বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স জমির এলেন সস্ত্রীক

দু’দিনের মাথায় ত্রিপোলি থেকে এসে পৌছালো জমির দম্পতি। সবার সাথে আলাপ পরিচয়ের পর জমির জানালো, অনেক আগেই তার আসার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু হয়ে ওঠেনি। এখন নাকি তাকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে নিয়মিত আমাদের দেখাশোনা করার জন্য। জিয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রতিজনকে ১০০ দিনার করে মাসিক ভাতা দেবার। এটা থেকেই কিছুটা আভাস পাওয়া গেলো আমাদের লিবিয়াতে অবস্থানের সময়টা প্রলম্বিত হতে পারে। জমির ও জেরিন দম্পতি দেখতে ভালো এবং মার্জিত রুচিশীল। অল্প সময়েই আপন করে নিলো সবাইকে। দুপরের খাওয়া সেরে সবাই বসলাম গল্পের আসর জমাতে। লিবিয়াতে পান পাওয়া যায় না, তবে লন্ডন থেকে পানের সব সরঞ্জাম আনানোর ব্যবস্থা করে নিয়েছে ইতিমধ্যে মেয়েরা সালেমের মাধ্যমে। পানের ডালি দেখে জমির দম্পতির চক্ষু চড়কগাছ! আপনারাতো বাদশাহী স্টাইলেই আছেন দেখছি।

যা দেখছেন সব কিছুই রাব্বুল আলামিনের কৃপায় আর মোয়াম্মরের বদান্যতায়। কেউ একজন বলে উঠলো

জমির ভাই, বলেন দেশের খবরাখবর কি? আপনাদের সাথে দেশের যোগাযোগ নেই? মেহমান হয়ে এতদূর থেকে কতুকুই বা জানা সম্ভব।

তা বটে। আমি আপনাদের আমার জানামতো গুরুত্বপূর্ণ খবরগুলো জানাচ্ছি। ফিরে গিয়ে আমি দেশের খবরের কাগজ পাঠাবার ব্যবস্থা করব। পাশা ও নূরের সাথে চোখাচোখি হলে দুইজনই স্মিত হেসে পাশা সিগারেট ধরাতে আর নূর তার পাইপে তামাক ঠেসে অগ্নিসংযোগে মন দিয়ে জমিরের কথা শোনার জন্য তৈরি হল। ভায়রা দুইজনই বিদায় নিয়ে নির্বিকারভাবে বেরিয়ে গেলো। জমির শুরু করলেন

জাস্টিস সায়েমকে সরিয়ে দিয়ে জেনারেল জিয়া নিজেই এখন চীফ মার্শাল ল’ এ্যাডমিনিস্ট্রেটরের দায়িত্ব পালন করছেন। কর্নেল তাহের এবং তার তিন ভাইসহ জাসদের শীর্ষপর্যায়ের নেতৃবৃন্দকে বন্দী করা হয়েছে। দেশের সামরিক বাহিনীতে বিশৃঙ্খলা, অফিসার নিধন আর ভারতীয় রাষ্ট্রদূত সমর সেনের উপর সশস্ত্র হামলার দায়ে কর্নেল তাহেরের বিরুদ্ধে স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে বিচার শুরু হয়েছে। স্পেশাল ট্রাইব্যুনালের প্রেসিডেন্ট হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে পাকিস্তান থেকে প্রত্যাগত অফিসার জেনারেল জিয়ার কোর্সমেট ব্রিগেডিয়ার ইউসুফ হায়দারকে। মনে করা হচ্ছে, তাহেরের ফাঁসি হবে আর অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদের সাজা হবে। ক্ষণে ক্ষণে ক্যাণ্টনমেন্টে বিস্ফোরণ ঘটছে। জিয়া সে সবের মোকাবেলা করছেন দৃঢ়হস্তে। বিশৃঙ্খলাকারীরা সবাই কর্নেল তাহেরের বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার সদস্য।

পাঠকদের এখানে ভাবতে হবে, কর্নেল তাহেরের গোপন সংগঠনের মোকাবেলা জিয়া করছিলেন কাদের সমর্থনে? জবাবটা অতি স্বচ্ছ, বিদেশে অবস্থিত সেনা পরিষদের নেতাদের নির্দেশেই জিয়াকে সর্বাত্মক সাহায্য এবং সহযোগিতা করে চলেছিলো সেনা পরিষদের সদস্যরা। বিষয়টি সেই সময় জেনারেল জিয়া এবং জেনারেল শিশু ছাড়া অন্য কেউই জানতো না। কর্নেল রশিদ এবং কর্নেল ফারুকও না। ঢাকার সাথে আমাদের সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রয়েছে। দেশের সেনা পরিষদের অফিসার এবং সৈনিকরা অধীর অপেক্ষায় অস্থির হয়ে পড়েছে কবে জিয়া তার ওয়াদা মোতাবেক আমাদের ফিরিয়ে আনবেন! আমরা তাদের একনাগাড়ে বুঝিয়ে চলেছি, জেনারেল জিয়া আমাদেরই একজন এবং সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত নেতা। তাই তার কথার বরখেলাপ তিনি করবেন না। প্রতিজ্ঞা তিনি অবশ্যই রক্ষা করবেন। বর্তমানের বাস্তব পরিস্থিতির মোকাবেলায় সামরিক বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে সুশৃঙ্খল করে তোলার স্বার্থে কিছু অসুবিধার কারণে তিনি নিজেই আমাদের অনুরোধ করেছেন কিছুদিন বাইরে থাকার জন্য। আমরা তার অনুরোধ যুক্তিসঙ্গত মনে করেই বাইরে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই পরিপ্রেক্ষিতে বিচলিত হবার কিংবা তার নিয়ত সম্পর্কে সন্দিহান হওয়ার কোনও কারণ নেই। সবাইকে ধৈর্যের সাথে আন্তরিকভাবে তাকে সার্বিকভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে সেনা পরিষদকে। ফিরে চলি জমিরের কথায়। জমির জানালেন জিয়ার ভবিষ্যতের রাজনৈতিক ছক কাটার দায়িত্ব বর্তমানে পালন করছেন জেনারেল নুরুল ইসলাম শিশু মানে আমাদের শিশুভাই। তিনিই সব কলকাঠি নাড়ছেন জিয়ার একান্ত বিশ্বাসভাজন হিসাবে। এর ফলেই নাকি রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই তিনি পরিচিত হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের ‘রাজপুতিন’ হিসাবে। তার এই বক্তব্যে আমরা সবাই কৌতুক অনুভব করছিলাম। দেশবাসী না জানলেও আমরা সবাই জানতাম শিশুভাই যুদ্ধকালীন সময় থেকেই আর্মির চাকুরি ছেড়ে বিদেশে চলে যাবার চেষ্টা করে আসছেন। রাজনীতিতেও তার কোনও আগ্রহ নেই। শিশুভাই আজ বাংলাদেশের ‘রাজপুতিন!’ তিনি ঢাকার ছেলে বিধায় সবমহলেই তার কিছুটা পরিচিতি আছে। তাছাড়া তিনি আর জিয়া একই সময় পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI-তে চাকুরী করেছেন। জন্মলগ্ন থেকেই ISI পাকিস্তানের রাজনীতিকে কন্ট্রোল করে এসেছে। সেই ফর্মুলাই জিয়া কাজে লাগানোর চেষ্টা করছেন। তবে আমরা যততুকু তাকে জানি তাতে শর্ত সাপেক্ষেই তিনি সাময়িকভাবে এই দায়িত্ব অনন্যোপায় হয়ে গ্রহণ করেছেন সেই বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। সময়েতে সেটাই প্রমাণিত হবে। প্রথম সাক্ষাতের পর জমির সস্ত্রীক প্রায়ই আসতে থাকেুন। বেশীরভাগ সময় সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলো জমির দম্পতি কাটাতো আমাদের সাথে। ইতিমধ্যে ত্রিপোলিতে মোয়াম্মর গাদ্দাফি, জাল্লুদসহ অন্যান্য শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সাথে আমাদের সাক্ষাত হয়েছে বেশ কয়েকবার। সাক্ষাতকার হতো খুবই আন্তরিক পরিবেশে। তার গ্রীনবুকসহ রাজনৈতিক দর্শন, প্রগতিশীল রাষ্ট্রীয় কাঠামো, সুষম সমাজ ব্যবস্থা, চলমান বিশ্বে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর আধিপত্যবাদী আগ্রাসন এবং চাপের মুখে অনুন্নত দেশগুলো নিজেদের স্বকীয়তা রক্ষা করে কি করে উন্নতির পথে এগুতে পারে, বিশেষ করে মুসলিম বিশ্বে কি করে ঐক্য এবং সংহতি গড়ে তোলা যায় সেই বিষয়টির উপর বিশেষ গুরুত্ব দিতেন তরুণ বিপ্লবী নেতা গাদ্দাফি আলোচনাকালে। আমরাও দ্বিধাহীনভাবেই সংলাপে অংশগ্রহণ করতাম। আফ্রিকাসহ পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তের জনগোষ্ঠীর আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রতি কোনরূপ ভয়-ভীতির তোয়াক্কা না করে তার আন্তরিক সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতার ইতিহাস ছিল নির্দ্বিধায় প্রশংসনীয়। মুসলিম বিশ্বে ঔপনিবেশিক শাসকদের প্রবর্তিত রাজতন্ত্র এবং আমীরতন্ত্রের প্রকাশ্য সমালোচনা করতেন বিশাল সম্পদশালী দেশের রাষ্ট্রনায়ক গাদ্দাফি। তার মতে মুসলিম বিশ্বের বিভাজনের জন্য মূলত দায়ী এই রাজতন্ত্র এবং আমীরতন্ত্র। তার বিশ্বাস এই ফিতনাগুলোকে শেষ না করা পর্যন্ত বিশ্বের মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করা সম্ভব হবে না। মিসরের নাসের এর ‘Pan Arabism’ এর চেয়ে ‘Pan Islamism’ এর প্রতিই তার আকর্ষণ ছিল বেশী। তার মতে প্রকৃত ইসলামে, জাত, গোত্র ও বর্ণের কোনও স্থান নেই। মোয়াম্মর গাদ্দাফিকে ঘনিষ্ঠভাবে জানার পর তাকে একজন জনদরদি, প্রগতিশীল এবং বিশ্বমানবতাবাদী হিসাবেই শ্রদ্ধার সাথেই গ্রহণ করেছিলাম আমরা অনেক বিষয়েই তার সাথে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও। আমাদের জানানো হয়, পশ্চিমা ধনতান্ত্রিক দেশগুলো প্রথম দিন থেকেই সেপ্টেম্বর বিপ্লবকে ইতিবাচক ভাবে না দেখে নিজেদের স্বার্থে বিরূপ প্রচারণায় সোচ্চার হয়ে ওঠে। গাদ্দাফির বিরুদ্ধে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার সাথে সাথে বিভিন্ন চক্রান্তমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে গাদ্দাফির বৈপ্লবিক সরকারকে উৎখাতের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে তারা। লিবিয়াবাসীদের মধ্যে কায়েমী স্বার্থবাদীদের উস্কে দিয়ে নাশকতামূলক তৎপরতার মাধ্যমে Revolutionary Command Council কে অকার্যকর করে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বিপ্লবী নেতা গাদ্দাফির প্রাণনাশের চেষ্টাও করা হচ্ছে একই সাথে। এইসব হীনচক্রান্তের নেতৃত্ব দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের দোসর যুক্তরাজ্য। এ ধরনের আন্তর্জাতিক চক্রান্তের মোকাবেলার স্বার্থেই বাধ্য হয়ে গাদ্দাফিকে সোভিয়েত বলয়ের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে হয় মিসরের নাসের এবং ইরাকের সাদ্দামের মতো। তার বৈপ্লবিক এবং প্রগতিশীল নীতি-আদর্শের জন্য মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্রের বেশিরভাগ রাষ্ট্রপতিরাও ধনতান্ত্রিক দেশগুলোর চাপে তাকে আপন করে নিতে নারাজ যদিও সেই সমস্ত দেশের নিপীড়িত জনগণের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে একজন সাহসী নেতা হিসাবে। নিরাপত্তার বিষয়টাই মুখ্য হওয়া সত্ত্বেও চলমান বিশ্বের প্রতি প্রান্তে যে সমস্ত সংগঠনই সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে নিয়োজিত তাদের প্রতি একাত্মতা জানিয়ে সব ঝুঁকি মাথায় নিয়েও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে দ্বিধাবোধ করছেন না তরুণ বিপ্লবী নেতা গাদ্দাফি ও তার সাথী বিপ্লবীরা। তাদের সেই সাহসী উদ্যোগ এবং অবদানের ফসল আজ বিশ্বের অনেক দেশের জনগণই ভোগ করছে।

