নাইরোবিতে প্রত্যাবর্তন

ফিরে এলাম নাইরোবিতে। ফিরেই গঙ্গাভাই এবং জিমকে জানালাম সবকিছু বিস্তারিতভাবে। সাথে এটাও জানিয়ে দিলাম প্রথম পরিচয়টা হবে হারারেতে। যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিলাম কেনও এই সাক্ষাত ঢাকায় না হয়ে হবে হারারেতে। এরপর শঙ্কা এবং খানিকটা অস্বস্তি নিয়ে সময় গড়িয়ে যাচ্ছিল। এরই মধ্যে একদিন অপ্রত্যাশিতভাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাকে ফোন করে অভিযোগ জানালেন আপনি ঢাকা ঘুরে গেলেন আমার সাথে সালাম দোয়া না করেই!

তার এমন খোঁচায় কিছুটা চমকে উঠলাম! বেগম জিয়া কি তবে জনাব মুস্তাফিজুর রহমানকে বিশ্বাস করে সবকিছুই বলে দিয়েছেন!

যদি তেমনটি করে থাকেন তবে সব পরিকল্পনার কথা ইতিমধ্যে সাউথ ব্লকে পৌঁছে গিয়ে থাকবে। ফলে আমাদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, এই সুবর্ণ সুযোগ হারালে অপূরণীয় ক্ষতি হবে দেশ ও জাতির। ব্যক্তিগতভাবে প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কি ক্ষতি হবে সেটা মুখ্য বিষয় নয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনের পর উল্টো বাতাস বইতে শুরু করল।
দেখলাম, মওদুদের মতো বাস্তুঘুঘুরা, যারা শহীদ জিয়ার রক্ত মাড়িয়ে জেনারেল এরশাদের ছত্রছায়ায় গিয়ে ভিড়েছিল তারা আবার অক্লেশে খালেদার আঁচলের নিচে তাদের অবস্থান পাকাপোক্ত করে নিতে পারল অদৃশ্য শক্তির ইশারায় এবং বদরুদ্দোজা চৌধুরী, কর্নেল মুস্তাফিজুর রহমানদের মতো ক্ষমতাশালী পার্টি নেতাদের আশীর্বাদ পুষ্ট হয়ে।

ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ্‌-এর মধ্যস্থতায় দেশদ্রোহিতার অভিযোগে জেনারেল জিয়ার আমলে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত কাদের সিদ্দিকি এবং তার সাঙ্গোপাঙ্গ সন্ত্রাসীদেরকেও ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করা হল। শুধু কি তাই? কাদের সিদ্দিকিকে একটি দৈনিক প্রকাশনার লাইসেন্স এবং একটি অত্যাধুনিক প্রেস স্থাপনের জন্য মোটা অংকের অনুদানের বন্দোবস্ত ব্যাংক থেকে করে দেয়া হলো সরকারের তরফ থেকে। অন্যদিকে জনাব গোলাম আজমকে জামায়াতের আমীর বানিয়ে তার নাগরিকত্ব ফিরিয়ে দেবার জন্য জোটের শরিক দল জামায়াত খালেদা জিয়ার উপর ক্রমান্বয়ে চাপ বাড়িয়ে চলল। খালেদা জিয়া জামায়াতকে বোঝাবার চেষ্টা করেন, সরকারি হুকুমে তার নাগরিকত্ব ফিরিয়ে না দিয়ে কাজটি আদালতের মাধ্যমে করাটাই হবে শ্রেয়। তার এ ধরনের অভিমত জামায়াতের কাছে গ্রহণযোগ্য হলো না। জামায়াত নেতৃত্ব মনে করলো খালেদা জিয়া নির্বাচনী বৈতরণী পার হবার পর তার ওয়াদার বরখেলাপ করছেন। শুরু হলো বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে টানাপড়েন। এই সুযোগ গ্রহণ করে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়ে দিতে চাণক্যপুরির কর্ণধারদের এবং হাসিনার ইশারা এবং সমর্থনে হঠাৎ করেই বেগম জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গজিয়ে উঠল ‘ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।’ যুগ্ম আহবায়ক হিসাবে তাতে যোগদান করলেন মুক্তিযোদ্ধা সেক্টর কমান্ডার কর্নেল কাজি নুরুজ্জামান বীরউত্তম। তাদের দুই জনই ছিলেন শিখণ্ডি মাত্র। এর পেছনে মুখ্য খেলোয়াড়রা ছিলেন শাহরিয়ার কবির, সি আর দত্ত (হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান পরিষদের কর্ণধার), কর্নেল ওসমান, কর্নেল শওকত আলী, মুনতাসীর মামুন, হাসান ইমাম, লেখক শওকত ওসমান, শামসুর রাহমান, নীলিমা ইব্রাহিম, কামাল লোহানী, নাসিরুদ্দিন বাচ্চু, এমআর আখতার মুকুল, সুফিয়া কামাল, এবিএম মুসা, আসাদ্দুজ্জামান নূর, কবির চৌধুরী, ইকবাল সোবহান চৌধুরী, গফফার চৌধুরী, তুহিন আফরোজ, নির্মলেন্দু গুণ, ব্যারিস্টার আমিরুল ইসলাম প্রমুখ। তারা প্রকাশ্যে গণআদালত গঠন করে জনাব গোলাম আজমের বিচারের প্রহসনের মাধ্যমে ফাঁসির রায়ে দণ্ডিত করে তার কুশপুত্তলিকার ফাঁসির নাটক মঞ্চস্থ করে। এই ঘটনার পর আস্থার এবং বিশ্বাসের অভাবে বিএনপি-জামায়াত আঁতাত ভেঙ্গে যায়। সময় বুঝে টোপ ফেলে আওয়ামীলীগ আর সেই টোপ গলাধঃকরণ করে জামায়াত চরম সুবিধাবাদিতার প্রমাণ দেয়। হাসিনাসহ আওয়ামীলীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সাথে কয়েকটি গোপন বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়, জামায়াত ‘নির্দলীয় তত্বাবধায়ক সরকারের অধীন নির্বাচন’ এবং আওয়ামী লীগ ‘সংসদীয় গণতান্ত্রিক সরকার’ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইস্যু নিয়ে খালেদা জিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে সংসদে এবং সংসদের বাইরে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তুলবে সরকার পতনের লক্ষে। সাথে থাকবে জেনারেল এরশাদের জাতীয় পার্টি।

