ঢাকায় পৌঁছালাম

ঢাকায় পৌঁছে বেগম খালেদা জিয়র সাথে যোগাযোগ করতেই তিনি সেই রাতেই তার ক্যান্টনমেন্ট-এর বাড়িতে রাতের খাওয়ার দাওয়াত দিলেন। নিম্মিকে তার দাওয়াতের কথা বললাম। নিম্মি পরিষ্কার জানিয়ে দিলো তার পক্ষে যাওয়া সম্ভব নয়। জানাই ছিল সে খালেদা জিয়ার দাওয়াতে যাবে না। সুতরাং যথাসময়ে আমি একাই গিয়ে পৌঁছালাম শহীদ মইনুল রোডের বাড়ীতে। সেখানে আমাকে অভ্যর্থনা জানালো কমবয়সী এক তরুণ। পরিচয় দিল সে খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব, নাম মোসাদ্দেক ওরফে ফালু। বসার ঘরে বসিয়ে দাঁত বের করে বিগলিত ভাবে জানাল ম্যাডাম সুগন্ধার অফিস থেকে বেরিয়ে পরেছেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই পৌঁছে যাবেন। কেনও যেন প্রথম দেখাতেই ছেলেটাকে তেমন পছন্দ হয়নি। তাই গায়ে পড়ে যখন আলাপ জমাতে জিজ্ঞেস করলো, ‘ভাবী এলেন না?’ তখন বিরক্ত হয়েই তার কথার জবাব না দিয়ে বললাম, ‘আপনি আসুন, আমি অপেক্ষা করছি’, বলে টেবিলের উপর রাখা ম্যাগাজিনগুলো থেকে একটা তুলে নিয়ে মুখ ঢাকলাম। বেরিয়ে গেল ফালু।

কয়েক মিনিটের মধ্যেই বেগম খালেদা জিয়ার গাড়ীবহর গেট দিয়ে ঢুকছে বুঝতে পারলাম।

গাড়ী থেকে নেমে সোজা আমি যেই ঘরে বসেছিলাম সেখানেই এসে ঢুকলেন তিনি। আমি সোফা থেকে উঠে সালাম জানালাম। তিনি সালামের জবাব দিয়ে আমাকে বসতে বলে নিজেও পাশের সোফায় বসে জিজ্ঞেস করলেন, কই নিম্মি এলো না?’ কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে বললাম দীর্ঘসফরের ধকলে অসুস্থ হয়ে পরায় ও আসতে পারেনি। তার এই অপারগতার জন্য আমাকে ক্ষমা চেয়ে নিতে বলেছে নিম্মি আপনার কাছ থেকে। আপনারা তো বেশ কয়েকটা দেশ ঘুরে ঢাকায় এসে পৌঁছেছেন, জার্নির একটা ধকল তো থাকবেই। এবার বলুন কেমন হল আপনাদের সফর? ভালো। বন্ধু-বান্ধবদের ধন্যবাদ জানানোর দায়িত্বটা সম্পন্ন করার জন্যই ছিল এবারের সফর।আপনি যদি কিছু মনে না করেন তাহলে আলাপ-আলোচনার স্বার্থে একটি বিষয়ে আমি আপনার অভিমত জেনে নিতে চাই। আমার দিকে প্রশ্নবোধক দৃষ্টিতে চেয়ে তিনি জানতে চাইলেন, কোন বিষয়ে? দেশের মাটিতে পা ফেলার পর থেকেই দেখছি সর্বত্র সবাই আপনাকে ‘ম্যাডাম’ বলে সম্বোধন করছে। কাকুলের দিনগুলো থেকে বরাবরই আমি আপনাকে ভাবী বলে সম্বোধন করে এসেছি। তাই বর্তমান অবস্থায় আপনাকে কি বলে সম্বোধন করবো সেটা ঠিক বুঝতে পারছি না। আমার কথায় হেসে উঠলেন খালেদা জিয়া। এরপর কোনও দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছাড়াই জবাব দিলেন আপনি আমাকে ভাবী বলেই ডাকবেন।
তার জবাবে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। ইতিমধ্যে গৃহপরিচারকদের একজন এসে জানালো খাবার পরিবেশন করা হয়েছে। চলুন খাওয়ার পাটটা সেরে আসা যাক। তারপর আলাপ করা যাবে। অতি সাধারণ খাবার পরিবেশিত হয়েছে। মাছ, ভাত, ডাল, সবজি ইত্যাদি। আমার মতোই এ ধরনের সাধারণ খাবারই পছন্দ করতেন জেনারেল জিয়াউর রহমান। খাওয়া শেষে আমরা ফিরে এলাম বসার ঘরে। একটা রুপোর রেকাবিতে পান ও রকমারি মশলা রাখা হয়েছে সাইড টেবিলে। বেগম জিয়া এবং আমি দুইজনই পছন্দসই মশলা তুলে মুখে দিলাম। মশলা চিবুতে চিবুতে তিনি সাইড টেবিলে রাখা কলিং বেলটি টিপলেন। ফালু এসে উপস্থিত হল। তিনি ফালুকে বললেন, যতক্ষণ আমি আছি কোনও ফোন কল যাতে তাকে না দেয়া হয়। হুকুম শুনে বেরিয়ে গেলো ফালু। আমার জন্য আপনি যা করেছেন ভাই তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ কিন্তু তবুও ধন্যবাদ জানিয়ে আপনাকে ছোটো করবো না। আমি তো আপনার ব্যক্তিস্বার্থে কিছুই করিনি, যাই করেছি সেটা করেছি দেশ ও জাতীয় স্বার্থে আমাদের সবার সম্মতি ক্রমেই। ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ভারত বিরোধী জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী জনগণের বৃহত্তর অংশের ভোটে আপনি নির্বাচনে জিতেছেন। আমরাও একই চেতনায় বিশ্বাসী, সেই প্রেক্ষাপটে আপনার নির্বাচনী বিজয়ের জন্য আমরা সাধ্যমতো যতটুকু করেছি সেটা ছিল আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই কৃতজ্ঞতাটা শুধু আমার একার প্রাপ্য নয়। নির্বাচনী খরচার যোগান এবং প্রাসঙ্গিক সাহায্য-সহযোগিতা দেবার জন্য যারা অগ্রণী হয়ে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন তাদের মধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী মিয়া নওয়াজ শরিফ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চৌধুরী সুজাতের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তারা দুইজনই আমার মাধ্যমে আপনাকে সালাম এবং আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা আপনাকে পাকিস্তান সফরের নিমন্ত্রণও জানিয়েছেন। আমি মনে করি, আপনি সরাসরি এখান থেকেই এদের দুইজনকেই ফোনে কৃতজ্ঞতা এবং নিমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে দিন। দুইজনেরই ব্যক্তিগত সিকিওরড হট লাইনের ফোন নাম্বার আমার কাছে আছে। তিনি রাজি হলেন। পাশে রাখা রেড টেলিফোনটির দিকে ইশারা করে বললেন- মিলিয়ে দিন নাম্বার দুটো। আমি দুটো নাম্বারই মিলিয়ে দিলাম। দু’জনের সাথেই স্বল্প আলাপের মাধ্যমে উষ্ণতার সাথেই শুভেচ্ছা বিনিময়, আন্তরিক ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানালেন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। আলাপকালে নওয়াজ শরিফ তাকে আবারও সময়- সুযোগ মতো পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানালেন। আমি নীরব সাক্ষী হয়ে শুনলাম তাদের কথোপকথন। আলাপ শেষে তিনি খানিকক্ষণ কি যেন ভাবলেন। পরে বললেন

