রুহানী জগতের আর এক সূফি সাধকের সান্নিধ্যে

পরদিন যথাসময়ে গিয়ে পৌঁছালাম ক্যান্টনমেন্টের মেইন গেইটে। আমি গিয়ে বসলাম নবির পাশে। নবির গাড়ী থেকে এক ভদ্রলোক নেমে আমার গাড়ীর ড্রাইভার-এর পাশে গিয়ে বসলেন গাইড হিসাবে। মিনু আর বেনু ফুপ্পুকে দেখে নবি ত্রস্তে নেমে গিয়ে সালাম করে বললো

এতো আমার সৌভাগ্য দুই ফুপুই এসেছেন। কেয়া আর মানুও রয়েছে দেখছি! বড়লোক হয়েছো শুনেছি, তাই বলে গরীব ফুফুকে ভুলে গেলে কি করে? মিনু ফুপ্পুর প্রশ্ন।আসতে পারিনি কোনও এক বিশেষ কারণে। কিন্তু ফুপ্পু, ঝুনু তো আপনাদের খোঁজ খবর সব সময়েই নিতো। তাছাড়া আমিও তো ফোনে খবরা-খবর নিতাম মাঝে মধ্যে। তা নিতে, তবে মায়ের মন তো তাতে ভরে না বাবা। অশ্রুসিক্ত নবি আবেগে ধরা গলায় বললো

ফুপ্পু, দুঃসময়ে আপনি যেভাবে ঝুনু আর বাচ্চাদের দেখে রেখেছিলেন, সেটা আপনার এই ছেলের পক্ষে কি করে ভুলে যাওয়া সম্ভব? ঝুনুকে পাঠাতাম, কিন্তু নিজেকে অতিকষ্টে সামলে নিতাম। কারণ, জেল থেকে বেরিয়ে নিজেদের হাতে গড়া এই ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে কোনোদিন ঢুকবো না প্রতিজ্ঞা করেছিলাম। আপনাদের কাছ থেকেই শিক্ষা পেয়েছি শপথ নিলে তার মর্যাদা প্রাণ দিয়ে হলেও রক্ষা করতে হয়। কাক্কু আর আপনি সেটা প্রায়ই আমাদের বলতেন। তাই আজ আমরা মিলিত হচ্ছি গেটের বাইরে। আপনাদের আসার আগে MP Check Post এর Duty Commander আমাকে গাড়ীতে দেখে ছুটে এসে সাল্যুট করে বলল
স্যার, আপনি এখানে থেমে পড়লেন? প্রতিজ্ঞা না ভাঙ্গার জন্য। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে এক কাপ গরম চা নিয়ে এসে অতি শ্রদ্ধার সাথে বলল স্যার, এটা আমাদের সবার তরফ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে গ্রহণ করতেই হবে। চৌকি থেকে সবাই তখন বেরিয়ে এসে লাইন করে দাঁড়িয়ে স্যালুট করে আমার দিকে মিনতি ভরা চোখে তাকিয়ে। সেই আন্তরিকতা আমাকে চায়ের কাপটা হাতে তুলে নিতে বাধ্য করলো। ঠিক সেই সময় ঝাণ্ডা উড়িয়ে কোনও এক পদস্থ সেনা অফিসারের গাড়ী বেরিয়ে যাচ্ছিল। কিন্তু কেউ সেদিকে ভ্রুক্ষেপই করলো না।

সেটাই স্বাভাবিক বাবা, অফিসার হিসেবে তোমাদের মর্যাদা সৈনিকদের অন্তরে আর অন্যান্যদের শুধুমাত্র পদমর্যাদায়। সম্মান আল্লাহ্‌র দান। আমরা সবাই তোমাদের জন্য গর্বিত।

নবি ফেরার পর আমাদের দুই গাড়ীর কাফেলা যাত্রা শুরু করল।পাক মটরস এ আসার পর নবি গাড়িী থামালো। পেছনের গাড়ীটাও থেমে পড়লো। নবির ইশারায় পেছনের গাড়ী থেকে ভদ্রলোক ও ড্রাইভার নেমে আমাদের কাছে এলেন। নবি নির্দেশ দিলো, যাত্রীদের সবাইকে তার গাড়ীতে বসিয়ে আমার গাড়ীটা ফিরে যাবে। বিচক্ষণ নবি, আমি সবি বুঝতে পারছিলাম। সব কিছুই করা হচ্ছে নিরাপত্তার কথা ভেবে। ড্রাইভারকে আমি বললাম, ভদ্রলোককে যেখানে যেতে চান নামিয়ে দিয়ে বাসায় ফিরে যেতে। সবাই এসে নবির নতুন রেঞ্জরোভারে উঠে বসলাম। নবি চালক আর আমি পাশে সাথে রয়েছে দুইটি পিস্তল আর নবির SMG. সবগুলোই লাইসেন্সড। তাছাড়াও নবির কাছে রয়েছে তার ওয়ারলেস টেলিহ্যান্ড সেট। এপথ ওপথ ঘুরে যাত্রাবাড়ি হয়ে গাড়ী এগুচ্ছে নরসিংদীর দিকে। আচ্ছা নবি, আব্বা হুজুরের কোনো নাম আছে নাকি? হ্যাঁ, মাস্তান শাহ্‌। মনে পড়ে গেল হযরতজীর মুখচ্ছবি। তার নাম মান শাহ্‌। নবি জানালো তিনি কখন কোথা থেকে এসেছেন, কত বয়স সেটা স্পষ্ট করে কেউ কিছুই বলতে পারে না। তার খানকার পরিবেশটাও একটা গৃহস্থবাড়ির মতো। সংসারী মানুষ। ক্ষেত-খামার করেই উপার্জন করেন জীবিকা। দিনে কতবার গোসল করেন তার হিসেব নেই। আশ্চর্য! অদ্ভুত মিল রয়েছে দু’জনের মধ্যেই! অতিথিদের আপ্যায়ন করেন নিজের ক্ষেতের চাল, পুকুরের মাছ, গৃহপালিত হাঁস-মুরগি, বাগানের শাক-সবজি দিয়ে। প্রয়োজনে পালিত গরু, খাসিও জবাই করা হয়। কথা বলতে বলতে পৌঁছালাম নরসংদীর শহরতলীতে সবুজে ঘেরা শান্ত পরিবেশে এক মসজিদের গাড়ী রাখার জায়গায়। মসজিদের সামনে বিশাল চত্বর। পাশেই একটি একতলা দালান। তাতে রয়েছে বড় একটি হল ঘর আর বেশ কয়েকটি থাকার ছোট ছোট ঘর। নবি জানালো, বড় ইস্তেমায় হল ঘরটাও লোকে ভরে যায়। মূলত মসজিদ, চত্বর আর পাকা বাড়িটা নিয়েই বাবার খানকা এক নির্মল সবুজ শান্ত পরিবেশে। মসজিদের পেছনে দুইদিকে প্রশস্ত বিশাল জায়গা নিয়ে বাবার বসত বাড়ি। পুরো জায়গাটাই প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। বাইরে থেকে উঁচু উঁচু গাছের মগডালগুলো ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না। মসজিদ থেকে একটু দূরে রয়েছে একটি গেট।নবি আমাদের ঐ ফটকের সামনেই নিয়ে গেলো। বুঝতে পারলাম, দেয়াল ঘেরা জায়গাতে ঢোকার ফটক সেটা। বেল টিপতেই এক তরুণ সহাস্যে ফটক খুলে দাঁড়ালো সাদর অভ্যর্থনা জানাতে। উঠানে বিভিন্ন মৌসুমি ফুলের কেয়ারি। টিনের ছাদের ইটের বেশ কয়েকটি বিল্ডিং নিয়ে বাবার বসত বাড়িটি ঘিরে রয়েছে মনে পড়ার মতো সব রকমের দেশি এবং নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের ফলের গাছ ও গুচ্ছের আচ্ছাদন।একটা বিল্ডিং এর বারান্দায় পাটি বিছানো। সেখানেই আমাদের বসিয়ে তরুণ ছেলেটি অন্দর মহলে চলে গেলো। চারিদিকে শান্ত পরিবেশ, লনের এক কোণে রাখা দানা আর পানির পাত্র ঘিরে এক ঝাঁক পায়রা, বুলবুলি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দানা খাচ্ছে নির্বিকারে। সাথে রয়েছে বেশ কয়েকটি শালিক, চড়ুই আর ঘুঘু পাখিও।

