ব্রিগেড মেস-এ পৌঁছালাম

ব্রিগেড মেস-এর নির্ধারিত কামরায় পৌঁছে প্রথমেই যোগাযোগ করলাম বেনগাজীতে। সবকিছুই বিস্তারিত জানালাম সহবিপ্লবীদের। খবর পাওয়া গেছে রশিদ ইতিমধ্যেই ২য় ফিল্ড রেজিমেন্টে ঘুরে এসেছে। জিয়ার দরবারের প্রস্তাব আমি নাকচ করে দিয়েছি। জিয়ার কর্মকাণ্ডে সামরিক বাহিনীতে অসন্তোষ এবং উষ্মা থাকলেও এই মুহূর্তে জিয়ার বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তাকে হয়তো ক্ষমতাচ্যুত করা সম্ভব হবে, কিন্তু দ্বিধাবিভক্ত জাতিকে নিয়ে ভারতীয় আগ্রাসনের মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না। বর্তমান অবস্থা মারাত্মকভাবে ২-৩রা নভেম্বরের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। সেই বিবেচনায় একমাত্র পথ রশিদ আর ফারুককে বুঝিয়ে নিরস্ত্র করা। এ ছাড়া আর কিছু করা সম্ভব নয়। এখন তোমাদের মতামত জানাও, আমি কি করবো। পাশাই সবার তরফ থেকে বললো

স্যার, আপনি ঘটনাস্থলে রয়েছেন, সব কূল রক্ষা করে অবস্থা সামাল দেবার জন্য যাই ভাল বুঝবেন সেটাই করুন। আপনার বুদ্ধিমত্তার উপর আমাদের সবারই আস্থা আছে। কথা শেষ হল। মাহবুবও সংক্ষেপে সবার সাথে সালাম দোয়া এবং কুশল বিনিময় করলো। রশিদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করে তাকে পেলাম না। জানতে পারলাম সে ২ ফিল্ড রেজিমেন্ট থেকে বেরিয়ে গেছে। তাই, ফারুককে ফোন করলাম। আমি ফোন করেছি জেনে ফোন ধরলো ফারুক।

তুই এ ভাবে কাউকে কিছুই না জানিয়ে এসে কি করতে চলেছিস? জিয়া বিশ্বাসঘাতকতা করেছে সেটা ঠিক, কিন্তু দেশের মাটিতে পা দেবার পর আমি যা জানতে পেরেছি তাতে কোনও সন্দেহ নেই আজকের পরিস্থিতি ২-৩রা নভেম্বর এর চেয়ে অনেক জটিল। যদি তুই শুনতে চাস তবে বলতে পারি একটু বিস্তারিতভাবে।

বল, আমি শুনবো কি বলার আছে তোর।

যাদের সাথেই আমার আলাপ হয়েছে দেশের বর্তমান অবস্থা এবং জিয়া সম্পর্কে তাদের সবার বক্তব্য প্রায় একই রকম। জিয়া আগস্ট বিপ্লবের নীতি-আদর্শ এবং বিপ্লবীদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে নিজেকে সরিয়ে নিয়ে বিপ্লবীদের সাথে সব সম্পর্ক অস্বীকার করে সমঝোতার ভিত্তিতে ক্ষমতার রাজনীতি করতে চলেছেন। ভারতের সাথেও তিনি সমঝোতা করে নিয়েছেন তার রাজনীতির স্বার্থেই। একই লক্ষে তিনি ছেঁড়া গেঞ্জি, ভাঙ্গা স্যুটকেস আর কোদাল কাঁধে গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে খালকাটা আর রাস্তা বানানোর কর্মসূচির মাধ্যমে চমক সৃষ্টি করে নিজেকে একজন জনদরদী নেতা হিসাবে একটা ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলতেও সক্ষম হয়েছেন। অপর দিকে প্রায় হাজার তিনেক সেনা সদস্য এবং বেসামরিক বিপ্লবীদের সাজানো অভ্যুত্থানের নাটকের মাধ্যমে নির্মম ভাবে হত্যা করেছেন। জেলবন্দীও করেছেন অনেককেই সামরিক বাহিনী এবং দেশে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার অজুহাতে। এতে সামরিক বাহিনী ক্ষোভ এবং প্রতিশোধ স্পৃহায় অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। এই অবস্থায় জিয়া এবং তার সাঙ্গপাঙ্গদের ক্ষমতাচ্যুত করার কাজটি খুব একটা কঠিন হবে না। কিন্তু সেই সুযোগে ভারতীয় সরকার আওয়ামী-বাকশালীদের নিয়ে আর একটি প্রবাসী সরকার বানিয়ে ২৫ বছর মেয়াদি চুক্তির আওতায় তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে যদি দেশে আগ্রাসন চালিয়ে তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে তখন দ্বিধাবিভক্ত জাতিকে সঙ্গে নিয়ে তাদের মোকাবেলা করা কি সম্ভব হবে? ভারতকে এই বিষয়ে পূর্ণ সমর্থন জানাবে সোভিয়েত বলয়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আমাদের সমর্থন দেবার মতো কাউকে কি পাওয়া যাবে? খবর হল, জিয়া পশ্চিমা শক্তিগুলো এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কাছেও নিজের গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করার চেষ্টায় অনেকটাই সফল হয়েছেন। আমাদের তো সেই রকম কোনও সুযোগই হয়নি এখন পর্যন্ত। এই বাস্তবতায় বলা চলে, ভারতের পক্ষে অতি সহজেই সম্ভব হবে আওয়ামী-বাকশালীদের পুনরায় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত করা। ফলে দেশটা পরিণত হবে একটি করদ রাজ্যে আর জাতি পরিণত হবে দাসে। এইবার আওয়ামী-বাকশালী সরকারের নিরাপত্তার জন্য ভারতীয় বাহিনী বাংলাদেশে সুদৃঢ় ঘাটি গেড়ে বসবে এবং ক্রমান্বয়ে দেশের সামরিক বাহিনী, পুলিশ, বিডিআর-এর বিলুপ্তি ঘটিয়ে সেগুলোকে পুনর্গঠিত করা হবে ভারতের সাহায্যে দলীয় ক্যাডারদের সমন্বয়ে নতুন আঙ্গিকে। এভাবেই ভারতীয় সুদূর প্রসারী নীলনকশা বাস্তবায়িত হবে। আমরা তো দেশ আর জাতীয় স্বার্থেই সেই সুযোগটা না দেবার জন্যই ৩রা নভেম্বর ১৯৭৫ সালে দেশত্যাগ করেছিলাম এবং খালেদ-চক্রকে ব্যাংকক থেকে উৎখাত করতে সক্ষম হয়েছিলাম। বর্তমানে প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষ কোনও ভাবেই জিয়াকে ক্ষমতাচ্যুত করে স্বাধীন অস্তিত্ব বজায় রাখা সম্ভব নয় সামরিক সংঘর্ষের মাধ্যমে। জিয়ার মোকাবেলা করতে হবে রাজনৈতিক ভাবেই। আর একটি কথা, ধরা যাক আমরা জিয়াকে ক্ষমতাচ্যুত করলাম, সেই ক্ষেত্রে আমরা বাধ্য হব আমাদের উপরের সব সিনিয়র অফিসারদের সামরিক বাহিনী থেকে বের করে দিতে। এ ধরনের পদক্ষেপে যে অবস্থার সৃষ্টি হবে সেই সুযোগটা কি ছাড়বে ভারত? অবশ্যই না। তাহলে জিয়াকে ক্ষমতাচ্যুত করে লাভটা কি হবে সেটাও তোকে ভেবে দেখতে হবে। ফারুক নিশ্চুপ হয়ে শুনছিল আমার বক্তব্য। আমার বক্তব্য শেষে ফারুক বললো

All right then, আমি তোর বক্তব্য গুরুত্বের সাথেই শুনেছি, আমি ভেবেচিন্তেই সিদ্ধান্ত নিবো। Thanks, বলে ফোন রেখে দিলো ফারুক।

এরপর আমি জেনারেল জিয়াকে ফোন করে জানালাম, ফারুকের সাথে আমার আলাপ হয়েছে। অবিলম্বে ফারুকের বাবার সাথে যোগাযোগ করে তাকে বগুড়ায় পাঠাবার ব্যবস্থা করার পরামর্শ দিলাম। জেনারেল জিয়া আমার কথামতো ফারুকের বাবার সাথে যোগাযোগ করে তাকে অনুরোধ করেন বগুড়ায় গিয়ে ফারুককে বোঝানোর জন্য। বৃহত্তর জাতীয় স্বার্থে তিনি রাজি হন এবং আর্মির একটি হেলিকপ্টারে করে ফারুকের ছোটবোন ইয়াসমিনকে সাথে নিয়ে ফারুককে বুঝিয়ে বগুড়া থেকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনেন। সন্ধির শর্ত হিসাবে ফারুক দাবি করেছিল, বহুদলীয় রাজনীতিতে তাদেরকে অংশগ্রহণের সুযোগ জিয়াকে দিতে হবে। তখন অবস্থার চাপে জিয়া তার সেই শর্ত মেনে নিয়েছিলেন। এরপর রশিদ আর ফারুক দুইজনই ঢাকা ত্যাগ করেছিলো।