ইতিমধ্যে আমরা হোটেল ছেরে চলে এসেছি। প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে সাগরের কোল ঘেঁষে মরূদ্যানের মধ্যে অবস্থিত একটি ৪ তলা বিশাল অট্টালিকায়। সেখানে বিশটা স্বয়ংসম্পূর্ণ ফ্ল্যাট রয়েছে। সার্বিক ব্যবস্থা নিখুঁত। উঁচু প্রাচীরে ঘেরা সুরক্ষিত পুরো ভবনটি। চারিদিকে সুন্দর বাগান। টেলিফোন ইন্টারকম ব্যবস্থাও রয়েছে যোগাযোগের সুবিধার্থে। বাহির থেকে ভেতরের পরিবেশ কিছুই বোঝার উপায় নেই। সমুদ্রের ভেতরে অনেকদূর পর্যন্ত একটা সরু রাস্তা বানানো হয়েছে, মাঝে মধ্যে বসার বেঞ্চ। এটাকে Walking/Jogging Track হিসাবে ব্যবহার করা চলে। ন্যাপকিন থেকে সবকিছুই বদলে দিয়ে যায় House Keeping, গেইটে রয়েছে সার্বক্ষণিক সশস্ত্র গার্ড। পারকিং এ গাড়ীর বহর। সবার ফর্দ অনুযায়ী সব সামগ্রী চাওয়া মাত্রই পৌঁছে দেয়া হয়। আমাদের একমাত্র কাজ হচ্ছে মাঝে মধ্যে বাজারে গিয়ে ইচ্ছে মত মাছ, মাংস, শাক-সবজি এবং মশলাপাতি কিনে এনে পছন্দসই রান্না করে খাওয়া। সমস্ত বিল্ডিংটাই Centrally Air Conditioned.আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি আরামদায়ক বাসস্থান। কোনও বিষয়েই কার্পণ্য নেই লিবীয় সরকারের পক্ষ থেকে। সালেমের জন্যও রয়েছে একটি ফ্ল্যাট। সেখানে অবস্থান করেই সালেম সব কিছুর তদারকি করছেন। আমাদের সম্পর্কটা ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্বে রূপ নিয়েছে। সালেম বিবাহিত এবং পিতাও বটে। তাই আমরা প্রায়ই ওকে বাড়িতে পাঠিয়ে দেই জোর করে। বিশেষ করে Week Ends গুলোতে, কারণ প্রায় প্রতি Week End এ আসে জমির দম্পতি। তাদের সাথে হৈ-হল্লা করে আমাদের সময় কেটে যায়। ইতিমধ্যে কয়েকজন পাকিস্তানি ডাক্তার ও অন্যান্য পেশায় নিয়োজিত পরিবারের সাথে আমাদের পরিচয় হয়েছে বাজারে। ওরা প্রায়ই আমাদের দাওয়াত করে খাওয়ান, আমরাও তাদের ডাকি পাল্টা দাওয়াতে। এই সব ব্যাপারে রশিদ আর ফারুকের তেমন উষ্ণতা পরিলক্ষিত হয় না। এই দুই ভায়রা ওদের মতই থাকে। বিদেশে এই পাকিস্তানি পরিবারগুলোই হয়ে উঠেছিলো অতি আপনজন। ঢাকার সাথে আমাদের রয়েছে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ। এ ছাড়াও লন্ডন, কানাডা, আমেরিকাতে বসবাসকারী আত্মীয়-স্বজন এবং বন্ধু-বান্ধবদের সাথেও কথা হয় প্রায়ই। জমির নিয়মিত পাঠাচ্ছিলেন বাংলাদেশী পত্রপত্রিকা, বিদেশের নামিদামি পত্রিকা এবং ম্যাগাজিন। তাই দেশ-বিদেশের সব খবরাখবর ও জানা সম্ভব হচ্ছিলো। তাছারা, প্রতিটি ফ্ল্যাটেই রয়েছে ডিশ টিভি। মধ্যপ্রাচ্যের নানা দেশগুলোর মতো লিবিয়াতেও ভারতীয় হিন্দি ছবি খুবই জনপ্রিয়। মেয়েরা সহ আমরা সবাই পছন্দমতো ছবি সিনেমা হলে দলবেঁধে গিয়ে দেখি। অত্যন্ত আনন্দমুখর পরিবেশে কাটছিল আমাদের প্রবাস জীবন। রাষ্ট্রীয় অতিথিই শুধু নয়, একজন বিপ্লবী নেতার বিপ্লবী অতিথি আমরা। তাই অন্যান্য রাষ্ট্রীয় অতিথিদের সাথে আমাদের প্রচুর ব্যবধান অনুভব করছি। মনোরম পরিবেশে আলিশান বিলাসিতায় সময় কাটলেও মন আমাদের পড়ে আছে সুদূর বাংলাদেশে। ফ্ল্যাটের নতুন আবাসিক স্থানে Shift করার পর শুরু হল Revolutionary Command Council এর সাথে আমাদের serious আলোচনা। শুরুতেই গাদ্দাফির সাথে আমাদের পরিচয় ও কয়েক দফা বিভিন্ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত মতামত বিনিময়ের পর Revolutionary Command Council এর তাত্ত্বিক গুরুদের সাথে আমাদের বিস্তারিত আলোচনা শুরু হল। আলোচনার বিষয় শুধুমাত্র গাদ্দাফির গ্রীনবুক নিয়েই নয়, এর পরিধি ব্যাপক। সমগ্র বিশ্বজুড়ে সাম্রাজ্যবাদ, সামাজিক সাম্রাজ্যবাদ, দীর্ঘকালীন সংগ্রামের পর গণচীনের অভ্যুত্থান, আঞ্চলিক সমসা, প্যান এরাবিজম, প্যান ইস্লামিজম, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ফিলিস্তিন, ইসরাইল, বৈরুত, বিশ্ব উম্মাহর একত্রীকরণ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দর্শন, সঠিক পথ, তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নত দেশসমূহ, মুসলমান অধ্যুষিত প্রাকৃতিক সম্পদের বিশাল ভান্ডারের মালিক দেশগুলোর উপর পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের আধিপত্যবাদী নিয়ন্ত্রণ এবং আগ্রাসন, লিবিয়ার সেপ্টেম্বর বিপ্লবের পরিপ্রেক্ষিতে উপমহাদেশের রাজনীতি এবং পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচি, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং বৈপ্লবিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, চলমান রাজনীতি এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আমাদের মধ্যে বিস্তারিতভাবে মত বিনিময় হয় যুক্তি ও তথ্যভিত্তিক। আরব বিশ্বে গাদ্দাফি এক বিতর্কিত ব্যতিক্রমী রাষ্ট্রনায়ক। তার রাজনৈতিক দর্শনের মূল হল ইসলামিক সমাজতন্ত্র। জামাল নাসের তখন আরব জাহানের সবচেয়ে বিচক্ষণ নেতা এবং মিসর তুলনামূলক ভাবে খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দেশ না হলেও সামরিক এবং জনশক্তির দিক দিয়ে ছিল একটি প্রভাবশালী দেশ। ‘প্যান এরাবিজম’ এর রাজনৈতিক দর্শনের রূপকার ছিলেন নাসের। তার উদ্দেশ্য ছিল, প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকারী আরব দেশগুলোকে একত্রিত করে পশ্চিমা ধনতান্ত্রিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর আধিপত্য খর্ব করা। গাদ্দাফি ছিলেন তার অনুসারী। তাই তিনিও প্রাথমিক ভাবে নাসেরের এই দর্শনের প্রতি অনুরাগ প্রকাশ করেন। সেপ্টেম্বর বিপ্লবের পর ‘প্যান এরাবিজম’-এর আলোকে নাসের এবং গাদ্দাফির চেষ্টায় লিবিয়া, মিসর, আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মরক্কো এবং সিরিয়াকে মিলিয়ে একটি রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টা ব্যর্থ হবার সাথে নাসেরের ‘প্যান এরাবিজম’ তত্ত্বের অসারত্ব প্রমাণিত হওয়ার পর নাসেরের সাথে গাদ্দাফির ‘প্যান এরাবিজম’ এর ব্যাপারে মতপার্থক্য দেখা দেয়। এরপর গাদ্দাফি ঝুঁকে পরেন ‘প্যান ইস্লামিজম’ এবং সারাবিশ্বে সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী সংগ্রামের দিকে। তার ‘গ্রীনবুক’ আর চেয়ারম্যান মাও এর ‘লাল পুস্তিকা’-এর মধ্যে মূলত একমাত্র আল্লাহ্ তায়ালার সার্বভৌমত্ব ছাড়া অনান্য বিষয় তেমন কোনও পার্থক্য ছিল না। তার তাত্ত্বিকরা বিশ্বাস করতেন, মোয়াম্মর যেভাবে মার্ক্সসীয় রাজনৈতিক দর্শনকে ইসলামের সম্পূরক হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পেরেছেন সেটাই এক যুগান্তকারী সৃজনশীলতা রাজনৈতিক দর্শনের ক্ষেত্রে। তাদের মতে, গাদ্দাফির আবিষ্কৃত এই অভিনব দর্শনই বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাসীকে সার্বিকভাবে মুক্ত করতে পারে প্রচলিত সব রকমের আগ্রাসন, শোষণ এবং অপশাসনের নিগড় থেকে। গাদ্দাফির রাজনৈতিক দর্শনের বিশ্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আমরা তার সাথে সীমিত পর্যায়ে বিতর্কে যেতাম। কারণ, দুই একটা বৈঠকের পরই আমরা উপলব্ধি করেছিলাম, গাদ্দাফি কিছুটা গোঁয়ার প্রকৃতির আর তার মধ্যে সহিষ্ণুতার কিছুটা অভাব রয়েছে। তবে তার তাত্ত্বিকদের বেশিরভাগই ছিলেন বেশ receptive. তাদের নীতি-আদর্শ এবং দর্শন বিষয়ে স্ব-বিরোধী দ্বন্দ্ব যৌক্তিকতার সাথে উপস্থাপন করলে তারা সেটা মেনে নিতেন। সালেমসহ অন্যরা অকাট যুক্তিগুলো আন্তরিকতার সাথেই মেনে নিতে কার্পণ্য করতেন না। আজ মোয়াম্মর গাদ্দাফি আন্তর্জাতিক চক্রান্তে বেঁচে নেই। নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে তাকে। দোষে-গুণেই মানুষ। গাদ্দাফিও ছিলেন একজন মানুষ মাত্র, অতিমানব নন। তারপরও পৃথিবীর অগুনতি মানুষের মনে চিরজাগরূক হয়ে থাকবেন শহীদ বিপ্লবী নেতা মোয়াম্মর গাদ্দাফি। অনেকেই আজ পশ্চিমা বিশ্বের প্রচারণার সাথে সুর মিলিয়ে বলে থাকেন গাদ্দাফি নাকি ছিলেন একজন নিষ্ঠুর রক্তপিপাসু জল্লাদ! গণতন্ত্রে অবিশ্বাসী এক স্বৈরশাসক! যারা ঐ ধরণের বুলি কপচে মুখে ফেনা তুলে ফেলছেন অর্ধ কিংবা অশিক্ষিত জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য সেটার পেছনে কোনও স্বার্থ কার্যকরী সেই বিতর্কে না গিয়ে পাঠকদের কাছে কিছু চিন্তার খোরাক তুলে ধরছি তাদের বিচার বিবেচনা এবং বিশ্লেষণের জন্য। নামীদামী অনেক দার্শনিক, রাষ্ট্র ও সমাজ বিজ্ঞানী এবং বিশিষ্ট রাজনীতিবিদদের অনেকেই বলেছেন, কোনও একটি দেশের রাজনৈতিক নীতি-আদর্শ সেখানে যত সফলই হউক না কেনো, সেটাকে অন্য কোনও রাষ্ট্রের জনগোষ্ঠীর উপর হুবহু চাপিয়ে দিলে একই রকমের ফল লাভ করা সম্ভব হয় না। উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে প্রচলিত গণতন্ত্রের সবক শিখে যে সমস্ত পণ্ডিত সেই ফরমুলা তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে চাপিয়ে দেন, তারা কিন্তু একটি অতি সাধারণ কথা সজ্ঞানে কিংবা অজ্ঞানে ভুলে যান যে ঐ সমস্ত উন্নত দেশগুলোর আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা এক নয়। তাদের মননশীলতা, ঐতিহ্য এবং মূল্যবোধেও রয়েছে আসমান-জমিনের ফারাক। তাই আজ পর্যন্ত ধার করা ঔপনিবেশিক ধাঁচের গণতন্ত্রের চর্চার মাধ্যমে তৃতীয় বিশ্বের কোনও দেশের জনগোষ্ঠীরই ভাগ্যের পরিবর্তন হয়নি। যা দেখা যায় সেটা হল, গণতন্ত্রের ধূম্রজালে জনগণকে আচ্ছন্ন রেখে জাতিকে বিভক্ত করে গড়ে তোলা হয়েছে একটি ক্ষুদ্র কিন্তু অসীম শক্তিশালী কায়েমী স্বার্থবাদীগোষ্ঠী। জনগণের ২% এই গোষ্ঠীর অবৈধ কব্জায় রয়েছে জাতীয় সম্পদের ৯০%। ফলে তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা, প্রশাসন, আইন বিভাগ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দেশের সামরিক বাহিনী। অর্থবল ও পেশীশক্তির জোরে তারাই সমাজপতি। অবশ্য জাতীয় সম্পদের সিংহভাগই নিয়ে যাচ্ছে বিদেশী প্রভুরা। তাদের পদলেহী এই তল্পিবাহক গোষ্ঠী যাদের অস্তিত্ব নির্ভরশীল বিদেশী মুরুব্বীদের উপর, তারা ঢেকুর তুলে সন্তুষ্ট থাকছেন উচ্ছিষ্ট পকেটস্থ করেই। এভাবেই একটি স্বাধীন দেশের ৯৮% নাগরিককে কৌশলে পরিণত করা হয়েছে এই ২% কায়েমী স্বার্থবাদী শাসক ও শোষণকারী গোষ্ঠীর গোলামে। কারণ, তাদের অস্তিত্বই নির্ভর করে ঐ গোষ্ঠীর করুণা এবং দয়া-দাক্ষিণ্যের উপর। সার্বিকভাবে পরনির্ভরশীল, নিপীড়িত, বঞ্চিত, অসহায়, অশিক্ষিত জনগণ কখনোই নিজেদের ন্যায্য অধিকারের জন্য মেরুদণ্ড সোজা করে প্রতিবাদী হতে পারে না। তারা অর্ধমৃত অবস্থায় ভেন্টিলেটারের সাহায্যে ধুঁকছে সর্বখানে যদিও তৃতীয় বিশ্বের বেশিরভাগ দেশ প্রচুর প্রাকৃতিক, খনিজ ও মানব সম্পদের অধিকারী। বন্ধকী সত্তার পক্ষে স্বাধীন চিন্তা এবং বিবেচনার কোনও অবকাশ থাকে না। এই বাস্তবতার নিরিখে, পরাধীনতার শেকলে বাধা ব্যক্তির পক্ষে স্বাধীনভাবে চিন্তা করা কিংবা ভোট দেয়া কি করে সম্ভব? দেশে দেশে গণতন্ত্রের লেবাসে চলছে কায়েমী স্বার্থবাদীদের ক্ষমতা কুক্ষিগতকরণ পালা বদলের রাজনীতির নাগরদোলায়। ফলে প্রায় সব কয়টি দেশ হয়ে উঠছে ভঙ্গুর আর জনগণ হারাচ্ছে প্রাণশক্তি। কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠী এবং তাদের বিদেশী মনিবদের স্বার্থরক্ষার্থে যেখানে প্রচলিত গণতান্ত্রিক এবং সিভিল মিলিটারি স্বৈরশাসন অকেজো হয়ে পড়ছে সেখানে এই সুতিকাগার থেকে প্রসূত হচ্ছে গোষ্ঠীতন্ত্রের চেয়েও ভয়ানক বিভীষিকাময় পরিবারতন্ত্র। এ ধরনের গণতন্ত্রে অবশ্যই বিশ্বাসী ছিলেন না প্রগতিশীল বিপ্লবী নেতা গাদ্দাফি। এখানে বর্তমান বিশ্বের উদীয়মান আণবিক শক্তিধর দেশ গণচীনের রূপকার চেয়ারম্যান মাও সে তুং-এর একটা উক্তি উল্লেখযোগ্য। তিনি লিখেছেন, ‘বিপ্লব রঙিন সুতোয় কাপড়ে নকশা আঁকার মতো সরল বিষয় নয়। বিপ্লব একটি জটিল প্রক্রিয়া। অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে, অনেক ত্যাগের বিনিময়েই বৈপ্লবিক স্বপ্নের বাস্তবায়ন সম্ভব। অনেক রক্তের বিনিময়ে সফলতা পায় বিপ্লব।’ তার এই বক্তব্যের যৌক্তিকতা বুঝতে সক্ষম হয়েছিলো চৈনিক জাতি। তাই একদা আফিমখোর জাতি হিসাবে পরিচিত চৈনিক জাতিগোষ্ঠী আজ সব প্রতিকূলতার মোকাবেলা করে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়েছে বিশ্বের অন্যতম উদীয়মান অর্থনৈতিক এবং সামরিক শক্তি হিসেবে। সিঙ্গাপুরের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জনাব লি কুয়ান ইউ-এর সাথে লেখকের গণতন্ত্র নিয়ে কথা বলার সুযোগ হয়েছিলো এক বৈঠকে। বর্তমানের সিঙ্গাপুরের রূপকার এবং অভিজ্ঞ বিপ্লবী এই নেতার সাথে খোলাখুলি আলাপ করার সুযোগ পেয়ে তাকে প্রশ্ন করেছিলাম