আমরা মৌসুমি ফুলের গন্ধ পাচ্ছিলাম। বাবা বেরিয়ে এলেন তার স্ত্রী আর দুই তরুণী কন্যাকে সাথে নিয়ে। তার পরনে একটা লুঙ্গি। মাঝারি আকৃতির বাবার গায়ে কোনও কাপড় নেই কাঁধে একটা গামছা। কাঁচাপাকা ঘাড়অব্দি বাবড়ি চুল, মুখে মানানসই দাড়ি গোঁফ। মুখে স্মিতহাসি। তার স্ত্রীর পরনে আটপৌরে একটা তাঁতের শাড়ি, মেয়েদের পরনে সালওয়ার কামিজ। মাথায় রয়েছে দোপাট্টা। বাবার চোখ দুটো জ্যোতির্ময়। ঝকঝকে এক পাটি দাঁত। শ্যামবর্ণের সাধককে সুদর্শনই বলা চলে। সবাই আমাদের আন্তরিক অভ্যর্থনা জানালো। পরিচয় এবং সালাম-দোয়া পর্বের পর তিনি আমাদের সাথে নিয়ে বসলেন। ইতিমধ্যে একটি মেয়ে কখন উঠে গিয়ে একটা মোটা বেলি ফুলের মালা এনে নিম্মির সুদীর্ঘ বেণীতে ক্লিপের সাহায্যে আটকে দিয়ে বললো দেখো আম্মু, বুবুর চুল কি সুন্দর, আর মালাটা কেমন মানিয়েছে, দেখো দেখো বাবা! বাবা নিম্মির দিকে চেয়ে বললেন মেয়ে আমার রাজকুমারী।
আর একটা ধাক্কা খেলাম! বিস্ময়! হযরতজীও একই কথা বলেছিলেন নিম্মিকে দেখে!মেয়েটি বললো বুবু, মালাটা কিন্তু আমি নিজ হাতে সকালে ফুল কুড়িয়ে গেঁথেছি, বাজার থেকে কেনা নয়।

নিম্মি মেয়েটিকে জড়িয়ে ধরে আদর করে জিজ্ঞেস করলো বেলিফুলের মালা চুলে বাঁধতে আমার খুব ভালো লাগে, সেটা তুমি বুঝলে কি করে বলতো? আমি প্রতিদিন মালা গেঁথে বাবার গলায় পরিয়ে দিই। আজ যখন তাকে মালা পরাতে গিয়েছিলাম তখন তিনি বললেন

ওটা আজ একজন বিশেষ অতিথির জন্য পানিতে রেখে দে, ওটা তাকেই বেশি মানাবে। আপনাকে দেখে বুঝতে কষ্ট হয়নি বাবা আপনার জন্যই ওটা রেখে দিতে বলেছিলেন।

ইতিমধ্যে ধুমায়িত চা, সাথে চিঁড়েভাজা আর কয়েক রকমের পিঠা পরিবেশিত হয়েছে।

বাবা নিম্মিকে ইশারায় তার পাশে বসতে আহ্বান জানালেন, বসতেই নিম্মির মাথায় হাত রেখে বললেন আমার এই মেয়ে কোনও সাধারণ মেয়ে নয়, এই মেয়ে আমার অসাধারণ! আমরা সবাই নিশ্চুপ। মিনু ফুপ্পুর চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে, নিম্মি বাবার স্নেহাশিষে অভিভূত হয়ে পড়েছিল বোধকরি। এরপর আমার দিকে চেয়ে বললেন তুমি অতি ভাগ্যবান, আল্লাহ্‌ তোমাকে আমার মেয়েকে দান করেছেন। নবি, তুইতো অনেককেই আমার এখানে নিয়ে এসেছিস। কিন্তু আজকের মতো আমি আর কাউকেই পাইনি, পাবো কিনা সেটাও জানিনা।

