জেনারেল এরশাদের প্ররোচনায় রশিদ-ফারুক বানালো ফ্রিডম পার্টি

ভায়রাদ্বয় সিদ্ধান্তে উপনীত হয় নিজেদের নিয়ন্ত্রণে দল গঠন করে টাকার থলে হাতে ঝুলিয়ে আর ১৫ইআগস্টকে বেচে তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে নেবে অতি সহজেই আর অর্থের যোগান বন্ধ করে দিলে প্রগশ-এর হবে অপমৃত্যু। ফলে আমরা তাদের তাঁবেদার হয়ে রাজনীতি করতে বাধ্য হব। এ ভাবেই তারা দলে তাদের নেতৃত্ব নিশ্চিত করে রাখবে। এক উদ্ভট
বালখিল্য চিন্তা চেতনা! যাই হউক, একদিন ভায়রাদ্বয় আমাদের সাথে বৈঠকে এরশাদের প্রস্তাব আর তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনায় বসলো। সব কিছু শুনে আমরা জিজ্ঞেস করলাম

প্রগশের কি হবে? জবাবে তারা বললো

জেনারেল এরশাদ যখন খোলা রাজনীতির সুযোগ দিচ্ছেন তখন গোপন রাজনীতির প্রয়োজন নেই। তাদের নতুন পার্টি, নাম ফ্রীডমপার্টি (FP)-এর সাথে প্রগশ এর মার্জ হয়ে যাওয়া উচিৎ।

কিন্তু যেখানে প্রগশের সাংগঠনিক কাজ অতিদ্রুত এগিয়ে চলেছে তখন তোমাদের নেতৃত্বে নতুন আর একটি দল গঠিত হলে সেটা নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করবে এবং একই সঙ্গে অনেক প্রশ্নেরও জন্ম দেবে। যার সঠিক উত্তর দেয়া কঠিন হতে পারে বিজ্ঞ রাজনীতিবিদের কাছে যারা আমাদের সাথে একত্রে রাজনীতি করতে রাজি হয়েছেন আমাদের উদ্দেশ্য, লক্ষ, রাজনৈতিক আদর্শ এবং ম্যানিফেস্টোতে বিশ্বাসকরে-অন্য কোনও লোভে নয়। এরপরও কথা থাকে। জেনারেল এরশাদ যেভাবে ক্ষমতা দখল করেছেন, তাকে বৈধতা দিতে কর্নেল ফারুকের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার বিষয়টিও প্রগশের প্রেসিডিয়াম-এর সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতেই হওয়া উচিৎ। শুধু তোদের দুইজনের সিদ্ধান্ত গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতৃবৃন্দের কাছে। তাছাড়া জেনারেল জিয়াকে বিশ্বাস করে খোলা রাজনীতি করতে গিয়ে বিগত রাষ্ট্রপতি খন্দকার মোশতাক এবং তার পার্টির করুণ পরিণতি সম্পর্কে আমরা সবাই বিশেষ ভাবে অবগত। জেনারেল এরশাদকে বিশ্বাস করে আমাদের এবং ফ্রিডম পার্টিরও যদি তেমন পরিণতি হয় তাহলে আমাদের অবস্থা কি হবে এই বিষয়ে তোরা ভেবেছিস কি? আমরা মনে করি এরশাদ জিয়ার রাজনীতিতে তেমন কোনও পার্থক্য থাকবে না। তিনি যদি আমাদের প্রতি আন্তরিকই হতেন তবে বাকিদের বাদ দিয়ে শুধু তোদের দুই জনকেই রাজনীতি করতে দিচ্ছেন কি উদ্দেশ্যে সেটা সম্পর্কেও তদের ভাবা উচিত ছিল। রশিদ জবাবে বললো

আমরা সিদ্ধান্ত নিয়ে সেটা ইতিমধ্যেই জেনারেল এরশাদকে জানিয়ে দিয়েছি। সেই ক্ষেত্রে যারা আমাদের সিদ্ধান্ত মেনে আমাদের দলে যোগদান করবে তাদের সাথে নিয়ে চলবো। বাকি যারা দ্বিমত পোষণ করবে তারা কি করবে সেটা তাদেরকেই ভেবে দেখতে হবে।

তার মানে এই দাঁড়াচ্ছে, রাজনৈতিকভাবে এতদিন সবাই জেনে এসেছে আমরা সবাই এক। কিন্তু এখন সবাইকে তোরা জানিয়ে দিতে চাচ্ছিস আমরা এক নই। এই ধরনের দ্বিধা বিভক্তি ভবিষ্যতে আমাদের সবারজন্যই ক্ষতিকর হবে। এই দিকটাও তোদের ভেবে দেখা উচিৎ ছিল। জেনারেল এরশাদকে কথা দেবার আগে অন্তত আমাদের সাথে তোদের দুইজনের আলাপ করাটা উচিৎ ছিল। প্রগশের কাজ কিন্তু আমরা সর্বসম্মতি ক্রমেই একত্রে শুরু করেছিলাম। এর কি জবাব দিবি তোরা? কর্নেল ফারুক বললো

তখন এই সুযোগটা ছিল না। এখন যখন সুযোগটা এসেছে তখন এটাকে হাত ছাড়া করা ঠিক হবে না বলেই আমরা জেনারেল এরশাদকে কথা দিয়ে এসেছি। One has to be pragmatic in politics.