এক্সেলেন্সি, আপনি দীর্ঘ ২৮ বছরেরও বেশি সময় দোর্দণ্ডপ্রতাপে দেশ শাসন করে এখন অবসর নিয়েছেন। যেদিন আপনি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে পরাজিত করে একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বাধীন সিঙ্গাপুরের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নিজ হাতে তুলে নেন সেই দিন পরাজিত ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ আপনার সরকারের পতন ঘটানোর জন্য সিঙ্গাপুরে জাতিগত রক্তক্ষয়ী ভয়াবহ এক দাঙ্গা বাধিয়ে দেয়। কিন্তু আপনি সেই দাঙ্গা কঠোর হস্তে দমন করেন। আপনার বিপ্লবী বাহিনীর হাতে নিহত হয় ১০ হাজারেরও বেশি সব জাতিগোষ্ঠীর দাঙ্গাকারীরা। এরপর আপনি কঠোর ভাষায় সবার উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি জারি করে বলেছিলেন, আজ থেকে যারাই সিঙ্গাপুরে বসবাস করবে তাদের জাতিগত পরিচিতি হবে সিঙ্গাপুরীয়ান। এটা যাদের পক্ষে মেনে নেয়া সম্ভব নয় তাদের জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় দেয়া হল সিঙ্গাপুর ছেড়ে চলে যাবার জন্য। আপনার এই ঘোষণার পর অবশ্য খুব কম সংখ্যক লোকই সিঙ্গাপুর ছেড়ে গিয়েছিলো। শুধু তাই নয়, এরপর আজঅব্দি সিঙ্গাপুরে কোনও জাতিগত দাঙ্গা হয়নি। কিন্তু এরপরও পশ্চিমা অনেক দেশ এবং মানবতাবাদী সংগঠন সেই দিনটিকে এখনো ‘Black Day’ হিসাবে আখ্যায়িত করে থাকে। আপনার বিরুদ্ধে তাদের প্রচারণায় বলা হয়, আপনি বর্তমান আধুনিক বিশ্বের এক চরম গণতন্ত্রবিরোধী অত্যাচারী স্বৈরশাসক। পাঠকদের নিশ্চযই জানা আছে সিঙ্গাপুরে তিনটি জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। মালয়ী, চৈনিক এবং দক্ষিণ এশিয়া থেকে আগত উপমহাদেশীয়রা। এই বিষয়ে আমি তার প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে, বর্ষীয়ান নেতা বলেছিলেন