গৃহিণী বললেন তোমরা কথাবার্তা বলো আমি আসছি, বলে তিনি অন্দর মহলে চলে গেলেন। মিনু ফুপ্পু সজল চোখে মিনতি জানালেন বাবা, ওদের উপর বিপদের কালো মেঘ সব সময়েই ছেয়ে থাকে। আপনি ডালিম আর নিম্মির জন্য খাস দোয়া করবেন। বাবা হেসে বললেন বোন! দোয়া তো না চাইলেও করবো, তবে আমার দোয়ার প্রয়োজন নেই। আমার মেয়ের দোয়াই যথেষ্ট। বলে আবার নিম্মির মাথায় সস্নেহে তিনি হাত রাখলেন। ইশারাটা বুঝতে কারো কোনও অসুবিধে হল না। কিছুক্ষণের জন্য মনে হল বাবা চোখ বুঁজে ধ্যানমগ্ন হয়ে অন্য জগতে চলে গেলেন। আমরা সবাই নিশ্চুপ বসে ছিলাম। চোখ খুলে স্বাভাবিক হয়ে বাবা বললেন দেখে শুনে, বিদ্যা-বুদ্ধি দিয়ে কতটুকুই বা বোঝা যায়? সৃষ্টিরহস্য অতি জটিল। সীমাহীন এর পরিব্যাপ্তি। হঠাৎ সরাসরি নিম্মির দিকে চেয়ে বাবা অনুরোধ জানালেন, তুমি যদি তোমার বুড়ো ছেলেকে অনুমতি দাও তবে আমি একটা সিগারেট খেতে চাই। নিম্মি হতবাক হয়ে মুখ তুলে বাবার দিকে চেয়ে বললো আমি অনুমতি দেবো! ওর দু’চোখও তখন অশ্রুসিক্ত। হ্যাঁ, তোমার অনুমতিই আমার প্রয়োজন। নিম্মি আর নিজেকে সামলাতে পারলো না। তার চোখ থেকে অশ্রুবন্যা গড়িয়ে পড়ছে, সমস্ত শরীর কাঁপছে এক অদ্ভুত শিহরণে। বাবা তার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন কাঁদছো কেনও? বলোখাবো কি খাবোনা? মুখে কিছুই বলতে পারলো না নিম্মি, মাথা ঝুঁকিয়ে সম্মতি জানালো। তাকে বেসামাল অবস্থা থেকে পরিত্রাণ দেবার জন্য মেয়েরা নিম্মিকে বললো

বুবু, চলুন আপনাদেরকে ভেতরে নিয়ে যাই। তারপর আপনাদেরকে দেখাবো আমাদের বাগান, দীঘি, হাঁস-মুরগির খোঁয়াড়। সস্তিসহ নিম্মি, মিনু ফুপ্পু, বেনু ফুপ্পু, কেয়া আর মানুকে সঙ্গে নিয়ে তারা ভেতরে চলে গেলো। তারা চলে যাবার পর বাবা নবির কাছ থেকে একটা সিগারেট চেয়ে ধরিয়ে নবিকেও বললেন একটা ধরাতে। আমার দিকে চাইতেই নবি জানান দিলো আমার ধূমপানের অভ্যাস নেই। ভালো ভালো, এই বদ অভ্যাসটা থেকে দূরে থাকা সহজ নয়। নিম্মিরা চলে যাওয়ায় পরিবেশটা হাল্কা হয়ে উঠল। প্রসঙ্গ পালটে আমি জিজ্ঞেস করলাম বাবা, মানবকুল মানেই তো আল্লাহ্‌র খলিফা, তাহলে বিশ্বজোড়া এত হিংস্রতা, মারামারি, কাটাকাটি, হানাহানি কেনও? বাবা হেসে বললেন এটাও একটা রহস্য! সোজা কথায়, এই জাগতিক জীবনটা পরীক্ষার হলে বসে থাকা কিছুটা সময়। এই পরীক্ষার ফলের উপরেই নির্ভর করছে ইহকাল এবং অনন্ত পরকালের জীবনের পরিণাম। তাই প্রতিটি মানুষকে চেষ্টা করতে হবে যাতে পরীক্ষাটা যতটুকু সম্ভব ভাল দেয়া যায়। এর জন্য সৃষ্টিকর্তার রহমত এবং করুণা ভিক্ষা করতে হবে যাতে তার প্রদত্ত সিলেবাসটা ভালো করে বুঝে নিয়ে পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত হওয়া যায়। জাগতিক জীবনের পরীক্ষার যেমন বিভিন্ন স্তর আছে তেমনই আধ্যাত্মিক জীবনেও বিভিন্ন স্তর রয়েছে। জাগতিক এবং আধ্যাতিক জিবনের সব চাওয়া পাওয়ার হিসেব আন্তরিক একাগ্রতা, প্রশ্নাতীত বিশ্বাস এবং নিরলস সাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে সৃষ্টিকর্তা ইচ্ছে করলে তার পূর্ব নির্ধারিত নিয়তি বদলেও দিতে পারেন যে কোনও সময়।

তার পক্ষে সবকিছুই করা সম্ভব। প্রতিটি মানুষকে নিজেকে আল্লাহ্‌র প্রতিনিধি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করতে হবে। যেদিন কোনও ব্যক্তি নিঃস্বার্থ ভাবে আল্লাহ্‌র গুণাবলীর বাহ্যিক বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে সক্ষম হবে সেই দিনই মানুষ হিসাবে তার ন্যূনতম দায়িত্ব পালনে সে সক্ষম হয়েছে বলে ধরে নেয়া হবে। তবে এই কাজটা সহজ নয়। শয়তানের প্রলোভন রয়েছে প্রতি মুহূর্তে, সত্যের পথ থেকে ভ্রান্ত পথে বিপথগামী করার।