অবশ্যই, তবে সেটাও করা উচিৎ পার্টির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী। আমার কথায় চুপ হয়ে গেলো দুইভায়রা ভাই। কিছুক্ষণ ভেবে নিয়ে রশিদ বললো

আমাদের যা বলার বলে গেলাম। এখন তোরা কি করবি সেটা ভেবে জানিয়ে দিস।

তাদের কথাবার্তায় পরিষ্কার বোঝা গেলো তারা তাদের সিদ্ধান্তে অটল। তাদের এই ধরনের আচরণ আমাদের এক মহা সংকটে ফেললো।

আমরা সবাই বুঝতে পারলাম এই অবস্থায় প্রগশের কাজ আর এগিয়ে নেয়া সম্ভব হবে না টাকার অভাবে। তাই অবিলম্বে প্রগশের কাজ স্থগিত করে দিতে হবে শাহরিয়ার আর হুদাক।কারণটা নেতা-কর্মীদের বুঝিয়ে বলতে হবে। বলতে হবে স্বৈরচারী এরশাদ তার বেআইনি ভাবে ক্ষমতা দখলকে বৈধতা দেবার জন্য কর্নেল রশিদ আর কর্নেল ফারুককে প্রকাশ্য রাজনীতিতে অংশ গ্রহণের সুযোগ দিয়েছে এবং দুইজনই সেই সুযোগ গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্য সবার সাথে কোন পরামর্শ না কোরেই। কিন্তু আগস্ট বিপ্লবের বেশিরভাগ নেতারা তাদের সাথে দ্বিমত পোষণ করায় তারা একটি নতুন দল গঠন করছে। এই অবস্থায় প্রগশের প্রেসিডিয়াম সিদ্ধান্ত নিতে পারে প্রগশ নতুনপার্টিতে মার্জ করবে কি করবে না। প্রেসিডিয়াম সিদ্ধান্ত নেয় প্রগশ নিজের অস্তিত্ববজায় রেখে আগের মতোই গোপনে তাদের তৎপরতা চালিয়ে যাবে। একই সাথে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, স্বৈরাচারী এরশাদের সাথে প্রগশের কন সম্পর্ক থাকবে না। অর্থের সংকুলান সম্ভব না হলে প্রগশ নিজের সামর্থ অনুযায়ী অগ্রসর হবে। তবে ইতিমধ্যে কর্নেল রশিদ আর কর্নেল ফারুক যাতে দ্বিমত পোষণকারী আগস্ট বিপ্লবের নেতাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে না পারে সেই বিষয়ে কৌশলগত একটা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। পার্টির প্রেসিডিয়াম-এর এই সিদ্ধান্তটি ছিল বিশেষগুরুত্বপূর্ণ। সিদ্ধান্তগৃহীত হয়,

প্রথমে মেজর বজলুল হুদা পরে কর্নেল শাহরিয়ার ফ্রিডম পার্টিতে যোগ দেবে দুইভায়রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জেনারেল এরশাদ জিতলেন আওয়ামীলীগ সমর্থিত প্রার্থী হয়ে। পীর হাফেজ্জি হুজুর দ্বিতীয় এবং কর্নেল ফারুক তৃতীয় স্থান লাভ করে। সংসদীয় নির্বাচনে জেনারেলএরশাদের জাতীয়পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। জাতীয় সাধারণ নির্বাচনে ফ্রিডমপার্টি ১টি সিট লাভ করে, মেজর বজলুল হুদা (ফ্রিডম পার্টির সেক্রেটারি জেনারেল)। বিএনপি দুটো নির্বাচনই বয়কট করে। আওয়ামীলীগ এবং জামায়াতেইসলামী নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করে। জামায়াত ১০ টি আসনে জিততে সমর্থ হয়। শেখহাসিনা বিরোধীদলীয় নেতার আসন অলংকৃত করেন।