সংকট কেটে যাবার পরই আবার আমার ডাক পড়ল CMLA ’s Office এ। সময় মতো গিয়ে হাজির হলাম। ঘরে ঢুকতেই আগের মতই জিয়া চেয়ার থেকে উঠে এসে স্বাগত জানালেন। আলোচনার বিষয় আমাদের ভবিষ্যৎ।

তোমাকে কি করে ধন্যবাদ জানাবো ভেবে পাচ্ছি না।

আমি তেমন কিছুই করিনি, ফারুকই তার বুদ্ধি-বিবেচনায় তার সিদ্ধান্ত পাল্টে ছিল।

আমি সবই জানতে পেরেছি। আমি তার কথার কোনও জবাব না দিয়ে কফিতে মনোযোগ দিলাম। জিয়াও খাবারের প্লেটে কাঁটা চামচ নাড়াচাড়া করছিলেন আর ভাবছিলেন। কিছুক্ষণ ভেবে নিয়ে বলা শুরু করলেন

ডালিম, তোমরা সবাই আমার কাছে প্রশংসার পাত্র, বিশেষ করে তোমাকে আমি স্নেহ এবং শ্রদ্ধা করি। অন্যদের সাথে আমার তেমন ঘনিষ্ঠতা না থাকলেও তোমার সাথে আমার পরিচয় সেই কাকুলের দিনগুলো থেকেই। You all are undoubtedly selfless patriots and progressive minded revolutionaries. আমি অকপটে স্বীকার করছি বয়সের তুলনায় তোমরা সবাই রাজনৈতিকভাবে বেশি সচেতন। (বাংলা ভাষায় তেমন দক্ষতা না থাকায় জিয়া বাংলা ইংরেজি মিলিয়েই কথা বলতেন। এতে তাকে দোষ দেয়া চলে না, কারণ পূর্ব পাকিস্তানের বগুড়ার গাবতলীতে পৈতৃকভিটা হলেও বাল্যকাল থেকে যুদ্ধের আগ পর্যন্ত প্রায় পুরোটা সময় তার কেটেছে পশ্চিম পাকিস্তানেই)। ৭ই নভেম্বরের পর এক চরম অস্থিতিশীল অবস্থায় আমাকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হয়। কৌশলে ১৫ই আগস্টের কথাটা উচ্চারণ করলেন না ধূর্ত জিয়া, এটাও বললেন না যে ১৫ই আগস্টের সাথে একটি যোগসূত্র রয়েছে ৭ই নভেম্বর সিপাহী-জনতার বৈপ্লবিক অভ্যুত্থানের। তার জন্য আমি মনে করি কিছু সময়ের জন্য তোমাদের বাইরে রাখলে আমার সুবিধে হবে। সেই সময়টা লিবিয়ায় নিষ্কর্ম হয়ে বসে না থেকে দেশ ও জনস্বার্থে আমার প্রতিনিধি হয়ে যাতে তোমরা কাজ করে যেতে পারো তার জন্য আমি ঠিক করেছি তোমাদের সবাইকে বিদেশের ঐসব রাষ্ট্রে কূটনৈতিক দায়িত্ব দিয়ে পাঠাবো যাদের সাহায্য-সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য অতি প্রয়োজনীয় ভারতের মতো একটি রাষ্ট্রের হুমকির বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে নিজেদের অস্তিত্ব বজায় রাখার জন্য। সে ধরনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কোনও পেশাদার আমলাদের দ্বারা গড়ে তোলা কখনোই সম্ভব না, কিন্তু সেটা তোমাদের দ্বারা সম্ভব বলেই আমার বিশ্বাস। অনেক আশা নিয়ে আমি এই প্রস্তাবটা করলাম। আমার এই প্রস্তাব তোমরা গ্রহণ করবে কিনা সেটা তোমাদের সিদ্ধান্ত। তবে আমার অনুরোধ, বিষয়টি নিয়ে একটু ভেবেচিন্তে তোমরা সিদ্ধান্ত নিয়ো। আমাকে নিরাশ করো না। তার বক্তব্য শেষে তিনি আমার দিকে একটি জবাবের প্রত্যাশায় উদগ্রীব হয়ে চাইলেন। তার বক্তব্য শুনে মনে করেছিলাম কোনও জবাব দেবো না, কারণ সেটা হবে ‘উলু বনে মুক্তা ছড়ানো’র মতোই। পরে ভাবলাম এই সুযোগে তাকে কতগুলো সত্য জানিয়ে যাই, এতে কোনও লাভ না হলেও ঐতিহাসিকদের বিবেচনার বিষয় হয়ে থাকবে আমার বক্তব্য।

স্যার, আপনার প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে কি হবে না সেটা আমি ফিরে যাবার পর সহযোদ্ধাদের সাথে আলাপের পরই আপনাকে জানিয়ে দেয়া হবে। এই বিষয় আর দীর্ঘ ব্যখ্যার প্রয়োজন নেই। যদি অনুমতি দেন তবে একজন পুরনো সাথী এবং সহযোদ্ধা হিসাবে কিছু কথা বলে যেতে চাই।

বলো, কি বলতে চাও?