এই টানাপড়েনের মধ্যে সত্যকে বেছে নেয়াটাই হচ্ছে আসল পরীক্ষা। নিজস্ব চেষ্টা এবং সাধনার মাধ্যমে যকোনো মানুষ নিজেকে শারীরিক এবং মানসিক ভাবে উচ্চ থেকে উচ্চতর স্তরে নিতে সক্ষম জাগতিক এবং আধ্যাত্মিক দুই ক্ষেত্রেই। তবে যতই উপরে উঠবে তার জন্য কঠিনতর হয়ে উঠবে জাগতিক কিংবা আধ্যাত্মিক জীবনের পরীক্ষা। হঠাৎ করে বাবা আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে দিয়ে বললেন চলো, তোমাদের আমার ছোট্ট দুনিয়াটা দেখাই। তিনি আমাদের ফলের বাগান, ধানক্ষেত, গরু ও ছাগলের খামার, হাঁসের খামার, মুরগির খামার, শাক-সবজির বাগান, মাছের পুকুর সব কিছুই ঘুরে ঘুরে দেখালেন। সবখানেই সুপরিকল্পিত পরিচালনার ছাপ। ফিরে এলাম। ইতিমধ্যে মেয়েরাও ফিরে এসেছে। তখন আমরা সবাই স্বাভাবিক। দুপুরে অতি সাধারণ কিন্তু সুস্বাদু ব্যঞ্জনের সাথে খাওয়ার পাট চুকিয়ে পানের বাটা ঘিরে বসলাম সবাই। হাল্কা কথাবার্তায়, হাসি ঠাট্টায় এক আনন্দঘন পরিবেশের মাঝে আমরা ডুবে গেলাম। ফুরফুরে হাওয়ায় গাছের পাতার টুপটাপ ঝরে পড়ার শব্দ, নাম জানা এবং নাম না জানা পাখিদের কলকাকলি, হাঁস-মুরগীর চির পরিচিত আওয়াজ পরিবেশকে আরও মনোরম করে তুলেছিল। আচমকা একঝাঁক সবুজ টিয়া উড়ে এসে বসলো ইউক্যালিপটাস গাছে। ওয়াক্তের নামাজ আদায় করছিলাম সংলগ্ন মসজিদে জামায়াতের সাথে। সন্ধ্যার আগেই ফেরার কথা। হঠাৎবাবা বললেন আজ তোমরা রাতটা এখানেই থেকে যাও।

এই সুন্দর মনোরম পরিবেশে থাকতে কারোই আপত্তি থাকার কথা নয় কিন্তু আমার ও নিম্মির রাতে একটা দাওয়াত রয়েছে। তাই কিছুটা ইতস্তত ভাবেই বললাম

বাবা, রাতে আজ আমাদের একটা পূর্বনির্ধারিত দাওয়াতে যেতে হবে। তাই ইচ্ছে থাকলেও আজ থাকা সম্ভব নয়। তবে আল্লাহ্‌র মর্জি হলে আবার আসবো হাতে বেশি সময় নিয়ে। অল্পদিনের ছুটি, তাই সবদিক রক্ষা করে চলতে কিছুটা সময়ের ঘাটতি পোহাতে হচ্ছে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতেই আকাশে কালো মেঘ জমে উঠছিলো। বিদ্যুৎ চমকাতে শুরু করেছে। ঝড়ের পূর্বাভাস। বাবা আবারও বললেন বিশেষ প্রয়োজন না থাকলে থেকেই যাও। আবহাওয়ার অবস্থা তো ভাল ঠেকছে না। আমি বললাম এক-দেড় ঘন্টার পথ ঝড়ের আগেই পৌঁছে যাবো। বাড়ির সবাই জোর আবদার করছিলো থেকে যাবার জন্য। কিন্তু নিতান্ত অপারগ অবস্থায় বিদায় নিয়ে আমরা বেরিয়ে পড়লাম। নবি গাড়ী চালাতে চালাতে বলছিলো বাড়ির সবাই যখন এতো করে অনুরোধ করছিলো থেকে যাবার জন্য তখন থেকে গেলেও পারতিস। দীর্ঘদিন যাবত আমি বাবার এখানে আসছি, তিনি আমাকে অত্যধিক স্নেহ করেন। কিন্তু আমাকেও এভাবে তিনি কখনই রাতে থাকতে অনুরোধ করেননি। আধ্যাত্মিক সাধনায় ব্রতী সাধকদের বোঝা মুশকিল। তাদের প্রকাশ ভঙ্গিতে কেমন যেন একটা কুহেলিকা থেকে যায়।বাবাই বলেছিলেন, কোনো কিছু অপ্রত্যাশিত ভাবে ঘটে গেলে লোকে বলে দুর্ঘটনা। কিন্তু কার ইশারায় কিংবা ইচ্ছায় সেটা ঘটলো তার কোনও হদিস মানুষ আজ অব্দি পেতে অক্ষম। ইন্দ্রিয়লব্ধ জাগতিক জ্ঞানের যেখানে ইতি সেখান থেকেই আধ্যাত্মিক পথের যাত্রা। বৈজ্ঞানিকরাই বলে, কর্ম ও প্রতিফলের বৃত্তেই ঘটছে সবকিছু। এই যুক্তিটা দুর্ঘটনার বেলায় খাটে কি?প্রতিটি মানুষ এই পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হয় কোনও বিশেষ উদ্দেশ্যে কিন্তু সেটা কারো পক্ষেই জানা সম্ভব নয়। একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন, কে কি উদ্দেশ্যে জন্ম নিলো। উদ্দেশ্য পূরণ হয়ে গেলেই তার প্রত্যাবর্তন ঘটে এক অজানা ঠিকানায়।আমরা বোকার মতো গর্ব করে বলি আমি এটা করেছি, আমি সেটা করেছি, কিন্তু আমরা মানতে নারাজ যে আমাদের হাতে কিছু করার কোনোও ক্ষমতাই নেই। যা কিছুই করি সেটাও ঘটে তারই ইচ্ছায়। কোথা থেকে এলো, কোথায় যাবে সেটা জানতে পেরেছে কি মানুষ এখনও? এক্সিডেন্ট হয় কেনও? অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে কেনও? যা হবার তা হয় না, আবার যা হবার নয় তা হয়ে যায় কেনও? এই সব কেনোর উত্তর যখন মানুষ পায় না তখন সেটাকেই বলা হয় ভবিতব্য! কিন্তু ভবিতব্যটা বানালো কে? এর জবাব নেই মানুষের।

অবিমিশ্র এই বক্তব্যগুলো আধ্যাত্মিক লোকের অসীম গভীরতার ইঙ্গিতই বহন করে। বাবার কথা-বার্তায় আর হযরতজীর কথাবার্তায় একটা অদ্ভুত মিল স্পষ্ট হয়ে ফুটে উঠেছিলো আমার মনে।