এভাবেই বন্দুকের জোরে ক্ষমতা দখলকারী ভারতের দালাল জেনারেল এরশাদ আওয়ামীলীগের সমর্থনে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি হিসেবে রাষ্ট্রীয়ক্ষমতা উপভোগ করতে সক্ষম হন গায়ে গণতন্ত্রের লেবাস পরে। আমাদের অনুমানকে সঠিক প্রমানিত করলেন জেনারেল এরশাদ। জেনারেল জিয়া প্রণীত রাজনীতি হাইজ্যাক করে একই কায়দায় রাষ্ট্র পরিচালনা করতে থাকেন জেনারেল এরশাদ। ফলে, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, অপশাসন, শোষণ, নিপীড়ন তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সর্বক্ষেত্রে ক্যান্সারেরমতো ছড়িয়ে পরতে থাকে দ্রুত। দূষিত হয়ে ওঠে দেশের রাজনীতি। এরশাদ আর হাসিনার চাপে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন জিয়ার প্রতিষ্ঠিত বিএনপি দলের তখন খুবই করুণ হাল। সুযোগ সন্ধানী বাস্তুঘুঘুদের বিবর্জিত শূন্য খাঁচা পাহারা দিচ্ছেন তখন গৃহবধূ খালেদা জিয়া। প্রতিদিন গুটিকতক তরুণনেতা-কর্মীর সাথে পার্টি অফিসে বসে মাছি মেরে সময় কাটাচ্ছেনপার্টির চেয়ারপার্সন।

তার সেই দুঃসময়ে তারপাশে যারা ছিল তাদের মধ্যে বি চৌধুরী, সাইফুর রহমান, মীর্জা গোলাম হাফিয, যাদু মিয়া, মোস্তাফিজুর রহমান, তরিকুল ইসলাম। তরুনদের মধ্যে গয়েশ্বররায়, মীর্জা আব্বাস, খোকা, সাঈদ, বুলু, মাহফুজ, আলাল, রিজভী, খোকার নাম উল্লেখযোগ্য। বদরুদ্দোজাচৌধুরী, কর্নেল ওলি বীরবিক্রম এবং অন্যরা মাঝেমধ্যে পার্টি অফিসে আসাযাওয়া করতেন। বেগম জিয়া এবং তার দলের নিষ্ক্রিয়তা দেশের জাগ্রত জনতাকে হতাশ করতে পারেনি। দেশবাসী ক্রমশ এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে থাকে। দেশব্যাপী এরশাদবিরোধী আন্দোলন দানা বেঁধে উঠতে থাকে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গ্রহণের মাধ্যমে। জেনারেল এরশাদ এবং তার দলের জনপ্রিয়তায় দ্রুত ধস নেমে আসতে থাকে। সেইসময় দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধেবিশ্বাসী এবং জাতীয়তাবাদী আমজনতা বেগম খালেদা জিয়ার দিকেই তাকিয়ে ছিলো এরশাদ বিরোধী গণচেতনাকে সংগঠিত করে এরশাদ বিরোধী রাজনৈতিক গণআন্দোলন গড়ে তুলতে। এরফলে নতুনকরে জীবনীশক্তি ফিরে পায় নিষ্ক্রিয় দল বিএনপি আর এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে খালেদা জিয়া হয়ে ওঠেন দেশনেত্রী। ১৯৮৬ সালে জেনারেল এরশাদ যখন নির্বাচনের ব্যবস্থা করছিলেন তখন দেশের বড় দুইদল আওয়ামীলীগ এবং বিএনপির মধ্যে একটা সমঝোতা হয় যে এই দুই বড় দল জেনারেল এরশাদের অধীনে কোন নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করবে না। এই সমঝোতার পর লাল দীঘির ময়দানে এক জন সভায় দর্পভরে হাসিনা এলান করে, “যে এরশাদের নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবে তাকে জাতীয় বেঈমান বলে আখ্যায়িত করা হবে”। কিন্তু নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তেসেই সমঝোতা ভঙ্গ করে জেনারেল এরশাদের সাথে শেখ হাসিনা এক রাতে গোপন লংড্রাইভ থেকে ফিরে দেশবাসীকে হতবাক করে ঘোষণা দিলেন আওয়ামীলীগ নির্বাচনে অংশনেবে।নিয়েও ছিল যৌথআন্দোলনের পিঠে ছুরি মেরে।জামায়াতে ইসলামীও নির্বাচনে অংশ নেয়।