এই সমঝোতা পচনশীল সমাজের নীতি-আদর্শ বিবর্জিত অপরাজনীতির এক কদর্য হিঃপ্রকাশ। এই আঁতাতের পর হঠাৎ করেই ভাঁটা পড়ে ‘ঘা দা নির্মূল কমিটি’-এর কর্মতৎপরতায়। দেরিতে হলেও জাহানারা ইমাম এবং কর্নেল নুরুজ্জামান বুঝতে পারেন রাজনৈতিক ফায়দার জন্য আওয়ামী লীগ তাদের ব্যবহার করেছে মাত্র।এই মনোকষ্ট নিয়ে ক্যন্সার আক্রান্ত জাহানারা ইমাম যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছা নির্বাসনে ছেলের কাছে পাড়ি জমান এবং সেখানে ক্যান্সার অপারেশনের পর মারা যান। কর্নেল নুরুজ্জামান নিজের ভুল বুঝে চিরতরে সক্রিয় রাজনীতি থেকে অব্যহতি গ্রহণ করেন। এরপরের ঘটনা আরও হতাশাব্যঞ্জক। ভারতপন্থীদের সমর্থনে বলীয়ান হয়ে কর্নেল মুস্তাফিজুর রহমান খালেদা জিয়াকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে বোঝালেন যে সেনা পরিষদের নেতাদের বিশেষ করে আমার সাথে তার ঘনিষ্ঠতা নাকি তার জন্য কাল হয়ে দাড়াবে। এক সময় আমি নাকি তাকে ব্ল্যাকমেইল করে ১৫ আগস্টের স্বীকৃতি আদায় করে নেবো এবং আগস্ট বিপ্লবের মাধ্যমে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সাথে জেনারেল জিয়া প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন সেটাও বিশ্বপরিসরে প্রমাণ করিয়ে ছাড়বো! ফলে প্রতিবেশী ভারতের রোষানলে পড়ে তার সরকারের পক্ষে ক্ষমতায় টিকে থাকাই অসম্ভব হয়ে দাড়াবে!

কিছু সমমনা আমলা, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও পার্টিনেতা একই সুরে ঐক্যতান তুলে খালেদাকে নসিহত করেছিলেন প্রয়াত শহীদ জিয়ার ১৫ই আগস্ট এবং ৭ই নভেম্বর-এর ঐতিহাসিক বৈপ্লবিক অভ্যুত্থানের সাথে কোনও প্রকার সম্পৃক্ততা ছিল না সেটা প্রকাশ্যে স্বীকার করে নিয়েই রাজনীতি শুরু করেছিলেন। এরপর থেকে তারই নির্দেশে বিএনপির পার্টি পজিশন হচ্ছে, জেনারেল জিয়া ক্ষমতার কেন্দ্রে অধিষ্ঠিত হতে পেরেছিলেন সেনাবাহিনী এবং দেশবাসীর মধ্যে তার জনপ্রিয়তার কারণেই। এই ভিত্তিতে মুজিবের পতনের কোনও দায়দায়িত্ব না নিয়েই তিনি ১৯ দফার রাজনীতিকে এগিয়ে নিয়ে একজন জনপ্রিয় নেতা হিসেবে নিজের ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন। ঠিক একই ভাবে তিনি প্রতিবেশী বিশাল দেশ ভারতের সাথেও সমঝোতা করতে সমর্থ হয়েছিলেন তাদের স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়ে যে, ‘মুজিব হত্যার’ সাথে তার কোনও সম্পৃক্ততা কখনোই ছিল না। আর সেটার প্রমাণ স্বরূপ তিনি শেখ হাসিনাকে ভারতের নির্বাসিত জীবন থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে রাজনীতিতে সার্বিক সাহায্য-সহযোগিতার মাধ্যমে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করে সহ-অবস্থানের রাজনীতি করার অঙ্গীকার করেছিলেন। সেই ক্ষেত্রে আমাদের সাথে খালেদা জিয়ার যেকোনো সম্পর্ক তার প্রয়াত স্বামীর প্রণীত রাজনীতিকেই বিপন্ন করে তুলবে। শুধু তাই নয়, এখন যদি খালেদা জিয়া তার স্বামীর রাজনৈতিক সমীকরণ এবং পররাষ্ট্র নীতিতে কোনও পরিবর্তন আনতে চান তাহলে তার সরকারই অচল হয়ে পড়বে এবং তার নিজের জীবনও হুমকির সম্মুখীন হতে পারে ভারতের রোষের কারণে। অতএব সর্ব বিবেচনায় এখন থেকে সেনা পরিষদ, আগস্ট বিপ্লবী কিংবা বিপ্লবের নেতাদের সাথে কোনোরূপ যোগাযোগ রাখা যুক্তিসঙ্গত হবে না। ভারতের পোষা এই দালালগোষ্ঠী কিন্তু তাদের উপস্থাপনার সময় অতি প্রাসঙ্গিক প্রণিধানযোগ্য বিষয়গুলো কৌশলে এড়িয়ে গেলেন! ভারতের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে হাসিনাকে সসম্মানে দেশে ফিরিয়ে আনার মাত্র ১৩/১৪ দিনের মাথায় এক ষড়যন্ত্রে জেনারেল জিয়াকে অপমৃত্যুর সম্মুখীন হতে হয়েছিলো। এটাও জ্ঞানপাপীরা বললেন না যে, ভারতের চিরলালিত স্বপ্ন হলো নিজেকে বিশ্বের একটি পরাশক্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা। আর এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হচ্ছে এই উপমহাদেশে তার একছত্র আধিপত্য কায়েম করা।