সেই দিন আমি যেই পদক্ষেপই গ্রহণ করেছিলাম সেটা ছিল সুচিন্তিত এবং জাতীয় স্বার্থে। এ নিয়ে অন্যরা কি মনে করছে না করছে সেটা ধর্তব্যের বিষয় নয়। বাকি থাকে গণতন্ত্র আর স্বৈরতন্ত্র প্রসঙ্গ। এই দুইটিই এক ধরনের অনুভূতি বা চেতনা, যা পৃথিবীর সব জাতিসত্তাতেই আদিকাল থেকেই বর্তমান। তবে এই অনুভূতি বা চেতনা সব জাতিসত্তার ক্ষেত্রে হুবহু একই রকম হতে হবে এমন ধারণা যুক্তিসঙ্গত নয়। তাই ঐ শব্দ দুইটির পশ্চিমা জগতের আভিধানিক অর্থকেই যে সর্বজনীনভাবে মেনে নিতে হবে সেটাও অযৌক্তিক। আমার শাসনকালের সার্টিফিকেট দেবার একমাত্র অধিকার রয়েছে আমার দেশবাসীর। আমি যদি কোনও অন্যায় করে থাকি সিঙ্গাপুরের অধিবাসীর যে কেউই প্রচলিত আইন অনুযায়ী আমাকে কাঠগড়ায় দাড় করাবার অধিকার রাখেন। অন্যদের সার্টিফিকেট আমার কাছে সম্পূর্ণভাবে মূল্যহীন। আলোচনা শেষ করার আগে তিনি একটি অতি মূল্যবান কথা বলেছিলেন
নিঃস্বার্থ দেশপ্রেমিক, দুর্নীতিমুক্ত, স্বচ্ছ, বিচক্ষণ এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের অধীন কঠোর পরিশ্রমকারী জাতিকে কোনও অপশক্তিই দাবিয়ে রাখতে পারে না। স্বকীয় প্রতিভা এবং কর্মদক্ষতা তাদের উন্নতির শিখরে পৌঁছে দেবেই। তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ আজকের সিঙ্গাপুর। অবসর গ্রহণের পর তিনি সস্ত্রীক সরকার প্রদত্ত দুই কামরা বিশিষ্ট একটি ছোট্ট ফ্ল্যাটে বসবাস করছিলেন। অবসর ভাতাই ছিল তাদের একমাত্র আর্থিক সঙ্গতি। তার মতো নেতাকেও কিন্তু ‘জাতির পিতা’ হিসাবে আখ্যায়িত করার কোনও প্রচেষ্টা কিংবা উদ্যোগ কখনোই নেয়া হয়নি। বিদায় নিয়ে ফেরার পথে ভাবছিলাম, আমাদের দেশে কি কখনো জন্ম নেবে এমন একজন লি কুয়ান ইউ! লি কুয়ান ইউ বর্তমানে গণচীনের অবিশ্বাস্য প্রগতির একজন রূপকারও বটে। এ ছাড়া শুধু অনুন্নত বিশ্বের দেশগুলোই নয় উন্নত বিশ্বের অনেক দেশও তার বাস্তব জ্ঞান এবং অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিচ্ছে নিজেদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য। আর একজন দূরদর্শী নেতা যাকে বলা হয়ে থাকে আধুনিক চীনের visionary. কমরেড দেং শিয়াও পিং। এক সাক্ষাতকালে সুযোগ পেয়ে লেখক তাকে প্রশ্ন করেছিল

মাননীয় কমরেড, আপনি যেভাবে চীনের দরজা অবারিতভাবে খুলে দিচ্ছেন পশ্চিমা শত্রুভাবাপন্ন দেশগুলোকে পুঁজি এবং প্রযুক্তি বিনিয়োগের আকর্ষণ সৃষ্টির চেষ্টায় যাতে করে গণচীন অতি অল্প সময়ের মধ্যে একটি অত্যাধুনিক রাষ্ট্র এবং শক্তিধর দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে সক্ষম হয়। আপনার একটা উক্তি আজকাল প্রায় প্রতিটি চীনবাসীর মুখেই উচ্চারিত হচ্ছে, ‘It does not matter whether the cat is white or black as long as it catches the mice.’ কিন্তু আপনি কি মনে করেন না এতে চীনের রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক কাঠামোতে অবক্ষয় দেখা দেবে? কারণ আর একটা প্রচলিত উক্তিও আছে, ‘Money does not come alone but with many vices.’ Long march veteran, যিনি গণচীনের ক্ষমতা বলয়ের নেতৃত্বের শীর্ষ পর্যায় থেকে ছিটকে পড়ে পরে তৃতীয় বার ক্ষমতার শীর্ষে অলৌকিক ভাবে নিজেকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন সেই বর্ষীয়ান নাতিদীর্ঘ নেতা দেং শিয়াও পিং সিগারেটে একটা সুখটান দিয়ে জবাব দিয়েছিলেন

তেমন সম্ভাবনা অবশ্যই রয়েছে। তবে সে সব দোষ থেকে দেশ ও জাতীয় চরিত্রকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য ব্যবস্থাও আমরা করে রেখেছি। যেকোনো পর্যায়ে যখনই কোনও পচন পরিলক্ষিত হবে তক্ষুনি তা কেটে ফেলা হবে পচন ছড়িয়ে পরার আগেই। প্রক্রিয়াটাকে বলা যেতে পারে ‘Continuous Rectification Campaign.’ তিয়েন আন মেন স্কোয়ারের ঘটনা সম্পর্কে আপনি নিশ্চয় অবগত আছেন বলেই আমার ধারণা। চক্রান্তের জাল সর্বকালেই ছিল, থাকবেও আগামীতে। প্রয়োজনীয় আত্মত্যাগের জন্য যতদিন জাতি এবং নেতৃত্ব তৈরি থাকবে ততদিন সব চক্রান্তের মোকাবেলা করা সম্ভব।

এ থেকেই পাঠক বুঝতে পারবেন তিনি কত বড় মাপের নেতা। তার দূরদর্শিতা, বিচক্ষণতা, প্রত্যয় ও জ্ঞানের পরিমাপ কতখানি। একবার বিশ্ববরেণ্য নেতা মাহাথির মোহাম্মদ এর সাথে এক সেমিনারে সাক্ষাতের সুযোগ হয়েছিলো। তাকে এক ফাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলাম

এক্সেলেন্সি, আজকের বিশ্বব্যবস্থায় কোনও অনুন্নত দেশের পক্ষে কি স্বনির্ভরতার ভিত্তিতে অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন করা সম্ভব? জবাবে তিনি বলেছিলেন

অবশ্যই সম্ভব। তবে এর পূর্বশর্ত হচ্ছে, জাতীয় নেতৃত্বকে হতে হবে সম্পূর্ণভাবে নিঃস্বার্থ এবং দুর্নীতিমুক্ত। বিশেষভাবে পরিচিত এবং বিশ্ববাসীর কাছে শান্তির প্রতীক হিসাবে স্বীকৃত নেলসন ম্যান্ডেলাকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো

তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলোর প্রায় প্রতিটি দেশই প্রচুর প্রাকৃতিক সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও তারা অর্থনৈতিক ভাবে ক্রমান্বয়ে দেউলিয়া এবং পরভৃৎ হয়ে উঠছে কেনো? জবাবে ম্যান্ডেলা বলেছিলেন

দুঃখের সাথেই বলতে হচ্ছে, দেশগুলোতে নেতা নয়, শুধুমাত্র রাজনীতিবিদ দেখছেন তিনি। রাজনীতিবিদদের দৃষ্টির প্রসারতা শুধুমাত্র নির্বাচন পর্যন্ত, নেতার দৃষ্টি প্রসারিত থাকে আগামী প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তর পর্যন্ত।

এদের বক্তব্যে অনেক চিন্তার খোরাক রয়েছে নতুন প্রজন্মের জন্য যারা সব রকমের অন্যায় এবং শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাড়িয়ে মুক্তিসংগ্রামে ব্রতী হতে আগ্রহী। জিয়ার সাথেও কথা হচ্ছে মাঝেমধ্যে। শিশুভাই এবং টনি ভাবীও প্রায়ই ফোন করে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। ব্যাচেলররা আমাদের সাথেই খাওয়া দাওয়া করছে, কখনো নিজেরাও রান্নাবান্না করছে। আমাদের দাওয়াতও করছে। আমরা সবাই মিলে একটি বড় পরিবার। ব্যতিক্রম শুধু দুই ভায়রা। তারা সবার সাথে সহজভাবে মিশতে পারছে না। তাই কিছুটা দূরত্ব বজায় রেখেই চলেছে। তাদের এই ব্যবহারটা অদ্ভুত হলেও সবারই গা সহা হয়ে গেছে। এই ধরনের ব্যবহার কিছুটা দৃষ্টিকটু হলেও কেউই তেমন একটা পাত্তা দিচ্ছে না। আমাদের মতোই তারাও তাদের পরিচিত লোকজনদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে খবরাখবর নিচ্ছে। প্রয়োজনমতো আমাদের সাথে শেয়ারও করছে। তবে আমাদের যোগাযোগের গণ্ডি তাদের চেয়ে অনেক বড় এবং বিস্তৃত। সমগ্র সামরিক বাহিনী জুড়ে রয়েছে আমাদের সংগঠন সেনা পরিষদ। রাজনৈতিক মহলের সমমনা নেতানেত্রি এবং বিভিন্ন মহলেও রয়েছে আমাদের যোগাযোগ।

Request to Shishu Bhai to visit Benghazi

As decided One late night I called Shishu Bhai and got him on line.

Assalam, its Dalim here. Shishu Bhai, of late Tawab came to visit us and had gone back. We all desire you should also make an arrangement to visit us as soon as possible. It is important to meet you though we know you remain extremely busy these days. A.V.M. Tawab said so. After his visit it has become imperative for us to meet you. I am sure, you know what I mean. Don’t you?

Walaikum Assalam, good to hear your voice after quite a lomg while, yes I do. I understand, you guys are having a fabulous time out there as State Guests. What a coincidence! Zia has already asked me to visit you all to discuss a very important matter about his plan about your future. He is pressing me hard to take the trip at the earliest.

Is that so? Then it shouldn’t be difficult at all to arrange your trip right away, please come at the soonest.

Wilco. I shall be with you all within a week In Sha Allah.

Oh! Good old Shishu Bhai that would be realy great! We all shall be waiting anxiously for your arrival. Take care, Allah Hafez.

Allah Hafez said Shishu Bhai and droped the line.

All were exited to hear the news but both the brother in laws were indifferent.