বিএনপি সেই নির্বাচন বয়কট করার সিদ্ধান্তে অটল থাকে। তখন থেকে দেশবাসী খালেদাকে আপোষহীন নেত্রী হিসাবে আখ্যায়িত করে। বলা হয়ে থাকে, সেই মোহিনী রাতে লংড্রাইভে জেনারেল এরশাদ হাসিনাকে দিয়েছিলেন ১৭কোটি টাকা নির্বাচনে অংশ গ্রহণের সিদ্ধান্তের জন্য। এরশাদের নিয়োগপ্রাপ্ত বিশ্বস্ত DGFI জেনারেল আকবর তার সফর সঙ্গী হিসেবে ছিল এর প্রত্তক্ষ্য সাক্ষী। এরশাদ বিরোধী আন্দোলন যতই বেগবান হতে থাকলো ততই খালেদা জিয়ার জনপ্রিয়তাও বৃদ্ধি পেতে লাগলো। সেই পাতানো খেলার নির্বাচনের ফলে এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নতুনমাত্রা সংযোজিত হল। আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থার চরম অবনতি,লাগামহীন দুর্নীতির ফলে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বিপর্যয় এবং সংকট, দ্রব্যমূল্যের ক্রমবর্ধমান ঊর্ধ্বগতি, রাষ্ট্রীয়সন্ত্রাস, ডাঃমিলনসহ অসংখ্য শান্তিপ্রিয় মানুষের প্রাণহানি, হয়রানি, মামলা, জেলজুলুম, অস্থিতিশীলতা, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ ও জীবনের নিরাপত্তার জন্য শঙ্কিতমানুষ মরিয়া হয়ে ওঠে স্বৈরশাসককে ক্ষমতাচ্যুত করতে। দেশের ভিতরের এবং বাইরের খেলোয়াড়রা বুঝতে পারে এরশাদের পতন অনিবার্য। আওয়ামীলীগ এবং তাদের মুরুব্বি ভারতও সেটা বুঝতে পারে। তাই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় অবিলম্বে এরশাদের সঙ্গ ত্যাগ করে আওয়ামীলীগ সংসদ থেকে পদত্যাগ করে আন্দোলনে পুনরায় শরিক হবে। পার্টি হিসাবে আওয়ামীলীগের অস্তিত্ব রক্ষার জন্যই ঐ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। জামায়াত ও আওয়ামীলীগের পদাংক অনুসরণ করে। এরশাদকে বোঝানো হল, ভবিষ্যতে খেলা চালু রাখার স্বার্থেই এই সিদ্ধান্ত। তাকে আশ্বস্তও করা হল লাইনে চললে তার কোনও ক্ষতি হবে না।

আশ্চর্যের বিষয় হল, তখনকার চলমান আন্দোলনের বিতর্কহীন একচ্ছত্র নেত্রী হয়েও খালেদা জিয়া শুভঙ্করের ফাঁকিটা ধরতে পারলেন না! সত্যই বিচিত্র বাংলাদেশের রাজনীতি!দুর্বার গণ-আন্দোলনের ফলে দেশজুড়ে অচলাবস্থার সৃষ্টি হওয়ায় জেনারেলএরশাদ সিদ্ধান্ত নিলেন খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে হুলিয়া জারি করে তাকে কারাবন্দী করার। কিন্তু ভারতীয় চাণক্যরা এরশাদকে জানান দেয় যে, শুধুমাত্র খালেদাকে জেলে পুরলে শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগ সম্পূর্ণভাবে গণবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। তাই হুলিয়া জারি করতেহবে দু’জনের নামেই। তবে সরেজমিনে স্বৈরশাসকের রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মূল লক্ষ্যহবে খালেদা জিয়া এবং তার সহযোগী অন্যান্য দলের নেতাকর্মীরা। এভাবেই ভারত তাদের বড়ে হাসিনাকে ভবিষ্যতের জন্য মাঠে জীবিত রাখতে সক্ষম হয়। ভারতের পরামর্শ অনুযায়ী বিশেষ আনুগত্যের সাথে রাষ্ট্রপতি এরশাদ দুইনেত্রীর বিরুদ্ধেই হুলিয়া জারি করার সিদ্ধান্ত নিলেন। হুকুম জারি করা হল। হুলিয়া জারি করার পর প্রকাশ্য আন্দোলনের ময়দান ছেড়ে খালেদা জিয়া ও তার সহযোগী অন্যান্য নেতারাও আন্ডারগ্রাউন্ড যেতে বাধ্য হলেন। কিন্তু জেনারেল এরশাদের এই সিদ্ধান্ত তার জন্য বুমেরাংহয়ে উঠলো। গণ-আন্দোলন তীব্রতর হয়ে প্রায় গণবিস্ফোরণের পর্যায়ে পৌঁছালো। বিএনপির সাথে আলোচনার পর অন্যান্য দলের অতি উৎসাহী নেতৃবর্গ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেন সারা দেশ থেকে জনসমুদ্র ঢাকায় সমবেত করে ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও করে রাষ্ট্রপতি এরশাদকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বাধ্য করা হবে। ফলে ক্যান্টনমেন্ট ঘেরাও কর্মসূচিও ঘোষিত হল।

সেই ঘোষণার সুযোগ নিয়ে প্রেসিডেন্ট এরশাদ নিজের অস্তিত্বও গদি বাঁচানোর জন্য তার হাতের শেষঅস্ত্র দেশে মার্শাল’ল জারি করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন তার ঘনিষ্ঠ সহচরদের প্ররোচনায়। তার এই সর্বনাশা সিদ্ধান্তে যারা বিশেষভাবে সমর্থন জানিয়েছিলেন তাদের মধ্যে জেনারেল আতিক, জেনারেল সাদেক,জেনারেল আব্দুর রহমান, জেনারেল চিশ্তি, জেনারেল মান্নাফ, জেনারেল নুরুদ্দিন, জেনারেল মীরশওকত, জেনারেল মচ্ছু সালাম, জেনারেল মাহমুদুল হাসান, জেনারেল নাসিম, জেনারেল আশরাফ, ব্রিগেডিয়ার মাহমুদ, ব্রিগেডিয়ার ওয়াহিদ,ব্রিগেডিয়ার রফিক,ব্রিগেডিয়ার আমসাআমিন, ব্রিগেডিয়ার হাফিজ, ব্রিগেডিয়ার নাসের, কর্নেল মুনিরুল ইসলাম চৌধুরী, কর্নেল মালেকের নাম উল্লেখযোগ্য।

