মেজর ডালিম বাংলাদেশের ইতিহাসের না বলা সত্যকে জানুন

 

 

 
 
..ডালিম বলছি
..যা দেখেছি যা বুঝেছি যা করেছি
..জীবন বৃত্তান্ত
..সমসাময়িক ভাবনা
..প্রকাশিত বইসমগ্র
..কিছু কথা কিছু ব্যাথা
..ইংরেজী ভার্সন    
 
মৃত্যুর মুখোমুখি
 
   
 

জুলাই এর শেষ। পাথারিয়া হিলস, জুড়ি, বরলেখা, বিয়ানী বাজার, শেওলা উপত্যাকার বেশিরভাগ অংশ এমনকি লাঠিটিলার অধিকাংশ মুক্তি বাহিনী দখল করে নিয়েছে। কিছুদিন আগে লাঠিটিলা বিওপি-তে প্রচণ্ড আক্রমণ চালিয়েছিল বীর মুক্তিযোদ্ধারা। তাদের আক্রমণের প্রচণ্ডতার মুখে পাক বাহিনী পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।

হঠাৎ গাইড শামছু মিঞা খবর নিয়ে এল, কুলাউড়া থেকে বিপুল সংখ্যক খানসেনা ও সাজোঁয়া বহর এনে জড়ো করা হয়েছে জুড়িতে। বুঝতে অসুবিধা হল না কিছুদিন আগে লাঠিটিলার যুদ্ধে মুক্তি বাহিনীর হাতে অপদস্থ হয়ে পিছু হটার গ্লানি থেকে মুক্তি পাবার জন্য খানসেনাদের রি-ইনফোর্সমেন্ট ডেকে পাঠানো হয়েছে মুক্তিফৌজের দাতভাঙ্গা জবাব দেবার জন্য। খবরটা শোনার পরপরই শামছু মিঞার সাথে আমি নিজেই ছদ্মবেশে গেলাম রেকি করার জন্য। খবরটা সত্যি। প্রায় দু’টো নতুন ব্যাটালিয়ন ও এক স্কোয়াড্রন ট্যাঙ্ক আনানো হয়েছে। জুড়ি বাজারের প্রান্ত ঘেসেঁ তাবু গেড়েছে ওরা। ওখান থেকেই সুযোগ বুঝে আঘাত হানা হবে মুক্তি বাহিনীর অবস্থানের উপর। পাক বাহিনীর হামলার ব্যাপক প্রস্তুতি দেখে চিন্তিত হয়ে উঠলাম। তাদের বিশাল এ শক্তির মোকাবেলা করে সম্মুখ সমরে টিকে থাকা মুক্তি বাহিনীর জন্য হবে প্রায় অসম্ভব। ফিরে এসে সবাইকে ডেকে অবস্থার ব্যাখা দিয়ে কি করা উচিৎ সে ব্যাপারে তাদের অভিমত চাইলাম। নিজেদের অবস্থান ছেড়ে যেতে চাইল না কেউ। সবার এক কথা। প্রাণ দিতে রাজি কিন্তু পিছু হটবো না। কোন যুক্তি দিয়েই ওদের বোঝাতে পারলাম না খানসেনাদের শক্তিশালী আক্রমণের মোকাবেলা করা আমাদের পক্ষে কিছুতেই সম্ভব নয়। সেক্টর হেডকোয়াটার্সে অবস্থার বিবরণ পাঠিয়ে দিলাম। ওখান থেকে হুকুম এল - স্থানীয় কমাণ্ডার হিসেবে অবস্থার পর্যালোচনা করে আমাকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রয়োজনে পিছনে হটে আসার সম্মতি দেয়া হল হেডকোয়াটার্স থেকে। কিন্তু আমার সমস্যা হল মুক্তি ফৌজের দামাল যোদ্ধাদের নিয়ে। খানসেনাদের সম্মুখ সমরে পরাজিত করে যে জায়গা তারা দখল করেছে সে জায়গা কিছুতেই ছেড়ে পিছু হটবে না তারা। তাদের মনোবল ও চারিত্রিক দৃঢ়তার কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হলাম আমি। কিন্তু একজন অভিজ্ঞ কমাণ্ডার হিসেবে তাদের আবেগের জোয়ারে ভেসে গেলে চলবে না। যে করেই হোক খানসেনাদের আক্রমণের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেবার রাস্তা খুজেঁ বের করতেই হবে আমাকে। অনেক চিন্তার পর ঠিক করলাম পাক বাহিনীর আক্রমণের আগেই ওদের উপর আচমকা আক্রমণ চালিয়ে ওদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে হবে Assembly Area -তেই। এ ধরণের অতর্কিত আক্রমণকে বলা হয় Spoiling Attack । ক্ষুদ্র শক্তি নিয়ে তুলানামূলক বৃহৎ শক্তির আক্রমণের হাত থেকে নিজেদের অবস্থানকে বাচাঁনোর জন্য এ ধরণের অভিযান পরিচালনার বিধান রয়েছে যুদ্ধশাস্ত্রে। Spoiling Attack -ই করতে হবে আমাকে। রেকি থেকে ফিরেই সিদ্ধান্ত নিলাম ছেলেদের সাথে আলোচনার পর।