৭ই নভেম্বর বিপ্লবের পর আপনাকে পূর্বসিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুনরায় চীফের পদে অধিষ্ঠিত করেছিল আগস্ট বিপ্লবীরাই। সেনা পরিষদই ছিল ওই বিপ্লবের অগ্রণী এবং মূলশক্তি। কর্নেল তাহের ও তার অধীনস্থ বিপ্লবী সৈনিক সংস্থার ভূমিকা ছিল সহায়ক শক্তি হিসাবে গৌণ। এ সত্যটা আপনি ভালো করেই জানেন। সবকিছু জেনেই আপনি ক্ষমতার কেন্দ্রে উপবিষ্ট হবার পরই সিদ্ধান্ত নেন, আগস্ট বিপ্লবের চেতনা আদর্শ এবং বিপ্লবীদের সাথে সব সম্পর্ক ছেদ করে ভিন্ন পথে অগ্রসর হওয়ার। আপনি জোর প্রচারণা চালাচ্ছেন বিপ্লব এবং বিপ্লবীদের সাথে আপনার কখনোই কোনও সম্পর্ক ছিল না, বর্তমানেও নেই। এ ধরনের মিথ্যাচারের মাধ্যমে সাময়িকভাবে হয়তো সত্যকে চাপা দিয়ে রাখা সম্ভব হবে। কিন্তু সত্য একদিন সত্য হিসাবেই ইতিহাসে প্রতিষ্ঠা পাবে। এটাই সমাজ বিজ্ঞানের শিক্ষা। ‘বিপ্লব’ শব্দটার অপব্যাখ্যার মাধ্যমে মানুষের মনে ত্রাসের সৃষ্টি করার ইতিহাস সুপ্রাচীন। যদিও এই শব্দটির সহজ মানেটা হল আপোষহীন দ্রুত পরিবর্তন। মানব সভ্যতা জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রার সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে চলেছে, কিন্তু এই অগ্রগতির ফসল পৃথিবীর সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ঝুলিতে পরেনি। মুষ্টিমেয় কিছু লোক এবং পরিবার এর ফল ভোগ করে চলেছে জোরজুলুমের মাধ্যমে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। সাম্রাজ্যবাদ, উপনিবেশবাদ কিংবা নিও-উপনিবেশবাদের কালে তাদের সেই শোষণ প্রক্রিয়াকেই টিকিয়ে রাখার জন্যই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন প্রকারের রাষ্ট্রীয় অবকাঠামো, রাজনৈতিক ব্যবস্থা, আইন আদালত, প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনী এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষাকারী সামরিক বাহিনী এবং এক অদ্ভুত রাজনৈতিক প্রক্রিয়া। ছল-চাতুরীর মাধ্যমে পেশীশক্তি এবং অর্থশক্তির বলে বলিয়ান আগ্রাসী শক্তিগুলো বিভিন্ন দেশে গড়ে তুলেছে তাদের তল্পিবাহক একটি মুৎসুদ্দি শ্রেণি। এই সমস্ত পোষা স্বার্থবাদী বাস্তুঘুঘুরা প্রয়োজন মতো কখনো গায়ে জড়াচ্ছে গণতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র কিংবা একনায়কতন্ত্রের লেবাস শুধুমাত্র ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখার জন্যই। এতে সৃষ্টি হয়েছে স্বার্থের দ্বন্দ্ব নিজেদের এবং তাদের বিদেশী প্রভুদের স্বার্থের সাথে বৃহত্তর জনগোষ্ঠী এবং জাতীয় স্বার্থের। তৃতীয় বিশ্বের প্রায় সবদেশেই ক্ষমতাসীন আর বিরোধীদলগুলোর মধ্যে চরিত্রগত ভাবে কোনও পার্থক্য নেই। কারণ, তাদের সবার শিকড় প্রোথিত ঐ কায়েমী স্বার্থবাদীগোষ্ঠীর মধ্যেই। তারা বাহ্যিক ভাবে একে অপরের সাথে ক্ষমতার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বটে, তবে সেটা হয়ে থাকে সমঝোতার ভিত্তিতে। জনস্বার্থের বিরুদ্ধে তারা এক হয়ে যায়। বর্তমান কালে তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে যে বিস্ফোরণ ঘটেছে তাতে এই শুভঙ্করের ফাঁকিটা পৃথিবীর প্রতিপ্রান্তের বঞ্চিত, শোষিত এবং নিপীড়িত জনগণ আজ কম-বেশি ধরতে সক্ষম হচ্ছেন তাতে তাদের সচেনতা বেড়ে চলেছে। এর ফলে, বর্তমানে বিশ্বজোড়া আগ্রাসী সম্প্রসারণবাদী সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং প্রতিরোধ গড়ে উঠছে। তাদের ন্যায়সঙ্গত এই প্রতিবাদী প্রতিরোধ সংগ্রামকে বলা হচ্ছে ‘সন্ত্রাসবাদ’ ‘মৌলবাদ’ ইত্যাদি এবং প্রতিবাদী এবং প্রতিরোধকারীদের বলা হচ্ছে সন্ত্রাসবাদী মৌলবাদী। কিন্তু এইসব অপপ্রচারের পরেও আজ অস্থিতিশীল হয়ে ধস নেমেছে বর্তমানের অসম শোষণমূলক বিশ্ব ব্যবস্থায়। বাংলাদেশের আপামর জনসাধারণ ‘৭১ এ ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মুক্তিসংগ্রামে এক নতুন ন্যায়ভিত্তিক প্রকৃত স্বাধীনতার প্রত্যাশায়। সেই চেতনা আর স্বপ্নের বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এবং চাণক্যদের সুদূরপ্রসারী নীলনকশার মাধ্যমে নব্য স্বাধীন বাংলাদেশকে একটি করদ রাজ্যে পরিণত করার ষড়যন্ত্রকে নস্যাত করার জন্যই যুদ্ধকালে আমরা গড়ে তুলেছিলাম একটি গোপন বৈপ্লবিক সংগঠন যার একজন সদস্য হয়েছিলেন আপনি শপথ নিয়ে স্বেচ্ছায়। আপনি হয়তো অনেক কিছুর মতোই এটাও ভুলে গেছেন, যখন আপনি ছিলেন পরিত্যাজ্য তখন আমি লোকচক্ষুর অন্তরালে আপনার কল্যাণীর নিবাসে গিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আলোচনার মাধ্যমে বুঝিয়েছি রাষ্ট্রবিজ্ঞানের আলোকে কি করে আমরা গোপন সংগঠন গড়ে তুলবো, কি করে ধাপে ধাপে আপনাকে সবার অজান্তে বৈপ্লবিক পন্থায় শীর্ষ জাতীয় নেতার স্থানে অভিষিক্ত করে ‘৭১-এর চেতনা ও স্বপ্ন বাস্তবায়িত করবো। আমাদের নীতিআদর্শ এবং রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ আস্থা জ্ঞাপন করেই আপনি ওয়াদা করেছিলেন আমাদের একজন হয়ে লড়ে যাবেন আজীবন। কিন্তু অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষা ও অক্লান্ত পরিশ্রমের দীর্ঘদিনের সংগ্রামে অনেক চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে পর্বতসম জগদ্দল পাথর সরিয়ে আমরা যখন বিজয়ের দ্বার উন্মোচন করতে সমর্থ হলাম তখনই সেই সোপান দিয়েই উল্টো পথে চলার সিদ্ধান্ত নিলেন আপনি। দেশী-বিদেশী কায়েমী স্বার্থবাদীদের সাথে সমঝোতার রাজনীতি করে জনগণের অধিকার অর্জন করা সম্ভব অতীতেও হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। সময় মতো এই সত্য আপনি বুঝতে পারবেন। স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য আপনি আমাদের বিদেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখার কৌশল অবলম্বন করছেন। কিন্তু সামরিক বাহিনীতে অস্থিতিশীলতার মূল কারণ সমূহ কিন্তু ৭ই নভেম্বরের পর আপনার নিজস্ব কর্মকাণ্ডগুলোই। বাস্তব সত্যটা আপনার কাছে এই মুহূর্তে মেনে নেয়া সম্ভব নয়। তবে অস্থিতিশীলতার যে অঙ্গার আপনি জ্বালিয়েছেন সেটা নিভে যাবার নয়। এর পরিণাম সম্পর্কে আপনার ধারণা কি সেটা আমার জানা নেই। তবে পরিণতিটা আপনার জন্য খুব একটা শুভ হবে বলে মনে হয় না। আপনি যাদের নিয়ে রাজনীতি করতে যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগই ক্ষমতালোলুপ। তাই সুধী সাবধান! সুবিধাবাদী সুযোগ সন্ধানীরা নিজস্ব স্বার্থের জন্য সব কিছুই করতে পারে। প্রয়োজনে পা চাটতে পারে আবার ঘাড়ও মটকাতে পারে। ছাত্রকাল থেকেই রাজনীতি করে এসেছি, তাই অভিজ্ঞতার আলোকেই কথাগুলো বলছি, কেতাবি কথা নয়। স্যার, ক্ষমতার শীর্ষে বসে মানুষের চরিত্র যাচাই করা সম্ভব নয়। চরিত্র যাচাইয়ের কষ্টি পাথর হচ্ছে দুঃসময় এবং সংগ্রামকাল। আপনি পরীক্ষিত সহযোদ্ধাদের প্রতিপক্ষ ভেবে নতুন করে যে সমস্ত আস্থাভাজন কিনে একত্রিত করছেন ক্ষমতার রাজনীতির স্বার্থে সেটা নীতির রাজা সর্বোৎকৃষ্ট গণমুখী রাজনীতির জন্য নয়। আপনার এই সমঝোতার রাজনীতিতে রয়েছে সমূহ বিপদের আশংকা। আমি আমার বক্তব্য শেষ করবো আপনাকে আশ্বস্ত করে, আমরা যে যেখানেই থাকি না কেনো দেশ ও জাতির স্বার্থেই কাজ করে যাবো, কোনও ব্যক্তিস্বার্থে নয়। সময় নিয়ে ধৈর্যের সাথে আমার বক্তব্য শুনলেন তার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। কয়েকদিনের মধ্যেই দেশ ছেড়ে ফিরে যাবো বেনগাজীতে লন্ডন হয়ে। শিশু ভাইয়ের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকবে। তাই আমার গতিবিধি সম্পর্কে আপনি সবই জানতে পারবেন। চলি স্যার, আল্লাহ হাফেজ। বেরিয়ে এলাম তার অফিস থেকে।

ফারুকের দেশে আগমনের পর থেকে দেশ ছাড়ার আগ পর্যন্ত সময়ের বেশির ভাগই কেটেছে ক্যান্টনমেন্টে। মালিবাগ পৌঁছে দেখি নিকট আত্মীয়-স্বজন সবাই আমার জন্য একরাশ উৎকন্ঠায় উদগ্রীব হয়ে অপেক্ষা করছেন। কারণ, ওই সময় বাসা থেকে কাপড়-চোপড় ড্রাইভার দিয়ে আনিয়ে নিয়ে সংক্ষেপে মহুয়াকে বলতাম আমি নিরাপদেই আছি চিন্তার কারণ নেই। তারা সবাই জানতে চায় কর্নেল ফারুকের আসার পর পর্দার অন্তরালে কি ঘটেছে! আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে কি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে! জটলার মধ্যে মহুয়াই বললো

স্যারকে একটু ফ্রেশ হয়ে বিশ্রাম নিতে দাও, তারপর সব শোনা যাবে।

ভাইয়া, তুমি এক্ষুনি লন্ডনে নিম্মির সাথে কথা বলো। বেচারি ভীষণ চিন্তিত অবস্থায় আছে।

হ্যাঁ, সেটাই করা উচিৎ। তুই ফোন মিলিয়ে আমাকে দে। মহুয়া ফোনে নিম্মির সাথে যোগাযোগ করে আমাকে রিসিভার দিলো। ফোনে নিম্মি প্রথম কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে বললো