এরা প্রায় সবাই ছিল পাকিস্তান থেকে প্রত্যাগত অফিসার। জেনারেল এরশাদের এইধরনের সিদ্ধান্তে দেশের দেশপ্রেমিক সামরিক বাহিনীকে জনগণের মুখোমুখি দাড়াতে হবে। শুরু হবে এক প্রলয়ংকরী গৃহযুদ্ধ! দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পরবে দেশের সেনাবাহিনী সহআইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী সব বাহিনী। সেই অবস্থায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রাষ্ট্রপতি অতি সহজেই আহ্বান জানাতে সক্ষম হবেন ভারতীয় সরকারের সাহায্যের জন্য ‘২৫বছরেরমুজিব-ইন্দিরা’ চুক্তির আওতায়। সেই মোক্ষম সুযোগটি লুফে নেবে ভারত। শক্তিধরভারতীয় বাহিনী ঢুকে পরবে দেশের ভেতর। তাদের প্রবল আগ্রাসনের মোকাবেলা করা সম্ভব হবে না। এরপর অন্তর্বর্তীকালীন বড়ে জেনারেল এরশাদ এবং তারসহচরদের সাথে গণ-অভ্যুত্থানের সম্ভাবনাকেও নস্যাৎ করে দিতে খুব বেশি সময় লাগবে না। ক্ষমতায় বসানো হবে হাসিনার নেতৃত্বে নব্য বাকশালীদের। তার সরকারের সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান, সামরিক বাহিনী, বিভিন্নআইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এবংএজেন্সি, রাজনৈতিকঅঙ্গন, আমলাতন্ত্র ও সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে জাতীয়তাবাদী এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে বিশ্বাসী যারাই অবশিষ্ট আছে তাদের সমূলে উৎপাটন করা হবে। একই সাথে সব বাহিনী এবং এজেন্সিকে দলীয় বরকন্দাজ হিসেবে গড়ে তোলা হবে প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার জন্য অতি সতর্কতার সাথে। ফলে বাংলাদেশকে পরিণত করা হবে একটি করদ রাজ্যে। অনির্দিষ্টকালের জন্য বাংলাদেশী মুসলমান জনগোষ্ঠীকে আবার হিন্দুদের দাসত্বের শৃঙ্খলে আবদ্ধ করা হবে। এভাবেই বাস্তবায়িত হবে ‘৭১-এর ভারতীয় চাণক্যদের প্রণীত সুদূরপ্রসারী নীলনকশা।

যেকোনো প্রকৃত দেশ প্রেমিক মুক্তিযোদ্ধার পক্ষে এই পরাজয় মেনে নেয়া কখনোই সম্ভব নয়। এই ধরনের সুযোগ না দেবার জন্যই ভারতের হাতের ক্রীয়ানক ব্রিগেডিয়ার খালেদএবংকর্নেলশাফায়াত জামিল যখন ২-৩রা নভেম্বরের প্রতিক্রিয়াশীল ক্যুদেতা ঘটিয়েছিলো তখন তাদের পরাজিত করার মতো শক্তি থাকা সত্ত্বেও সুচিন্তিত কৌশল গ্রহণ করে  স্বেচ্ছায় সাময়িক ভাবে দেশত্যাগ করেছিলাম তাদের সাথে বোঝাপড়ার মাধ্যমে। নিজেদের শক্তি বলেই সেনা পরিষদের প্রকাশিত শীর্ষ নেতারা ব্যাংককে অবস্থান নিয়েও সক্ষম হয়েছিলেন ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বরের সফল সিপাহী-জনতার বৈপ্লবিক অভ্যুত্থান ঘটাতে। এই বিপ্লবে সেনাপরিষদের সাথে কর্নেল তাহেরের নেতৃত্বাধীন বৈপ্লবিক সৈনিক সংস্থাও যোগ দিয়েছিল সহযোগী শক্তি হিসেবে।এসম্পর্কে বিস্তারিত পরিকল্পনা দেশত্যাগের পূর্বেই করা হয়েছিল বঙ্গভবনে কর্নেল তাহেরের সাথে রুদ্ধদ্বার একদ্বিপাক্ষিক বৈঠকে। এসম্পর্কে আমার পূর্বপ্রকাশিত বই ‘যা দেখেছি যা বুঝেছি যা করেছি’তে বিস্তারিত ভাবে লেখা আছে। পাঠকদেরপক্ষেএখন বইটি সংগ্রহ করা সম্ভব না হলে তারা নিম্নে দেয়া ওয়েব সাইট দুটোর যে কোনও একটি থেকে পছন্দ মতো বাংলা কিংবা ইংরেজিতে ডাউনলোড করে নিতেপারেন।ওয়েবসাইট এড্রেসঃ www.majordalimbubangla.com এবং www.majordalimbu.com