যাত্রার কিছুক্ষণের মধ্যেই ঝড়ের তীব্রতা বৃদ্ধি পেলো অস্বাভাবিক ভাবে। সাথে শুরু হল মুষলধারে বৃষ্টি। বৃষ্টির আচ্ছাদন ভেদ করে অল্পদূরেও কিছুই দেখা যাচ্ছে না। হেডলাইট অকেজো হয়ে পড়েছে। মাঝে মধ্যে বিদ্যুতের চমকের সাথে কান ফাটানো বাজের শব্দ। প্রবল ঝড়ের মধ্যে পড়ে সবাই আতংকিত। আমি নবিকে বললাম কিছুই তো দেখা যাচ্ছে না, গাড়ী চালিয়ে নিতে পারবি তো? জবাব না দিয়ে দক্ষচালক নবি অতি সতর্কতার সাথে গাড়ী ধীরগতিতে এগিয়ে নিয়ে চলছিলো। অকস্মাৎ তুমুল বৃষ্টির সাথে শিলপড়া শুরু হল। ফলে ভিজিবিলিটি আরও কমে গেলো। এই দুর্যোগের মধ্যেই ডেমরা ব্রিজ মাত্র পেরিয়েছি, তখন হঠাৎ নবির ব্র্যান্ড নিউ রেঞ্জরোভার থেমে গেলো! সবাই প্রায় এক সাথেই বলে উঠলাম

নবি গাড়ীর কি হল! নবি কয়েকবার সেলফ এর চাবি ঘোরালো থেমে যাওয়া গাড়ী স্টার্ট করার চেষ্টায়, কিন্তু গাড়ী স্টার্ট নিলো না। পথঘাট জনশূন্য। দুই দিকেই কোনও যানবাহনের নিশানাও নেই। নবি নিজেই একজন চৌকস ইলেকট্রিক্যাল এবং মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। থমথমে গলায় নবি বললো বলেছিলাম না, বাবা এতো করে বললেন থেকে যাবার জন্য, কিন্তু শুনলিনা। যাক, তুই স্টিয়ারিং ধরে বস, আমি নেমে দেখছি কি হল বলে গাড়ীর বনেট খুলে হাতে একটা পাঁচ ব্যাটারির টর্চ নিয়ে নেমে গেলো নবি।
পেছনে মহিলারা সবাই দোয়া-দরূদ পড়ছেন আল্লাহ্‌র করুণা ভিক্ষা করে। শিলাবৃষ্টির তীব্রতা তখন কিছুটা কমেছে। অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে নবি আমাকে ইশারায় সেলফ স্টার্টার অন করতে বললো। দু’ তিন বার চেষ্টা করলাম, কিন্তু গাড়ী স্টার্ট নিলো না। নবির পরিধেয় কাপড় ইতিমধ্যেই ভিজে চুপসে গেছে। বনেট বন্ধ করে নবি আমার কাছে এসে দাড়ালো। কাঁচ নামিয়ে জিজ্ঞেস কোরলাম কি ব্যাপার?কিছুই বুঝতে পারছিনা, আপাতদৃষ্টিতে সবতো ঠিকই আছে দেখলাম। তাহলে এখন কি হবে? যাত্রাবাড়ী বেশি দূরে নয়। তোরা গাড়ীতেই অপেক্ষা কর, আমি দেখি ওখান থেকে কনও মেকানিক ধরে আনতে পারি কিনা।
মাথা খারাপ নাকি, এই বৃষ্টির মাঝে তুমি এতদূর যাবে পায়ে হেঁটে!অন্য কোনও উপায় নেই মিনু ফুপ্পু। না, এই বৃষ্টিতে তোমাকে যেতে হবে না, বৃষ্টি থামলে যাবে তুমি। এখন ভেতরে এসে বসো। এরপর নিম্মির ওড়না আর নিজের চাদরটা এগিয়ে দিয়ে বললেন
ভেতরে এসে ওড়না দিয়ে মাথা আর শরীর ভাল করে মুছে কাপড় ছেড়ে চাদরটা গায়ে জড়িয়ে নাও। সুবোধ বালকের মতো তাই করলো নবি। বৃষ্টি ধরে এলো কিন্তু কোনও মানুষজনের চিহ্ন নেই।যতদূর রাস্তা দেখা যায় দুইদিকেই ফাঁকা। বৃষ্টি তখনো গুঁড়ি গুঁড়ি পড়ছে।আমি যাই ফুপ্পু, বৃষ্টি যতটুকু পড়ছে তাতে অসুবিধে হবে না। আর একটু সবুর করো। কথোপকথনের মধ্যেই আচমকা একজন জটাধারী মানুষের ছায়া ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে আমাদের গাড়ির কাছে এগিয়ে এলো। খালি গা, পরনে লুঙ্গি আর হাতে একটা লাঠি। গলায় ঝুলছে রং বেরঙের পুঁতির একটা মালা আর কালো সুতোয় বাঁধা একটা রুপোর তাবিজ। ঘাড় অব্দি যত্নহীন বাবড়ি চুল। সারা মুখ ঢেকে আছে দাড়ি-গোঁফে। শরীর, দাড়ি-গোঁফ থেকে তখনও বৃষ্টির পানি ঝরছে। সব মিলিয়ে মাজারে যে সমস্ত সাধু-সন্ন্যাসী দেখা যায় তাদের মতই একজন।

নবির দিকের উইন্ডোতে টোকা দিলো লোকটা, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ঝরে চলেছে। নবি কাচ নামাতেই লোকটা বলল গাড়ী বিকল হইয়া পড়ছে মনে হয়! নবি জবাব দিলো জি, তাই। ইঞ্জিনের কিছু খারাপ হয়ে গেছে। লোকটার চোখ দুটো জ্যোতির্ময়। সে বলল যাত্রাবাড়ী ছাড়া কোথাও মেকানিক পাওন যাইবো না। কথার সাথে সাথে বনেটে হাতের লাঠিটা ঠুকছিলো লোকটা। লোকটার উপস্থিতিতে সবাই কিছুটা অস্বস্তি বোধ করছিলো। তাই লোকটার দিকে তাকিয়ে মিনু ফুপ্পু ব্যাগ থেকে ১০০ টাকার একটা নোট বের করে নবিকে দিয়ে বললেন

এটা ওকে দিয়ে বিদেয় করো। গাড়ির জানালা দিয়ে নোটটা নবি লোকটার দিকে বাড়িয়ে দিতেই আগন্তুক অবজ্ঞাভরে বনেটে সশব্দে একটা বাড়ী মেরে রাগত ভাবে বলে উঠলো