একটা অনুরোধ কোরব? আমি জবাবে বললাম, নিশ্চয়ই।

আপনি সিনিয়র মিনিস্টার হয়ে আমার মন্ত্রিসভায় যোগদান করুন। প্রথমে টেকনোক্র্যাট কোটা থেকে,পরে বাই-ইলেকশনের মাধ্যমে নির্বাচিত করিয়ে নেবো। ঐ পদে অবস্থান করে আপনি আমাকে সার্বিকভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করবেন। আপনার অন্য সাথীরাও বিএনপিতে যোগদান করতে পারেন। আপনাদের মতো নিবেদিতপ্রাণ অভিজ্ঞ আস্থাভাজন সহকর্মীদের পাশে পেলে আমার ভীষণ সুবিধে হতো। দলে নিঃস্বার্থ, যোগ্য এবং নির্ভরযোগ্য বিশ্বস্ত লোকের প্রকট অভাব! তার আচমকা এমন অপ্রত্যাশিত প্রস্তাব আমাকে হতবাক করে দিলো! কেনও তিনি এই ধরনের একটা অগ্রহণযোগ্য প্রস্তাব করলেন! এর পেছনে যুক্তি কি হতে পারে সেটাই মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিলো। খালেদা জিয়া ভালভাবেই জানতেন সেনা পরিষদের বেঁচে থাকা শীর্ষ নেতারা সবাই মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই স্বাধীনতা উত্তরকালে ভারতের ষড়যন্ত্রমূলক নীলনকশা প্রতিহত করার জন্য সুচিন্তিত নীতি-আদর্শ ভিত্তিক সংগঠন গঠন করতে ব্রতী হয়েছিলেন বিধায় জাতীয় রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হয়ে পরেছিলেন। তাদের সেই প্রচেষ্টা এবং রাজনীতির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন জেনারেল জিয়াউর রহমানও।

কিন্তু ১৫ই আগস্ট এবং ৭ই নভেম্বরের ঐতিহাসিক বৈপ্লবিক সেনা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতার কেন্দ্রে অধিষ্ঠিত করার পর জেনারেল জিয়া সেনা পরিষদের রাজনীতি থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে জাতীয় স্বার্থবিরোধী শক্তি আওয়ামী-বাকশালী এবং তাদের প্রভু ভারতের সাথে সমঝোতার রাজনীতি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং অতি নৃশংসতার সাথে সেনা পরিষদের ক্ষমতা খর্ব করায় লিপ্ত হন, এটা প্রমাণ করার জন্য যে ১৫ই আগস্ট ‘৭৫-এর বৈপ্লবিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের নেতৃত্ব প্রদানকারী সেনা পরিষদের সাথে তিনি সম্পৃক্ত নন। কিন্তু অতি অল্প সময়েই তিনি বুঝতে পারেন সেনা পরিষদের রাজনৈতিক দর্শন, লক্ষ্য এবং পরীক্ষিত সহযোদ্ধাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তিনি মারাত্মক ভুল করেছেন। এই হঠকারিতায় তিনি নিজের ক্ষমতার ভিতকেই ধ্বংস করে ফেলেছিলেন।

ফলে তিনি দেখতে পান ঘরে-বাইরে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ধূমায়িত হয়ে উঠছে। বিশেষ করে সামরিক বাহিনীতে। সেই সন্ধিক্ষণে তিনি তার দ্বিতীয়বার চীন সফর কালে সেনা পরিষদের সাহায্য প্রার্থনা করে অতীতের ভুলভ্রান্তি ভুলে গিয়ে আবার একত্রে রাজনীতি করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু সেই প্রস্তাব সেনা পরিষদের নেতৃবৃন্দের কাছে যুক্তিসঙ্গত কারণেই গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয়নি। তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় তিনি সেনা পরিষদ এবং সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের প্রতি আরও প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে ওঠেন। নেমে আসে খড়গ। তার নিষ্ঠুর পাশবিকতায় সেনা পরিষদ সাংগঠনিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে।
কিন্তু এরপরও সেনা পরিষদের চেতনা ভিত্তিক সংগ্রামকে সম্পূর্ণ ভাবে স্তব্ধ করে দেয়া সম্ভব হয়নি। স্বৈরচারী এরশাদের পতন এবং খালেদার নির্বাচনে বিজয়ের ক্ষেত্রে পর্দার অন্তরালে সেনা পরিষদের অবদান খালেদার কাছে সেটাই প্রমাণ করেছিলো। ফলে তিনি শঙ্কিত হয়ে উঠেছেন।

তিনি হয়তো বুঝতে পেরেছিলেন, যথাসময়ে প্রয়োজনে দেশ ও জনস্বার্থে জেনারেল জিয়ার আসল রূপ, এরশাদের পতনের পেছনে বিশেষ অবদান ছিল কাদের এবং তার নির্বাচনে বিজয় সম্পর্কে সত্য তথ্য একমাত্র সেনা পরিষদের শীর্ষ নেতাদের পক্ষেই প্রকাশ করা সম্ভব।তাই তিনি চেষ্টা করছিলেন ছলে-বলে-কৌশলে আমাদের তার অধীনস্থ করে রাখার। প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের চেষ্টা ছিল নিছক বাতুলতা মাত্র। কারণ ‘৭১-এর মুক্তিসংগ্রাম কালে সব প্রতিকূলতার মোকাবেলা করে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যারা একটি গোপন সংগঠন গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন প্রকৃত অর্থে স্বাধীন, প্রগতিশীল, সমৃদ্ধশালী এবং সুখী এক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষে সেই প্রত্যাশার সাথে শুধুমাত্র ক্ষমতার লোভে জেনারেল জিয়া বিশ্বাসঘাতকতা করলেও শেণা পরিষদের অন্য ত্যাগী পরীক্ষিত কোনও সদস্যদের পক্ষেই তেমনটি করা সম্ভব ছিল না। জবাব দিলাম ভাবী, আপনার অনুরোধের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই বলছি, বর্তমান অবস্থায় আপনার দলে যোগ দিলে কোনও পক্ষেরই বিশেষ লাভ হবে না। বরং আপনি আপনার ওয়াদা মতো মিথ্যা মামলার দায়ে সেনা পরিষদের অনেককেই এখনও যাদেরকে জেলবন্দী করে রাখা হয়েছে, তাদের আপনি মুক্ত করে দিন। একই সাথে বিদেশে যারা অবস্থান করছে তাদের স্বাধীন ভাবে দেশে ফিরে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিন। সেটাই হবে দেশ, জাতী এবং আপনার স্বার্থে সার্বিক বিবেচনায় বেশি ফলদায়ক। মাঝপথে জেনারেল জিয়া আমাদের কাছ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেবার সিদ্ধান্ত নেন যদিও মূলত তার রাজনীতি আর আমাদের রাজনীতির মধ্যে তেমন কোনও দ্বন্দ্ব নেই। যেমন ধরুন, তার ১৯ দফা, এটাও কিন্তু সেনা পরিষদের কর্মসূচি থেকেই নেয়া।আমাদের শত্রুপক্ষ অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সুসংগঠিত।তারা শুধু আওয়ামীলীগ নয়, কয়েকটি প্ল্যাটফর্ম থেকে নিজেদের সহংগঠিত করছে। আমাদেরও সমমনা দুই-তিনটি সংগঠন গড়ে তোলা উচিৎ। আমরা আপনার নির্ভরযোগ্য সহায়ক শক্তি হিসাবে জাতীয় শত্রু ভারতীয় সেবাদাসদের বাংলাদেশের মাটি থেকে সমূলে উৎখাতকরার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম করে যাবো। সেনা পরিষদের নেতা-কর্মীদের প্রতিহিংসা পরায়ণ মনে করার কোনও কারণ নেই। ভাবী, আমি কিন্তু আন্তরিক ভাবেই বলছি, আমাদের আপনি প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করবেন না। আমাদের চিন্তা-চেতনা একই, শুধু লক্ষ্য হাসিলের পথটা ভিন্ন। অতীতের ভুল-ভ্রান্তি থেকে শিক্ষা নিয়ে সম্মুখে দেখতে হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য ভাবতে হবে আমাদের। বিশেষ করে অতীতের তিক্ততা আমাদের ভুলে যেতে হবে ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং জাতীয়তাবাদী চেতনাকে সুসংহত করার স্বার্থেই। এই সম্পর্কে বিশদ আর কিছু বলতে চাই না। কারণ, সংগঠন হিসাবে সেনা পরিষদ এবং এর নেতৃবৃন্দের নীতি-আদর্শ সম্পর্কে আপনি নিজেও বিশেষ ভাবে অবগত আছেন বলেই আমার বিশ্বাস। আপনি আজ দেশনেত্রী হিসাবে আখ্যায়িত, রাজনীতি সম্পর্কে জ্ঞান দান করার মতো বিজ্ঞজনের অভাব আপনার নেই। তারপরও কয়েকটা কথা বলতে চাই যদি কিছু মনে না করেন।