একই সুযোগ না দেবার জন্য জেনারেল জিয়ার অপ্রত্যাশিত বিশ্বাসঘাতকতার পরও সেনাপরিষদ এবং সংগঠনের নেতাকর্মীরা তার বিরুদ্ধাচরণ না করে দেশ ও জাতীয় স্বার্থে নির্বাসিত জীবনকেই মেনে নিয়েছিলেন। কারণ তাদের সবাই ছিল সবচাওয়া-পাওয়ার ঊর্ধ্বে নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিক। তারাকখনোই শুধুমাত্র ক্ষমতার জন্য ক্ষমতা লিপ্সু ছিলেন না। তাদের সংগ্রামের একমাত্র লক্ষ্য ছিল জনগণ তাদের নিজেদের ক্ষমতাশালী করে গড়েতুলুকএকটি প্রকৃত অর্থে স্বাধীন, স্বনির্ভর, প্রগতিশীল, সমৃদ্ধশালী,ন্যায়, সাম্য এবং জাতীয় ঐক্যভিত্তিক সুখী বাংলাদেশ। এইস্বপ্ন তাদের মনের মণিকোঠায় চিরজাগরূক হয়ে থাকবে আমৃত্যুকাল।

Meeting with close Comrade freedom fighter        

Tell us now, what could be so impotant a matter to be discussed  for which you had to fly from Dhaka to London?

The situation is very grave Dalim Bhai. The decisons that power hungry Zia is taking obe after another that is not only weakning the freedom fighters organizationally but their very existance has become untenable! Not only that the way he is formulating his policies obliging India, very soon Bangladesh would turn into a client state and the nation would become slaves of India. The true patriots and the nationalists members of the armed forces and the freedom fighters are unable to accept that. All of them have one thing to say, either he has to be brought back from this course or else he should be removed from the power with out any further delay.

Understood all that you have said. Your apprehension is not irrational, but the point is who is going to bell the cat?

Gen. Manjur is contemplating to take such an initiative basing on the support of the surviving freedom fighters. I had to take this trip to discuss this matter with you and to know your views.

Before giving our views whether any such initiative would be successful or not, I would like to say a few words  relevent to the subject.

Listen dear brother, from the time of liberation war with a clear aim we took the initiative to organize ourselves to fight against the farfetched Blue Print of India regarding an independent Bangladesh. You are aware of that. Those who all believed in the same ideals, ideology  and long standing working plan were proceeding under the cover of the war. Dedicated patriotic commanders like Zia, Taher and Jalil joinded hands. At that juncture we had to keep an officer like Zia in the forefront for carring forward our organizational activities  considering the objective reality on ground. This is why we had to accept Zia as our central figure. From his side there was a condition that till he could be installed at seat of power we have to maintain secrecy about his association with our organization. For the interest of the organization his condition was accepted. But after 15th August and 7th November’s revolutionary uprisings when he was made to sit at the centre of power, he decided to move in his own way. Why he had taken that decision is his personal decision. But due to his such decision all our cherished dream and aspirations dashed to the ground. We lost! The consequences are now clear to every one. Our struggle was the expansionist India under Soviet axis, he had severed  the roots of that struggle and after compromising with them now he has become the champion of pro-people nationalist politics. His 19 point programe is also taken from working agenda. The manifesto of his party has also been drafted like that of our political manifesto. Even after all these I must say no matter whatever might be his stature as a revolutionary and his manifesto to be copied one where is his fleet of caders to implement that?

He has cold bloodedly murdered more than 3000 tested patriotic members of the armed forces creating various excuses just to weaken the Sena Parishad and to up root those who had brought him to the centre of power.

Col. Ziauddin, Col. Taher, Maj. Jalil at that time were having the ghost of Marxism into their heads and were intoxicated with it’s romanticism. At that time we had been trying our level best to get them out from that spell and resove this contradiction through logical discourse. You might be aware that when suddenly Col. Ziauddin published his article in the weekly Holiday and decided to resign from the army at that time we earnestly requested to change his decision but his reply was

All members of the armed forces have become rotten eggs therefore, it would not be possible to take any revolutionary step with them. If they did not leave the army then would Zia be in a position to do what he is doing now? He could not. Any way, all these are hurdles on the way of revolution. Now, I shall say a few words about Gen. Manjur. Whatever I am going to reveal is hardly known to any one other than Gen. Manjur, Col. Mahbub and a few others.