তুমি কোথায় কি অবস্থায় আছ জানার জন্য যখনই ফোন করেছি, মহুয়া আর কেয়া বলেছে তুমি ক্যান্টনমেন্টে খুবই ব্যস্ত, তবে নিরাপদেই আছ। তাকে সান্ত্বনা দিয়ে আশ্বস্ত করে বললাম নিঃস্বার্থভাবে বৃহত্তর কোনও দায়িত্ব পালন করতে গেলে আল্লাহ্ই সহায় হন। এর প্রমাণ তো ২-৩রা নভেম্বর রাতেই তুমি পেয়েছো। রাত ১টায় বঙ্গভবনে তোমাকে বলেছিলাম, তুমি কোনও নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাও, আমি নূরকে সাথে নিয়ে ক্যান্টনমেন্টে যাচ্ছি খালেদ ভাইয়ের সাথে আলোচনা করতে। বেঁচে থাকলে আবার দেখা হবে। আর তা না হলে আল্লাহ হাফেজ। তুমি দোয়া পড়ে আমাকে বলেছিলে, “তোমাকে আল্লাহ্র হাতে সোপর্দ করলাম তিনিই তোমাকে রক্ষা করবেন।’’ তোমার দোয়ায় আল্লাহর রহমতে ৩রা নভেম্বর অক্লান্ত পরিশ্রম করে দেশকে এক মহাবিপর্যয়ের হাত থেকে বাঁচিয়ে তোমার কাছেই ফিরে এসেছিলাম। লন্ডনে পৌঁছেই আমি কিন্তু আঁচ করতে পেরেছিলাম এমন একটা কিছু ঘটতে পারে। তাই জোর করা সত্ত্বেও তোমাকে ঢাকায় নিয়ে আসিনি। এসব এসে বলবো। জান, তোমাকে বিশ্বাস করতেই হবে তুমি পাশে না থাকলেও আমি জানতাম তোমার দোয়া রয়েছে। তাইতো ২-৩রা নভেম্বরের চেয়ে জটিল অবস্থার মোকাবেলা করতে পেরেছি। দু’চার দিনের মধ্যেই তোমার কাছে ফিরে আসছি ইন শাহ আল্লাহ। অতএব চিন্তার কোনও কারণ নেই। অন্য সবার সাথে এরপর সালাম এবং কুশল বিনিময় করে ফোন রেখে দিয়ে বাথরুমে গিয়ে ঢুকলাম গোসল করার জন্য। যেতে যেতে মাহবুবকে বললাম, দু’একদিনের মধ্যে আমার জন্য একটা সিট কনফার্ম করার জন্য। ইতিমধ্যে মহুয়া আর কেয়া দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করে টেবিলে সাজিয়ে দিয়েছে। সবাই মিলে খাবার পাট চুকালাম। মহুয়ার তত্ত্বাবধানে আমার প্রিয় ব্যঞ্জনে ভরা ছিল টেবিল। মহুয়া অত্যন্ত বুদ্ধিমতী, কম কথার মানুষ। কিন্তু সব ব্যাপারে তীক্ষ্ণ দৃষ্টি রেখে সবকিছু তদারকি করে। কেয়া কিছুটা চঞ্চল আর মুখরা। খাওয়ার পর যাবার আগে মাহবুব সবাইকে উদ্দেশ্য করে বললো

তোমরা স্যারকে একটু রেস্ট নেয়ার জন্য বাধ্য করার চেষ্টা কর। He has gone through extremely strenuous time all these days. সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে চলে গেলো মাহবুব।

সবাই মেঝেতে শুয়ে বসে গেঁজাচ্ছিলাম। হঠাৎ অতি আপনজন বন্ধুবর সাচৌ (বিচিত্রার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক) এসে উপস্থিত।  কোথায় ডালিম, আওয়াজ দিয়ে ঘরে ঢুকে আমাকে দেখেই বললো

এক্ষুনি তোকে আমার সাথে এক জায়গায় যেতে হবে। তুই বাসায় ফিরেছিস খবরটা পেয়েই ছুটে এসেছি। উসকো খুসকো চুল, চোখে মোটা লেন্সের চশমা, শুকনো মুখ। বললাম

কোথায়?

কাপড় বদলে নে জলদি।

যাচ্ছি, বলে নিজের ঘরে গেলাম কাপড় বদলাতে।

বোঝাই যাচ্ছে আপনার দুপুরের খাওয়া হয়নি, আসুন একটু খেয়ে নিন।

ঠিক ধরেছিস। চল, বলে মহুয়ার সাথে সাচো খাবারের টেবিলে গিয়ে বসলো। ওর খাওয়া শেষ হওয়ার আগেই আমি রেডি হয়ে ওর কাছে এসে বললাম

তলবটা বেশ জরুরী মনে হচ্ছে?

গাড়ীতেই আলাপ হবে। খাবারের সময় কথা বলা সুন্নতের খেলাপ বলেই গোগ্রাসে খাওয়া শেষ করে কেয়ার কাছ থেকে একটা পান মুখে পুরে সিগারেট ধরিয়ে সবাইকে বললো

ঘণ্টা দুয়েকের মধ্যেই ফিরে আসবো। আমার গাড়ীতেই যেতে হবে।

হুকুম মতো সাচোর গাড়ীতে উঠে বসলাম। সাচো গাড়ী চালাচ্ছিলো বেশ দ্রুতগতিতে। বুঝতে পারছিলাম কেউ কোথাও অপেক্ষা করছে।

কিরে, শারলক হোমসের এর মতো কোথায় নিয়ে চলেছিস বলতো?

জেনারেল মঞ্জুর তোর জন্য অপেক্ষা করছেন।

আশ্চর্য! কেনো?

পাকিস্তান আর্মির চৌকস অফিসার ‘গ্যুডেরিয়ান’ নামে খ্যাত জেনারেল মঞ্জুর তার ভারিক্কি ভাব বজায় রেখে জুনিয়র অফিসারদের সাথে তেমন একটা মিশতেন না। তার স্ত্রীতো তার চেয়েও এককাঠি সরস ছিল এই বিষয়ে। যুদ্ধকালে আমাদের অনেক পরে মেজর জিয়াউদ্দিন আর মেজর তাহেরকে সাথে নিয়ে শিয়ালকোটের ব্রিগেড মেজর সপরিবারে পালিয়ে এসে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন। কোয়েটা থেকে আমরা মেজর তাহেরকে সাথে নিয়েই পালানোর পরিকল্পনা করেছিলাম, কিন্তু হঠাৎ অপ্রত্যাশিত ভাবে তাকে এ্যাবোটাবাদ বদলি করে দেয়ায় তিনি আমাদের সাথে পালাতে পারেননি। এ সম্পর্কে ‘যা দেখেছি যা বুঝেছি যা করেছি’ তে বিশদভাবে লেখা রয়েছে। পরে যখন কর্নেল আবু ওসমানকে দুর্নীতির জন্য সেক্টর কমান্ডারের পদ থেকে সরিয়ে মেজর মঞ্জুরকে ৮নং সেক্টরের কমান্ডার বানানো হয়েছিলো তখন আমিও ঐ সেক্টরের গেরিলা এডভাইজার ছিলাম, কিন্তু তার সাথে তেমন একটা ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠেনি। তিনি নিজেই যখন সবার কাছ থেকে দূরে সরে থাকতে ভালবাসতেন তখন আমরাও গায়ে পড়ে তার সাথে ঘনিষ্ঠ হবার চেষ্টা করিনি। তিনি বরাবরই ক্যারিয়ার সম্পর্কে খুবই সচেতন থাকতেন। স্বাধীনতার পর থেকে ১৫ই আগস্ট পর্যন্ত সেনাবাহিনী এবং সরকারের মধ্যে যা কিছুই ঘটেছে তার থেকে তিনি সযত্নে নিজেকে সর্বদা সরিয়েই রেখেছেন। আস্থাভাজন হিসাবে স্বাধীনতার পর পরই তাকে ভারতে পাঠায় মুজিব সরকার মিলিটারি এট্যা’চে করে। এরপরও আমি তাকে ১৫ই আগস্টের পর ভারত থেকে ডাকিয়ে এনে বলেছিলাম

স্যার, এখানে আপনার প্রয়োজন। তাই দিল্লী থেকে আপনাকে ফিরিয়ে আনতে চাই। তিনি জবাবে তেমন কোন উৎসাহ দেখাননি। তার প্রতিক্রিয়ায় কিছুটা বিস্মিত হয়েছিলাম! পট পরিবর্তনের পর তোরা সবাইতো ডাকের অপেক্ষা না করে ছুটে এসেছিলি বিপ্লবকে সমর্থন করে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদকে পুনর্গঠিত করার কাজে এবং বিভিন্ন দেশপ্রেমিক এবং প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল-গ্রুপ এর নেতা-নেত্রীদের সাথে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি নিয়ে আলোচনার জন্য যোগাযোগের ব্যাপারে তোর অবদান কম ছিল না। ৭ই নভেম্বরের পর ভারত থেকে ফিরে জেনারেল পদে উন্নীত হয়ে জিয়ার বিশেষ আস্থাভাজন CGS হঠাৎ আমাকে ডেকে পাঠালেন কেনো, কি প্রয়োজনে সেটাই ভাবছি!

