জায়গায়। রাত তখন পৌনে চারটা। সবাই শেষবারের মত যার যার হাতিয়ার চেক করে তাক করে থাকল চুড়ান্ত অর্ডারের জন্য। হুকুম দিলাম, ফা-য়া-র! সঙ্গে সঙ্গে দু’টো লাঞ্চার থেকে বেরিয়ে গেল দু’টি রকেট। অব্যর্থ নিশানা। সম্পূর্ণ স্কুলটা আগুনের পিন্ড হয়ে জ্বলে উঠল। একই সাথে এলএমজি-গুলো অবিশ্রান্ত গুলি বর্ষণ করে চলল তাবুগুলো লক্ষ্য করে। রকেট লেগে তাবুগুলোতেও আগুন ধরে গেল। শত্রুদের মধ্যে মরণের হাহাকার শুনতে পেলাম। তাদের তরফ থেকে কিছু পাল্টা ফায়ারিংও হল। তবে সেটা অল্পক্ষণের জন্য। দৌড়াদৌড়ি হচ্ছে দেখতে পেলাম। আহত ব্যক্তিদের যন্ত্রনার কাতরানিও শুনতে পেলাম। হঠাৎ করে সালাহ্‌উদ্দিনের গ্রুপের ফায়ারিং এর আওয়াজ শুনতে পেলাম। বুঝতে পারলাম পালিয়ে যাবার চেষ্টা যারা করছিল তাদের খতম করছে সালাহ্‌উদ্দিনের দল। টার্গেট নিউট্রেলাইজড হয়ে গেল। আমাদের দখলে চলে এল পুরো হেডকোয়াটার্স। কোম্পানী কমান্ডারসহ বেশ কয়েকটি মৃত সৈনিকের লাশ খুজেঁ পেলাম। প্রায় ১১জন আহত সৈনিককে বন্দি করা হল। বিপুল পরিমান অস্ত্রশস্ত্র কব্জা করলাম আমরা। পূবের আকাশ তখন কিছুটা ফর্সা হয়ে এসেছে।

আমরা ফিরে এলাম আমাদের ক্যাম্পে। ফিরে এসে দেখি কামাল অধীর আগ্রহ এবং উৎকন্ঠা নিয়ে আমাদের ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে। তার কাছ থেকে জানতে পারলাম আমাদের অপারেশনের আগুনের পিন্ড গোজাডাঙ্গার ক্যাম্প থেকেও দেখা গেছে পরিষ্কার। গোলাগুলির শব্দও শোনা গেছে। অপারেশনের সাফল্যে অতি উত্তম প্রাতঃরাশের ব্যবস্থা করা হয়েছিল সেদিন।

আমাদের রেইডের সাফল্যে অত্যন্ত ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে পাক বাহিনী। প্রতিহিংসার জিঘাংসায় এক সপ্তাহের মধ্যে দু’দুবার ব্রিগেড এট্যাক পরিচালিত করে ওরা আমাদের গোজাডাঙ্গা ডিফেন্সের উপর। লোমহর্ষক সংঘর্ষ ঘটে। প্রচুর হতাহত হয় দু’পক্ষেই। মুক্তিযোদ্ধাদের হাতিয়ারের নল অবিশ্রান্ত ফায়ারিং এর ফলে ফেটে চৌচিড় হয়ে যায়। তবুও পিছু হটেনি একজন মুক্তিযোদ্ধাও। প্রচন্ড আক্রমণকে প্রতিবারই বানচাল করে দেয় ওরা। বিশাল ক্ষয়ক্ষতির পরিপ্রেক্ষিতে দু’বারই হানাদার বাহিনীর আক্রমণ ব্যর্থ হয়ে যায়। মুক্তিযোদ্ধাদের এককথা - সবাই প্রাণ দেবে কিন্তু পিছু হটবে না কিছুতেই। বাংলার মাটিতে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা সমুন্নত রাখবে যেকোন ত্যাগের বিনিময়ে। তাদের ত্যাগ, তিতিক্ষা, আত্মপ্রত্যয় ও অকুতোভয় চারিত্রিক দৃঢ়তার কাছে মাথা নিচু করতে বাধ্য হয়েছিল পরাক্রমশালী হানাদার প্রতিপক্ষকে।
 
সংগ্রামকালে মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে যে অসীম প্রাণশক্তি ও দেশপ্রেমের সৃষ্টি হয়েছিল তা স্বাধীন বাংলাদেশে স্বীকৃতি লাভ করেনি। ক্ষমতাসীন তৎকালিন সরকারের বিশ্বাসঘাতকতায় তারুণ্যের সেই অমূল্য জীবনশক্তিকে হতাশার অন্ধগলিতে পথভ্রষ্ট করে দেয়া হয় অতি কৌশলে। যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশে সুষ্ঠ পরিকল্পনার মাঝে মুক্তিযোদ্ধাদের দেশ গড়ার কাজে না লাগিয়ে দলীয় স্বার্থ ও বিদেশী প্রভুদের নীলনকশা বাস্তবায়ন করার স্বার্থে ’৭১ এর চেতনাকে নস্যাৎ করে দেয়া হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের চরিত্র হনন করে জাতীয় জীবনের মূল ধারা থেকে তাদের সরিয়ে রাখা হয়। সেই বিশ্বাসঘাতকতার জের জাতি বয়ে চলছে আজো। যারা জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করেছে দেশের পুনর্গঠনের অধিকারও মূলতঃ হওয়া উচিত ছিল তাদেরই। কিন্তু তাদের সেই ন্যায়সঙ্গত অধিকার থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের বঞ্চিত করার ফলে স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশ ক্রমান্বয়ে নিক্ষিপ্ত হয় অবক্ষয় ও নৈরাজ্যের আবর্তে। যে আশা, আকাংখা ও স্বপ্নে উদ্ভুদ্ধ হয়ে জনগণ ঝাঁপিয়ে পড়েছিল স্বাধীনতা সংগ্রামে; অনেক ত্যাগের বিনিময়ে ছিনিয়ে এনেছিল স্বাধীনতার সূর্য; সেই আশা-আকাংখা-স্বপ্ন আজও সুদূরপরাহত মরিচিকা মাত্র।