Gen. Manzur is a brilliant army officer. After finishing his studies at the Sargodah Public School he joined Pakistan Army. Gen. Manzoor belongs to a middle class family. Because of his vast knowledge about armed forces, war strategy, war history, his intelligence and efficiency during the Pakistan days he used to be called by many as ‘Gudarian’. He has the ability to become a General in the professional army of any country. That is why today he is a General in Bangladesh Army as well. But I am not sure whether he has the right kind of mind set, is he capable and prepared to de-class himself to the level of commoners to become a popular revolutionary leader. There are reasons why I am saying this.

Almost at the fag end of the liberation war wheb he escapred from Pakistan and joined the HQ, he was posted as the sector commander of No 8 sector. No 8 sector was one of the sectors where I was assigned to work as guerilla advisor. In that capacity quite a few times I tried to discuss with him about the Indian blue print and our activities but he avoided me every time. After the independence when Indian forces were looting and taking away everything from the country we decided to resist there loot and plunder. At that time at the order of Tajuddin’s government it was Gen.Manzur being an obedient professional officer who entrapped Maj. Jalil asking him to join a conference at Jessore  and got him arrested. We were all enraged at this outrageous act and forced the Awami government to release him and to reinstead back in the army, he carefully kept himself aloof in that process. After the independence I had tried to talk to him through Col. Mahbub but failed. Then again after the revolutionary change of 15th August I got him recalled from Dehli Mission and requested him and work together for the interest of the revolution. But, his reply was some what, ‘Ready to catch fish but with out dipping into water’ and went back.

Even after this yet there remains something more to be said brother. After 7th November, when Gen. zia started indiscriminate killing spree in all the cantonments to consolidate his power a timid person like Shishu Bhai also has protested. But Manzoor had supported that genocide to attract Zia’s attention. When our hands and feets were being savared to deplete the strength of Sena Parishad even at that time most of the senior officers at the corridor of power along with Manzoor had supported Zia’s plan to prove their loyality. We are now lame, incapacited, powerless therefore, no matter how nobole might be gen. Manzur’s intentions are, in no way we can co-operate or help him. Besides, we are not aware what kind of revolutionary Gen. Gudarian is and what is his revolutionary agenda.

You must be knowing Gen. Zia had called both Rashid and me to Dhaka to let us know what he has decided about our future. While we were at Dhaka suddenly Col. Faruk landed like a comet and went to Bogra and took over the cantonment and decided to move with his tank Regiment to Dhaka to oust Gen. Zia from power. Gen. Zia was shaken with that news and helplessly pleaded to me to disarm Faruk. Mahbub then was my fulltime companion. After the situation was defused Gen. Manzur for the first time sat with me secretly in a long meeting. In that meeting he asked me why we did not support Col. Rashid and Col. Faruk in their move to oust Gen. Zia from power? In reply I told him

At that time it was not enough to oust Gen. Zia alone but the whole lot of senior officers should have been thrown out from the armed forces. In that case, your goodself also would not have been left out from that long list. Most of the senior lots are oppurtunist power mongers. They know only politics of power but not the politics of the people. After 15th August we prepared a list of only 36 corrupt and characterless army officers to be dismissed but Gen. Zia was doing dilly dully to execute that. This was one of the reason of the reactionary coup det’at of 3ed November. It might have been very easy route them all along with Zia but if the Indian government taking the advantage of 25 years treaty ordered their armed forces to march in then could it be possible for us to counter that aggression, Sir? At that time many out of that lot might have joined with the invading forces chanting the slogan ‘Joy Bangla’! With that opportunity many of the repatriated officers and soldiers could turn into patriotic freedom fighters and we would have become Razakars. We have lost enormously. Accepted every as fate accomplee! But did not like to be stamped as national traitors. After this Gen. Manzur did not prolong any further.

Tell me why suddemly Gen. Gudarian himself took such interest to meet me secretly?

No idea.

Alright, let me tell then. Gen. Manzur’s carrier is coming to the end. According to our information Gen. Zia already had decided to dump  Gen. Manzur at the Staff college withdrawing him from the command of the Chittagong Garrision for a while then dinning him out cerimoniously with the army band. If this information could reach us then there is no reason why Gen. Manzur should not be aware of this. Gen. Gudarian is finding hard to soallow this bitter pill. But this is of no concern to us. But the suttle game which is being played by Gen. Ershad behind the scene and its disastrous consequences are matter of grave concern to us. Gen. Zia seems to be unaware about his game plan. I am not sure if at all Gen. Gudarian and his followers I mean, you all are aware or cared to ponder about Gen. Ershad’s sinister planning behind the scene!

Please, dwell more openly on this issue Dalim Bhai.

Have you all noticed that at the command level all chosen freedom fighter officers are being posted at Manzur’s Dividion through Brig. Nasim(MS), the snake! This not to strengthening Gen. Guderian although, apparently it appears to be like that. Rather I should say, Ershad through thid srewd move is trying to plan to kill all the serviving freedom fighter officers with one stone as signaled by the Indian government and RAW. Alongwith them a few ex-JRB(Jattyo Rakkhi Bahini) officers are also being infiltrated as his eyes and ears to provoke Gen. Manzoor. Capt. Mozaffar and Lt. Khaled are tow of those agent provocatiers.