ভারতীয় পররাষ্ট্রনীতির দর্শন ‘নেহেরু ডকট্রিন’ অনুযায়ী ‘অখণ্ড ভারত’ পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে সাউথ ব্লকের কুশিলবরা এবং ক্ষমতাসীন প্রতিটি সরকার ভারত বিভক্তির পর থেকেই। ব্রিটিশদের সৃষ্ট ‘ভারতীয় ইউনিয়ন’ যতদিন টিকে থাকবে ততদিন ভারতের শাসকগোষ্ঠী তাদের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নের প্রয়াস থেকে এক চুলও নড়বে না প্রতিবেশী দেশগুলো যতই ছাড় দিক না কেনও। কাশ্মীর, হায়দ্রাবাদ, গোয়া, দমন, দিউ এবং সিকিমকে অস্ত্রবলে গিলে তাদের অঙ্গরাজ্যে পরিণত করা এবং স্বাধীনতাকামী রাজ্যগুলোকে কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনস্থ করে আজঅব্দি অস্ত্রবলে দাবিয়ে রাখার প্রক্রিয়া এই বাস্তবতাকেই প্রমাণিত করে।

সুতরাং যুক্তিসঙ্গতভাবেই বলা চলে, যতদিন না কৃত্রিমভাবে বিদেশী আগ্রাসী ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোর স্বার্থে এই উপমহাদেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর কাছ থেকে অস্ত্রের জোরে তাদের স্বাধীনতা এবং আবাসভূমি ছিনিয়ে নিয়ে সৃষ্ট ‘ভারতীয় ইউনিয়ন’-এর বিলুপ্তি না ঘটবে ততদিন এই অঞ্চলে স্থায়ী স্থিতিশীলতা কখনোই কায়েম হবে না। যার ফলে, বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নও কখনোই সম্ভব হবে না। যেহেতু স্থিতিশীলতা আর্থ-সামাজিক উন্নতির একটি আবশ্যকীয় পূর্বশর্ত।

ঐতিহাসিকভাবে ভারত কখনোই একটি দেশ ছিল না যার প্রমাণ ব্রিটিশদের প্রত্যাবর্তনের পর থেকেই স্বাধীন হিন্দুস্তানের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী তাদের হারানো স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্র নরুদ্ধারের জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে আজঅব্দি লিপ্ত রয়েছে। এ সমস্ত সংগ্রাম ক্রমশ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। ছড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অঞ্চলে কেন্দ্র কর্তৃক কঠোর সামরিক শাসন, অভিযান এবং নির্মম পাশবিক অত্যাচার, জুলুম ও নিষ্পেষণের মুখেও। কোনও জাতির স্বাধীনতার জন্য রক্তের আহূতি বৃথা যায় না। স্বাধীনতার সংগ্রাম প্রলম্বিত হতে পারে, সাময়িকভাবে পশুশক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে দাবিয়ে রাখা যায়, মুক্তিযোদ্ধাদের নিধন করা যায়, কিন্তু স্বাধীনতার চেতনাকে পরাজিত করা কখনোই সম্ভব হয় না।

অধুনাকালে ভিয়েতনাম এবং বাংলাদেশ তার জলজ্যান্ত দৃষ্টান্ত। মানুষ স্বাধীনভাবেই জন্ম নেয়, তাই স্বাধীনভাবে বাঁচা প্রতিটি মানুষের জন্মগত অধিকার। এই প্রাকৃতিক বিধানকে বর্তমান উদীয়মান পরাশক্তি গণচীন মেনে চলেছে এবং অন্যান্য শক্তিগুলোকেও মেনে নিতে হবে তাদেরই স্বার্থে বিশ্বশান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যই। বিধাতার এই নিয়মটিকে মেনে না নিলে বিশ্বের বর্তমান সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে অচিরেই অতীতের অনেক সভ্যতার মতোই।

বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অপরিপক্বতা, অদূরদর্শী ক্ষমতাকেন্দ্রিক ভুল সিদ্ধান্তের ফলে জিমের আমন্ত্রণপত্র এবং আমার হারারে যাবার নির্দেশ এলো না। পরিণামে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং উজ্জ্বল ভবিষ্যৎকে বিকশিত করার জন্য ভারতের চাপের মুখে ভারসাম্যতা বজায় রাখার প্রয়োজনে অত্যাবশ্যকীয় স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করার একটি সুবর্ণ সুযোগ হারিয়ে গেলো।