বলুন।

ক্ষমতার কেন্দ্রে বসে কারো পক্ষেই বৃহত্তর বঞ্চিত ও শোষিত জনগোষ্ঠীর স্বার্থে কোনও দল কিংবা ত্যাগী নিঃস্বার্থ কর্মীবাহিনী গড়ে তোলা অতীতে কখনো সম্ভব হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। এটাই ঐতিহাসিক বাস্তবতা। নীতি-আদর্শ ভিত্তিক সংগঠন এবং কর্মীবাহিনী গড়ে তুলতে হয় সংগ্রামের মাধ্যমে। নানা মতের নানা পথের লোকজনদের নিয়ে একটি মোর্চা গঠন করা সম্ভব, তবে সাংগঠনিক ভাবে সেই মোর্চা দল হিসাবে কখনোই বলিষ্ঠ ভাবে গড়ে উঠতে পারে না অভ্যন্তরীণ মতবিরোধের কারণেই। ক্ষমতার লোভে যারা ভিড় জমায় তারা যে সবাই সুযোগ সন্ধানী সেটার অভিজ্ঞতা ইতিমধ্যেই আপনার হয়েছে। বিগত নির্বাচনে বিএনপি বিজয় অর্জন করেছে সাংগঠনিক শক্তির বলে নয়। দেশের জনগণের বৃহত্তর অংশ বিএনপিকে নয়, ভোট দিয়েছে আপনাকে। কারণ, তারা আপনার মাঝে খুঁজে পেয়েছিলো স্বৈরাচার, ভারত বিরোধী জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের পক্ষে আপোষহীন একজন সংগ্রামী নেত্রী।

কিন্তু রাষ্ট্রপরিচালনার ক্ষেত্রে আপনাকে আপনার দল কিংবা মোর্চার নেতা-কর্মীদের উপরই নির্ভরশীল হতে হবে। ফলে আপনাকে অনেক ক্ষেত্রেই বাধ্য হয়ে আপোষ করতে হবে। এই ভবিতব্যকে মেনে নেয়া ছাড়া আপনার গত্যন্তর নেই। এই বাস্তবতার নিরিখে একজন বিচক্ষণ দূরদৃষ্টি সম্পন্ন দেশপ্রেমিক হিসেবে আপনার দল ছাড়াও সমমনা আরও দুয়েকটা দল গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা আপনাকে অবশ্যই বুঝতে হবে।এই উদ্যোগ গ্রহণ না করলে বিদেশের তল্পিবাহক জাতীয় বেইমানদের শিকড়শুদ্ধ বাংলাদেশের মাটি থেকে উপড়ে ফেলে বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ভিত্তিক রাজনীতিকে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে তৃণমূল পর্যন্ত সর্বস্তরে প্রোথিত করা সম্ভব হবে না। ফলে সময়ের ধারায় বাংলাদেশ পরিণত হবে ভারত নির্ভরশীল একটি করদ রাজ্যে। আর দেশবাসী আবদ্ধ হবে গোলামীর জিঞ্জিরে যার নাগপাশ থেকে মুক্তি লাভ করাটা হয়ে উঠবে দুরূহ এবং সুদূর পরাহত। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশের এমন অপ্রত্যাশিত করুণ পরিণতির দায় থেকে কেউই রেহাই পাবেন না যারা রাষ্ট্রীয়ক্ষমতা এবং ক্ষমতা বলয়কে নিয়ন্ত্রণ করবেন। সমাজপতিদেরও একই ভাবে এই দায়ভার বহন করতে হবে সমষ্টিগত ব্যর্থতার মাশুল গুণতে। বেগম জিয়া মনোযোগ দিয়েই শুনছিলেন আমার কথা, কিন্তু এর কোনও প্রভাব তার উপর পড়েছিলো কিনা সেটা বোঝা গেলো না। কারণ, এই বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য কিংবা প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত না করে কথার মোড় ঘুরিয়ে দিলেন।

আমার একজন যোগ্য, সৎ,বিশ্বাসযোগ্য প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি এবং পিএস এর প্রয়োজন। বেশ কয়েকজন আমলার নাম দেয়া হয়েছে আমাকে। তার মধ্যে প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারি হিসাবে ডঃ কামাল সিদ্দিকি এবং পিএস হিসাবে সাব্বিহউদ্দিনের নামও রয়েছে। শুনেছি এই দু’জনকেই আপনি ঘনিষ্ঠ ভাবে চেনেন। যদি আমার খবরটা সঠিক হয় তবে তাদের সম্পর্কে আপনার মতামত জানতে চাই। প্রশ্নটা সরল হলেও এর পেছনে কনও উদ্দেশ্য থাকলেও থাকতে পারে। তাই একটু ভেবে নিয়ে জবাব দিলাম