হেডকোয়াটার্স এর মাধ্যমে মিত্র বাহিনীর আর্টিলারী কভারের অনুরোধ পাঠালাম। জবাবে বলা হল, মাউন্টেন আর্টিলারীর রেঞ্জের বাইরে টার্গেট বিধায় কভারিং ফায়ার পাওয়া যাবে না। এ জবাব পাবার পর অবস্থা মোকাবেলা করার জন্য নিজেদের কাছে যা আছে তা নিয়েই প্রস্তুতি পর্ব শুরু করলাম। ভারী হাতিয়ারের মাঝে আমাদের কাছে রয়েছে পাক বাহিনী থেকে captured কয়েকটি ৩˝ মর্টার ও কয়েকটি .৩০ ভারী মেশিনগান। চাচামিয়া হিসেবে পরিচিত কুকিতল ক্যাম্পের বিডিআর-এর নায়েব সুবেদার মতিউর রহমান বিশেষ অভিজ্ঞ ব্যক্তি। ৩˝ মর্টার ও .৩০ ভারী মেশিনগানের উপর প্রশিক্ষন নেয়া ছিল তার। ছেলেদের মাঝ থেকে বেছে বেছে শিক্ষিতদের নিয়ে দু’টো ডিটাচমেন্ট তৈরি করে তাদের প্রশিক্ষন দেয়ার দায়িত্ব দেয়া হল ফ্লাইট ল্যাফট্যানান্ট কাদের ও চাচামিয়ার উপর। সময় মাত্র একরাত। এর মধ্যেই লেয়িং, ফায়ারিং, ডাটা প্রসেসিং এর সব কাজ শিখে নিতে হবে ওদের। ঠিক করলাম আমাদের ডিফেন্সেই স্থাপিত হবে Gun position । সেখান থেকে প্রায় ১মাইল এগিয়ে গিয়ে স্থাপন করা হবে Ovservation Post (OP)Ovservation Post এবং Gun position এর মধ্যে তার বিছিয়ে কমিউনিকেশন লাইন স্থাপন করা হবে। টেলিফোনের মাধ্যমে ফায়ার পরিচালনা করতে হবে গোপনীয়তা বজিয়ে রাখার সার্থে। সিদ্ধান্ত নেয়া হল, অবজারভার হবো স্বয়ং আমি। মর্টার ফায়ারের সাথে সাথে বাবু ও খোকনের নেতৃত্বে দু’টো কোম্পানী শত্রুপক্ষকে আঘাত হানবে দুই ফ্ল্যাংক থেকে। জুড়ি ও কুলাউড়া সড়কে এ্যাম্বুস লে করবে মাসুক ও ফারুক তৃতীয় কোম্পানী নিয়ে। তাদের কাজ হবে পলায়নরত খানসেনাদের নিধন করা এবং একইসাথে কুলাউড়া থেকে যেকোন খানসেনাদের জুড়িতে আসতে বাধা দেয়া। সন্ধ্যার পর আমি, শামছু মিঞা ও কটুইমনা একটি ছোট্ট Protection Party নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম OP নির্ধারন করতে। পাহাড়ি জঙ্গলে একটি বড় গাছের উপর OP -এর জায়গা নির্ধারন করা হল। গাছটার সঙ্গে বাশেঁর সাথে বাশঁ জোড়া দিয়ে উঠার ব্যবস্থা করা হল। সেখান থেকে Gun position পর্যন্ত টেলিফোনের তার লে করা হল। সমস্ত ব্যবস্থা সম্পন্ন করে ফিরে এলাম আমরা। অতি প্রত্যুষে আমাদের আক্রমণ শুরু হবে। রাতেই সবাই চলে গেল যার যার অবস্থানে। শেষ রাতে আমি, কটুইমনা এবং আতিকের কমাণ্ডে ছোট্ট একটা Protection Party নিয়ে পৌছালাম OP -তে। গাছে উঠে বসলাম আমি ও কটুইমনা। সেদিন সে শুধু আমাদের গাইডই নয়; টেলিফোন অপারেটরের দায়িত্বও পালন করেছিল। গাছে উঠে দু’জনে পাশাপাশি বসলাম। ও আমার ডানদিকে। মাঝে একটা বড় মোটা ডাল। টেলিফোনের বোঝাটা ওর পিঠে আর আমার হাতে রিসিভার। হাজার দুই গজ দুরত্বে শত্রুপক্ষের Assembly Line। আমাদের অবস্থান থেকে পরিষ্কার দেখা যায় বাইনোকুলারের সাহায্যে। টেলিফোনের connection check করলাম।
-হ্যালো; Gun position, how do you hear me? Over.
- OP1: you are loud and clear. পরিষ্কার শুনতে পেলাম নায়েব সুবেদার মতিউর রহমানের আওয়াজ।
- All Ok; Out. যোগাযোগ ব্যবস্থা চেক করে চুপচাপ বসে রইলাম। আক্রমণ পরিচালনা করার সময় হতে এখনো ১৫মিনিট বাকি। নিচে আতিক ও তার পার্টি পজিশন নিয়ে রয়েছে।