দুর্ভাগা দেশ ও জাতির অন্ধকার ভবিষ্যতের কথা ভেবে অত্যন্ত কষ্ট পেয়েছিলাম। জিমকে ফোন করে সবকিছু বিস্তারিত জানিয়ে বলেছিলাম জিম, আমাদের সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে গেলো! জবাবে জিম বলেছিলো ভালোই তো হয়েছে, শুরুতেই আমরা খালেদা জিয়ার যোগ্যতা এবং চরিত্রটা বুঝে নিতে পারলাম। দুঃখ পাচ্ছ কেনও? খালেদা কিংবা হাসিনা তো অবিনশ্বর নয়, তারাও একদিন দৃশ্যপট থেকে অদৃশ্য হয়ে যাবে, কিন্তু থেকে যাবে বাংলাদেশ।

তবে একটি কথা তোমার জ্ঞাতার্থে বলছি, নেতা-নেত্রীদের চারিত্রিক গুণাবলী, দূরদর্শিতা এবং বিচক্ষণতা যেকোনো দেশ ও জাতির অগ্রবর্তী কিংবা পশ্চাদপদতার জন্য মূলত দায়ী হয়ে থাকে।

কিছুদিন পর জানতে পারলাম, মিলিয়ন ডলার খরচ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াশিংটনে বসবাসকারী তার ভাগ্নের মাধ্যমে আমেরিকাতে RAW-এর বিশিষ্ট এজেন্ট ‘কাঞ্জু’ নামে পরিচিত এক ধনাঢ্য ব্যাবসায়ীর সহযোগিতায় খালেদা জিয়ার জন্য আমেরিকান প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকে আয়োজিত বাৎসরিক ‘ব্রেকফাস্ট প্রেয়ার’ অনুষ্ঠানে যোগদানের নিমন্ত্রণ জোগাড় করেছিলেন।

প্রতিবছর এই অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য বিশ্বের প্রায় শ’খানেক রাষ্ট্রপ্রধান কিংবা সরকার প্রধান এবং বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ থেকে বাছাই করে নিমন্ত্রণ করা হয়। প্রেয়ার শেষে প্রাতঃরাশের পর প্রত্যেকের সাথে প্রেসিডেন্টের একটা সৌজন্যমূলক ফটো সেশনের শেষে অভ্যাগতদের বিদায় জানানো হয়। প্রথা অনুযায়ী এই মিলনমেলায় ক্ষমতা বলয়ের অদৃশ্য শক্তিধর ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকেন না। এই সফরকালে বেগম খালেদা জিয়াকে এয়ারপোর্টে অভ্যর্থনা জানায় স্টেট ডিপার্টমেন্টের একজন ডেপুটি এসিস্ট্যান্ট আন্ডার সেক্রেটারি। মোটা অংক খরচ করে ওয়াশিংটন পোস্টে তার সফর সংক্রান্ত কয়েক লাইনের একটা খবর ছাপানোর ব্যবস্থা করেছিল বাংলাদেশের দূতাবাস।

দেশে ফেরার আগে খালেদা জিয়া তার হোটেলে এক প্রাতঃরাশে নিমন্ত্রণ করেছিলেন বন্ধুদের। তার সেই নিমন্ত্রণে সাড়া দেননি কেউই। মনোকষ্ট আর হতাশাগ্রস্ত হয়ে ফিরে আসতে হয়েছিল খালেদা জিয়াকে। খবরটা জিমই আমাকে ফোন করে জানিয়েছিলো। নিয়তির পরিহাস!

চক্রান্তকারী ভারতীয় দালালদের প্রভাবে বিরল সুযোগ পেয়েও তার সদ্ব্যবহার করতে পারলেন না বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদ এবং ধর্মীয় মূল্যবোধের ধারক-বাহকের দাবিদার দেশনেত্রী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া! এরপর আমি আমার গতানুগতিক রাষ্ট্রদূতের দায়িত্বই পালন করে চলেছিলাম। ডিপ্লোম্যাটিক কোরের ডিন হিসেবে অনান্য রাষ্ট্রদূতদের তুলনায় আমাকে ব্যতিক্রমী বিভিন্ন দায়িত্ব পালনে কিছুটা বেশি ব্যস্ত থাকতে হয়। একই সাথেপর্যবেক্ষণ করছিলাম জাতীয় শত্রুদের সাথে আপোষের রাজনীতির তামাশা।

সমঝোতা মোতাবেক পরিকল্পিতভাবে আওয়ামীলীগ, জামায়াত এবং জাতীয় পার্টির ঐক্যবদ্ধ খালেদা সরকার বিরোধী আন্দোলনে প্রতিদিন নতুন মাত্রা যোগ হতে থাকে। একই সাথে ‘হাওয়া ভবন’ কেন্দ্রিক তারেক জিয়ার দাম্ভিক আচরণ, দুর্নীতি ও সরকারি এবং দলীয় সিদ্ধান্তে ‘হাওয়া ভবনের’ অযাচিত হস্তক্ষেপ, অভ্যন্তরীণ কোন্দল খালেদা জিয়াকে কোণঠাসা অবস্থায় অসহায় করে তোলে।