টাকা দিয়া সব হয় না, জানোস না গাধার বাচ্চা? আমারে ফকির মনে কইরা টাকা দিতে চাইলি ক্যান, আমি কি ভিক্ষা চাইছি? গাড়ী স্টার্ট কর বলেই পেছনের দিকে পা বাড়ালো জটাধারী লোকটা টাকাটা না নিয়েই। আমি বললাম সেলফটা অন করতো। নবি সেলফ ঘোরালো আর সাথে সাথেই গাড়ী স্টার্ট নিয়ে গর্জে উঠল সবাইকে বিস্মিত করে দিয়ে।
সবাই পেছনে তাকিয়ে দেখলাম সেই লোকটির কোনও হদিস নেই। জলজ্যান্ত লোকটা এভাবে বেমালুম হাওয়া হয়ে গেলো! এটা কি তবে একটি অলৌকিক ঘটনা! সবাই স্তম্ভিত হয়ে গিয়ে অবাক বিস্ময়ে একে অপরের দিকে চেয়ে বলে উঠলাম সুবহান আল্লাহ্‌! সত্য লৌকিকতাকেও হার মানিয়ে দিলো! নবি নীরবে গাড়ী চালাচ্ছিল। এই অপ্রত্যাশিত ঘটনার পর পথে তেমন আর কথাবার্তা জমলো না। ক্যান্টনমেন্টের মেইন গেটের কাছে পৌঁছেই নবি তার ওয়ারলেস ফোন থেকে মোস্তাফিজ কাক্কুকে ফোন করতেই আমার গাড়ী এসে পৌঁছে গেলো কয়েক মিনিটের মধ্যে। মিনু ফুপ্পু নবিকে অনেক করে অনুরোধ করেছিলেন রাতের খাবার তার বাসায় খেয়ে যেতে। কিন্তু নবি তার প্রতিজ্ঞায় অটল থেকে ফুপ্পুর কাছ থেকে মাফ চেয়ে এবং সবার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ফিরে চলে গেলো। বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল নুরুন্নবি খান বীরবিক্রমের সাথে সারাদিনের আধ্যাত্মিক জগতের যে অদ্ভুত অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরেছিলাম সেদিন তা সারাজীবনে কখনোই ভুলবার নয়।

On way to Dhaka as called by the newly elected Prime Minister  Khaleda Zia

After finishing all preparation I set off on my tour along with Nimmi and Shosti. Travelling to Middle East and Far East we reached Pakistan. In every country the friends greeted us warmly. In Pakistan Choudhury Shujat and Mia Nawaz Sharif greeted me with a warm hug being overwhelmed with joy and said

We are proud to have a soldier friend like you who is not only a visionary, knowledgeable and possess an astute analytical mind! To be honest the way with firm conviction you had presented your submission we were not that firm in our belief to accept your submission. In fact, we had some hesitation and reservation.

In reply I said

That is quite natural. For any diplomat or a intelligence operative always has a limit due to various reasons to know about the internal affairs of any country where they are posted. I am slightly different from them. I am not just a professional diplomat. I was born in a politically family. From the very inception of Bangladesh I remained directly or indirectly involved in the political flow of Bangladesh. Therefore, my self confidence and analysis would be different from them that is obvious. Both conveyed their hearty congratulation through me to Khaleda Zia on her victory and extended cordial invitation to visit Pakistan at her earliest convenience. In reply I told both

Once I reach Dhaka she would surely convey her gratitude personally to both of you. Your gracious invitation would also be accepted.

Our stay was arranged at the hotel Marriot in Islamabad as state guests.

Both wanted to know when shall I be reaching Dhaka. I told them

I shall be attending a family dinner at the Army House. Besides, have to meet a few old friends. There after I have to go to Peshawar for two days. On return I shall have to visit the Haveli of old friend Ambassador Amjad Noon at Bhulawal, Sargodah on way to Lahore. From Lahore to Dhaka via Karachi In Sha Allah. Knowing that I have been invited over a family dinner at the residence of the President both Choudhury Shujat and Mia Nawaz Sharif were taken a back and said

You seem to know the honorable President quite closely!

Well yes. I had the opportunity to meet him twice before.

There after both of them gave me their personal hot line telephone numbers so that Khaleda Zia can contact them easily.

Calling at the hotel Amjad Noon and Mehreen came over to meet us.

While talking interaliya  friend Ambassador Amjad Noon conferred that after knowing about my mission he had taken the initiative to meet their family friend Sahib Zada Gen. Yakub the then Foreign Minister and Mr. Ijlal Haider Zaidi a close friend and colleague of his father in law Mr. Bandeyal then the influential Defence Secretary and requesteted both to support my presentation. While talking to Mr. Zaidi

At his residence his wife Mrs. Sheerin(A Bengali Lady)was also present. After hearing my name she opined and strongly advocated that Ambassador Shariful Haq Dalim’s submission should be taken seriously by the decisson makers and his demands should be considered positively for the interest of both Bangladesh and Pakistan. Later both told Amjad they did support my cause in the meeting of the NSC.

I informed them that next day after lunch we would be proceeding to Peshawar to thank Hajrat Jee and Khaled Bhai. After contacting Khaled Bhai all arrangements have been fixed. Hearing this both Amjad and Mehreen showed great interest to accompany us to Peshawar. I called Khaled Bhai again and he said no problem bring them along but this time at no cost we would be staying at the hotel but his residence. I agreed. It was decided after reaching PC I shall call him and he would immediately come and take us all to his residence. Next day as we reached Peshawar, Khaled Bhai came to PC and took us all to his residence. Bhabi was very happy at our arrival particyularlly seeing Nimmi and Mehreen along with us. After dinner Khaled Bhai informed us that Hajratji has invited us at his village Khanka over brakefast after Fajar. His Khanka was not far away from the city. Next day after Fajar early morning Khaled Bhai took us to the Khanka of Hajratji. Getting the news of our arrival Hajratji himself came up to the main gate to greet us. This was an exceptional guesture. As we disembarked from the vehicles Khaled Bhai got every one introduced to Hajratji one by one except me. After the indroductions were over Hajratji went straight towards Nimmi and took her in arms affectionatly and exclaimed

Who did you brought brother Khaled, she is the princess. A princess has come to my home, do you all understand that!(Arey Bhai tum kisko lekar aya Khaled, yeh to Shajadi haye. Ek shahjadi aaj mera ghar aya hay samjhe tumlog)! After saying so he took us all to a large sitting room and looking beyond the curtain spoke aloud

Look who has come today! a princess has come, welcome her. (Dekho tumsab, koun ayah aye aaj, ek shahjadi ayah aye usko khosh amdid kaho).