নির্জন রাতে পাথারিয়া হিলস এর গভীর জঙ্গলে উচুঁ গাছের মগডালে বসে নিশি রাতের ঘুমন্ত প্রকৃতির শোভা দেখে দেখে সময় কাটাচ্ছিলাম। বর্ষাকাল। চারিদিকে ভেজা মাটির গন্ধের সাথে একটা গুমোটভাব। আকাশজুড়ে ভাসমান মেঘের টুকরোগুলো ইতঃস্তত ভেসে বেড়াচ্ছে। মেঘের ফাঁকে ঊকি দিয়ে আছে কৃষ্ণপক্ষের একফালি বাকা চাঁদ। মৃদুমন্দ হাওয়ার ঝাপটায় হিল্লোলিত বাশেঁর ঝাড় ও গাছের পাতায় আওয়াজ হচ্ছে। চারিদিকে চাঁপ চাঁপ গারো অন্ধকার। অন্ধকারের বুক চিরে ছোট্ট একটা পাহাড়ি ছড়ার পারে জ্বলছে আর নিভছে একঝাঁক জোনাকী। একটানা শোনা যাচ্ছে ঝিঁ ঝিঁ পোকার ডাক। মাঝেমধ্যে শুনতে পাচ্ছিলাম বেসুরো ব্যাঙের ডাক। হঠাৎ করে ডানা ঝাপটা দিয়ে উড়ে যাচ্ছে নিশাচর নাম না জানা কোন পাখি। সবকিছু মিলিয়ে নিরেট স্তব্দতা। সবাই নিজ নিজ অবস্থানে চুপচাপ বসেছিলাম। হঠাৎ পূব আকাশে প্রথম ঊষার আলো দেখা দিল। ক্রমশঃ অন্ধকার ফিকে হয়ে এল চারিদিকে। আমাদের টিলার সামনেই ছোট্ট একটি টিলার উপর একটি বাংলো। চা বাগানের কোন বাবু থাকেন সে বাংলোয়। সমস্ত বাংলোটাই অঘোর ঘুমে অচেতন। দূরে শত্রুপক্ষের Assembly Area । বাইনোকুলার চোখে লাগিয়ে দেখলাম পুরো এলাকা ছেয়ে আছে তাবুতে। একপাশে সারিবদ্ধভাবে রাখা হয়েছে চারটি ট্যাংক। নির্ধারিত সময় হয়ে এল। শেষবারের মত প্রয়োজনীয় চেকআপ সম্পন্ন করে টেলিফোন সেট হাতে তুলে নিলাম।
-হ্যালো, GPO (Gun Position Officer) OP1 here, how do hear me? Over.
-OP1: you are loud and clear. Go ahead. Over. জবাব দিল সুবেদার মতিউর রহমান চাচামিয়া।
-Take post. Over.
-Take post. উচ্চস্বরে চাচামিয়া তার ডিটাচমেন্টের সদস্যদের হুকুম দিলেন। টেলিফোনে শুনতে পেলাম পরিষ্কার।
-Tgt enemy Assembly area. Range 2500 fire. over. শুরু হল Tgt ranging । কয়েকমিনিট পর ঘুমন্ত প্রকৃতি কেঁপে উঠল মর্টারের গর্জনে। আমার উপর দিয়ে শোঁ শোঁ শব্দে উড়ে গেল একটি শেল। শেলটি গিয়ে পড়ল Tgt থেকে কিছুটা দূরে। বাইনোকুলার দিয়ে center of impact observe করে প্রয়োজনমত correction পাঠিয়ে দিলাম গান পজিশনে। এবারের গোলাটি পড়ল coj Tgt থেকে কিছুটা short । আবার correction পাঠালাম। ফায়ার করা হল তৃতীয় গোলা। এবারেরটা পড়ল ঠিক Tgt এর উপর। সঙ্গে সঙ্গে হুকুম দিলাম Round on tgt. Volley fire । এবার এক সাথে গর্জে উঠল ছয়টি মর্টার। শত্রু শিবিরে তখন দস্তুর মত হৈ চৈ পড়ে গেছে। গোলার আঘাতে ঘায়েল হয়েছে দু’টি ট্যাংক। তাবুগুলোতে আগুন ধরে গিয়েছে। আচমকা গোলার শব্দে জেগে উঠা খানসেনারা ছত্রভঙ্গ হয়ে প্রাণের দায়ে এলোপাথারী দৌড়াচ্ছে। হুমড়ি খেয়ে লুটিয়ে পড়ছে বেশিরভাগই, গোলার আঘাতে। এর মধ্যেই শুনতে পেলাম মেশিনগান আর এলএমজি ফায়ারিং এর শব্দ। ফারুক ও বাবুর দল আক্রমণ চালিয়েছে দুই ফ্ল্যাংক থেকে। বাইনোকুলার চোখে লাগিয়ে দেখতে পেলাম Tresser Bullets -গুলো জ্বলন্ত স্ফুলিঙ্গের মত ঝাঁকে ঝাঁকে গিয়ে পড়ছে শত্রুপক্ষের উপর। হঠাৎ বিষ্ফোরণের শব্দ ভেসে এল টার্গেট এরিয়া থেকে। সঙ্গে সঙ্গে আগুনের হলকা ও ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা দিল দিগন্তে। নিশ্চয়ই শত্রুর অ্যামুনিশন ডাম্পে গোলা গড়েছে। সমস্ত এ্যাসেম্বলী এরিয়াটাই তখন একটা নরকে পরিণত হয়েছে। দাউদাউ করে জ্বলছে আগুনের লেলিহান শিখা। বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে পোড়া বারুদের গন্ধে। কিছু খানসেনা ছুটে পালাচ্ছে পিছুপানে। ওরা কিছুতেই বাচঁতে পারবে না। মাসুকের এ্যাম্বুসে প্রাণ যাবে ওদের সবার। যা ভাবলাম ঠিক তাই হল। অল্পক্ষণ পরেই দূরে অটোমেটিক ফায়ারিং এর আওয়াজ শুনতে পেলাম। এ ফায়ারিং করছে মাসুক ও তার দল। মাথার উপর দিয়ে মর্টার শেলগুলো আকাশ চিরে ছুটে যাচ্ছে অবিরাম। আক্রমণের সাফল্যে আমরা সবাই খুশি। একটা চাপা উত্তেজনা বোধ করছিলাম। টেলিফোনে গান পজিশন অফিসারকে জানালাম,
- Well done. Continue firing. Tgt being nutrahaed and destroyed. Congratulation. শেষ বাক্যটি শেষ করার আগেই বিনা মেঘে বজ্রপাত হল। আচমকা গর্জে উঠল শত্রুপক্ষের একটি ১২০ মিমি মর্টার। গোলাটা শাঁ শাঁ শব্দে এসে ফাটল আমাদের গাছটা থেকে কয়েকহাত দূরে। Air burst fuge. স্প্লিন্টারের আঘাতে একটা বিশাল গাছ কাত হয়ে পড়ল মাটিতে। মুহুর্তে বুঝতে পারলাম আমাদের OP ডিটেক্ট করে ফেলেছে শত্রুপক্ষ। টেলিফোনে বললাম,