কামাল সিদ্দিকির সাথে আমার প্রথম পরিচয় হয় ১৯৭১ সালে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে পালিয়ে এসে কোলকাতায় পৌঁছানোর পর। কালুরঘাট থেকে বেতারে মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণায় সাড়া দিয়ে নড়াইলের SDO হিসেবে বিদ্রোহ করে সে মুক্তিযুদ্ধে যোগদান করে। পাকিস্তান আমলের বিদ্রোহী CSP অফিসারদের মধ্যে নুরুল কাদের খান, কামাল সিদ্দিকি এবং তৌফিক এলাহী চৌধুরী এই তিনজনই মুজিবনগর অস্থায়ী সরকারের সচিবালয়ে যোগদানের পরিবর্তে সেক্টরে যুদ্ধ করার অনুমতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছিলেন। কামাল ও তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু বেনু(ঢাকা ভার্সিটির লেকচারার) তখন বনগাঁয়ে ১ম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টের ছাউনিতে ক্যাপ্টেন হাফিজের সাথে অবস্থান করে প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলো। আমিও তখন ক্যাপ্টেন হাফিজকে সাহায্য করছিলাম ১ম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্ট এর পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায়। এই সুবাদেই কামাল সিদ্দিকি আর বেনুর সাথে আমার পরিচয় ঘটে। ট্রেনিং শেষে তাদের পাঠিয়ে দেয়া হয় ৮নং সেক্টরের অধীন গোজাডাঙ্গা সাব সেক্টরে কমান্ডার ক্যাপ্টেন সালাহউদ্দিনের কাছে।
অল্প সময়ের ব্যবধানে শুধুমাত্র তৌফিক এলাহীর আবেদন মনজুর করেন প্রবাসী সরকার। ফলে বাকিরা বাধ্য হয় সচিবালয়ে যোগদান করতে। কামালকে প্রবাসী সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমেদের পিএস হিসাবে নিয়োগ দেয়া হয়। সুনামগঞ্জের বিদ্রোহী SDO আকবর আলী খানের (খসরু মামা) ইচ্ছাতেই কোলকাতায় নিম্মির বাবা জনাব আর আই চৌধুরীর বাসাতেই কামালের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। কামালের ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসাবে দ্বিধাহীন ভাবে বলতে পারি, রাজনৈতিক ভাবে সচেতন কামাল একজন দেশপ্রেমিক মেধাবী দক্ষ আমলা। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে কামালের। ১৫ই আগস্ট বিপ্লবের পর প্রেসিডেন্ট মোশতাকের সেক্রেটারি হিসাবে তাকেই নিয়োগ করা হয়েছিল। সার্বিক বিবেচনায় আপনি যদি কামালকে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি হিসাবে বেছে নেবার সিদ্ধান্ত নেন কিংবা ভেবে থাকেন, তাহলে তার জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, সততা, নিষ্ঠা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং কর্মদক্ষতা থেকে আপনি উপকৃতই হবেন বলেই আমার বিশ্বাস। সাব্বিহউদ্দিন আমার ছোটভাই স্বপনের বন্ধু সায়েলের বড়ভাই। হংকং-এ সাব্বি আমার ফার্স্ট সেক্রেটারি হিসাবে কাজ করেছে। সাব্বি আমাকে ডালিম ভাই বলেই সম্বোধন করে থাকে ঘনিষ্ঠতার কারণে। কামালের মতোই তার চারিত্রিক গুণাবলী এবং পেশাগত যোগ্যতা প্রশ্নাতীত। সাব্বিও রাজনৈতিক ভাবে সচেতন দেশপ্রেমিক। সাব্বি একজন পড়ুয়া দক্ষ আমলা। তাকেও আপনি পিএস হিসাবে বেছে নিলে কামালের মতো একইভাবে উপকৃত হবেন। অনেক দেরি হয়ে যাওয়ায় উঠে দাড়িয়ে বললাম, অনুমতি দিলে আমি তবে আসি। বেগম জিয়া গাড়ী বারান্দা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কবে ফিরে যাচ্ছেন? অনেক দিন পর দেশে আসার সুযোগ পেলাম। যদি অনুমতি দেন তাহলে সপ্তাহ দুয়েক আত্মীয়-স্বজনদের সাথেকাটিয়ে যেতে চাই।

ঠিক আছে তবে তাই করুন, আমি মুস্তাফিজকে (পররাষ্ট্রমন্ত্রী) বলে দিবো। আপনি সুবিধামতো সময়ে মিনিস্ট্রিতে গিয়ে ফর্মালিটিজগুলো সেরে নেবেন। অনেক ধন্যবাদ, আপনার অনেক মুল্যবান সময়ের অপচয় করে গেলাম। আচ্ছা, খোলামেলা আলাপ করে ফিরে যাবার আগ মুহূর্তে এ ধরনের লৌকিকতা কিংবা শিষ্টাচার প্রদর্শনের কনও প্রয়োজন ছিল কি?

ঠিক সেই মুহূর্তে প্রশ্নটার উদ্দেশ্য বোধগম্য না হওয়ায় জবাব দিলাম হয়তো ছিল না। তবুও রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার প্রতিটি মুহূর্তই মূল্যবান।

তা হতেই পারে, আমি কিন্তু আপনাদের বাসায় দাওয়াত করেছিলাম খোলামেলা আলাপ করার জন্যই। সেই ক্ষেত্রে এই ধরনের ফর্মালিটির কোনও প্রয়োজন ছিল না বোধ করি। আন্তরিকতার সাথেই কথাগুলো বলেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। কথা না বাড়িয়ে বাসায় ফিরে এলাম। বাসায় ফিরে দেখি খাওয়ার পাট চুকিয়ে পানের আড্ডায় সবাই মশগুল। আমি হাজির হতেই সবাই ছেঁকে ধরলো, এতক্ষণ ধরে কি আলাপ করে এলাম প্রধানমন্ত্রীর সাথে! নিম্মি টিপ্পনী কেটে বললো,

অনেকদিন পর অতিচেনা প্রিয় দর্শনী ভাবীর সাথে একান্ত সাক্ষাৎকার বলে কথা! তার উষ্ণ সান্নিধ্যে পুরনো দিনের স্মৃতি রোমন্থন করছিলে বুঝি?

ঠিক তা নয়। তবে তিনি জানতে চেয়েছিলেনতুমি সঙ্গে নেই কেনও? তার সাফাই দিতেই তো অনেকক্ষণ লেগে গেলো। তোমার শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি বিবেচনা করে ভাবী দুই সপ্তাহের ছুটি মনজুর করলেন।

অবাক হয়ে নিম্মি বলল, আমার অসুস্থতা! হ্যাঁ, সেই অজুহাতটাই আমাকে দিতে হয়েছিল অনেকটা অপারগ হয়েই। আসল কারণটা বলা কি উচিৎ হতো? সবাই হেসে উঠে বললো

ভালই হলো, হৈ হুল্লোড় করে দুটো সপ্তাহ কাটানো যাবে। নিম্মি, তোমার বদ্দা কামাল সিদ্দিকিকে ফোনে মিলাও, ওকে একটা সান্টিং দিতে হবে। নিম্মি ফোনে কামালের সাথে যোগাযোগ করে আমাকে রিসিভারটা দিল। কিরে ব্যাটাচ্ছেলে, কেমন আছিস? তোর সাথে কথা বলার ইচ্ছে নেই, তোরা ঢাকায় এসেছিস এই খবরটা আমাকে অন্যের কাছ থেকে জানতে হয় কেনও? ব্যাপারটা খুবই অপমানজনক! দুপুরের আগে পৌঁছাতেই রাতে ডাক পড়লো মইনুল রোডে রাতের খাবারের দাওয়াতে। সেখান থেকে এইমাত্র ফিরেই ফোন করছি।

কি ব্যাপার? কোনও ব্যাপার নেই। তুই চেপে যাচ্ছিস। আমি না তুই? মানে? মানেটা অত্যন্ত সরল। তোমার দীর্ঘদিনের লালিত বাসনা, খালেদা জিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ ভাবে কাজ করার। সেই বাসনা মেটানোর সব ব্যবস্থাই জানলাম তলে তলে ইতিমধ্যেই ঠিক করে ফেলেছিস।