এই অবস্থায় পরিবারতন্ত্র কায়েমের লক্ষ্যে আচমকা তারেক জিয়াকে দলের অনেক সিনিয়র নেতাদের মাথা ডিঙ্গিয়ে পার্টির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট বানিয়ে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জ্বলন্ত লাভায় ঘি ঢাললেন খালেদা জিয়া। শুরু হলো মনকষাকষি এবং দলীয় কার্যক্রমের প্রতি ত্যাগী নেতাদের অনীহা। এর প্রভাব পড়লো কর্মীদের মধ্যেও।

নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন না হওয়ায় তারাও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ল। অন্যদিকে ‘হাওয়া ভবন’থেকে তারেক জিয়া কর্তৃক সরকারি এবং পার্টি সিদ্ধান্তে কলকাঠি নাড়ার ফলে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সৃষ্টি হয় অরাজকতা। এই অসহায় অবস্থায় মিত্রহীন খালেদা উপায়হীন হয়ে রাষ্ট্রপতি শাসন ব্যবস্থার জায়গায় সাংবিধানিক পরিবর্তন এনে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা প্রবর্তন করে আওয়ামীলীগের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হন। কিন্তু কেয়ার টেকার গভর্নমেন্ট-এর অধীনে নির্বাচনের দাবিটি মানতে রাজি না হওয়ায় তার সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলন আরও দুর্বার করে তোলে আওয়ামী-জামায়াত জোট। সেই বেসামাল অবস্থায় ঘরের শত্রুরাও বিভীষণ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে তার সুপুত্র তারেক জিয়া এবং তার সাঙ্গপাঙ্গ এবং ‘হাওয়া ভবনের’ চামচারা, কোকো, সাঈদ ইস্কান্দার, চকলেট আপা শহীদ জিয়ার গর্ব ‘ভাঙ্গা স্যুটকেস আর ছেঁড়া গেঞ্জির’ কাহিনীকে বিসর্জন দিয়ে জড়িত হয়ে পড়ে অবাধ দুর্নীতিতে। দুর্নীতির মাধ্যমে জিয়া পরিবার রাতারাতি কোটিপতি হয়ে ওঠে, খালেদা জিয়া উটপাখির মতো বালির ঢিবিতে মাথা গুঁজে সব দেখেও না দেখার ভান করে মুখে কুলুপ এঁটে নিশ্চুপ থাকেন।

বয়স বেড়ে চলেছে, কিন্তু সেই অনুপাতে শিফন শাড়ির বাহার, দামি অলংকার আর পরচুলার চাকচিক্য কমার পরিবর্তে বরং মাত্রাহীন ভাবে বেড়ে চলেছে। নির্বাচনী ওয়াদা পূরণের ব্যর্থতায় জনসমর্থনও দ্রুত কমতে থাকে। সময়ের সাথে যতই খালেদা সরকার দুর্বল হয়ে পড়ছিল ততোই আওয়ামী জোট তাদের চাপ বৃদ্ধি করতে থাকে সংসদে এবং রাজপথে।

এমতাবস্থায় সরকারের মেয়াদ শেষে তিনি বিগত স্বৈরশাসক জেনারেল এরশাদের মতোই নির্বাচনের ঘোষণা দেন দলীয় সরকারের অধীনে। সেই নির্বাচন বর্জন করে আওয়ামী জোট, জামায়াত এবং জাতীয় পার্টি।ফলে নির্বাচন এক প্রহসনে পরিণত হয়। এই ধরনের অপরিপক্ব হঠকারী পদক্ষেপের পর খালেদা জিয়ার অবস্থা আরও সঙ্গীন হয়ে পড়ে। শেষরক্ষার জন্য নিরুপায় খালেদা জিয়ার সরকার জাময়াতের ‘কেয়ার টেকার’ সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিটি মেনে নিয়ে এর জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধনী সংসদে পাশ করিয়ে তার দলের মনোনীত রাষ্ট্রপতি জনাব আব্দুর রহমান বিশ্বাসের হাতে ক্ষমতা দিয়ে সংসদ বিলুপ্ত করে দেন। রাষ্ট্রপতি একটি ‘কেয়ার টেকার’ সরকার মনোনীত করেন। তাতে খুশি হতে পারেনি আওয়ামী জোট এবং তাদের দোসররা। সেই জন্য হাসিনা ও তার প্রভু ভারতের ইঙ্গিতে তৎকালীন সাঈদ ইস্কান্দারের পরামর্শে খালেদা জিয়ার নিয়োজিত সেনাপ্রধান জেনারেল নাসিমের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টেকে উৎখাতের জন্য একটা সামরিক ক্যু’দাতা ঘটানোর চেষ্টা চালানো হয়। নড়বড়ে সরকারের রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে জেনারেল নাসিমের ক্যু সফল হবে সেটা অবধারিত মনে করে হাসিনা প্রকাশ্যে জেনারেল নাসিমের ক্যু’দেতাকে সমর্থন জানান যেমনটি জানিয়েছিলেন বেআইনী ভাবে সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ যখন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি সাত্তারকে বন্দুকের জোরে পদত্যাগে বাধ্য করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কব্জা করে নেন। জনাব বিশ্বাসের বিরুদ্ধে সামরিক অভ্যুত্থানের পেছনে মুল ক্রিয়ানক ছিল ভারত সমর্থিত জেনারেল নাসিম আর্মি চিফ, জেনারেল হেলাল মোরশেদ, ব্রিগেডিয়ার মিরণ এবং জেনারেল ইব্রাহিম বীর প্রতিক।