- OP identified. Continue firing. We are abundaning OP. তারপরই হুকুম দিলাম,
- Abundon OP. শেষ করতে পারলাম না। দ্বিতীয় গোলাটা এসে burst করল ঠিক আমাদের গাছের উপর। কালো ধোয়াঁয় ছেয়ে গেল এলাকাটা। বা হাতের সেটটা উড়ে গেল। পরক্ষণেই অনুভব করলাম হাতটা ভিষণ গরম হয়ে উঠেছে। পোড়া বারুদের গন্ধে জায়গাটা ভরে উঠেছে। চোখও জ্বলছে বারুদের ঝাঁঝে। হাতের দিকে চোখ ফেরাতেই দেখলাম আমার হাত থেকে তাজা গরম রক্ত পড়ছে গলগল করে। বা হাতের তালুটা ফুটো হয়ে গেছে। বুড়ো আঙ্গুলটা স্প্লিন্টারের ঘায়ে উড়ে গেছে টেলিফোন রিসিভারের সাথে। হাতের প্রথম আঙ্গুলটার অর্ধেক আছে, বাকিটা নেই। কানি আঙ্গুলটা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়ে ঝুলছে। প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হল। মুহুর্তে পাশে বসা কটুইমনার দিকে দৃষ্টি ফেরাতে আমি আতঁকে শিউরে উঠলাম। ওর ডানহাত ও ডানপাটা কাঁধ ও উরু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে উড়ে গেছে গোলার আঘাতে। সে অবস্থাতেও কটুইমনা একহাত দিয়ে আমাদের মধ্যবর্তী ডালটা আকড়ে ধরে আছে। চোখে বিহবল এক অদ্ভুত দৃষ্টি। ক্ষণিকের ব্যাবধানে ওর হাত ফসকে গেল। নিচে পড়ে গেল কটুইমনা। আমিও কোনমতে একহাতে বাশঁ ধরে নিচে পিছলে নেমে এলাম। কটুইমনার অবস্থা দেখে আতিকরা সবাই ভড়কে গেছে। দু’তরফ থেকেই অনবরত গোলাগুলি আমাদের মাথার উপর দিয়ে ছুটে চলেছে; পড়ছে এখানে সেখানে। আমি তড়িৎ গতিতে কোমরের গামছাটা খুলে হাতে জড়িয়ে গলার সাথে হাতটাকে ঝুলিয়ে কটুইমনার বিকৃত দেহপিণ্ডটা ডানকাধে তুলে নিয়ে হুকুম দিলাম,
- Lets move.
কিছুতেই এগুতে পারছিলাম না। অনবরত শত্রুপক্ষের গোলা এসে পড়ছে। কোনমতে কখনো হেটে, কখনো হামাগুড়ি দিয়ে এগিয়ে চলেছি। হঠাৎ একটা মেশিনগানের লাইন অফ ফায়ারের আওতায় পড়ে গেলাম আমি। তিনটি গুলি আমার বাম কাঁধ ভেদ করে বাম কলার বোনটা গুড়িয়ে দিয়ে বেরিয়ে গেল। গুলির আঘাতে ঝুলে পড়ল বাম কাঁধটা। কাঁধের ক্ষত থেকেও রক্ত ঝরা শুরু হল। তাজা গরম রক্ত। অসহ্য ব্যথায় কুকড়ে উঠলাম। কিন্তু নিজেকে সামলে নিলাম দাতে দাত চেপে। কমাণ্ডার হয়ে ভেঙ্গে পড়লে চলবে না। আমার অবস্থা দেখে আতিক হাউমাউ করে কেঁদে ছুটে এল। আমি ওকে শান্তনা দেবার জন্য বললাম,
- Don’t worry. Everything would be fine. Lets go. কিছুটা পথ অতিক্রম করার পর বুঝতে পারলাম কটুইমনার দেহটা নিথর হয়ে গেছে। মারা গেছে আমাদের সবার প্রিয় দুর্ধর্ষ গাইড, এলাকার নামকরা চোরাকারবারি বীর মুক্তিযোদ্ধা কটুইমনা। “he has passed away” অনেকটা স্বগোক্তির মত কথাটা বলে ওর প্রাণহীন দেহটা নামিয়ে রাখলাম কাঁধ থেকে। বিরামহীন গোলাগুলি চলছে চারিদিকে। প্রচুর রক্তক্ষরণ ও অসহনীয় যন্ত্রনায় আমার অবস্থা কাহিল হয়ে পড়েছে ক্রমাগত। নিস্তেজ হয়ে আসছে শরীর। এ অবস্থায় দুর্গম পথ চলে গন্তব্যস্থলে পৌছানো অসম্ভব। আমি একটা নিরাপদ জায়গায় বসে পড়লাম। আমাকে থামতে দেখে সাথের মুক্তিযোদ্ধারা কভার নিয়ে মাটিতে পজিশন নিল। নিজের জন্য সহযোদ্ধাদের জীবন বিপন্ন হোক সেটা কিছুতেই কাম্য নয়। একজনের জন্য সবাই মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে থাকবে সেটা অযৌক্তিক। নির্দেশ দিলাম তোমরা সবাই চলে যাও। আমি আর চলতে পারছি না। জীবনীশক্তি নিঃশেষ হয়ে আসছে। আমাকে এখানে রেখে তোমরা চলে যাও বেইস ক্যাম্পে। কিন্তু আমার সে নির্দেশ মেনে নিল না কেউ। কেঁদে ফেলল আতিক। আমাকে ছেড়ে একপাও নড়বে না কেউ। মরতে হয় সবাই মরবো একত্রে। আমার প্রতি তাদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা চোখে প্লাবন ডেকে আনল। আবেগাল্পুত কন্ঠে বললাম,
-আতিক, সবাই একসাথে মরে কোন লাভ নেই। ঠিক আছে, আমাকে বাচাঁতেই যদি চাও তবে আমাকে এখান থেকে বয়ে নিয়ে যাবার বন্দোবস্ত কর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।
আমার এ আবেদন মেনে নিল আতিক। বাকিদের আমার পাহারায় মোতায়েন করে ক্ষিপ্রগতিতে পাথরের নিচে নেমে গেল আতিক। চারিদিকের গোলাগুলির কোন তোয়াক্কাই করল না সে। আমি তখন নিশ্চুপ বসে বসে আল্লাহ্‌পাকের কাছে পানাহ্‌ চাইছিলাম, “মাবুদ, গাফুরুর রাহিম আমাকে বাচাঁও। স্বাধীনতার সূর্যোদয় যাতে দেখার সৌভাগ্য হয় আমার।”