কি করে জানলি? উচ্চমার্গে উড়ন্ত বাজপাখির শ্যেনদৃষ্টি এড়ানো যে প্রায় অসম্ভব সেটা তোমার মতো পণ্ডিত এবং চতুর আমলার না জানার কথা নয়। তা যাই হউক, তোকে প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি আর সাব্বিকে পি এস হিসাবে নিয়োগ দানের ব্যাপারে আমার অভিমতটা কিন্তু তোমাদের ম্যাডাম জেনে নিয়েছেন। তাই বুঝি, তুই কি বললি? যতটা প্রাপ্য নয় তার চেয়ে কিছুটা বাড়িয়ে বলে ঘনিষ্ঠ বন্ধুর দায়িত্ব পালন করেছি। তাই দুশ্চিন্তার কারণ নেই। তোর স্বপ্ন সফল হবে। আমার কথা শুনে নিম্মি আমার হাত থেকে রিসিভারটা নিয়ে বলল তাহলে তো পুরো প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়টাই আমাদের কব্জায় চলে আসবে তাইনা বদ্দা?কি ব্যাপার আপনি তো দেখছি কিছুই বলছেন না! বুঝতে পেরেছি, পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর আপনারা দুই জনই হয়ে উঠবেন ধরা ছোঁয়ার বাইরে। তেমনটি হলে আমরা মোটেও অবাক হব না মনে রাখবেন। আমি নিম্মির কাছ থেকে রিসিভার নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম Jokes apart, বলতো কামাল, ঐ পদটাতে তোর এতো মোহ কেনও? ডাচ সাংবাদিক পিটার কুস্টারকে কেন্দ্র করে ৭ই নভেম্বরের পর জিয়াউর রহমানের সাথে ভুল বুঝাবুঝির কারণে তুই ৩-৪ মাস যশোরে হক ভাইয়ের শেল্টারে ভাগোরা ছিলি। এরপর সারেন্ডার করে কিছুদিন নাজিমুদ্দিন রোডের লাল দালানে থাকতে হয়েছিল। সেই ঘটনার সাথে এই সিদ্ধান্তেরসম্পর্ক নেই তো? কামাল কোনও জবাব দিলো না, তবে বিব্রত বোধ করছিল। আমি ঠিকই বুঝে নিয়েছিলাম, যোগসূত্র রয়েছে। রাত অনেক হওয়ায় বাক্যালাপ বন্ধ করার পর সেদিনের মতো আমাদের সভা সাঙ্গ হল। আমাদের ছুটি ভালোই কাটছিল। বন্ধু-বান্ধবদের পার্টি, আউটিংস, আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াত, ঘরোয়া আড্ডায় সময় অতি দ্রুত গড়িয়ে চলেছে।

Khaleda Zia’s victory in the elections of 1990 and Sena Parishad’s contributions

According to the road map now, we have to set out for arranging fund for Khaleda Zia and to try to forge electoral alliance between BNP and Jamaat. It was decided to go to Madina first to pay our Salam and Durudand at the Rawza Mubarak of Huzur Pak Sallah Hu Walihe Assallam at the same time to pray. The we shall be performing The Omrah and then I shall visit a few friendy countries in the Gulf proceed to PRC and Rabbani wll be returning to Nairobi to know what my old friends are thinking about the prevailibg crucial situation and the future of Bangladesh. According to the plan we reached Madina Sharif(Holy City). We finished our Jiarat there and performed the Umrah at Baytullah Makka. Thereafter, we proceeded to Riyad. There we had a few good old friends who were at the high ups and infuential in the House of Saud. Among them was a General and Ex Intelligence Chief. We met them and held open discussion about the on going political crisis in Bangladesh. During the course of the discussions we realized, at that point of time their priority consideration was the heightening difference of openion between Iraq and Kuwet regarding Ramla oil fields. They were apprehensive about this ominous precipitating crisis. Even after that they assured us that they would do whatever possible for Khaleda Zia, Bangladesh being a brotherly country. This was enough.

From there we visited UAE, Libya and then I reached Beijing via Guangzhuo.

By then PRC was moving ahead at astounding speed to establish itself as one of the rising world power. At the same time PRC’s growth in financial sector was also expanding at phenomenal rate. Changes in the ideology and socio economic sectors were also surprising. As a result, PRC’s world outlook was also getting changed drastically. As I was in Hongkong therefore, it was possible for me to observe all the changes from the very beginning. The mordernization drive was meteorically moving ahead competing and surpassing most of the Western Powers in the glow of new light. PRC, the emerging Super Power was moving ahead keeping close watch on every development that had been taking place around the Globe. It is but natural that to establish itself as a Supere Power PRC was keeping an eye on every event that was taking place at every nook and corner of the world. The relation between Bangladesh and China dates back in the history. After Buddhism flourished in the sub continent, Sree Atisha Dipangkar, a Buddist Monk went to China from Bangladesh to preach Buddhism and founded the Potala Palace in Tibet. When I was posted as a diplomat in Beijing at that time the ashes of the remains of that great Monk which was preserved in Potola Palace for hundreds of years were given back to Bangladesh by the Chinese Leadership. 29 deciples of Hazrat Shah Jalal (R) were sent from Bangladesh to China to preach Islam. In contemporary history, after the political change brought through successful revolutionary armed uprising of 15th August 1975, PRC along with Saudi Arabia and most of the oil rich Muslim countries of the Gulf had recognized Bangladesh as an independent country. Both geo-politically and economically the Cino-Bangladesh relation is very important. Bilateral relation between Bagladesh and PRC is one of the permanent focal point of the Chinese Foreign policy. Therefore, PRC is very much conscious to develop three tire bilateral friendly relation at state to state, people to people and party to party level on the basis of equality.

I had always discussed about matters of mutual interests with my Chinese friends very frankly. The Chinese friends had also never took me only as a diplomat but a trusted and dependable friend. They never hesitated to discuss anything openly, even about their internal matters.

During our discussions I could feel that their analysis about the crisis in Bangladesh was almost similar to ours. They also desired that after the next elections Awami League doesn’t come to power with the help of Gen. Ershad. They were equally apprehensive that if this combine comes to power then the self identity of Bangladesh as an independent country would be threatened. The country woild be turned into a client state forcing it to be dependant on India in every respect. Once that is done then it would be a far cry to get out from that strangulation. That is why, PRC being a friendly country would try to help and assist BNP considering to be a better choice of the lots as far as possible. But, they were also thinking that it might not be so easy for the BNP Combine to win the elections in view of the ground realities. As the opposition combine is much stronger than BNP in all respects particularly organizationally. India and Awami League had got the opportunity to regain this streanth during 8 years rule of Gen. Ershad. Ershad and Hasina right from the beginning has been doing politics as the complimentary to one another submitting their loyalities to India. Both are dancing at the pull of the Indian strings attached behind. Hasina and Gen. Ershad have no love lost for the country or the people. Their only concern is power. Both the parties are sold out to India and are implementing the Indian agenda. One more important thing the friends had said.

Majority of the Bangladeshis being sufferer are anti Indian since the time of libertation war. With this anti Indian feeling even if the people voted khaleda to power, they didn’t think khalda Zia and her party BNP have the capabilities to build Bangladesh as a truly self reliant   nation and country. The reason being, from the very beginning this party has been raised courting self-centered oppurtunists, and power mongers. One can hardly find genuinely selfless patriotic leaders and workers at the decision making level. Besides, Khaleda Zia is not above the curse of plutocracy. In this context, there is no difference between her party and Awami League. That is why corruption and nepotisim is spreading not only at party level but in the social fibre like cancer. Though they found it painful but they had said that at present all major political parties in the political arena of Bangladesh are void of any ideals and ideology reflecting the will and wishes of the vast majority. On the whole, they opined that the character of all the partries in the political field was more or less the same. They further said that the course Sena Parisad wanted to charter along with Gen. Zia was the right path. If that path was chosen then by now it would have been possible to materialize most of our cherished dreams. But sadly that possibility was nipped in the bud by no one else other than our selected central figure Gen. Ziaur Rahman. They also told me that I had never told them anything in this regard even then it was not difficult for them to know this fact. The friends had revealed one more important thing to ponder about. They thought it would not be possible for Khaleda Zia to move away from the policy of late Gen. Zia regarding us. Khaleda Zia would never allow us to return to Bangladesh to do politics separately as in that case BNP’s politics would be finished.

In reply I said

We are not thinking about this aspect now. At this juncture the interests of the country and the nation are the foremost consideration to all of us compared to any self interest. Any how, we must thwart the conspiracy to turn Bangladesh into a client state of India. And that is why I have come all the way to you all with the hope to get the required support and assistance being driven by our conscience not as an emissary of Khaleda Zia.

This is well understood you being an old and beloved friend. Trust us dear friend, we also knew that at such a crucial time you would surely be visiting us at the earliest oppurtunity.