কিন্তু কয়েকজন সাচ্চা জাতীয়তাবাদী কমান্ডারদের প্রতিরোধের মুখে নাসিমের অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়। কমান্ডারদের মধ্যে জেনারেল ইমামুজ্জামান, জেনারেল ভুঁইয়া, জেনারেল মাহবুব এবং জেনারেল মতিনের নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। এরপর রাষ্ট্রপতির পরিবর্তে একজন নির্দলীয় ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি তথাকথিত ‘কেয়ার টেকার’ সরকার গঠিত হয় আওয়ামী জোট, তাদের দোসর জামায়াত, জাতীয় পার্টি এবং বিএনপির গ্রহণযোগ্যতার পরিপ্রেক্ষিতে।

অনুষ্ঠিত হয় ১৯৯৬ সালের নির্বাচন। এই নির্বাচনে কোনও দলের পক্ষেই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করা সম্ভব হয়নি। খালেদা জিয়া শুধুমাত্র ক্ষমতার লোভে সরকার গঠন করার জন্য সব নীতি-আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়ে তার স্বামী শহীদ জিয়াউর রহমানের করুণ মৃত্যুর পেছনে ধূর্ত চক্রান্তকারী স্বৈরশাসক এবং ভারতের পোষ্যপুত্র জেনারেল এরশাদের সমর্থন আদায় করার জন্য তাকে প্রধান মন্ত্রীর পদ দেবার অঙ্গীকার করে অনেক আকুতি মিনতি করেও ব্যর্থ হন। আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা পক্ষান্তরে খালেদার আদিখ্যেতা দেখে ক্রূর হাসি হেসে জামায়াত এবং এরশাদের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করে নিজে প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন হন। এই নির্বাচনে খালেদা জিয়ার দল ১১৬ টি আসন লাভ করে সংসদে বিরোধীদলীয় নেত্রীর আসন অলংকৃত করে। জামায়াতের সিটের সংখ্যা ১৮ থেকে কমে এলেও আওয়ামী লীগের কৃপায় জনাব গোলাম আজমের নাগরিকত্ব লাভ করতে জামায়েত ইসলামী সমর্থ হয়। এরশাদ জেল থেকে মুক্তি পেতে সক্ষম হন। ব্যর্থ ক্যু’দাতার শিরোমণি জেনারেল নাসিম এবং তার দোসরদের কোর্টমার্শালে প্রাপ্ত সাজা মওকুফ করে দেয় শেখ হাসিনা সরকার। শুধু তাই নয়, তাদের চাকুরি থেকে বরখাস্তের কোর্টের রায় বাতিল করে তাদের সৌজন্যে অবসর প্রদানের আদশ জারি করা হয় যাতে পেনশনসহ অন্যান্য সব সুবিধাই তারা উপভোগ করতে পারেন।

ফিরে যাই ১৯৯৬- এর নির্বাচনের পূর্বে নাইরোবিতে থাকাকালিন অবস্থায় আমার চাকুরি জীবনে আর একবার যবনিকাপাত কি করে ঘটেছিলো সেই পর্বে। ১৯৯৩ সালে চাচা, খালাম্মাকে সাথে নিয়ে যুগলে ফরজ হজ্ব করে নাইরোবিতে ফেরার পর অপ্রত্যাশিতভাবে ঘটে এক দুর্ঘটনা! একদিন প্রত্যুষে ফজরের আযানের পর অজু করার জন্য বিছানা থেকে উঠতে গিয়ে নিম্মির স্লিপডিস্ক হওয়ায় ও চিৎকার করে মাটিতে পড়ে যায়। পড়ে যাবার পর নিম্মি একদম নড়াচড়া করতে পারছিলো না, শুধু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলো। জরুরী ভিত্তিতে এ্যাম্বুলেন্স আনিয়ে তাকে নাইরোবি হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর ডাক্তাররা জানালেন, লোয়ার লাম্বারে একটা ডিস্ক কলাপ্স করেছে বাজে ভাবে ডিজেনারেটেড অবস্থায়। হতবাক হয়ে গেলাম। নিম্মি বরাবর তার খাদ্যাভ্যাস এবং শরীরচর্চার বিষয় খুবই সচেতন!