মুক্তিযোদ্ধা বাচ্চু গামছা দিয়ে আমার কাধঁ চেপে ধরে আছে। নিমিষেই ভিজে যাচ্ছে গামছা, গরম রক্তের প্রবাহে। সেটাকে চিপে নিয়ে আবার সে চেপে ধরছে আমার ক্ষতে। রক্তক্ষরণ বন্ধ হবার কোন লক্ষণই নেই। এমন জায়গায় ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে যে শক্ত করে বেঁধে রক্তক্ষরণ বন্ধ করার কোন উপায় নেই। একজন মুক্তিযোদ্ধা আমি। সবকিছু সহ্য করে মনোবল ঠিক রাখতে হবে। বাচ্চুর কোলে মাথা রেখে চোখ বুঝে আল্লাহ্‌তা’য়ালার করুণা ভিক্ষা করছিলাম। সে পরিস্থিতিতে এক আল্লাহ্‌ ছাড়া আর কারো কিছু করার ছিল না। তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে পড়ছিলাম। হঠাৎ লোকজনদের শোরগোল শুনতে পেলাম। মুক্তিযোদ্ধারা সতর্ক হয়ে উঠল। নাহ্‌। খানসেনারা নয়। আতিক ফিরেছে ৫/৬ জন লোক ও একটি মই নিয়ে। এরা সবাই কৃষক। ক্ষেতে কাজ করছিল। গোলাগুলি শুরু হতেই বাংকারে অবস্থান নিয়েছিল। মুক্ত এলাকায় জনগণকে নিরাপদ রাখার এ ব্যবস্থা সম্পর্কে আমরাই ওদের শিক্ষিত করে তুলেছিলাম। কারণ এ ধরণের গোলাগুলি বর্ডার সংলগ্ন এলাকায় প্রায় নৈত্যনৈমত্তিক ব্যাপার। মইটিকে স্ট্রেচার বানানো হল। আমাকে সেটায় শুইয়ে দিয়ে ওরা মইটাকে কাধেঁ তুলে নিয়ে রওয়ানা হল।