সেটা আমারও জানা নেই তাই আমিও ভাবছি, গেলেই বোঝা যাবে। আমরা বনানীর একটা বাড়ীতে গিয়ে পৌঁছালাম। কার বাড়ি সেটা আমি জানতাম না।

‘৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিভিন্ন মহল থেকে অনেকেই অনেক কথা বলার চেষ্টা করে চলেছেন। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, এদের বেশীর ভাগ দিগগজ এবং বোদ্ধারা কিন্তু নিজেরা তেমনভাবে যুদ্ধের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন না। তাই তাদের শোনা কথা এবং কল্পকথায় স্বচ্ছতার যথেষ্ট বৈপরীত্য ধরা পড়ে। বর্তমান প্রজন্মের বেশিরভাগই সেই সময়ের ঘটনা প্রবাহ সম্পর্কে প্রায় কিছুই জানেন না বলেই এই সব অপপ্রচারে স্বাভাবিকভাবেই বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছেন। এর জন্য দায়ী মুক্তিযোদ্ধারাই। বেশীরভাগ কমান্ডাররা যেকোনো সীমাবদ্ধতার কারণেই হোক মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে যোদ্ধাদের বৃহদাংশের সার্বিক মনোভাব প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে কি ধরনের স্বাধীন বাংলাদেশ তাদের স্বপ্ন এবং কাম্য এ সম্পর্কে তেমন কোনও দলিল রেখে যেতে ব্যর্থ হয়েছেন। যারাই লিখেছেন তারা বিভিন্ন রণাঙ্গনে যুদ্ধের কিছু কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার বিবরণ সম্পর্কেই লিখেছেন যেখানে তারা ব্যক্তিগতভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। যুদ্ধের ঘটনাগুলো লিখে রাখাটা অবশ্যই প্রশংসনীয়, তবে তার চেয়েও বেশী তাদের লেখা উচিৎ ছিল জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আপামর জনগণের লক্ষ্য-উদ্দেশ্য-চাওয়া-পাওয়ার প্রত্যাশা এবং স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্পর্কে মুক্তিযোদ্ধাদের মরণপণ অঙ্গীকার। যাকে বলা চলে মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনা। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং Guerrilla Advisor to the Sector Commanders হিসেবে রণাঙ্গনের প্রতিপ্রান্তে ঘুরে মুক্তিযোদ্ধা, সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী এবং পেশা থেকে আগত আবাল বৃদ্ধ বণিতা, ইয়ুথ এবং শরণার্থী ক্যাম্পের অভিবাসী এবং সাধারণ জনগণের সাথে মিশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সম্পর্কে সংখ্যাগরিষ্ঠের ধারণা কি ছিল সেটা পাঠকদের কাছে বিশেষ করে নবীন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

হানাদার বাহিনীকে পরাজিত করে শুধুমাত্র ভৌগোলিক স্বাধীনতা অর্জন করে একটি রাষ্ট্র, পতাকা এবং জাতীয় সঙ্গীতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। সবারই প্রত্যাশা ছিল, রক্তের বদলে স্বাধীনতা প্রাপ্তির পর নতুন যে বাংলাদেশের অভ্যুদয় হবে, সেটা গড়ে তুলতে হবে নতুন আঙ্গিকে। সেখানে থাকবে না মুষ্টিমেয় কায়েমী স্বার্থবাদীগোষ্ঠী এবং তাদের বিদেশী প্রভুদের আধিপত্য। তাদের সমাজ ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বলয়, প্রশাসন, আইন-আদালত এবং রাষ্ট্রের সর্বস্তর থেকে সমূলে উপড়ে ফেলে তাদের ছুঁড়ে ফেলে দিতে হবে ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে। একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি ও স্ব-নির্ভর, প্রগতিশীল, সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশকে বিশ্বের মানচিত্রে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায়। সংখ্যাগরিষ্ঠ নিপীড়িত বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর ন্যায়সঙ্গত অধিকার নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সুষম আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার সংগ্রামের মাধ্যমেই সৃষ্টি হবে ঐক্যবদ্ধ জনশক্তির। অগ্রণীর দায়িত্ব গ্রহণ করবেন পরীক্ষিত জনদরদী, নির্লোভ, আত্মত্যাগী, সাহসী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং সচেতন মুক্তিযোদ্ধারা। ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং জাতীয়তাবাদের প্রশ্নে তাদের হতে হবে আপোষহীন। বৈপ্লবিক পদক্ষেপ ছাড়া এই ধরনের বাংলাদেশ গড়ে তোলা কখনোই সম্ভব হবে না। বিগত কালের ঘুণে ধরা ক্ষয়িষ্ণু রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক পরিসরে আনতে হবে আমূল মৌলিক পরিবর্তন। তবেই প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব হবে জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকার। এই ধরনের একটি রাষ্ট্র এবং সমাজ গঠন তখনই সম্ভব হবে যখন দেশবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং তাদের সৃজনশীল কর্মশক্তি এবং দক্ষতাকে কাজে লাগানোর পূর্ণসুযোগ ও সম-অধিকার নিশ্চিত করা হবে। প্রগতির পথে যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশকে নতুন আঙ্গিকে পুনর্গঠনের আর কোনও বিকল্প পথ নেই। এটাই ছিল ‘৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং স্বপ্ন। স্বল্পকথায় জাতি চেয়েছিল এমন এক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে যেখানে তারা উপভোগ করবে আর্থ-সামাজিক পরিসরে সম-মর্যাদা, আইনের শাসন, জান ও মালের নিরাপত্তা, আদালত, প্রশাসন, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসমূহ থেকে নিরপেক্ষতা। সুখ ও শান্তির দেশ, যেখানে সর্বক্ষেত্রে শিকড় গাড়বে গণতান্ত্রিক এবং স্বকীয় মূল্যবোধ, সহনশীলতা, সহমর্মিতার ভিত্তিতে জাতীয়তাবাদী চেতনায় দেশকে প্রগতির পথে সমৃদ্ধশালী করে গড়ার ঐক্যবদ্ধ প্রয়াসের অঙ্গীকার।

কিন্তু এই চেতনা ও স্বপ্ন ছিল ভারতের স্বার্থবিরোধী। তাই তারা তাদের প্রসূত প্রবাসী সরকারের যোগসাজসে এই চেতনা এবং স্বপ্নের পরিপন্থী এক সুদূরপ্রসারী নীলনকশা প্রণয়ন করে বাংলাদেশকে ভারত নির্ভর একটি করদ রাজ্যে পরিণত করার লক্ষে। সেই পরিকল্পনার বিরোধিতার প্রত্যয় নিয়ে যুদ্ধকালীন সময়েই রাজনৈতিকভাবে সচেতন মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধের আড়ালেই গড়ে তোলায় ব্রতী হয়েছিলেন একটি গোপন সংগঠন। স্বাধীনতার পর তাদের নিয়েই গড়ে তোলা বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীতে সেই গোপন সংগঠনের নামকরণ করা হয় সেনা পরিষদ। যেকোনো জাতিকে আত্মবিশ্বাসে বলিয়ান হতে হলে তাদের অবশ্যই জানতে হবে নিজেদের ঐতিহ্য, সঠিক বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস, জানতে হবে তাদের সম্পদ, সম্ভাবনা এবং জাতীয় অগ্রগতির পথে প্রতিবন্ধকতাগুলো সম্পর্কে এবং সম্যক জ্ঞান থাকতে হবে শত্রু-মিত্র কারা। বিশেষ করে, দেশের সামরিক বাহিনীরও থাকতে হবে এই সমস্ত বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা। কারণ, সামরিক বাহিনী হচ্ছে যেকোনো দেশ এবং জাতির মেরুদণ্ড। ইতিহাস বিকৃতির জঘন্য প্রতিযোগিতায় একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং বাংলাদেশ সামরিক বাহিনী গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে কিছু তথ্য তুলে ধরছি পাঠকদের অবগতি জন্য।

Returned to Benghazi via London

I am flying on board a London flight. Abba, Minu Fuppu, Bappi, Shapan, Mohua, Keya, Shangita and my all time companion Col. Mahbub came to see me off. A number of few very close friends from the armed forces had also come. Sitting in the mechanized flying crain I was quitely thinking about every eventfull moment that I had passed through in Dhaka. At one time I fell asleep. Through out the flight there was no darth of warm hospitality starting from the captain and in flight crews. They were doing this at their own. Because, in status I was not a VIP but an ordinary passanger like others. The flight landed at Theath Row airport in time.