Saying so he picked up Shosti close to his chest and went inside with Nimmi and Mehreen. He returned after a while. Khaled Bhai, Amjad and I were sitting on the carpeted floor waiting for him. On return he sat on the only Charpoy placed in the room and signaled me to sit beside him. keeping his right hand on my shoulder he said jovially that he was extremely happy that we had come. in reply I said humbly

I came to fullfil my Fraj to pay my Salam and gratitude.

Hajratji smiled and said

Khaleda has own but would bloodshed stop? However her victory is better than the worst only that much can be said. You would be positoned somewhere nearby that is what I can see! you have to leave Africa. I was sitting dumb founded!

Suddenly he looked towards Amjad and enquired

How are you keeping, what are you doing these days?

In reply Amjad briefly apprised his past and requested Hajratji to pray for him so that he could get another posting abroad. This was his earnest desire he said to Hajratji.

Hajratji did not gave any straight answer but said

Everything happens as Allah wishes.

Meanwhile, the attendants had served lavish brakefast with many varities of items on the Dastarkhan. Hajratji said

You have the brakefast and meanwhile I shall be back from inside. Hajratji went inside. As instructed we concentreted on our brakefast. All the attendants were attendtively serving us with wormth.

After finishing the brakefast we were talking among ourselves. It was bitterly cold morning so the Quetta stoves were bruning in the room. After a while Hajratji returned with Nimmi, Mehreen and Shosti. As they entered we got up to say good bye but Hajratji picked up Shosti once again close to his chest and said

Lets go. I shall  go up to the cars at the gate to say good bye. I must escort the Princess up to the car. Before getting into the cars we all conveyed our Salam and thaked him for warm reception, hospitality and sumptuous brakefast. Hajratji on the other way round said that he was fortunate that the princess has come to his place.

We returned to Islamabad. It was decided that Mehreen would take Nimmi and Shosti along and take the flight to Lahore. Amjad and I shall drive down to their Haveli at Bhulwal and stay there over night reaching Lahore next day. As per the plan Nimmi and others departed. I and Amjad also set off by road. On way suddenly Amjad became unwell. Stomach upset! Amjad bought some medicine from a roadside pharmacy. We reached their Havelli at Bhulwal before noon. His mother was waiting to receive us there. Amjad’s father Maj. Hamid Ali khan(R) would be receiving Nimmi and Mehreen at Lahore. He was the course mate of Gen. Ziaul Haq.

Grand Haveli of a aristrocatic family was sprawling indeed! Lush green lawn, garden, orchards, the farm of chicken and ducks, Peacocks, phessants and Telores of different breed, stable of horses, dairy farm of cows and buffellows, eye catching well cared beds of seasonal flowers, swimming pool, a huge water well and fish pond. There is no darth of anything. Good number of trusted care takers, servents and house maides who had been working in the Haveli for generations could be seen all around. As a sign of prestige body guards were also there for maintaining security. Everywhere glaring sign of pomp and grandure as well as glamour of Feudal Lords were clearly visible. Amjad’s mother showed me around the Haveli. In one of the big hall rooms I could see starting with Qaid e Azam the photographs of all the top and important political leaders were hanging on the wall alongwith many luminaries and rich and famous personalities from around the Globe. Mrs. Hamid informed me that all of them had graciously visited this Haveli. In that photo display I found the photos of Fatima Jinnah, Mawlana Bhashani, Peer Pagara, Sher E Bangla Fazlul Haq, Suhrawardy, Mohammad Ali of Bogra, Nawab Nazimuddin, Nawab Sir Salimullah, Liaqat Ali Khan, Allahma Iqbal, Field Marshall Ayub Khan, Zulfiqar Ali Bhutto, Gen. Yahiya Khan, Feroz Khan Noon, Nawabzada Nasrullah Khan, Gen. Ziaul Haq, Benazir Bhutto ornamented the wall. When Mrs. Khan was showing me the historical photos suddenly, another incident of photo display came to my mind. Late Mr. Khwaja Kaiser who climed to be one of the member of Dhaka’s Nawab family had already got recognition during Pakistan days as an astutue diplomat. Due to his successful suttle diplomacy the Secretary of State of USA Dr. Henry Kissinger could make his first secret visit to People’s Republic of China. Abba(My late father) and Khwaja Kaiser were contemporaries in the Dhaka University and both used to stay at the Salimullah Muslim Hall. Abba was then the General Secretary of the Salimullah Muslim Hall. Therefore, I used to address him as Chacha(Uncle). One day, I went to his residence and noticed almost similar kind of photo display of rich and famous on the wall of the main large drawing room. I quriously asked him

Chacha(Uncle) what is the real intention behind such photo display?

Humorously he replied

Nephew(Bhatija), all these are not merely photos but invaluable assets to cut an edge on others in the corridors of power to further one’s self interest. With the tide of time relivent photos are being hung and removed. From his reply I could fathom the real intention.

After this I along with Amjad had gone around their landed properties on horse back. In the evening we had a high tea at the pool side enjoying the serene atmosphere around the grand Haveli. At night Fireplace was lighted in every room. We had our candle light dinner with Noretika crokeries and Shefield Silver Cutluries. On every piece the family monograme was embossed meaning by specially made on order. These are also prestigious signs of aristrocatic Feudal Lords who are rich and famous.

At night after stretching myself in the comfortable bed next to the Fireplace I was thinking about the subject matter of my discussion with Amjad.

From his words I could learn how the 22 families could establish themselves as the rulers of Pakistan from the very beginning after independence. All though Amjad Noon belonged to one of those 22 families. Vast land mass of Asia, Africa and Latin America comprising of big and small nation states is known as the backward underdeveloped third world. But more than two third of world population lives in this third world and more than two third of world’s natural and human resources remains in this third world over or under ground. Even then most of these countries are known as poor, impoverished, backward and under developed where more than 60 to 70% people still leaves below poverty line.

I as a humble student of political science as I understand the root cause of this pathetic plight as follows:-

These countries were colonized by the imperial powers using brute force for 200-400 years. They had taken away all their resources through their inhuman oppression and exploitation for long period of times and with that looted wealth they developed themselves as developed nations and built their home lands as prosperous countries. After the 1st and 2nd world wars as all these imperial powers became drastically weak and the national liberation struggle in most of the colonies became intense it became impossible for the imperial powers to counter those severe challenges. Therefore, they decided to give independence to their earstwhile colonies by handing over power to their local lackys and vested interested cotaries they had created during their rule to perpetuate their interests indirectly through those surrogates and comprador class. This is how a few selective powerfull families could replace their masters as the oppressive ruling elites. Immediately after colonizing a country the imperialist powers every where had picked up after due scrutiny the greedy and self seeking local leaders of different tribes and casts to ensure their security, reign and interests. These henchmen remained most loyal to their foreign masters and had served their interests till the last as a comprador class. They were also the agents who had coersively reqruited hundreds and thousands of men of the soil for the British Army as cannon fodders during 1st and 2nd World Wars. Therefore, before leaving this class was made the owner of two most vital means of production of an agrigarian economy- land and the tillers.