পদযাত্রার ঝাকুঁনিতে ভিষণ ব্যথা হচ্ছিল। মাঝেমাঝে মনে হচ্ছিল প্রাণটা বোধ হয় এক্ষুণি বেরিয়ে যাবে। কিন্তু কিছু করার ছিল না সবকিছু মুখ বুঝে সহ্য করে নেয়া ছাড়া। কোন এক পর্যায়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিলাম। যখন জ্ঞান হল তখন আমি কুকিতল টি গার্ডেনের ডিসপেনসারিতে। আমার ক্যাম্পের কম্পাউন্ডার ও গার্ডেনের ডাক্তার সুই-সূতা দিয়ে আমার ক্ষতের মুখ বন্ধ করে রক্তক্ষরণ কমাবার চেষ্টা করছে। তাদের সুই এর খোচাঁতেই জ্ঞান ফিরে পেয়েছিলাম। সেখান থেকে আমাকে নিয়ে যেতে হবে ৯০ মাইল দূরে অবস্থিত মাসিমপুর ভারতীয় সেনাবাহিনীর সিএমএইচ-এ। যেতে হবে গাড়ি করে। কিন্তু রাস্তার যে অবস্থা তাতে জিপে করে আমাকে নেয়া সম্ভব হবে না। গাড়ির ঝাকুনি সহ্য করার মত শারীরিক অবস্থা তখন আমার নেই। সবাই ঠিক করল বাগানের ম্যানেজার মিঃ ঘোষের প্রাইভেট কারটা চেয়ে নিতে হবে আমাকে বহন করার জন্য। ভদ্রলোক বাঙ্গালী। সানন্দে রাজি হলের তার গাড়ি দিতে। শুধু তাই নয়; তিনি নিজেই আমাকে নিয়ে যাবেন গাড়ি চালিয়ে। গাড়ির সামনের সিট খুলে জায়গা করা হল; যাতে আমাকে শুইয়ে নেয়া যায়।