প্রেসিডেন্ট জেনারেল আইয়ুব খানের আমলে সারা পাকিস্তান ব্যাপী কথক নাচে ও সর্বপ্রথম স্থান অধিকার করে গোল্ড মেডেল পেয়েছিলো কলেজে পড়ুয়া ছাত্রী অবস্থায়। সেই নিম্মিকেই হাসপাতালে বিশেষ চিকিৎসার অধীনে ঘাড়ে-কোমরে-পায়ে ট্র্যাকশন নিয়ে বিছানায় শয্যাশায়ী করে রাখা হয়েছিলো দীর্ঘ দেড় মাস। দেড় মাস পর নিম্মি লাঠির উপর ভর দিয়ে কিছুক্ষণের জন্য উঠে দাঁড়াতে সক্ষম হয় অতি কষ্টে। ঐ অবস্থাতেই তার ইচ্ছায় বাসায় নিয়ে আসলাম। চিকিৎসা চলতে থাকলো। বাসায় নিয়মিত আসছে ডাক্তার এবং ফিজিওথেরাপিস্ট। নিম্মির অসুস্থতার সংবাদ জানা মাত্রই নিকট আত্মীয়-স্বজন সবাই ছুটে এলো নাইরোবিতে।
স্বপন ও কেয়া দু’জনেরই ব্যাক প্রবলেম ছিলো। দু’জনই প্রায় পঙ্গু হয়ে যাচ্ছিলো। সেই সময় তাদের এক বন্ধুর পরামর্শে দুইজনই সিঙ্গাপুরের একজন বিখ্যাত অর্থপেডিক সার্জন ডঃ ফ্রেডি চু-এর কাছে যায়। তিনি তাদের পরিষ্কার বলেন স্পাইন এর অপারেশন-এ সাফল্যের সম্ভাবনা কম। তাই তিনি অপারেশনের পক্ষে নন। তবে তারা রাজি থাকলে তিনি চৈনিক ট্র্যাডিশনাল পন্থায় তাদের চিকিৎসাকরতে পারেন। তারা রাজি হওয়ায় তিনি চিকিৎসা করেন এবং দু’জনই ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠে। কেয়া ও স্বপনের জোরাজুরিতেই নিম্মিকে ডঃ ফ্রেডি চু-এর কাছে নিয়ে গেলাম। স্বপনই সব ব্যবস্থা করে দিল। নিম্মিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ডঃ ফ্রেডি চু বললেন, নিম্মির কেসটা কেয়া এবং স্বপনের চেয়ে জটিল বিধায় প্রতি তিনমাস অন্তর তাকে সিঙ্গাপুর আসতে হবে দুই সপ্তাহের জন্য। ওই দুই সপ্তাহের মধ্যে মেরুদণ্ডে ইনজেকশনের সাথে কিছু বিশেষ ফিজিওথেরাপিও গ্রহণ করতে হবে অভিজ্ঞ চৈনিক ফিজিওথেরাপিস্টের কাছ থেকে। এভাবেই চিকিৎসাচলবে এক বছর। এরপর অবস্থার উন্নতি দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শুরু হলো চিকিৎসা। সময়ের সাথে অভূতপূর্ব উন্নতি পরিলক্ষিত হলো আল্লাহ্‌র রহমতে। এক বছরের মধ্যেই নিম্মি অনেকখানি সুস্থ হয়ে উঠলো। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ডঃ ফ্রেডি চু ঠিক করলেন দ্বিতীয় বছর তিন মাসের পরিবর্তে ছয় মাস অন্তর সিঙ্গাপুরে আসার। দ্বিতীয় বছরের শুরুতেই নিম্মি প্রায় স্বাভাবিক হয়ে উঠল, চার্ট মোতাবেক ব্যায়াম করছে, হাঁটছে নিয়মিতো, ফলো করছে ডায়েট চার্ট। কিন্তু হাতে ছড়িটা রাখতে হচ্ছে কোনও প্রকার দুর্ঘটনা থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য।

সেই সন্ধিক্ষণে নাইরোবিতে আমার টেনিওর প্রায় শেষ হয়ে আসছিলো। তাই পোস্টিং অর্ডার আসার আগেই আমি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়ের মাধ্যমে লিখিতভাবে প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আবেদন জানালাম, মানবিক কারণে নিম্মির চিকিৎসার সুবিধার্থে আমাকে যাতে সিঙ্গাপুর কিংবা তার নিকটবর্তী কোনও দেশে পোস্টিং দেয়া হয়। সেই আবেদনের জবাবে পেলাম পোস্টিং অর্ডার সুদূর ব্রাজিলে রাষ্ট্রদূত হিসাবে। এই পোস্টিং অর্ডার পেয়ে কিছুটা হতবাক হয়ে প্রধানমন্ত্রীকে আর একটি চিঠি লিখে পাঠালাম। তাতে জানালাম, সুদুর ব্রাজিল থেকে সিঙ্গাপুরে নিম্মির চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ এবং ব্যয়সাপেক্ষ। সার্বিক বিবেচনায় তিনি যাতে আমার পোস্টিং অর্ডারটা পুনর্বিবেচনা করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জবাব এলো। আমাকে জানানো হল, আদেশ অমান্য করার জন্য সরকার আমাকে চাকুরি থেকে অবসরে পাঠাবার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আমার রিপ্লেসমেন্ট পাঠানো হচ্ছে, তার কাছে চার্জ বুঝিয়ে দিয়ে আমি যাতে সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে অবসর গ্রহণ করি। জবাব পাওয়ার দুই-তিনদিনের মধ্যেই এসে উপস্থিত হলেন আমার স্থলাভিষিক্ত হয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন আমলা জনাব মোমেন। সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে তার কাছে চার্জ বুঝিয়ে দেয়ার মাধ্যমে দীর্ঘ ২০ বছরের কূটনৈতিক জীবনের ইতি ঘটল কিছুটা অস্বাভাবিক ভাবেই।
১১ই এপ্রিল ১৯৯৫ সালে আমার স্থলাভিষিক্ত হলেন নবাগত রাষ্ট্রদূত। আচমকা এ ধরনের সরকারি সিদ্ধান্তে অস্বস্তিকর অবস্থায় নিজেরাও কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিলাম।