Khalamma, Nimmi and Manu came to receive me. Nimmi embracing me started crying. Manu also hugged me with wet eyes. Khalamma placed her hand on my head and welcomed me. Manu is our driver. She takes us around when ever we visit London. Most of the roads and lanes of London are at her finger tips as she almost grew up in London from her childhood. Indeed, she is also a good driver as well! We reached home. On the way Nimmi enquired about welfare of all back home. After reaching home I called at Benghazi and informed that I have reached London and within a week shall be at Benghazi along with Nimmi In Sha Allah. Pasha informed after returning from the country both the brother-in-laws mostly remain closed door in their flats.

No problem, once I come the doors would open.

After spending one week in mids of the warmth of close friends and relatives we finally reached Benghazi. All got alive having both of us among them hail and hearty.

After two days we held a meeting amongst ourselves. Whatever I could not say over phone from Dhaka I told them those in details. Particularly I told them all about the sincerity of Shishu Bhai and also about the unexpected secret meeting that was arranged with Gen. Manjur at his request. About Zia’s future politics I said

All though Zia had given his words to Rashid and Faruk that once the multy party politics resumes in the country they would be allowed to return to the country to do politics but I think at the right time he would disown his words. If they try to be adamant then he might even take extreme measures against them though with out us Rashid and Faruk’s politics would not pose any threat to his own politics. Had he been true to himself then after knowing that we have a distinct political agenda he never even uttered a word what to talk about any such offer while taking to me. Due to popularity of 15th August change, it is only us and Khandakar Mushtaq who could counter Zia in politics. Knowing that, Zia completely avoided that issue while talking to me. Rashid and Faruk might join hands with Mushtaq but Zia is also fully aware of the fact that with out us Rashid and Faruk would not be considered as heavy weights in politics by Mushtaq. I also think that Zia would not allow the embraio of Khandakar Mushtaq’s party the Democratic League to flurish after his compromise with India. I had talked with Shishu Bhai frankly about my apprehension wanted to know his opinion. But he avoided to give any answer and remained quite. I took his silence as a positive answer. Mahbub agreed with my apprehention.

All had been listning very carefully whatever I was revealing. As I finished, Huda said

Cunning fox in the garb of a tiger is playing a dangerous game but the end of this game would not be good for him and for the country it would be horrifying.

What would happen or not happen to Zia that is not our concern. At this moment we all must think what is going to be our future decision? Are we going to accept Zia’s propossal or not.

After listning everything what Sir had said, I would like to express my conclusive thoughts to all present here. Pasha nipped his cigarate butt in the ash tray and got ready to speak. He started

  1. Gen. Zia is not arranging to keep us abroad temporalily but permanently in a way so that we don’t go out of focus from his radder. It is also not palatable to Zia that we all stay together at a safe aboard.
  2. Whatever he might have said, lets have no doubt that he would never take us back in the army. It would not be possible for him to do politics with us since he has compromised with India and decided to bringing back Sheikh Hasina as their pawn to be his cohabitant in the political chess board.
  3. As Zia had already made a deal with India to rehabilitiate Awami-Bksalites again in the main stream of national politics in that scenario should we decide not to accept his offer of foreign assignments as diplomats and dares to get back to the country against his will to do politics separately then, our fate would be worse than JSD and Sarbahara party during Mujib’s reign. The fate of Mushtaq’s declared Democratic League in future will prove that. I also believe though Mushtaq might get some support from some of the oil rich Gulf States and Western powers including America but to all of them at the moment Zia would be more prefered being the ‘Strong Man’ controlling the bastchion of power that is the armed forces of Bangladesh like many other 3ed world countries.
  4. The way Gaddafi had welcomed us, I do not think most of the other leaders of the world who believes in the politics of compromise would be doing that. It wouldn’t be possible for us to take refuge in any communist or socialist countries as well though Rashid and Faruk attempted to project all of us as communists to Gaddafi and other influential members of his Revolutionary Command Coumsil misinterpreting our progressive out look and egaliterian nature of politics.
  5. In case we decide to live here then we have to cohabit with two unscrupulous brother in laws who by now had all ready taken some initiatives at their own tarnishing our image and in future might take more such initiatives eroding our image even further. Therefore, it would not be possible to stay here any longer. Besides, there is a gulf of difference in political out look and ideals between them and us. After considering all these realities I think, we have no other alternative but to accept Zia’s offer. If this offer is accepted then our personal security would be assured to some extent and at the same time we would be in a position to contribute something for the interest of the country and the nation. The most important factor in this case would be that we shall be able to maintain uninterrupted contacts back at home. We shall also be able to develop personal relation with the diplomats of the important countries of the world. Besides, this would also provide us the scope to deepen our knowledge about world politics.

Presently, attempts are being made in many ways to transform the world into a ‘Global Village’. So in future should an opportunity avails itself for us to do politics then we must be aware of ongoing world affairs. After accepting the assignment of a diplomat instead of getting restricted only to ‘Dinning and Wining’, we must endeavor to gain knowledge about the flow of events at evry noock and corner of the world, currents and cross currents, internationally conflicts based on interest and resolution, about various kind of aggression, for one’s self interest unethical give and take and coexistance, equations between the ideologically opposite powers etc and in these ground realities how can the interest of Bangladeash be achieved. Should we fully utilize this opportunity to equip ourselves better then in future if Allah again gives us an opportunity to lead the national struggle then we shall be much more matured to provide effective leadership to materialize the spirit and dream of ‘71.

No one said anything against what Pasha had stated. Rather, all had supported him. Therefore, decision was taken that even if Rashid and Faruk refuse the offer and decide to live in Libiya, we all shall accept diplomatic assignment offered by Zia and leave Libiya to join different Bangladesh Missions abroad as diplomats. The aninomous decision thus taken was conveyed to Gen. Zia that other than Rashid and Faruk rest all of us have agreed to his propossal to take up diplomatic assignments. We knew that after receiving our consent Zia would arrange to send our posting orders at the earliest. Keeping that in mind, the decision was also taken that before leaving we must clarify some important issues with the two brother in laws holding an open and frank discussion with them. As decided, we got togather in a meeting. I was requested to be the spokesman to talk with them about our decision and on other issues.

So, I started

We have decided to accept Zia’s offer to take up diplomatic assignments. The decission has been conveyed, You and Faruk decided to live here. Therefore, before leaving we thought it would be prudent to convey our feelings about your attitude, initiatives and actions on some issues of importance. Why we have decided to leave and why you two have decided to stay back that needs no further elaboration or altracation.

Since the days of liberation war, we all had been the members of an covert organisation founded on a clear aim and ideals. We have a distinct well thought of vision or a dream if you like to be accomplished on a deliberated work programe. Both of you are not a part of that even then we had staged the sucessfull revolutionary uprising of 15th August jointly on the basis of a minimum action plan. The basis of our unity was patriotism and religious values on which our spirit of separate self identity, ‘Bangladeshi Nationalism’ has evolved over hundreds of years in the historical process. Infact, this was the spirit of’71. When the Indian Chanakyas chalked out a far feteched blue print disregarding this spirit in coleboration with the power hungry national vested interested groups of boot lickers to turn Bangladesh into a client state at that point of time we along with other concious freedom fighters devoted ourselves covertly getting organized to counter that blue print under the cover of the liberation war.

There is lot of difference between us in mind set, thoughts and ideals, outlook about life about which people at large not aware. They view all of us to be the same. But after 15th August you had taken some initiatives unilaterally which had tarnished our image. All of a sudden, you two without any discussion with any one of us went to the American Embassy at Bangkok and asked for political asylum huimsically without thinking about the possible outcome and future. There after, the weird live interview in BBC. The drama that you and Faruk had staged this time what benefit have been achieved out of that? Perhaps due to this event some more revolutionaries would become sacrificial goats in Zia’s hand! Whatever hight Zia has attained today, he had climbed up to that deceptively using us as his ladder. Unfortunately, this fact is not known to the people. We have no scop at present to tell the countrymen that he is a traitor(Munafiq). In view of this the only way to couter Zia would be at an appropriate time his real character should be exposed unmasking him politically.

Although, Zia had committed to Faruk before he left the country this time that once open politics resumes in the country you would be given the opportunity to do politics, but we think, he would not give that opportunity. At the same time, he will not allow Khandakar Mushtaq also stand up as his political opponent. Anyway, whatever unwarranted activities that you have done so far it wouldn’t be possible to ubdo those, but we request you not to repeat that kind of activities in future projecting all of us as laughing stock. As our names are synonymous with you two therefore, certainly we have a right to put up such a request. At present silence would be virtue. If ever the idea of countering Zia politically gets into your heads then you would be finding our doors open to you in future. Before leaving, with gratitude we shall logically make him understand why we have taken our decision. I am compelled to say one more thing to Rashid, it is not right to have the impression that we all are communists just because we have intimate relation with Col. Taher, Col. Ziauddin, Maj. Jalil or Shiraj Shikdar. You are understanding fully well, why did I had to say this.