We must also tell you at present it would never be possible for Khaleda Zia to reorganize her party as a powerful organization like that you were able to raise during lineration war in ’71 and there after. But there is nothing to be despondant about. In the history of the People’s Republic of China 200 revplutionary uprising had failed. There after in 1948, we achieved victory after fighting a long drawn war for 28 years against the Western Imperialist powers and Japanese aggretion at the same time carring forward with our agenda for social revolution. In the revolutionary process there are many ups and downs. You all should patiently wait for the time and opportunity. Our experiences say, opportunities are created in the flow of time. If an opportunity presents itself then you would surely be able to fullfil the dreams you had been cherishing in your hearts using that opportunity and mustering new streanth. Because you all are truly selfless patriots.

Dear friend, many of us had told you in some pretext or the other that you are required in the country to give birth a healthy political process. To build Bangladesh as a self respecting, progressive and self reliant country it needs Leaders like you all who are proven patriots, visionaries, knowledgeble and self sacrificing dedicated brave hearts for the cause of the country and the nation. It may be questionable as to how did we formed this openion? When you were here many deligations from different sectors had visited PRC. Many deligations had also visited Bangladesh. This process continued even after your departure. From them, we have learned that you all are considered by majority of the people as National Heroes. Such respect, adoration and popularity you ebjoy is not due to your positions or ranks. You have earned that due to your relentless struggle for long, selfless patriotism, sacrifices and fortitude. We shall be waiting to see you all as the national leaders in future. It is not known if ever the axpectation of the good friends would come true or not but it might so happen if Allah desires.

Most of the friends were ealderly Long March veterans. They were senior leaders of the Communist Party of the People’s Republic of China(CPC) full of wisdom and practical experiences. I begged leave from the friends and came back to Nairobi. On rturn I apprised everything to Rabbani and asked

What could you understand?

In one word, I am simply surprised. I had never got the oppurtunity to be aquented with the Chinese but all those who had told me it is very difficult to understand the Chinese. To cultivate friendship is almost impossible. Today, you have told me just the opposite. I must admit the kind of friendship you had been able to cultivate that might be possible only to very few persons. I am impressed with their wisdom, depth of prudence, far sightedness and meaningfull analysis. I am amazed to see their knowledge about Bangladesh from the way they had explained each and every issue so clearly! But the thing that has surprised me the most is that they know you more than what you know about yourself.

Now our destination is brotherly country Pakistan. As I have spent a substantial part of my youth in Pakistan naturaly I had the opportunity to befriend many people in the armed forces, political arena, Media, civil society, bureaucracy and the business community.

In case of Rabbani it is even more wider. Having blood trelation with the widely revered saint of Kaliya Sharif at Sahranpur, Rabbani’s family migrated from India as Mahajer after the partition and had settled at Karachi parmanently. At that time Karachi was the largest city and the capital of Pakistan. As decided Rabbani will be travelling separately to Karachi and would join me at Islamabad after receiving my call.

To maintain secrecy this trip was organized through a bossom friend of mine Dr. Dhilon living in Washington DC. He made all arrangements contacting Choudhury Shujjat then the Home Minister of Pakistan one of our common friends. On the scheduled date I reached Islamabad at mid night in a chilly weather. At the VIP room the protocol officer sent by Shujjat informed

Suites have been booked at the Marriot Hotel for us. But Choudhury Sahib wants me to stay at his residence for first two days therefore, all arrangements have been made accordingly.

Al right. Whatever arrangements he had made that must have been done with due consideration so, it would be appropriate to abide by his secision. With permission the officer gave me the wireless telephone set and requested

Sir. Please talk.

I took the hand set and asked the officer who do you want me to talk?

The Minister Sahib.

Oh! Assalam, Shujjat Bhai how are you? I had been forced to come this way to talk to you regarding a most pressing and urgent matter.

What are you saying Bhai Sahib! This is your own country so, you can visit Pakistan anytime you like. Welcome. How was the trip(Safar)? Hope you are not facing any difficulties? Everything had been arranged as you have desired. I am waiting for you.

Thanks. We are also leaving the airport and shall be reaching your residence shortly In Sha Allah. I returned the wireless hand set to the officer. VIP Motorcade. Due to the kind curtesy of the out riders speedily we reached at the palacious residence of Choudhury Shujjat’s residence at the foot of Margala Hills in the Blue area. Shujjat himself came out and warmly received me with hugs. Thereafter, he took me in.

He made me comfortable in a sitting room and said

Please excuse me for a minuite, I would be right back and went inside. I was sitting qyuitely. On the center table there were some foreign magazines. i picked up The Time. there was a cover story on ‘Khalistan Movement’.

It was in eighties when I was posted at Hongkong suddenly with the Anand Sahib Declaration the Sikhs of India claimed themself as a separate nation and demanded an independent country called Khalistan. This declaration was a spark that had created a prrerie fire and received spontenious support within the sikh community around the Globe and within India itself. Particularly among the youths. The then international Media gave wide publicity to this demand. Feeling the heat of the Shikh communities all over the world including India the Shikhs formed a provisionary government in London under the leadership of Mr. Chauhan. This provisional government in exile then urged for the recognition of Khalistan from all the member countries of the United Nation. Constitutionally Bangladesh is bound to provide moral, political and diplomatic support and assistance to any liberation war fought by any nation in the world. Therefore I and all my other revolutionary co-fighters who were working as diplomats in different Bangladeshi Missions abroad had extended their hands to provide any help or assistance whatever possible to the Khalistan Movement of the Sikhs.

।n this context I would take the previlage to narrate a few historical facts about the Tamil nation briefly. South India that is almost one third of India comprising four states Maharashtra, Andra Pradesh, Karnataka and Tamil Nadu was the home land of Tamil people. They have an antient heritage of civilization for thousands of years. At ancient time present Sri Lanka was connected with Tamil Nadu. ethinically the Tamil people are veddid. Their language, religion, art and culture, architectural feets were copatable with any other civilizations of the contemporary world than the Ariyans the nomads. That is why being jelous the outsiders Ariyans had termed them as Ravanas that is the Demons. At present compared to the northern India habiteted by the Ariyans the Tamil habitants of the southern India are flureshing in all respect and are striving to establish a separate homeland called ‘Tamil Land’ to regain their lost heritage and pride. When at Hong Kong the writer had the oppurtunity and pleasure to meet a few top most ediolauges and leaders of this under ground movement through two Tamil engineer friends based at Hong Kong. The top leadership of this long drawn movement is also leading their exiled lives in different countries abroad. The Tamils are also widely spread all over the world. I have a desire if possible to write more in details about these two movements sometime later.

Janab Shujjat returned. A few minuites later one of the staffs came and informed that the dinner has been served. After dinner we returned to the sitting room again.

It was past midnight so Choudhury Sahib said

Now you have a rest we shall talk in the morning. On his order the household staff in waiting showed the way to the bed room. I was feeling a bit tired so saying good night to Shujat Bhai I went inside the room. After taking a hot shower I straightway went to bed. After the Azan for the Fajar prayer the waiter came in with the bed tea and waked me up. Within an hour I took shower and came out fresh after saying my Fajar prayer to the sitting room. shortly Shujat Sahib joined me after knowing that I was waiting at the sitting room. While escorting me to the dinning room he enqired

Did you had a sound sleep and what kind of break fast would you prefer, Continental or Pakistani?

I replied

I really had a good sleep and certainly would prefer Pakistani breakfast.

At his orfer hot Luchi, Paratha, Hauwa, Lasshi, fried eggs, Alu Bhujiya etc. After a hearty breakfast we sat in a private sitting room. Shujat called the PS and instructed him

No one should disturb us until he calls for any one and no telephone calls as long as we are at the meeting. The experienced PS left the room with his instructions. We started our closed door meeting.