Since then, we all were anxiously counting days for Shishu Bhai’s arrival. At that juncture both the in laws suddenly went out of Benghazi with out informing any one of us. When their spouses were asked where they have gone, they remained quite. We were surprised at their such wired behavior. When Salem was asked he said, both had gone to London for some reason which was not known to him. on the 3ed night after they got vanished from the blues we saw live interviews of Rashid and Faruk were being broadcasted in a talk show on BBC. The interview was taken by Anthony Mascarhnas, a veteran British Journalist. They were talking about 15th August armed uprising spear headed by the patriotic members of the armed forces. We were just simply stunt at such uncalled for immature adventurism for the second time. We all became horrified and dumb founded sitting before the TV in sorrows and anguish listning them for long. After their such initiative at Bangkok to arrange an interview after their request for political asylum was refused by the American Embassy they were told in strong words not to repeat any such venture in future and they both had agreed. Even after that how could they repeat the same blunder participating in such a pre arranged live talk show! This was simply unconsivable and that had made all of us angry.

On their return there had been hot exchange of words and relation became more bitter and uneasy. Their interview was widely propagated within Bangladesh and abroad and become controvercial which is still on. All the political parties of Bangladesh had taken undue advantages as and when required misinterpreting their statements made in that controvercial interview.

At this desponding situation we got the messege that Shishu Bhai has arrived at Tripoli. Zamir is escorting him to Benghazi. After spending some time on transit at Tripoli Shishu Bhai and Zamir reached Benghazi around noon. He travelled via London so was a bit tired. So, immediate arrangements were made for him to take a good rest for freshening up. After taking a shower and light lunch he went to bed. He slept till evening and woke up fresh.

After independence when Zia was removed from Command and was brought to the army HQ then Shishu Bhai was the Brigade Commander at Comilla for some time. Under his command we raised two Arty Regts 1 Fd Regt and 3 Fd Regt at Comilla. Besodes, we also started the ground work to establish Bamgladesh Military Academy(BMA) and Physical Training School(PT School) simulteniously as well. In those days we used to come over to Dhaka almost every week end to enjoy. Shishu Bhai and Tony Bhabi used to prefer to stay at our house at Mali Bagh not in their house at Bangla Motors. After enjoying the parties thrown and attended by the wealthy common friends we used to drive back to Comilla early Monday morning to be present at the Parade. ‘Minor General’ Shishu Bhai had no intemecy with Rashid and Faruk. Pasha, Shahriar, Mahbub and Huda were all then at Comilla. his intemacy with Nur was from the days they both were at the 8 Theatre Rd during liberation war in ’71.

Shishu Bhai is also related with my mother in law so he visited them at London on his way. Khalamma gave him some Bangladeshi fishes of different kind, Chawsa mangoes and Paan and it’s affiliated ingrediants to carry for us.besides, Tony Bhabi has sent from Bangladesh Sarees for the ladies, Kurta Payjama for the men along with Gur, Chira and Muri all are rare delicacies anywhere abroad. Sweets like Pora Barir’s Cham Cham and Nator’s Kachagolla were not left out. Our anger and resentment towards the brother in laws minimized to an extend as Shishu Bhai arrived. We all were very happy at his arrival. But Rashid and Faruk were some what apprehensive about his visit.

We knew it well, though Shishu Bhai at present is one of the confidant and close advisor of Gen. Zia, he has not come here for spying on his behalf. He has come here as our good old Shishu Bhai at our request. Shishu Bhai, Ziaur Rahman, Mir Shawkat, Mostafizur Rahman were all intelligence trained officers and had worked with ISI as young officers at the same time. This was the main reason for Zia to choose Shishu Bhai as a trusted confidant.

Before coming Shishu Bhai had also met Abba(My father). Beforehand, Abba had already informed me trhat Shishu would be informing us all about the present complex situation on ground so that we can take correct decision about the future course of action. Zamir went back to Tripoli after handing over Shishu Bhai to us.

We had already decided that we must try to find out from Shishu Bhai’s analysis the answers to the difficult questions about which we are thinking day and night. We would be talking less and listen more. We knew Rashid and Faruk wouldn’t feel comfortable and shall leave the meeting at the earliest. Our serious discussion would start only after their departure as Shishu bhai also would not like to open up freely in their presence. He would like to have free and frank open hearted discussions with us only. Shishu Bhai was fully aware about the weight of the brother in laws. Not knowing much in details about Sena Parisad, Shishu Bhai knew well about our popularity and strength within the armed forces. From the days of liberation war he realized that on the basis of some kind of understabding Sena Parisad shielded Zia as the ralling figure and had brought him to the center of power in 1975, after the political change brought by popular armed uprisings.

At present no one would be knowing more than Shishu Bhai on 7th November, which force had freed Gen. Zia from the captivity and reinstalled him as the Chief of Army Staff. What Zia is doing with that force in the name of bringing back deceipline within the armed forces? What could be the reason for his such unexpected deplorable brutal betrayal. We must also kbnow clearly from Shishu Bhai the reason why mistrust and ambiguity is on the rise in our minds and the members of the Sena Parisad about Zia so that we can take correct decision about our future based on factual realities.

In the evening after Shishu Bhai woke up fresh, we had high tea and all sat down in the conference room along with him. Rashid and Faruk were also called in. At the on set of the meeting Rashid asked what was the agenda of Shishu Bhai’s visit. Shishu Bhai replied

Basically, I came to meet you all to enquire how are you all keeping. Besides, I have brought a propossal from Zia for you all.

What is the propossal? Asked Faruk.

On my return Zia would call Dalim and Rashid to discuss about his thoughts about your future.

Why only Dalim and Rashid? Questioned Faruk. Shishu Bhai in his usual style with a smiling face replied

I am not suppose to know Zia’s mind. But I guess he might have thought one on behalf of two brother in laws and one on behalf of the rest would suffice.

Hearing the reply Faruk started biting his leaps. It is his habit to do so when he gets angry. He said

Zia had betrayed with August revolution, us and the revolutionaries only for his greed of power. If I was called I would have made him understand this truth properly.

To cool him down Shishu Bhai said

Whatever you wanted to make understand you have already done that not only to Zia but to the whole world in the organized live talk show broadcasted by BBC where you and Rashid had been interviewed by Anthony Mascarhnas. In the talk show you hardly gave any chance to Rashid to speak so, may be Zia wants to hear whatever Rashid did not have the chance to speak. To us such an intelligent answer was not unexpected from Shishu Bhai.

Listning such a reply Faruk thought for a while and said

As far as I am concerned, I am least interested to talk with a traitor. He can go to hell, but let me tell you his heinous injustice and crime shall not go unchallenged. You may convey this to him.

Surly, I shall do that.

Bloody swain! Have you got anything to communicate?

No, nothing of your interest I presume.

Well, then we shall beg your leave.

Pleasure is yours.

Thanks, he looked towards Rashid and Rashid got up. As both brother in laws were leaving, Shishu Bhai suddenly looked towards Rashid and asked

Would you be coming if called. Rashid in his usual style gave a crooked reply

Once the formal invitation is received then he will think what would be the right thing to do. Saying so both had taken leave from Shishu Bhai and left the room. We all felt a sye of relief!As far as I am concerned, I am least interested to talk with a traitor. He can go to hell, but let me tell you his heinous injustice and crime shall not go unchallenged. You may convey this to him.

Surly, I shall do that.

Bloody swain! Have you got anything else to communicate?

No, nothing of your interest I presume.

Well, then we shall beg your leave.

Pleasure is yours.

Thanks.

Being ambarrased I told Shishu Bhai

Lealive me Shishu bhai, we did not know anything about tat interview of theirs. We all were shocked to see both on the TV screen! Their approaching American Embassy at Bangkok was also degrading and we had warned them both not to act like this in future and they agreed. Even after that they could get involved into such a preposterous self defeating venture that we could never conceive. We are all very angry with that interview.

I know that you could never get involved with any such misadventure.

The atmosphere became relaxed and pleasant with his statement.

Pasha started

Came to know that already by now you have earned fame countrywide as ‘RajPutin’, but I am sure you are aware that his end was more pathetic than Zar of Russia. He had to commit suicide by taking poison. Every one burst into laughter hearing Pasha’s statement. Taking the queue from Pasha I said

Why from the blues our happy go lucky type Shishu Bhai all of a sudden developed the appetite to be the ‘Political Guru’ of Gen. Zia like Gen. Zilani became the political mentor of Gen. Ziaul Haq of Pakistan! Is it for the simblance in the names or to be ‘Rich and Famos’? All were rolling hilariously.

The question is very interesting and meaningful but none of the anticipited answers is right. I must clear one thing here that I still stick to what I said to you all in Bangkok. When Zia requested me that he needs me, I very frankly told him that I still maintain my earlier position that I am not at all interest to serve in army so, I can’t help him in army affairs. Listening to my submission he requested me to help to lay the political platform for him. Considering his mind set and ruthlessness I had thought that it would not be prudent to refuse his request. Therefore, I decided to accept this assignment but on clear terms that the moment my immigration papers would be in my hand I along with my wife and children shall leave for USA to join the rest of my family. That is how got involved in the political affairs. Now, reiterating my position I fill obligatory that I must tell you guys something in confidence as I and Tony love you all and particularly, we are indebted to Dalim and Shapan and their family. The reason is well known to you all.

I must clear one thing here that I still stick to what I said to you all in Bangkok. When Zia requested me that he needs me, I very frankly told him that I still maintain my earlier position that I am not at all interest to serve in army so, I can’t help him in army affairs. Listening to my submission he requested me to help to lay the political platform for him. Considering his mind set and ruthlessness I had thought that it would not be prudent to refuse his request. Therefore, I decided to accept this assignment but on clear terms that the moment my immigration papers would be in my hand I along with my wife and children shall leave for USA to join the rest of my family. That is how got involved in the political affairs. Now, reiterating my position I fill obligatory that I must tell you guys something in confidence as I and Tony love you all and particularly, we are indebted to Dalim and Shapan and their family. The reason is well known to you all.

We realized that Shishu Bhai is up to saying something important.

Much of what I am going to say Dalim already knows much of it but most of you are not aware. As young officres me, Zia, Mir Shawkat, Mustafizur Rahman were posted in Esat Pakistan. None of us deligated any specific political resposibility. So, what to talk about the arena of national politics we had limiterd interaction with the  actual ground realities and the people as most of you had. from your student life more or less most of you had been actively participating in the student as well as national politics. Therefore, your parametre of contact and closeness with the leaders and workers of political parties of different shades and colors was wide ranging. That is why during liberation war and after you were able to take initiative organizing covert resistance movement against the far fetched blue print concerning Bagladesh of the imperialistic expantionism of Indo-Soviet axis. Zia was chosen by you as to be the rallying point. Your aim was to abolish old focilized  obsolite colonial state and socio-economic structures and replace them with new compatible progressive and pro people structures through revolutionary steps to build a self relient, happy and prosperous Banmgladesh. Am I right? To be honest, very few of us had slightest clue about all these pious dreams. But you know something, at heart, I sincerely got fascinated with the courage and commitment of you all and your cause but couldn’t be bold enough to be part of that endeavor. Since that time I had been admiring and loved you all much more at my heart.