After returning from Dhaka, Rashid tried to convince Gaddafi that we are responssible for the failure of Faruk’s mission because we all are communists. The reason he gave that we have intimate relation with Col. Taher, Col. Ziauddin, Maj. Jalil, Shiraj Shikdar including the leaders of all leftist parties and groups. We still maintain contacts with them regularly. I am communist and expressed my desire to go to People’s Republic of China, that is why Zia had posted me to Piking(Beijing). His reasonings were like an age old saying, ‘A mad can say anything as the goat eats everything’.

Whatever, I started again

Both you and Faruk managed to reach Mujib Nagar almost at the fag end of libaretion war therefore, it is but natural that both of you don’t know many things that had happened during the war. Should you decide to proceed any further politically, then you must know all of that. One more thing I would like to say to both of you as food for thought if you like.

The way Gaddafi along with the army of Gamal Naser ousted King Idris staging September revolution, in the similar way even millions of Dollars are spent it would not be possible to remove Zia from power at present. Only if the people can be organized country wide politically to unmask Zia it would be possible to fight against Zia. People must be apprised convincingly that Zia is doing only power politics after compromising with the anti national vested interested groups within the country and India, the arch enemy of Bangladesh outside. The interest of the country and the nation could never be served with such unholly poitical allyance. Roming around the villeges sporting a torn vest along with his henchmen with a spead on shoulder to impliment his cannal digging and reconstruction of roads and culverts is nothing but a self centered gimic to earn cheap popularity. The seeds of unhealthy political culture that he is sowing in the newly independent Bangladesh would give birth of a full grown huge poisionus tree. The ominous deep dark shadow of that tree would gradually engulf the country and the nation. In that dark hallow the people will loose sight to find the right path for a bright future. Taking advantage of the blind people in a dark ally India would strangulate the whole nation and there after the Chanakyas would start tightening the belt with carefull mechanizaton through their lackies and so called independent Bangladesh would become a client state of India. Thus, they would be fullfiling their charished blue print of ’71. Zia had harvested all our hard work, blood and sweat! Against this reality there is no scope of any short cut in the politics, we must understand this hard fact. Those who would be having the vision and thotough understanding of the flow of political current in future with prudence and courrage would be the accepted leaders and caders who would be the vanguards organising an astounding sucessful revolution to change of the fate of the deceived nation and regain real independence defeating the userpers.

At the end, I invited question from all present. But none had any so, meeting came to its end. Rashid and Faruk quitely left for their appartments and rest of us in sat around tea and cofee in a relaxed mood discussing lighter topics. Nimmi, Ranu, Lizi, Lily, Hena, Nafiza came and joined in.

News came from Dhaka, Lt.(R) Shamsher Mubin Choudhury(Nick name Sheru) is coming with our posting orders issued from the Foreign Ministry. We were brought up togather since our child hood. He and Shapan were almost of same age. His elder brother Nasrul Mobin Choudhury and I were contemporaries in age. In ’71 Sheru was serving as a young Leiutinant in the same Regiment with Zia. He was injured in the battle of Kalur Ghat and became a prisoner of war. He had to spend almost entire period of 9 months till Bangladesh became independant in the CMH under captivity. After liberation we went togather to GDR for advanced treatment. On return due to physical disability his services was placed with the Foreign Ministry at his request.

After the battle of Kalur Ghat Zia, Shafiullah, Khaled and all other commaners realised that it would not be possible to achieve independence defeating far superior Pak Army in fronal engagement so, they assembled at Teliya Para and decided to organize the forces ubder command for fighting a long drawn Guerrilla war. Meanewhile, the elected senior leaders like Nazrul Islam, Khandakar Mushtaq Ahmed, Tajuddin Ahmed, Kamruzzaman, Mansur Ali, Samad Azad, Col(R)Osmani and a few others of Awami Leauge in the election held under Gen. Yahiya Khan’s LFO and had won single majority after negotiation with the Indian government and signing 7 pont agreement decided to form the Provisional Bangladesh government in exile. Nazrul Islam as the acting President and Tajuddin Ahmed as the Prime Minister hoested the flag of independent Bangladesh and they along with other designated Ministers took an oath in a simple ceremony held at Bayiddanath Tala at Meherpur. Later Bayiddanath tala was named as Mujib Nagar. But the seat of newly formed provisional government was shifted at 58 Bali Ganj in Calcutta in a two storied building.

There after from there Col. Osmani as Minister came to attend the meeting at Teliya Para. In that meeting a few important decisions were taken. In the meeting Col. Osmani was designated as the Commander in Chief of the Mukti Fauj(Bahini) and retired Col. Rab, the Parliamentarian was designated as the Chief of Staff through an unanimous declaration. In the same meeting The whole of East Pakistan divided into a few interim sectors and sector commanders were designated. Some decisions were also taken temporarily regarding guerrilla warfare. Decision was taken that on return to Kolkata Col. Osmani after discussing with the provisional and Indian governments he would be holding a formal meeting of the sector commanders at the Headquater as soon as possible. In that meeting the over all plan, strategy and tactics about the liberation war would be finalized after thorough discussion and due deliberation. Before this meeting, I along with Lt. Motiur Rahman and Lt. Nur Choudhury could escape from Pakistan and had joined liberation war via Delhi. I have written about this episode in details in my book published earlier ‘Ja Dekhechi, Ja Bujhechi, Ja Korechi’ in English ‘Untold Facts’. The book can be down loaded both in Bangla and English in the following web sites,

www.majordalimbubangla.com and www.majordalimbu.com respectively.

Before arrival of Sheru we had the farewell meeting with Moammar Gaddafi and other close members of the Revolutionay Command Counsil. After exchange of greetings Gaddafi asked

Why have you all decided to leave Libya? You could stage revolution in Bangladesh staying here. I could also help my brothers in every ways whatever possible.

With gratitude I would like to say something on our behalf should you allow.

Please, feel free Gaddafi gave his consent.

Staying at Egypt under the patronage the way you had staged the successfull and over threw King Idris, in the same way it is not possible to remove Gen. Zia from the power at present that I supppose Col. Rashid and Col. had realised after visiting Dhaka this time. Though, due to us Zia is in power today but having betraying us now he is trodding his own chosen path. Unfortunately, as this is not known to the people they still consider him to be one of us. This reality has complicated the situation at present and taking full advantage of this complexcity Zia very cunningly is up to consolidate  his position ruthlessly. In such a precarious situation even if we succeed to remove him through an armed encounter but it would not be possible to resist Indian aggression with a devided nation. Therefore, first and foremost we have to confront him politically to unmask his real face before the people only then any revolutionary action would be successfull. Not before that.

The main stem of the revolution and revolutionary strategy and tactics in every country should be the same that is illogical. Say for example, main force of Russian revolution had been the labor class as it was a industrially developed country. But the main force of Chinese revolution was the peasentry. Similarly after the independence we organized a secret organization within the armed forces with tested freedom fighters that was the main force of our revolution. Zia had commited willingly to be the member of that organization that is why we made him to be the rallying figure and moved ahead. But once we installed him at the center of power at an opportune moment he moved away from us and decided to go on his own way. Not only that he had depleated our organizational streanth in different ways due to his conpromize with India. But still the people think that Zia is one of us. Therefore, in this situation I am saying it again, our fore most task would be to unmask his real face before the beople and that has to be don politically. Only after that it would be possible to take any revolutionary step to overthrow him from power. But at this moment he wouldn’t give us that opportunity in no way. So, we have to wait for the right opportunity. Lack of patience would only be westage of streanth but shall not gain anything.

He is fully aware that we are his main opposition therefoe, if we decide to stay together in your country then he would be extremely careful about our movements and communication with Bangladesh. But if we agree to his proposal and join different Bangladesh Missions abroad with diplomatic assignment then it would be helpful for us to remain in touch with our contacts in different sectors back at home. All though he has given his word to Rashid and Faruk that he would not create any problem for them to do politics once open multy party political activities resum in Bangladesh, but we think he would definitely do that. We also think, Zia would not allow Khandakar Mushtaq and his party to grow strong as his copetitor.

Moyammar, there is not much difference between your ‘Green Book’ and Mao Tse Tung’s ‘Red Book’. The only fundamental difference is that ‘Allah is only Sovereign’. You must have realised that all though Muslims are the 2nd largest community ib the world but to day most of them are Muslim by birth not in practice. You have taken comendable intiative to change into practising Muslims to reestablish  lost heritage, pride and the truth all over the world. At the same time, You as a revolutionary is generously supporting all those oppressed who are fighting against imperialist aggression and their local vested interested lackies for freedom. This is also praiseworthy. We also believe like you that it is only possible for the entire humanity to attain total freedom spiritually and materially only through the commandments of the creator. Only by following His commandments in true letter and spirit every human being can establish him or herself as His Khalifa and would be able to fullfil the ordained responsibilitis for which we have been sent to this world.