Choudhury Shujat said

Tell me brother, what important matter you want to discuss.

I told him everything in details. After listening attentively he thought for a while and said

On this matter along with Prime Minister Nawaz Sharif the National Security Counsil have to taken on board. At first I shall have a meeting with Nawaz Sharif then shall decide how to take others on board. This is why I wanted you to stay at my place till I hold the meeting with Nawaz Sharif just to maintain secrecy so that no one can become a hurdle at the on set. Being a political government we have to carry along many undesirable persons representing various interests. I don’t see any problem with the army. Even if there is any I know it well that you are competent enough to handle that very easily. Most of your friends are now holding important decision making positions at the GHQ. I would like to give you a piece of advice if you don’t mind.

What are you saying Shujat Bhai, feel free to advise me as you like.

After I talk to Nawaz, if you contact your old colleagues then it would help to get a positive response from that side.

Your suggestion is logical so, I shall certainly be doing that.

Shujat Bhai held the meeting with the Prime minister Nawaz Sharif. On his return he informed me what Nawaz Sharif had apprised him about Bangladesh.

In the coming election Awami League alone or with the help of Gen. ershad will be forming the government. Khaleda Zia’s Jote does not have any chance to win that is what has been stated in the report of the ISI and Pakistan High Commission in Dhaka. Therefore, the government has been suggested it has become imperative to fornulate a low key policy to establish a working relation with Awami League. Being instructed by the Pakistan government Foreign Ministry is now thinking and working on the modalities in this regard. Before you Mr. Mustafizur Rahman, the course mate of Gen. Zia came as a special emissary, he was conveyed the same thing from our side. He had also served with ISI like Gen. Zia as young officers. I beleave you know all these. Your presentation is just the opposite of the analysis of our experts.

What you have said is correct. But I must tell you one thing at first that is I have not come here at the request of Khaleda Zia as her emissay to seek assistance. I have come due to moral obligation of ours to serve the greater interests of the two brotherly countries. Besides, our presentation is impartial and based on facts and realities. If three requirements can be assured then no matter what quantum of support and assistance come from India for Awami Jote that would be washed away in the tide of popularity of Khaleda Zia, it would be impossible to defeat Khaleda Zia’s Jote in the up coming elections.

What are the three requirements? Asked Shujat Bhai.

  1. To arrange for the election funds which is not possible now for Khaleda Zia from within the country.
  2. BNP has to form an electoral alliance with all other smaller parties who believes in Islamic values and nationalism including Jamaat e Islami.
  3. Armed forces must be deployed by the Election Commission at every polling booth so that the voters can safely cast their votes.

To reach at a consencious decision regarding point 2 and 3  would be possibe. Now, only requrement would be arranging the fund for this Jote to win the elections. If it is possible to arrange the financial assistance for this Jote, BNP Jote would be wining the elections for sure. And in this win, brotherly country Pakistan would be gaining the most. Being fully convinced that your decision makers would be having that prudence and insight to realise that the up coming elections in Bangladesh would have a far fetched geo-political remification in this sub continent I have come taking all the risks on behalf of my other comrades to seek help and assistance from the brothers not just for Khaleda Zia but to save the Muslim population of Bangladesh and Pakistan from the appoling design of gradual strangulation by India with out any self interest. All though, you would be taking the decision, even then it is my conviction that our presentation should be taken into consideration alongside the reports of your Agency and High Commission. Reason being, most of those whom I am representing including myself belong to political families. Starting with student politics, liberation war, events in the political fllow after independence, From the time the events of political changes that were brought through revolutionary uprisings of 15th August and 7th November 1975 till this date remaining abroad we are connected with the on going political flow in Bangladesh and that is why we have in depth knowledge about each and every development that has been taking place. Therefore, it should be rational for your policy makers to evaluate our presentation with due cognigence. We are aware about Mr. Mustafizur Rahman’s visit even then what brought me here? Our conviction had brought me here. The rationale of our submission would be duely considered by you all and you would certainly extend your hands to provide the necessary help and assistance that is what we firmly believe.

Brother Shujat was flabbergasted and was quite for a while. It appeared to me that he could realize the importance of what I had conferred so he said

On priority basis we shall convine an urgent meeting of the National Security Council(NSC) where your presentation would be discussed and there after their final decision would be convyed to you.

At that time Gen. Aslam Beg, the Army Chief was on a visit to China. He was asked to cut short his visit and return. The High Commissioner from Dhaka was called back urgently. These measures were taken for them to attend the urgent meeting of the NSC. Shujat Bhai gave me these news. I have to stay here few more days so, I decided to shift to the Marriot Hotel for availing more secured communication facilities internationally. Choudhury Shujat had made special arrangements in this regard. Special people were also deputed for extra care and security. After shifting, I called Rabbani to come and join me. He arrived Islamabad on the same day. For security reason I was contacting only the concerned and known persons. On the next day morning after shifting to the hotel I and Rabbani both were getting ready after placing the order for the brakefast with the room service. Suddenly calling bell at the main door of the suite rang. Rabbani opened the door and found a smartly turned out youngman was standing at the door. After Salam he said that he has come from Pindi to meet me. Brig. Rafi had sent him. Rabbani made him sit at the sitting room and informed me about the arrival of the gentleman. Brig. Rafi was then working as a Deputy Director of ISI. we were both posted in the same Division at Quetta. That is how he was known to me. other than Sawkat Bhai no other person was supposed to know about our where about! He would help me out to contact the concerned persons that was the arrangement made by Shujat Bhai. He has been sent by a known senior officer so, both of us went to the sitting room to meet him. The gentleman introduced himself as a Colonel. Meanwhile, the waiter came in with the brakefast trolly. I invited him to join in. But he thanked and replied that he has already had his brakefast. Then I gave him a cup of tea and said

Hope this would be okay with you.

The Colonel was in his early fourties and replied

No Sir, this would be fine. He picked up the cup. We then concentrated in our brakefast. After we were through we sat relaxed.

He was working under Brig. Rafi so I asked

Now, tell me why have you come?

Nothing in particular. I came to get introduced and have a tea ta’tet. Having said so he took permission and lighted a cigarette. As he was busy in lighting his cigarette, I said

Please don’t mind we have to set out to keep an prefixed appointment so, unfortunately it wouldn’t be possible to give you much time now.

The Colonel appeared to be slightly nervous at my reply as his cigarette sliped and fell on the ground. It was not difficult that the Colonel came to gather information. He regained his composure and said

That is all right Sir. As you are busy, I shall then come some other time after fixing an appointment. He took out a slip from his pocket and handed over to me. I opend the slip and found that Brig. Rafi had written that it would be a pleasure for him if I could make some time to have a lunch or dinner at my convenience. He has also given his direct telephone number for easier communication. After reading his slip I told the Colonel

Please convey my Salam to Brig. Rafi and tell him that I shall definitely find out some time to contact him. Now, it is time to leave. The intelligent Colonel got up and said

Sir, it was a pleasure to meet you. I had a earnest desire to see you.

We are also delighted to meet you but very sorry that we could not give you much time.

The Colonel from ISI looked dishearetened and left the room.

After the departure of the Colonel Rabbani with a smile said

Fakir(We used to address each other as Fakir at times)the way you sent off the Colonel was amusing. I don’t know if that would have been possible for anyone else but only say that most of the rich and famous heavy weights usually wet their trousers talkimg to any Major or Captain of this organization.

May be, but I don’t belong to that class, I am just an ordinary person.

At my reply Rabbani laughed aloud.

Again the door bell rung. Rabbani opened the door and found it was Shawkat Bhai so warmly invited him in and got him seated.

Whats up brother, so early in the morning?