The representatives used to be sent in the area of their loyal lackeys by the Administrators of the colonial powers. On arrival those representatives used to beat the drums and used to declare all the land and properties up to the point the sound of drum beats could be heard belongs to the lackeys. At some place the lackeys were ordered to ride the horse at a stretch as far as he could. Where the horse stoped being tired he used to be made the owner of land and other properties that existed up to that point. Thus these people became Feudal Lords over night and the tillers became their slaves. Amjad had narrated these facts to me himself though he also belonged to a Feudal family. He fuether told me to enhance their social prestige these Feudal Lords used to be decorated with different tytles considering their loyalty and services to the Crown. Such as Maharaja, Raja, Nawab, Khan Bahadur, Ray Bahadur, Sir etc. The siblings were also been appointed at the important posts of the colonial administration. This is how with the help and patronage of the state structure and administration introduced by the colonial powers these vested interested coteries gradually became indomitable influential force due to their accumulated money and muscle powers and social status. All the imperialist powers could maintain their exploitative rule and domination for long period in all the colonized countries because of the unquestionable loyalty and subservience of the powerful Land Lord class they had created. But from the very on set contradiction and conflict of interest between this Land Lord class and vast majority of deprived and persecuted people started fuming. Therefore, the vast majority had never been trusted and looked upon as enemies by this Land Lord class all through. As a result of such trust deficit they became more and more dependant on their mentors, the foreign powers for their secured existence with the passage of time even after the countries got their independence. Mostly the siblings from this class used to be taken to the Western countries for brain washing. They used to return totally intoxicated with Western culture and way of life.

Even then the whites never accepted them as equals. They used to be called as ‘Natives’. Therefore they turned into parasites in their own countries. They were identified as the ‘Brown Sahibs’. After the fall of imperialism the colonial powers were forced to give independence to most of their colonies. These Brown Sahibs were installed into the state power of these newly independent countries to retain their vested interests indirect contol. These neo- rulers and exploitative class against the expectation and  greater interests of the nation kept intact the same old state structure, administrative machinaries, Judiciary, unjust socio-economic condition imposed by the colonial masters and embarked on perpetuating their rule and exploitation in the same way as their masters right from the beginning of the independence till this date. For this reason most of the countries remains to be impoverished, backward, under developed and dependant. There is another reason for such miserable plight:

In most of the countries of the 3ed World 80 to 90% of the national resources remains accumulated in the hands of 1 to 2% of the ramnents of feudalism and compredor class. As a result more than 98% of the people helplessly have vertually become nothing more than the slaves of those classes just for mare survival. In such an unjust society where the gap between the rich and poor is ever increasing it is not possible for any country and the nation to strive on the road of progress and prosperity. In an uneven society with no distributive justice to harness unified people’s power positively, to exel on creativeness and inner streanth of any nation remains to be a far cry. To come out from the existing suffocated state under the steam roller of such obsolete termited system and statusco the oppressed people being conscious are struggling now for their freedom, rights and distributive justice can be seen glaringly in most of the 3ed world countries across the Globe. Similarly, one can also see how viciously the neo-imperialists and colonial powers and their local lackeys united as one are launching physical aggretion in different countries or using nepherious conspiratorial means to kill their conscience and thwart their struggle to retain their vested interests. Using brute force they are also enacting many uneven international laws and enforcing those on the weaker nations states to be strangulated as lame entities. Presently a kind of new world order has been created and some international institutions have been structured to implement that world order so as to ensure their dominance and interests remain unebeted through out the world under this new garb. This is known as neo-imperializm and neo-colonializm. Most of the ruling elites of the so called independent countries of the 3ed world are working hands in gloves with those powers to implement their agenda. A handful countries of the 3ed world who had been able to uproot the ruling class comprised of ramenents of feudalism and compradors after independence through revolution had succeeded to enjoy the real fruits of independence. The peole of those countries had been able to establish a new progressive state structure in the light of their own heritage, culture and values, a just and equitable socio-economic society, evolve a healthy political prosses and had been able to provide equal rights to every citizen. Such revolution has taken place only in few countries. After independence in most of the countries the vested interested quarters had taken roots into the state and all other corridors of power and every tire of the administrative structure. Politics is also captive in their fists. Every sector of the state such as socio-economic structure, Judiciary, education, health, industries, business, lands, all other national resources, assets and means of production are in their hands. Thus as the owner of the state power and national resources they emerged as the leaders of the civil society as well. Thus the national armed forces, law enforcing forces and intelligence agencies and the Media are being used to protect them and their vested interests against the people. In such societies due to the lust of power, wanton greed, pride and misuse of national exchequer, loot and plunder by the ruling elites to meet their pomop and grandure and lavish life style the vitality of the nation is diminishing drastically. Being deprived of bare minimum eminities of sustainance the people are turning into senseless, subdued, spiritless living deads. As a result, they are still captives in their independent countries.

Being hard pressed under the york of dependency the nations are loosing their self identities, human and religious values. This is the surk reality of the present erra. These dying nations for their survival have to chose the tested leadership. Under their guidance revolutionary fundamental changes have to be brought through united struggle in the state and socio-economic structures left behind by colonial rulers. Those who would accept this blatent truth and would be ready to take the initiatives in that direction shall be able to preserve their existance as a nation and those who would try to shub their heads into the sand dunes not to accept this reality would be parished with the passage of time like many nations in the past due to the law of nature. The history bears this testimony.

Another matter needs special consideration here. To build a newly independent country self relient what kind of state structure, administrative institutions, judicial system, political philosophy, working programe and constitution are required that needs to be decided in the light of the heritage of the majority of the population, values, culture, just socio-economic condition, distributive justice, equal rights and their expectations. Against this if any format copied from abroad is brought and imposed on the nation as it is that never would work. Because, every nationhood has its own identity different from others. This kind of blind endeavor would push any country and the nation towards utter disaster. Such instances are not too difficult to find in the contemporary history.