Am I right? To be honest, very few of us had slightest clue about all these pious dreams. But you know something, at heart, I sincerely got fascinated with the courage and commitment of you all and your cause but couldn’t be bold enough to be part of that endeavor. But when decided to make ZIa to be the central figure I thought it was a wrong choice and you were making a mistake. One day I raised this matter with Dalim and Nur at the Theatre Road HQ. But at that time both had told me

Shishu Bhai, The freedom struggle had brought lot of changes in our out look, mind set and thought process that kind of changes could possibly also come within Zia you had known. Moreover, beeing convinced about our philosophy, aim, action plan he at his own had taken oath touching the Holy Quran to struggle as one of us in our future struggle. In that case please tell, would it be fair to doubt his scincerity and honesty? I had no answer to that so became quite. Dalim and Nur both of you are present so, please say if I am speaking the truth?

Very much so Sir, every word that you are saying is true.

I supressed all these so long within myself, today by speaking out I have tried to lighten myself though it might not be relivent to you all. Hope, I am not boring you all?

Not at all Shishu Bhai, rather we are loving to hear your frank revealation. You may continue with out any hesitation what so ever.

Thaks, Shishu Bhai started again.

Hope, I am not boring you all?

Thanks.

Though, I had decided took myself aloof from the army but I had been watching after liberation with what kind of foresight, prudence, courage and cleverness hoodwinking every one with unbelievable ability you had been organizing yourselves. Being a man trained in intelligence, I was simply dazed!My respect enhanced manyfolds. Don’t think Shishu Bhai is buttering you. But when I saw crossing all ups and downs when you successfully installed Zia at the center of power, at that very moment the person stabed at your back and got derailed. You are not at fault for this. As, it is most difficult thing to read human mind and psychology. I was simply shocked and I cried, believe it or not.

is most difficult thing to read human mind and psychology. I was simply shocked and I cried, believe it or not.

Why Zia had done so, that is not clear to me as yet! You wanted to make a patriotic benevolent pro people national leader in that case why and on whose counseling he has axed his own feet that’s a mystry! Only time would unveil this mystry. We all who were present were attentively listening Shishu Bhai in a pin drop silence. Being one of the most close and trusted confidant of Gen. Zia he would open up his heart lijke this to lighten himself taking us into confidence was surprising but his sincererity had touched our hearts deeply. To day we discovered another Shishu Bhai not known to us so long.

From whatever Shishu Bhai was revealing with utter sincerity we were getting answers to many of the questions hovering in our minds. There were many important food for thoughts to be pondered about in his talks about our future.

Pasha again opened up.

Well, Shishu Bhai you just said, why did Zia do this that is not clear to you yet. I strongly beleave, whatever knowledge that you might be having about Zia due to your long association as coullegue you must be having your personal assessment of Zia. We would request you to share that with us if you like.

Pasha, you have rightly said, being coleugues I do have a personal assessment about Zia’s character and his mind set. I do not know, my assessment might be similar or different from yours, even then I am saying as Pasha wanted to know on your behalf that those who enrolled as officers in thye armed forces during Pakistan days most of them belonged to middle or upper middile class. Political awareness and national politics were of no concern for them. Therefore, most of us were unconscious about socio-economic exploitation and deprivation of the vast majority. The armed forces was the major partner of the ruling cotere of Pakistan from the very beginning. So, we all became part of the ruling elites.

We had always been suffering from superior complex and looked down upon others with contempt particularly the politicians. That’s why we used to address them as ‘Damn or Bloody Politicians’. We were also least pushed about the bureaucracy, judiciary and the leaders of the civil society. We had this latitude as all of them used to be scared and submissive to us fearing the power of the barrel of the guns. Vertually, all of them temparementally had been our ‘Yes Man”. Besides, we were given a llession that it was we who could contribute more to the nation and the country in every respect compared to those spineless self seeking corrupt lot because, we are relatively more cohesive, well organized and disciplined force, more focused on the modern world affairs and technology. Due to this notion Pakistan remained under military rule for most of the time. Zia cones from a very humble middle class family. He was brought up at Jacob Line of Karachi. His father was a Section Officer in the central government. After graduating from the Islamiya College, Zia went straight to PMA to make his carrier as an army officer. He all through kept himself aloof even from student politics for the sake of his future carrier. Though he was born in East Pakistan but he had hardly any relation with the people and the land of East Wing. Zia even was not used to talk, read or write Bangla properly. His knowledge about politics was up to that what was taught to him that for the betterment of the country and the nation armed forces must be the major player. Rest should remain as subordinates. We hasd been considering the progressive and left politicians as the enemies of the country so left politics was banned in Pakistan. At this back drop, I don’t hesitate to confece that we were never attracted and our knowledge was almost zero about communism or the politics of the greater interest of the majority of the down trodden people. To be honest, most of the officers remained engrossed in thinking how to climb higher in ranks other than anything else.

In ’71 everything became topsy turvy after the military crack down. Mujib nor Zia knew how to save themselves from such an unprecidented brutal genocide. As a result, due to this lack of knowledge and to save himself from the pressure of his party subordinates and followers Mujib at his own will surrendered to the army and Zia being the seniormost Bengali officer then at Chittagong Cantt under the pressure of junior officers and soldiers had no other alternative but to revolt and declare independence on Air for survival.

That declaration of independence turned Zia overnight in the eyes of the people of East Pakistan to be a brave soldier and a path finder. At that time none including Zia himself was not aware at which hight the people had taken him and his popularity but India did realized that. It was on Indian pressure subsequently the text of Zia’s declaration was changed and Mujib’s name was included. In his first declaration of independence broadcasted on Air from Kalur Ghat, Zia proclaimed himself as the President of independent state of Bangladesh. This initiative had portrayed Zia to be an ambitious person to the Indo-Soviet axis and their cohorts within Awami League who were chosen to form Provitional Bangladesh Government in exile. As a logical conclusion he was admonished and removed from the post of Sector Commander of No1 Sector thus withdrawing from the main stream of the freedom struggle and was dumped at the Mujib Nagar Headquarters at 8th Theater Rd in Calcutta. In other words, he was literally being thrown into dustbin. But due to pressure generated by you all as established powerful freedom fighters they could not finish him totally. Rest is history.

As a logical conclusion he was admonished and removed from the post of Sector Commander of No1 Sector thus withdrawing from the main stream of the freedom struggle and was dumped at the Mujib Nagar Headquarters at 8th Theater Rd in Calcutta. In other words, he was literally being thrown into dustbin. But at the end he could not be finished for ever due to your pressur. Rest is history.

Those of you who dared to take the initiative and got involved to lay the foundation of Sena Parisad under the cover of liberation war know lot more than me in this regard. You also had established contacts with other patriotic and nationalist political parties and their leadership. Not only that, being visionaries with foresight and thingking about the future you had also maintained relation with the leaders of the liberation struggle of the North East India known as ‘Seven Sisters’. You also developed relation with Charu Majumdar and his Naxalite movement. As sincere friends you had also helped them in many ways covertly. Only politically conscious persons and activists can have such foresightedness. Now, Nur the man of few words opened up

Well, Shishu Bhai, most of us also belong to middle or upper middile class so, in what way do you find the difference between us and Zia?

Many of you who are present here definitely come from higher or the same class as that of Zia. But the difference is, You remained connected with the people and the soil all through. Besides, some of you are born into political families thus familier or connected with politics. Therefore, most became politically conscious since very young age. This is what has made the difference in the mind set and thinking process of Zia and you all. There is another differnce. To the extent you all had de-classed yourselves that was not possible for Zia and would never ever be.

During the war you came in direct contact with the poor ordibnary masses who are the grater majortiy. The way their miserable plight, sorrows, pain, exploitation, deprivation, aspiration touched your conciense changing your innerself that kind of change never came to Zia’s heart. Most glairing proof of that is when most of the carrerist officers from all the sectors being unable to withstand the riggor and danger of a long drawn Guerrilla war got into rat race to be inducted in the three regular Brigades called ‘Z’, ‘S’ and ‘K’ Force that were raised later before our liberation war became a all out war between Pakistan and India none of you opted for those Brigades inspite of many requests and elurements and decided not to abandon the fellow Guerrillas and stayed back with them in ‘Lungis and Genjis’. This is where the different lyes. Personally Zia is no revolutionary.

Neither he is ready to de-class himself to the extent of you all. He is just an ambitious careerist army officer. As he has shrewedly managed to be served with the state power on the plate, he would restrict himself only to the politics of power which he has seen in Pakistan power politics of compromise but definitely not radical in nature. Shishu Bhai’s analysis of Zia and his politics was regratable but was very meaningful.

I asked

What about General Manjoor?

With a mysterious smile he replied

You know the answer I am sure. If you have asked my opinion just to reassure then I may say, slightly better but not much difference except Manzoor being known as ‘Gudarian’ is much more ambitious than Zia. Should he get any chance then he wouldn’t do anything radical as well. Dalim, am I too far away from your assessment?

Really don’t know Shishu Bhai, as you yourself had said it is hard to read any one’s mind. Besides, once bitten twice shy. Once again all burst into loud laughter listing to my answer.

You know the answer I am sure. If you have asked my opinion just to reassure then I may say, slightly better but not much difference except Manzoor being known as ‘Gudarian’ is much more ambitious than Zia. Should he get any chance then he wouldn’t do anything radical as well.  What do you say Dalim am I too far away from your assessment?

Really, don’t know as you yourself had said it is hard to read any one’s mind. Besides, once bitten twice shy.

After lighting another cigaratte Shishu Bhai took a deep puff and started again at his ownYou know something, Zia had grown up in a humble family with always calculating gain and loss before taking any step. Therefore, his nature is to take any step only after carefully weighing prose and corns. Passion, impulsiveness, romanticism are not his bit of pies. On the contrary, siblings like you who had born with silver spoons in your mouths in affluent families are usually open minded and handed as well. So, not much used to calculate gains or losses. Other than this the people who had ever served for any intelligence agencies automatically develops certain character straits such as:- suspicion, to beleave in hear say, trust deficite even among the colleagues, to measure every word, unable to laugh hearts out etc. They can’t take anything simply on tis face. All in all their mind becomes narrow and croocked. This I said, absolutely from my own experience.

Okay Shishu Bhai, at present to perpituate his absolute controll Zia had divided the armed forces in how many segments? Asked Nur.

Three to four segments are clearly visible. At one side are the repatriate lot, on the other side the freedom fighters centering around Manjoor. In the 3ed segment are the inducted Rakkhis and left over AWAMI-BAKSALITES. The 4th segment comprises of whatever are still surviving members of Sena Parisad and a few rift rafts of Taher’s followers.

Which segment is trusted and considered most dependable by Zia? Asked Huda.