গাড়ির ভেতর যতটুকু সম্ভব আরামদায়ক শয্যা পেতে আমাকে শুইয়ে দেয়া হল। আতিক বসল আমার মাথা কোলে নিয়ে। ডাক্তার ও কম্পাউন্ডার রইল সাথে। মিষ্টার ঘোষ গাড়ির ষ্টিয়ারিং এ বসে গাড়ি ছেড়ে দিলেন। অভিজ্ঞ চালক তিনি। রাস্তার প্রতিটি বাঁক তার নখদর্পণে। অতি সতর্কতার সাথে উল্কাবেগে গাড়ি চালাচ্ছিলেন মিঃ ঘোষ। আমি অসাড় হয়ে শুয়েছিলাম। ডাক্তার সাহেব ও কম্পাউন্ডার ক্ষতের উপর কাপড় চেপে ধরেছিলেন। কাপড় ভিজে উঠলে সেটা চিপে নিচ্ছিলেন সাথে রাখা বালতিতে। রাস্তা যেন কিছুতেই শেষ হচ্ছিল না। এক একবার মনে হচ্ছিল আর হয়তো বা বাচঁবো না। চোখের কোন থেকে গড়িয়ে পড়ছিল অশ্রুধারা। আতিক বিড়বিড় করে পড়ছিল দোয়া-কালাম। অবচেতন মনে হঠাৎ করে ভেসে উঠল আমার আম্মার প্রতিচ্ছবি। তিনি যেন জীবন্ত হয়ে সামনে এসে দাড়ালেন! আমাকে বললেন, “তুই ঘাবড়াসনে; কিচ্ছু হবে না তোর। আল্লাহ্‌ তোকে নিশ্চয়ই সুস্থ্য করে তোলবেন। একটুখানি সবুর কর। মনে নেই ডাক্তার সাহেব তোকে কি বলেছিল, রক্তক্ষরণে সহজে মৃত্যু হবে না তোর।” এ কথা বলেই তিনি আমার বুকে ফুঁ দিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলেন। আচমকা আমি ডেকে উঠলাম, “আম্মা”। আমার অস্ফুট কন্ঠস্বরে আতিক মাথা ঝুঁকে আমায় শুধালো,
-হক ভাই, কিছু বলছেন?
-না কিছু না। বলে জবাব দিলাম। আম্মার কথাই ঘুরে ফিরছিল মনে। তাইতো মনে পড়ছে। আমি তখন ইন্টারমেডিয়েটের ছাত্র। আমরা তখন কুমিল্লাতে। একদিন সন্ধ্যায় টাউন হলে বন্ধুদের নিয়ে নাটক দেখছিলাম। হঠাৎ নাটক বন্ধ করে দিয়ে মাইকে জরুরী ঘোষণা দেয়া হল একটি মেয়ের জীবন বাচাঁতে রক্তের প্রয়োজন। তার গ্রপের রক্ত নেই হাসপাতালে। রক্ত পাওয়া না গেলে রোগীকে বাচাঁনো যাবে না কিছুতেই। ঘোষণা শোনার পর বন্ধুদের সঙ্গে করে সোজা গিয়ে উপস্থিত হলাম জেলা সদর হাসপাতালে। জরুরী বিভাগে গিয়ে খোঁজ করে জানতে পারলাম, গার্লস কলেজের একটি মেয়ের শরীরে জরুরী ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। কিন্তু আভ্যন্তরীন রক্তক্ষরণ শুরু হয়েছে হঠাৎ করে। বড়লোকের একমাত্র মেয়ে। টাকার জোড় রয়েছে। মেয়ের বাবা তাকে ঢাকায় নিয়ে যেতে চাচ্ছেন। কিন্তু অবস্থার কিছুটা উন্নতি না হওয়া অব্দি তাকে ঢাকায় স্থানান্তরিত করা সম্ভবপর নয়। অবস্থার উন্নতির জন্য চাই রক্ত। রক্তের ব্যবস্থা হলে দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করবেন ডাক্তাররা। আমরা সবাই ভলান্টিয়ার হলাম রক্ত দেয়ার জন্য। ডাক্তার সাহেব আমাদের সবার রক্ত পরীক্ষা করে বললেন, আমার ব্লাডগ্রুপ ‘ও’ পজেটিভ। তাই শুধু আমার রক্তই মেয়েটিকে দেয়া যাবে। আমি এতটুকু দ্বিধা না করে বললাম, যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু রক্ত তিনি আমার শরীর থেকে বের করে নিতে পারেন। প্রায় ২ পাইন্ট রক্ত সেদিন আমার শরীর থেকে নেয়া হয়েছিল। হাসপাতাল থেকে ফিরে আসার আগে ডাক্তার সাহেব আমাকে বলেছিলেন, “নিয়মিত রক্তদান করার মাঝে অনেকগুলো সুফল আছে। তার মধ্যে একটা হচ্ছে যে, যার মধ্যে রক্তদানের অভ্যাস থাকে সে রক্তক্ষরণে মারা যায় না।” তার সেই কথাটা বাসায় ফিরে প্রসঙ্গক্রমে আম্মাকে বলেছিলাম আমি। এ ঘটনার কিছুদিনের মধ্যেই হঠাৎ করে ১৯৬৪ সালে এক দুর্ঘটনায় আম্মা মারা যান। সে আর এক কাহিনী। আম্মার মৃত্যু সমস্ত কুমিল্লায় এক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। ডাক্তারের খামখেয়ালী ও গাফিলতিতে ঘটেছিল সে দুর্ঘটনা। Expired date এর পেনিসিলিন ইনজেকশান দেয়ায় Reaction এ মারা যান তিনি। দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে আজ মুমূর্ষু অবস্থায় আমি যখন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছি ঠিক তখন তিনি এসে ডাক্তার সাহেবের কথাটা স্মরণ করিয়ে দিয়ে আমায় আশ্বাস দিয়ে গেলেন। কি আশ্চর্য্য!