The end result of this heinous move would be in the tussel between Zia and Manzoor Zia would not be there at the centre of power on the other hand availling the oppurtunity gauzing Zia’s popularity Ershad will take out all the freedom fighter officers from the net and get them killed to clear his way using the shoulders of the BNP’s nominated President. This he must do. Otherwise, it would not be possible for him to remain in power as a repatriate officer after usurping state power. To take forwad the Indian Blue Print expeditiously the ring leader Ershad would be saddled in the seat of power by India and RAW with the blessing of AWAMI-BAKSHALITES, so called the Lefts including JSD and some traders in religion belonging to a few Peer ancestries. Guderian General might not give any value or credence to our presumption. Even than you may convey to him all that has been said if you like. Befor I finish I would like to draw a conclusion for your convenience.

  1. To day’s Zia is not only the product of 15th August and 7th November’s revolutionary armed uprisings, now his potistion is well entrenched in all respect.
  2. Eliminating those revolutionaries who had brought him to the centre of power Zia very cunningly established that he had no relation with the revolutionary activities. At the same time he has managed to gain confidence of most of the powerful countries including India in particular portraying himself as a centrist and believer in the politics of compromise.
  3. With propagating the saga of broken suitcase, torn vest and creating a gimmick with his cannal digging program having a spade on his shoulder Zia has been able to form a positive image for himself within the people.
  4. To day his self identy has also emerged in the world.
  5. Gen. Manzur has lost the time to take any initiative against Gen. Zia.
  6. Manzur might be powerful at Chittagong but Chittagong is not whole of Bangladesh.
  7. Other tan Chittagong, he has no significant control over other cantonments.
  8. From the begining Gen. Mazur had been well respected by the officer class but he never took any initiative to cultivate closer relation with the ordinary soldiers and the freedom fighters.
  9. Before the garb of sheep is unfolded from the fox if anything is made to happen that might be a boomerang for Manzur.
  10. Right at this moment it is not possible to remove Zia from his way, I have said this in view of our long time experience. To bring back the country on the right track he has to be removed from power but it appears that General Gudarian has that streanth. Because, at Dhaka, Ghatail, Joydev Pur and Savar Gen. Ershad’s loyalists have been posted to command all the unites. Ershad’s confidants are also posted as DGFI and DG NSI. I am not sure, how much Gen. Zia is aware of these matters. Gen. Ershad very carefully playing the double game with Gen. Nuruddin, Gen. Shawkat and Brig. Nasim taking them all into confidence.
  11. Manzur’s identity world wide is very negligible compared to Zia.
  12. No matter how big a revolutionary General Gudarian might have become now, without people’s support, an organization based on correct ideology and a fleet of tested caders he would not be possible for him to make any revolution successful. Accoring to this definition of a revolution did Gen. Manzur ever taken any initiative? The answer is very clear, no.
  13. After coming to power it is not possible to create such a party and workers, President Gen. Zia himself is a glaring example of that.
  14. Last words, untill and unless Dhaka can be brought fully under control any attempt to over through Zia from power would be suicidal.

For the last time I would like to know can’t you all provide help and co-oparate in any way with Gen. Manzur in his endevor?

Smilingly I said

You are an old comrade that’s why we had a detailed discussion, if it was anyone else we wouldn’t have done so. If our analysis becomes helpful to General Guderian that would be our contribution.

Look my dear, we are revolutionaries. Individuals are not that important to us. To us, our dream, ideology, principles, country and national interests are supreme. For the greater interest of the country and the nation we can accept everything. Our struggle is not just for power. Do tell Gen. Manzur, although his days are numbered but that must not lead him to take any such desperate move which would turn out to be an infantile disorder and disastrous. It is true, at present we have been defeated due to Zia’s betrayal, but the time changes and along with that new oppurtunities are also created. This is the bottom line.

Although his days are numbered but that must not lead him to take any such desperate move which would turn out to be an infantile disorder and disastrous. This is the bottom line.

Really Dalim Bhai, I am not only baffled but also surprised, having long exiled life abroad how could it be possible for you make such meaningful indepth analysis about the on going situation back at home, my hats off to you all!

My hats off to you all!

The answer is very simple. Since the time of liberation war we had been thinking about the future of the nation. As long as we live at the will and mercy of Allah, this meditation would be the inspiring factor for all of us to live. Like in the past in future also we shall avail every oppurtunity to serve the interest of the country and the nation remaining above all worldly expectations and what we get in return. After a long time we held such a long meeting. If you have nothing more to ask then let us call it a day.

No, I have nothing more to ask.

When are you going back?

Within a day or two.

As we were ready to say good bye embrassing each other the younger brother wanted to know whether he could get in touch with us in future. I replied

Ofcourse, whenever you like. Please convey our Salaam and Dua to all the rest and do remember us in your prayers.

Shall do, In Sha Allah.

Allah Hafez.

Our meeting ended.