None. Because, he is thinking the very existance of every one depends on his mercy. Particularly, under the pretext of bringing back stability in the armed forces Zia had placed all the intelligence agencies under Gen. Mohabbat Jaan Choudhury the current DGFI. You know he is Zia’s course mate. He through the intelligence agencies had so far oorganized 18-19 fictitious mutinies and killed more than 2500 officers and the soldiers of the armed forces indiscremately. This is a modest count, some say the figure is much more. After such a hinious killing spree this notion of Zia got strenthened. Now he thinks he is the king of the kings. Therefore, he can easily fire any one at any time at his whims, remaining as strong as ever.

Now he thinks he is the king of the kings. Therefore, he can easily fire any one at any time at his whims, remaining as strong as ever.

Excellent! Huda commented on Shishu Bhai’s statement. After hearing all minutely Shahriar said

Well, Shishu Bhai, the crux of all that we have frankly discussed up till now gives a feeling that so long Zia had been using us to meet his end. At present it appears that he has no hurdle on his way to the pinnacle of power. He has almost uprooterd the organizational strength of Sena Parisad, Taher has been hanged. Rest of the JSD’s oppurtunist learders would be freed after keeping for a while in Jail through compromise. Lot of them might be seen in his political party as well in future though he is propagating his political philosophy is based on nationalism and religious values. Don’t you find this to be contradictory?

Though late, Col. Taher and Maj. Jalil realized that JSD was in fact the ‘B’ Team of Awami League. That’s why both at their own in their own ways took initiative to master strength to fight a people’s war. We used to maintain contacts with both almost on regular basis. Ideologically there was only one difference between us and them. We, strongly beleaved that Islam being a devine ideology was superior to Marxism. To the people of Bangladesh no ‘Ism’ whatever that might be would be ever acceptable void of religious values and ordinances this fact has been already proven long ago. The soul of 8 Crores people of this land would not be satisfied with any gingoistic idealism being propagated with out Islam. Taher and Jalil failed to counter our  argument so, both were willing to work with us to demolish the existing obsolete state and socio-economic structure imposed by the British colonial masters taking revolutionary steps in every sector and build a happy, self relient, progressive and prosperous Bangladesh. Their borrowed political philosophy ‘Scientific Socialism’ was not acceptable to the freedom figfhters other than the vast majority of the Muslim population and members of the armed forces, This they realized quite well through their bitter experiences. Our philosophy and principles were correct that they had to concede looking to the organizational strength of Sena Parisad. After knowing everything from A to Z why did he have to axe his own feet and at the same time made all our long time efforts go down the drain! Can such actions of his bring any good result at the end? The day Zia would be unmasked the people of Bangladesh would consider him to be more vicious camillion and betrayer compared to Mujib. Allah also do not like Munafikat(Treachary). You would see, the end result of this imposter’s sinister design would be horrifying! Do you visualize that my dear Big Blood Brother? To Shishu Bhai we were all ‘Blood Brother’ since we got thick and thin during ’71.

What ever might happen to Zia that is of no concern to us any more. But the golden opportunity trhat we had successfully created to fullfil the spirit of liberation war in new born Bangladesh that was denied to the country and the nation by Gen. Zia this hard fact would be known to the countrymen some day and as a result Zia’s permanent aboard would be in the Dust Bin of history In Sha Allah.

Shishu Bhai listened with interest what shahriar had revealed but said nothing in reply. I took my turn again to know from him more clearly

Shishu Bhai, don’t you feel Zia is fully aware how and due to which force he is today installed at the center of power? Who were the vanguard and main force to stage the uprising of 15th August and 7th November? Even then he decided to sever all relation with us and go the other way bringing emmense catasterioph not only to himself but also to the country and the nation. Being his political advisor did you ever tried to make him understand that?

Yes, I did but failed.

Why?

He is verymuch ambitous but he is not prepared to take any risk. In other words I may say, he is not radical like you guys are. He would fullfil his political ambition doing similar kind of politics of other military dictators of the 3ed world countries. His politics would be subjugated by the outside big powers. In that case he would have to compromise with the vested interested quarters in side the country, political parties given birth by them and their foreign masters. are Based on the true spirit of liberation war Your menifesto and action plan are extremely popular and widely acceptable to the people. Zia had realized that well. Therefore, on his order I had to draw up his 19 points programe and party manifesto on the basis of your ideals, principles and action plan. Logically you think that such a menifesto and action plan based on these ideals and principles can not be implimented on ground with out taking revolutionary measures. But Zia thinks, he can impliment this through the politics of compromise and give and take in the process of so called democratic politics. His main problem is, to do this kind of politics he has to ensure his acceptability to Indo-Soviet Axis and thereafter to build some kind of working relation. To achieve these two objectives the prerequisite is, he has to prove to both India and Russia by hook or by crook that he had nothing to do with the popular uprising of 15th August spearheaded by the patriotic members of the armed forces and the sad demise of Sheikh Mujib. Strong malecious propaganda is already on that President Khandakar Mustaq Ahmed had appointed him as the chief of army staff considering his professional ability and popularity within the army. It is being further propagated that the uprisings of 15th August and 7th November are two isolated events and in no way related to each other. After the momentus successful Sipahi Janatar(Soldires and People)revolution Zia was installed in the center of power by the revolutionaries due to his personal popularity.

Both these hisdtoric events are links of the same chain that is not known to the common people as they are unaware about the happenings that took place behind the scene. so, whatever propaganda has been launched by Zia people are ironically accepting that as truth.

I have a hunch that Zia would at his own initiative bring back Hasina and Rehana and others ending their 8 years exiled life in India and allow almost anhiliated Awami League to be rehabilited once again in the main stream of politics under her leadership just to please India. If it becomes a reality would it be possible for Zia to take you all back in the army, do politics together or to allow you to do politics separately as his opponent? The answer is simply ‘No’. I presume he would also not allow Khandakar Mushtaq to emerge strongly in the political arena against the interest of his own and Indian backed Awami League at any cost. You all have the ability to understand rest of the untold part of the game plan.

As my conscience is pricking, I shall reveal few more things to you. Zia is not feeling secured allowing you to remain free beyond his control like this. The only way he would be able to keep you dispersed abroad under his close watch getting you posred at different Missions as diplomats. He would be compelled to legitimise the Indemnity Ordinance issued by Mushtaq as an Act of the Conostitution by the elected Parliament for his own personal safety. If possible he of course would have avoided that too. I am letting you know this from my personal conviction. He would try to remain in power maintaining a balance on all fronts. He would also try to keep every one who matters happy paying the required price. Have no doubt about that. Zia would never build his party based on any ideological mooring and principles or political philosophy. That would shape up as  a populist platform. The only responsibility of this platform would be to provide a gurb of democracy to Zia to put on for getting worldwide legitimacy of his autocratic regime.  Zia had deliberatedly asked me to chose corrupt self seeking doves from different shades and color from all the political parties with divergent political ideology just to keep the party organizationally weak and the so called leaders totally dependent on his mercy due to internal scoblling and cut throat feuds. Zia will introduce wide spread corruption in politics giving a free hand to every leader to do corruption at the same time open a file against each one of them and keep with him later to ensure their loyalty and obedience as his domesticated dogs. However, ke would keep up his own image as ‘Mr. Clean’ keeping himself above all corruption. This is how he would be perpetuating his absolute power. There after the country would be administered as his father’s property and his political couleagues would be functioning as his ‘Yes Men’. Shishu Bhai extinguished the butt of his cigarrate into the ashtray and finished whatever he had to say.

After he finished, I once again said on behalf of all of us present

Being very close, intimate well wisher and and a fellow freedom fighter whatever you had confered to us with out hiding anything for that we all are sincerely greatful to you. Befor we conclude our discussion we would like to know from you under the prevailing situation what would be rational for us to do?

Shishu Bhai lighted another cigarrate and thought for a while and said

For the time being Paradise is lost but it certainly does not mean Paradise does not exist, I would say. For the time being Paradise is lost but it certainly does not mean Paradise does not exist, I would say. Though the opportunity had sliped out from your hands this time but in future it might again come in future to make positive contribution for the country and the people. Particularly, as brave freedom fighters, selfless, sacrificing, pro people, nationalist, God fearing worthy sons of the Sun(Surjo Shantan) your popularity in every sector of the society has made each one of you as leagendary heros. This you have earned through your consistant long drawn uncompromising struggle. Carefully preserve it and get yourselves more enriched and matured. One day the people of Bangladesh would look for you to lead the nation. If that does not happen even then tell me, whatever you all have achieved till this date, howmany of 8 Croes Bangladeshis can claim to have earned that much love and honor? Very few I must say and all of you are those few exceptional sons of the soil. You all are not only the creations of history but also the creators.

About 15th August revolutionary uprising, your unprecedented courragious contribution to defuse the boiling situation on 2-3November’75 night, Sipahi Janatar Biplob of 7th November, Linkage between these two momentus events of 15th August and 7th November, Sena Parisad the covert organization and Zia’s relation with Sena Parisad prevails or made to prevail lot of ambiguity and confusion in the mind of ordinary countrymen. To remove all these ambiguity and confusion you must write down the true testaments. So that at the required time and opportunity the Bangladeshis can evaluate you correctly having the knowledge of all the true events that had under gone behind the scene right from the beginning of the liberation war. This is a justified expectation of the people. It is also your moral obligation to leave behind these testimonies for the historians and the social scientists to seek truth from the facts to write the correct history of Bangladesh. However, even you decide not to write the factual events, truth shall prevail.

However, even you decide not to pen down the testaments  truth shall prevail. If Allah Pak does not give any opportunity in further as an Imandar one has to accept that, isn’t it Shahriar? But I shall humbly request, you must not ever be impulsive due to provocation from any quarter and do something that might dent your hard earned trust worthyness, fathomless love and respect. You have to always keep your eyes and ears open and must take every step carefully. Out of 8 Crores Bangladeshis you are a few priceless jewels. Jewels like you are rare in the whole of 3ed world. I had not said all these to pamper you. This is a hard truth. No matter who tries how much it would never be possible even with all out adverse propaganda to erase your images that has been ingrained in the minds of the fellow countrymen would not carry any water. Your Awara(Loafer) shishu bhai would say one more thing.

The word ‘Awara’(Lofar) reminded me about an event that took place at the Officer’s Club in Comilla Cantt. In ’73 to celibrate independence day  ‘Dress As You Like’ for the officers and their spouses was organized in the evening. Among others Shishu Bhai, dressed himself as an ‘Awara’ youngman. I and Nimmi dressed as a ‘Santal Couple’, Anwar sported to be a Western Bounty Hunter. We were awarded the First Prize.

If the opportunity presents itself again in future to struggle for the greater interest of the nation, then that struggle would be a challenge to organize a people’s upsurge countrywide. No future struggle centaring around only the armed forces would never bring any success. If we want to save Bangladesh from the expansionist thaw of India and don’t want to be a client state like Nepal or Bhutan we have to chose the only way to defy the Indian red eyes and launch another long drawn war for real independence and total imancipation on the basis of your chalked out ideals, principles and political programe. It is imperative to bring revolutionary changes in the state and socio-economic structures that was imposed on the nation by the colonial masters to serve their interest and their chosen local corrupt and selfish vested interested cotere. That revolution would not be easy. Because, if Bangladesh emerges as a genuinely self relient, progressive and affluent country then the so called ‘Indian Union’ artificially created by the British would fall apart like a pack of cards. I believe none of the political parties that are going to be in the field including Zia’s would be a part of any such struggle for their vested interests. You have to raise a new force, recruiting and training party caders and workers from the younger generation who are politically conscious.