তার আশ্বাসবাণীতে আমার মনোবল অনেক বেড়ে গেল। কেমন যেন একটা দৃঢ় বিশ্বাস জন্মে গেল আমি কিছুতেই এভাবে মরতে পারি না। আমাকে বাচঁতে হবে। আমি বাচঁবোই। মৃত্যুর মুখোমুখি যমে-মানুষে টানাটানির মধ্যে একসময় পথ ফুরিয়ে এল। পৌছে গেলাম মাসিমপুর সিএমএইচ। পূর্বেই খবর দেয়া ছিল। লোকাল ভারতীয় বাহিনীর counterpart ব্রিগেডিয়ার ভড্‌কে ও সিএমএইচ-এর পদস্থ কর্তাব্যক্তিরা সবাই আমার আগমণ প্রতিক্ষায় তৈরি ছিলেন। আমরা পৌছার সাথে সাথেই সোজা আমাকে নিয়ে যাওয়া হল অপারেশন থিয়েটারে। এ্যানেস্থেসিয়ার প্রভাবে জ্ঞান হারালাম আমি। যখন জ্ঞান ফিরল তখন আমি হাসপাতালের VIP কেবিনে। আমাকে ঘিরে দাড়িয়ে আছে বাবু, আতিক, খোকন, মাসুক, ফারুক, মাহবুব, জহির, ফ্ল্যাইট ল্যাফট্যানান্ট কাদের প্রমুখ, আমার প্রিয় সহযোদ্ধারা। জ্ঞান ফেরার সংবাদ পেয়ে অল্পক্ষণের মধ্যেই এসে পৌছালেন মেজর দত্ত, ক্যাপ্টেন রব, মেজর দাস, ব্রিগেডিয়ার ভড্‌কে, ক্যাপ্টেন চ্যাটার্জী, কর্নেল বাগ্‌চী প্রমুখ। এরা সবাই আমাকে অত্যন্ত ভালবাসতেন। তাদের আন্তরিকতার প্লাবনে সেদিন বিদেশের মাটিতে আত্মীয়-পরিজনহীন অবস্থায়ও নিঃসঙ্গতা ও একাকীত্ব বোধ করিনি এতটুকুও। আহত হয়ে হাসপাতালে থাকাকালীন অবস্থায় শ্রীমতী ভড্‌কের কাছ থেকে পেয়েছিলাম মাতৃসুলভ মমতা আর বাৎসল্য। কয়েকদিনের মধ্যেই আমার হাসপাতালের ক্যাবিনটাই হয়ে উঠেছিল অপারেশন হেডকোয়াটার্স। সেখান থেকে বিছানায় আধশোয়া অবস্থাতেই পরিচালনা করতে হচ্ছিল বিভিন্ন সাব-সেক্টরের যুদ্ধ প্রক্রিয়া।

অল্প কিছুদিনের মধ্যে কিছুটা সুস্থ্য হয়েই হাতের প্লাষ্টার নিয়ে ফিরে গিয়েছিলাম রনাঙ্গনে। মনে তখন একই চিন্তা, একই ধ্যান- যুদ্ধকে এগিয়ে নিতে হবে দ্রুতগতিতে। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ছিনিয়ে আনতে হবে স্বাধীনতার সূর্য। প্রতিষ্ঠিত করতে হবে আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ। এটাই ছিল ’৭১ এর চেতনা।