Yes, I decided to come early thinking I must catch you before you set out from the hotel. Choudhury Sahib asked me to convey that he feels it might take three to four days before final decision is conveyed to you. Therefore, should you decide to go out of Islamabad anywhere that could be arranged. Why don’t you go to Muree and Nathiya Gali leaving this crowded place? Propossed Shawkat Bhai.

No brother, we are thinking to take a short trip to Peshawar. Besides the attraction of Chapli Kebab we have a good friend there whom we would like to visit as well taking this oppurtunity.

I got introduced to Dr. Khaled Mufti through Rabbani.

Okay then, I am arranging everything for your travel. You would be staying there in PC. The cars and all other related arrangements would be done right away. You can travel any time as you wish. Hope you are not facing any problem here?

Not the least. As a matter of fact due to the extra ordinary curtesity of the hotel management we feel embarassed at times. But we are having a wonderful time. Particularly, the special arrangements that had been made to contact abroad and Bangladesh had been very usefull.

I shall be back shortly after making all the arrangements. Went away Shawkat Bhai. He is very polite and humble person. After a few minuites he returned with a smat and well built youngman. After introducing him to us he said with a meaningfull smile

Whenever you decide to leave this man will escort you showing the way. We also laughed at his smile. Shawkat Bhai left the room along with the youngman.

I told Rabbani

The wife of one of my course mate Gen. Qayum is very sick so he would come in the evening to take me at his residence. He has also invited my other course mates who were around Pindi. Meanwhile, you contact brother Dr. Khaled Mufti and inform him that we are traveling to Peshawar tonight to meet him and request him if possible to arrange an audiance with Hajratji so that we could get his devine blessing for the cause. In no way we would like to return with out his blessing. Because, for the sake of the Muslims of the sub-continent we are coming to seek his blessing not for any personal interest. Dr. Khaled Mufti is a world wide acclaimed psycriatist and a beloved deciple of Hajratji. At one time well known General Shinwari’s daughter was his wife. Would Hajratji be willing to give us an audience? This remained a big question mark in our minds!

Hajratji(Hajrat Maan Shah)Sufi saint and a mistic person. He takes bath with cold water ten to twelve times in a day round the year. Most of the time he attires a Dhoti or Shalwar keeping his upper body uncovered. Rarely, he covers his body with a thin Chadar. Most of the time he remains deeply engrossed in meditation. When he comes to the city he stays in a house. But mostly he stays in his Khanka Sharif in the suburb. He is a Jalali(Hot) saint. To seek his blessing Presidents, Prime Ministers, Big shorts, wealthy tycoons had been longing for an audience like thirsty crows but he hardly met any one. President Ayub Khan, Prime Minister Zulfiqar Ali Bhutto, President Zia Ul Haq, Benezir, Nawaz Sharif etc left no stone unturned but failed to meet him. These were told by Khaled Bhai at Nairobi when he came to my residence for a dinner. Ever since me and Rabbani both had been chareshing an burning desire to meet this Sufi saint.

Rabbani got busy with his assignment as I set off to meet a few old friends. I spent the whole day in their company and returned back to the hotel before dusk. Rabbani informed me everything had been conveyed to Khaled Bhai. After knowing everything he said that he would be getting in touch with Hajratji rightway to know if he was willing to meet us or not. It has been decided as soon as we arrive at Peshawar we should call him so that he can come to the hotel to  welcome us.

Qayum arrived at the appointed time as I was readily waiting for his arrival. We reached his residence inside Pindi cantonment in his car. Qayum could manage to gather a few of my course mates at his residence. All had come incognito as Qayum desired to maintain secrecy. We all were immotionally charged as this was the first time we had been meeting after ’71. We all became so immotional that our eyes got wet while we embressed one another. Bhabi was suffering from multiple complicacies. One could realise that looking to her face. Alavish dinner was laied on the table with different cusines. I was slightly annoyed and told Qayium

Why the hell did you arrange all these when Bhani is mot well?

Bhabi came to his rescue

Bhai, I have done nothing. You are fond of Chinese cusine so nost of the items had been brought from the Chinese restaurant rest of the dishes have been made under the supervision of the daughters. Besides all including yourself are not guests but very close and dear ones. I was deeply touched by her wormth. It was pretty cold so in every room the Quetta stove was burning. After dinner we all sat in the drawing room in a informal and intimate atmosphere. Every one was axcious to know why I was here in such a way! I replied in short. Billa almost charged

Badmash, what are you and your other colleagues are doing outside as diplonats? Why are you not going back to participate in politics?

If politics means to form a party and arranging public meetings, seminars, holding press conferances and addressing the people standing behind a microphone, even before launching for that you need some preparation. We did create an oppurtinity but we could not avail that oppurtunity due to the betrayal of Gen. Zia. We are again trying to muster that streanth afresh at the same time all of us are trying to be more mature. Allah willing if an oppurtunity presents itself in future at any time we shall get into the political arena In Sha Allah. Moreover, even after beeing exiled from the country we all are involved in the political fllow back at home constantly in some way or the other. Besides, over coming many ups and downs we had been engaged in the Jihad consistantly to thwart the farfetched blue print of the expansionist Indian Chanakyas regarding Bangladesh since the days of liberation war of ’71. But may I ask what you guys are doing here against the neferious long drawn design of India? Nothing at all. What are ytou doing to free the gasping vast majority being hard pressed under the steam roller of the decadent feudalism? Due to the hinious conspiracy of the vested interested rulling clique the country has been dismembered even after that people are not concerned for chgange! In 1954, when the feudalism in East Pakistan was abolished by the Provincial Parliament through legislature at that time being alermed the Feudal Lords of West Pakistan connived with Gen. Ayub Khan and kept feudalism intact by promulgating Martial Law dissolving the Provincial Assemblies. That feudalist cotare and mindset still rules Pakistan. Qayum, you were the CI(Chief Instructor) at the NDC, now you have to tell me truthfully, did you have the courrage to say to your students who were going to be the future leaders of armed forces, the most vital organ of a state that feudalism never allows to grow nationalism as it thrives on regionalism. I believe, you could never been able to utter this truth as feudal mindset is so strongly ingrained in the state and social structures of the left over Pakistan till this date. In the country where majority of the people are nothing but slaves and helplessly dependant for their bare existence on the mercy of one or two percent surrogates nurtured as the henchmen by their foreign masters who have usurped of more than 90% of the national wealth.

Feudalism never allows to grow nationalism as it thrives on regionalism. I believe you could never been able to utter this truth as Feudal mindset is so strongly ingrained in the state and social structure of the left over Pakistan till this date.  Under this circumstances, should you maintain the same mind set and remain a party to the ramphant loot and plunder the feudal lords and comprador class then be aware that nationalism can not take roots ever in Pakistan and due to reagional discrepencies one day the very existence of this country would be at stake with the machination and help of out side enemies. Power struggle of the vested interested classes can never lead a country or a nation towards progress and better future. So, better wake up in time otherwise. Allah forbids the prophecy of this Fakir will come true in future. For learned powerful people my lecture had become slightly leanthly so don’t mind. Everyone was listning very attentively what I had been telling. After that we gossiped for a while then I told Qayum

I am not liking to leave such a warm get to gather but even then I must be leaving as on return I have to head for Peshawar for some important urgency. After taking leave from all and thanking Bhabi and the daughters I came back to the hotel. Qayum had dropped me back. Before saying good bye I thanked him for such a wonderful get to gather of old friends and buddies.

In reply Qayum said

You are our pride. Dost(Bossom Friend)you can not even imagine how egger everyone is to meet you. Many who could not come from far away due to the pawcity of time had regretted and asked me to convey their Salam and love to you.

You also reciprocate Salam and love to them on my behalf. Qayum went away.