All though, I believe the younger generation is not correctly aware about our liberation war, but very shortly from the unholy   compromises between all the political parties, corruption, misrule would unfold their characters and at the same time the long drawn sinister blue print of expansionist India would also get exposed. At that critical juncture they will look for new but tested and trustworthy leadership with unstained track record in the main stream of politics. You all have those character traits to provide that much sought for alternative leadership. I am not including the two brother in laws here as I hardly know them, don’t have much intemecy as well.

If you don’t mind I would like to ask you a question, requested Shahriar.

Certainly, feel free to ask.

Well Shishu Bhai, when Zia with indiscriminate brutality killing thousands of leaders and caders of our organization without any trial at that point of time you took your promotion and stood by Zia as one of his most trusted advisor. Knowing this I was personally hurt immensely.

Very natural. Many had come to me and expressed their displeasure in this regard. When Zia proposed me to be on his side for helping him I had told him clearly that I had been trying to leave army from the days of liberation war so it would not be possible for me to sit beside him at the Sena Sadar(Army HQ). Getting my reply he requested me to take up the responsibility to lay the foundation of his political platform and at what terms and condition I agreed to his request that I had already explained earlier.

Your Shishu Bhai may not be brave enough but not inhuman. Zia today is a hated betrayer in my eyes. The man who can stain his hands with the blood of his long time comrades just for power sake, hje can’t be respected from the heart. I don’t know whether you all will beleive it or not but thats a fact. As he finished the beara came close to me and whispered, food has been layed to be served. Shishu Bhai was about to light another cigarrete when I said

Shishu Bhai, dinner has been layed. The call has come, so lets go. So long, serious brain storming had been done. Now, time for stomach worshiping before comming back again.

Shishu Bhai and we all got up and moved to the dinning room. There Nimmi, Lizi, Ranu, Salma and wives of Rashid and Faruk  Zobayda and Farida were waiting. To days dinner had been prepared specially under the supervision of the ladies. After glancing at the table full of different dishes Shishu Bhai said

What have you done, It seems to be a Royal feast! Lizi is the youngest so liked by all. She moves around in every flat with out any hesitation like a butter flye. A symbol of life and innocent charm, sense of humor, fragnance of a budding flower, Lizi is a darling to all of us. But she is equally sharp, witty and keen observant. With an intelligent smile and blinking her expressive bright eyes she gave an instant reply

Shishu Bhai, we learned that now you are no more our good old Shishu Bhai but a VVIP at the state level so, we have tried our best to well come the honored guest in a beffiting manner, what do you say Nimmi Bhabi?

My God! You have by now have matured much more than what I could think of.

Why are you getting surprised Shishu Bhai? In one side she is the sister of Huda on the other side she is the better half of Pasha, you are forgetting this. When Shishu Bhai was the Brigade Commander at Comilla with us, Pasha and Lizi tied their knots in a grand way. I and Nimmi as elders represented the Bride. Shishu Bhai and Shahriar represented Pasha. Then Pasha, my 2IC was just promoted and posted as the CO to raise 3Fd Regt in also Comilla and Huda was still my Adjutant.

We all took our designated seats and finished our dinner in a happy and light atmosphere. Finishing the dinner we all again returned to the Anti Room for gossiping with tea coffee and Paan. The brother in laws begged leave and left.

After the sumchuous dinner we all were in jovial mood enjoying every moment with jokes, reminiscence of many sweet and funny memories of the past and our vaforite songs from Shahriar. After enjoying heart content we decided to call it a night and after escorting Shishu Bhai to his Suite begged leave saying good night and came back to our respective flats. Before that Nimmi informed every one about the itenariry for the next day.

After brakefast at 11AM we shall set out with lunch boxes for sight seeing along with Shishu Bhai. That trip would end at Fanduk Omar Khaiyam with high tea. After dask we would take Shishu Bhai out to the Shopping Malls for shopping. Then on return to our Den we shall have Bar-B-Que Party in the lush artistically arranged garden. Next day Shishu Bhai will be going back via London. Salem on behalf of Libiyan Government shall go along us to see off VVIP Shishu Bhai at the Air Port as part of state protocol. Everything was meticulously arranged and executed.

As scheduled we all went to the Air Port to see off Shishu Bhai. Both the brother in laws thar is Rashid and Faruk abstained. Though obscinic, we just did not take any notice of their such obnoxious behavior including Shishu Bhai for two reasons:-

  1. They had a firm belief that being the most trusted confidant Shishu Bhai was one of the main brain behind all of Zia’s misdeeds.
  2. They were unaware to what extend our relation had become thik and intimate since the days of liberation war based on mutual trust and confidence.

Rashid and Faruk reached Kolkata almost at the fag end of the liberation war therefore, both had hardly any knowledge about far fetched blue print of the Chanakkyas centering around insecured independence of would be Bangladesh in future. They knew nothing about our strategy of resistance and organizational activities against this nefarious blue print. They were also completely in dark about our covert organization Sena Parisad within the armed forces that we had organized covertly after the independence. They did not know that since the beginning of the liberation war Shishu Bhai had been trying to resign from the army. They even did not know that my younger brother Shapan Bir Bikram, Kazi Kamal, Badi Bir Bikram carring out a daring Guerrila Operation in Dhaka had freed families of Shishu Bhai and Khaled Bhai from the custody of the Pak Army and brought them across the border to Agartala. They also did not know that me and Shishu Bhai were related familywise. Lastly, they had no clue whatsoever how deep was the relation of Gen. Zia with the Sena Parisad. They also did not know about the impression Shishu Bhai used to carry about Zia.

We knew Shishu Bhai had come at his own initiative. To convey Zia’s message was just an excuse. He came to inform us the inner information so that we don’t take any wrong initiative and fall into Zia’s trap. Shishu Bhai would have come even if I would have not requested. He was anxious about us not Rashid and Faruk. We would remain ever greatful for his such guesture out of sincere love and affection. Shishu Bhai by comming had just confirmed that all our previous actions were correct.

In a newly independent country with out any step taken to build the country and nation from the scratch India installed Sheikh Mujib’s AWAMI-BAKSAL government in power refusing the demand of a national government to devide the nation and create total anarchy. On the other hand, after being installed in the center of power Gen. Zia deliberately introduced phisycal and intellectual corruption in the national politics to perpetuate his power. With his slogan ‘money is no problem’ he gave an open hand to the politicians to do corruption making them immoral and weak so that they remain captives in his hands as just ‘yes men’ and corruption spreads like cancer in the every tire of society from national to grass root leavel. As a result national solidarity and indomitable urge to work with selfless dedication to build the new born country would get submerged in the eclips of corruption.

On the other hand clever Zia propagating the mith of his torn vest, broken suitcase and spade on shoulder had already been successfull dramatically to reached a sensational hight of personal popularity among the common people beyond any one’s reach. This is how shrewed Zia has been able to establish by now a positive image as an honest, propeople, energetic leader of the people. With prudence the self seeking oppurtunists from the right, left and center have been thrusted into the womb of his political platform Jagodal. From this hurd after thorough scrutiny with the selected ones not a political party but a platform would be laubced named Bangladesh Jatyotabadi Dal(BNP)on his own political philosophy and ideology just to provide a democratic rapper on his autocratic regime. All his beneficiary and corrupt leaders would behave as his henchmen at his mercy. In a very straight forward and simplistic manner Shishu Bhai had made clear to us the future political game plan of ever ambitious, sly and hipocrate Zia!

After Shishu Bhai had left, we all felt badly his absence for some days though coming and going is a natural phenomenon. However, it did not take long to get back to normal. Meanwhile, Huda’s newly weded wife Nafiza and Mohiuddin’s wife Hena along with their little children joined us from Bangladesh. Few days passed in their pleasent company. After Shishu Bhai’s return we saw Rashid and Faruk were visiting abroad more often than usual specially to Germany with out telling us anything. When asked from Zubayda and Farida nothing much they said other than that those were important business trips. Suddenly, we received a strange news from Bangladesh. Of late A.V.M. Tawab had got around some Peers, Mashayekhs, Alims, leaders of some Madrasas, Islamist activists and had started enthusiastically organizing Sirat Mahfils all around the country with a cap on to imbue the majority Muslim population with true spirit of Islam! Rashid and Faruk’s frequent visit to Germany might be having something to do with this wiered venture of Tawab we guessed. This venture is not Zia’s brain child thats for sure.

One day brother Salem informed, after marathone sessions with us, Moammar and the other Gurus and policy makers of Revolutionary Command Council realised that though Rashid and Faruk had been trying to project that they were the main architect who engineered the 15th August Revolutionaery Uprising but in fact, the main force behind was the organization Sena Parisad and its leaders. They further realized that there is some kind of difference that exists between us and them. The differnce is ideological or of any other kind that is not clear. However, from the discussions they realized very clearly that politically we are farmore concious and matured than Rashid and Faruk. On our deposition they have decided that revolution in future can only be promoted through the political process in Bangladesh.

Therefore, to arrange funding in future to get politically organized as we desired an lumsome ammount has been handed over to Rashid and advised to invest them in lucrative big business around the world like stock exchange, oil export, shipping, real estate, commodity trades with the assisstance of some of their trusted contacts and friends in these fields. It has been also decided to import around 4000 to 5000 labors from Bangladesh. After hearing all these we were dumn founded and Pasha on our behalf told Salem that Rashid had not disclosed anything about all these so far. Just to ease the embarassing situation I said

Everything at the very initial stage thats why he might have decided not to talk about all these at the prematured stage. He would surely let everyone know all the details at the right time after everything is well set.

We decided not to ask both Rashid and Faruk anything about future plan of politics, investments for generation of political fund including import of human labors. We shall also not divulge anything that Salem had told us. We shall be patiently wait to hear what they have got to say in this regard.

On return from one of the trips abroad after we learned all these from Salem both just didn’t bother to reveal anything to us in this regard. We also remained quite as decided. In such a situation one day Zamir came and informed that he has received instruction from Dhaka to arrange everything for me and Rashid to travel to Bangladesh at our convenience. This time he has come to discuss about our travel plan. Rashid told Zamir that he desires to reach Dhaka via Germany. I said that I shall travel along with Nimmi via London. Shortly, Zamir would be informed who would be travelling when after the dates are decided so that he can make necessary arrangements accordingly. After knowing our views Zamir went back to Tripoli.

Again a fiasco! One day both the in laws with out telling anything to any one got vanished from Benghazi. Zubayda said both had gone to Tripoli. Mystry of going to Tripoli in this way was nothing but a furse.