Why I am going to China, this is related with one incident.

After friendly relation between Pakistan and People’s Republic of China was established, Gen. Ayub Khan sent a deligation under the leadership of Pir Pagara. Maulana Bhashai was one of the member. On return he told me that after visiting China he understood as to why our great Profhet had said to gain knowledge one has to go to China.

The logic he gave

As was customary, the guests were taken around some provinces of their choice and before departure an audience with Chairman Mao was arranged. During that meeting Chairman Mao humbly told the deligates

After a long drawn revolutinary struggle to rebuild the war ravaged country and the nation the Chinese leadership is working shoulder to shoulder with the people day and night being self relient to stand up on own feets. Because they believe that being dependent no nation or country could not ever stand up right with heads high. They can’t enjoy the benifits of independence. Therefore, all the young, middile aged and old regardless of gender unitedly are working hard relentlessly to the best of one’s ability depending on their own resources. Our journy is a long drown up hill task. Now, please express your views how did you find our country and people?

Pir Pagara replied

Subhan Allah! What ever I have seen going around your country that had reminded me that you are implementing exactly what The Holy Quran and my Rasul Sallahussalam in his Hadis had commanded for every Muslim to do for the betterment of the nation and the country except the aspect of Iman!

Chaiman Mao after listning to Pir Pagara had said

Respected(Mohtarem) Maulana, I read the Holy Quran and Hadis with due respect and had learned many things and watever I learned I am sncerely trying to practice that on ground for the betterment of my people. About the Iman I take the previlage to say that no human being is in a position to tell who is an Imandar and who is not as only Allah has that prerogative. After hearing what Chairman Mao had said all the proclaimed custodians of Islam(Bujurgs)present were siting with their heads down. Since I heard that episode, I all along charished a desire to visit China if the oppurtunity presents itself. This is why I decided not to let the opportunity offered by Gen. Zia go out of hand.

You have develop a close relation with us with sincereity and warmth, we also sincerely respect you as a rare revolutionary leader selflessly dedicated not only uplift the fate of Libyans but to provide all kind of support gallantly taking the risk of life disregarding the wrath of all the imperialist powers to the Muslims at every corner of the Globe and the oppressed people in their struggle for imancipation. In this regard I would like to leave some food for thoughts to ponder about.

Around the world particularly in the under developed countries thousands of children are made Quran e Hafez providing them two squire meal and shelter in the Maderas of different fikras with the fund provided by Libiya and other oil rich states, many mosques are also built. This is surely a laudable endevor. But are they being taought about the real messege and creed of Islam such as-equality, human values, unity of Iman, the conflict between truth and false, courrage to be out spoken for the right against wrong, brother hood, conciousness about society and state, over lordship, exploitation, deprivation, spirit to fight against injustice? How many dedicated soldiers in the way of Allah ‘Fi Sabilillah’ are produced to spread the messege that only by embrassing the universal truth of Islam is the only way to emancipate the whole mandkind? I myself had asked many Alems(Islamic scholars)and leaders of many such Maderas but failed to get an satisfiying answer to all those questions. Most of them replied that their students would have nothing to do with state craft or politics. Their main responsibility would be preaching to people(Dawa) to be good Muslims to protect Islam. Having such wierd answer I would pose a question, If issues such as state structure, social system and politics which are related to the people are not part of Islam then how one could take Islam as a compete code of life? More remains to be said, If these issues are not inclusive in Islam then why our beloved last prophet Hajrat Muhammad(SA) had established an ideal Islamic state structure, social system in Madina and introduced in light of true Islam democratic politics?

Islam is not reclusive of worldly life. Rather, it shows the right path how success could be attained both in worldly life and here after. Most of the learned Islamic Scholars and Maulanas failed to give any rational reply to my queries. Many lamented when every one would become a good Muslim then the state and its social system would become as prescribed in Quan and Hadis. I found that to be a lame excuse so, had asked

But Rasul Allah(SA) did not wait for every inhabitants of Madina to get converted into a good Muslim but took the initiative to create an ideal state, way of governance and social system as ordained by Allah in his devine revelations. At that time there was a sizable non Muslim population leaving in Madina. At the end, I told them please make me understand which country can be considered to be ‘Darul Islam’ in the whole of Muslim world. All felt uneasy and remained quite.

Whoever is dedicated for the resurgence of Islam, they must think seriously on these points. They must ponder, why the Muslim Umma is devided into innumerable fractions? Why different kind of Islam is taking birth every day in the name of Fikras. In whose interest such  self defeating seriously divisiveness? During the time of our esteem Prophet no such Fikras had taken birth nor there was any existance of various kind of Islam!In this context, immediately after his death what was the aim of such diviciveness, reasons, factors and conspiracy that needs to be known with clarity to the Muslim Umma. With out this endever how could it be possible to re-establish a unified Umma based on steel like unity of faith presently engaged in   fratricidal conflicts all around the Globe? It might be possible to create divisions in any man made philosophy or ideology with different perspectives and analysis but there is no scope in Islam which is the compilation of devine unchangeable revelations ordained by Allah and bestowed on His last Prophet Muhammad(SA)which had been preserved in the Holy Quran during his life time of any devicisiveness in the name of Tarikas or Fikras.

I strongly feel, such divisiciveness originated from power struggle. With the passage of time this concept is being accepted to be a fact to the Musims around the world. As long as true facts are not propagated openly and the Muslim Umma gets rejuvenated with the spirit of Madina to forge meaningfull unity, resurgence of Islam would never be possible. However, I also strongly beleave that the prerequisite to forge such unity, it is imperative to remove the the power elites in different countries particularly the Kingdoms and Sheik domes of the oil rich gulf states who being lackies of the imperialist powers proclaiming themselves to be the sole custodian of Islam and are directly involve in creating such diviciveness and fratricidal wars with their money power causing colossal damage to Islam just for the sake of their vested interest. If we can not fortify our own fortresses then how could we defeat the enimies of Islam?

Wise people say, ‘Half educated people are more dangerous than the illiterates’. Isn’t the out come of such preposterous maneuvering to day horrifyingly visible in every predominantly Musilm country? Can’t we see in different Muslim countries a few handpicked people and families are being financed and nurtured as to be the custodians of Islam who are eluring scores of youths and young children from the down trodden families providing two squire meals and shelter? Aren’t these innocent pupils in the Madares being brain washed to be used exploiting the name of Islam as tools in their political horse trading to share sate power? For their vested interest they are not even hesitating to engage in all kinds of spiteful, malevolent and terrorist activities?

At present, all these so called narrow minded cocooned custodians of Islam to perpetuate their self interest, instigation from the pay masters or any other reason are germinating factionalism and divisiveness in every Muslim country. Creating instability with religious bigotry they are taking the country and the nation backward. They are also turnishing the image of Islam by issuing ridiculous weird Fatawas(Sermons). All these ancestral clerics(Alim and Olemas)custodians of Islam only by name and shallow in knowledge are very active to let loose the oath taking students like blood thirsty Hounds of their domains of religious teaching(Maderas and Khankas) at the dictates of their masters to gagged those who dares to raise their voice for the basic rights of the common people ruthlessly to divert people’s attension using Islam as weapon. But these clergies are being heavily funded by most of the rulers of rich Muslim countries. Does this kind of patronization helps promoting Islam? With such initiatives if enimies of Islam are created within then some time in future would there be any need of enemies from out side?

Similarly, These lot of Islamists are creating extremist parties and terrorist groups for their interst and interst of their foreign masters. They are being used in different country in different ways to achieve their specific interest.In some place they are also used to fight their proxy war or activating some terrorist action by their such products and worldwide propaganda is orchestrated in the controlled Media projecting Islam to be a threat to humanity, world peace and order. With this pretext after creating vaborable world opinion the world powers united as one launch armed aggression against weaker nations and take physical control of those countries or after totally destroying any country of their interest, force it to be completely dependent on them with the smoke sceen of protecting world peace and stability. These powers not only usurp the resources but also Gobelion propaganda goes on that Islam is synonymous to nothing but terrorism, fundamentalism, disorder, instability, anti humanism, backward war mongering way of life. What should be our collective responsibility to counter such malicious, distorted and false propaganda against the divinely ordainded religion Isllam which is the beacon of peace and equality for whole mandkind that must also be re-evaluated in the correct perspective. Without taking appropriate bold measures in this regard there is no scop to be an ostrich, digging faces into sand to pretend that there is no on going storm and we have done enough for the rejuvenation of Islam. We must selflessly rise over all greed and luster to rectify all the past mistakes and wrong doings. Should we fail to fullfil our responsibily then Allah shall protect His religion that has also been revealed.