সেই সন্ধিক্ষণে দেবদূতের মতই পাশে এসে দাড়াল বিশ্বস্ত পরম বন্ধু রব্বানি খান। আমাকে হতোদ্যম হতে না দিয়ে বললো চাকুরিচ্যুতি এবং চাকুরি ছাড়ার ঘটনা তোমার বর্ণিল জীবনে কোনও নতুন ঘটনা নয়। সাক্ষাৎমৃত্যুর হাত থেকেও পাঁচবার বেঁচে গেছো তুমি। এ সমস্ত কিছুর মধ্য দিয়েই মহান সৃষ্টিকর্তা ও প্রতিপালক তোমাকে তার অসীম করুণায় এগিয়ে চলার পথ দেখিয়েছেন অতীতে, ভবিষ্যতেও অভীষ্ট লক্ষ্য হাসিল করার জন্য তার রহমত তোমার উপর থাকবে এবং তিনিই ভবিষ্যতে সঠিক পথের সন্ধান দেবেন ইন শা আল্লাহ্‌ এটা আমার দৃঢ় বিশ্বাস। তুমি অবিচল হয়ে সব প্রতিকূলতার মোকাবেলা করে যাও সাহসী একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে। রাব্বুল আলামিন সব কিছুই জানেন এবং দেখছেন। তুমি যেভাবে ইমানের সাথে তার কাছে সম্পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ করে তারই সৃষ্ট বিশ্বমানবতা এবং নিপীড়িত মুসলিম উম্মাহর স্বার্থে জাগতিক সব প্রলোভন উপেক্ষা করে একমাত্র তাকেই খুশি করার জন্য নিজেকে উৎসর্গ করার শপথ নিয়ে তার রহমতের উপর ভরসা করে বহু দুর্গম চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে চলেছো, তাতে তিনি নিশ্চয়ই তোমার নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগের জন্য পুরস্কৃত করবেন এটা আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি। সব অন্যায়-অবিচারের বিচার তিনি অবশ্যই করবেন।

অদ্ভুত আমার বন্ধু এই রব্বানি খান! কোহিনূরের চেয়েও দুর্লভ এক হীরের টুকরো। আধ্যাত্মিক এবং জাগতিক জ্ঞানের এক বিশাল ভাণ্ডার। জাগতিক মানদণ্ডে একজন ঈর্ষণীয় ধন ও যশের অধিকারী হয়েও অন্তরে একজন সাধক ফকির। উম্মতে মোহাম্মদ(সাঃ) রব্বানি খান জাগতিক জীবনের সব দায়িত্ব পালন করার সাথে সাথে দৃঢ় ইমানের ভিত্তিতে আন্তরিক একাগ্রতার সাথে আল্লাহ্‌তায়ালার নৈকট্য পাবার জন্য লোকচক্ষুর অন্তরালে কঠোর সাধনা করে চলেছে। তার উদার আর অতি স্বচ্ছ মনের গভীর অন্তর্দৃষ্টি আমাকে বারবার অভিভূত করেছে তার নৈকট্যে আসার পর থেকেই। এ জগতের মানুষ হয়েও রব্বানি যেন অদৃশ্যলোকের কেউ ! বিভিন্ন ঘটনায় তেমনটিই মনে হয়েছে আমার। হটাৎ করেই বছর তিনেক হল পরম একান্ত প্রিয় বন্ধু এবং সাথী রব্বানি কিছুটা আকস্মিকভাবেই আমাদের ফাঁকি দিয়ে ফিরে গেছে না ফেরার দেশে। আল্লাহ পাক তাকে জান্নাতুল ফিরদউসে স্থান দিন সেই দোয়াই করে চলেছি।

Again at Dhaka

Within a week it was decided to go to Dhaka. After reaching Dhaka we camped at Minu Fuppu’s house again. But as forced by Shapan and Rosy we had to spend first two three days at their house. Qamrul Haq Shapan Bir Bikram, my only younger brother. The age difference is three to four years. He is a well known freedom fighter and established businessman. In sixties after completing his studies at Faujdar Hat Cadet college he left for the American University in Beirut on scholarship. After graduating from there he went to Germany for higher studies. After getting the degree from there he returned back to the country and set up his own business at the same time got admitted in the IBA department in the Dhaka University to complete his MBA. But before he could get his degree the liberation war started. Right at the beginning Shapan, Badi, Kazi, Shacho, Jewel, Azad, Badal, Alam, Chullu, Samad, Meoya, Rumi, Fazle, Sathe Ali, Ulfat, Mokhtar, Tayab Ali and a few more other friends went to Tripura and joined the canp at Melaghar under No2 sector to be trained as guerrillas. After the training this band of Guerrillas were inducted into Dhaka for carring out operations against the occupied Pak Army known as the ‘Khan Senas’. All of them were my beloved close ones. This dare devil Guerrilla band created horror in the mind of the Khan Senas by executing unpresidented hair raising operations at the capital. Most of the ferocious operations carried out in Dhaka were the actions of this Guerrilla band. A few out of many worth mentioning were operation at the Inter Continental Hotel, Farm Gate operation, Shiddhir Ganj Power Plant operation, Demra operation, Gulberg Power Plant operation, Dhanmandi operation, Jatrabari operation, the daring operation to rescue Gen. Nurul Islam Shishu and Brig. Khaled musharrof’s family from the captivity of the Pak army and taking them across the border safely.

The Jawans and the officers of the Pak Army including their higher commands at the headquarters were panicked and fearfully on their toes about the activities of this Guerrilla band. But one night during the war, due to the treachery of Farid, the younger brother of late Ivey Rahman an Awami League leader and wife of late President Zillur Rahman, the Pak Army carried out a Blitz Krieg operation and managed to capture most of the Guerrillas of this Band from various locations in the city including my father, all other male members of the family including the domestic aids. All were taken to the cantonment. Only two could escap alive from that operation. Kazi Kamaluddin and Shapan with a bullet injury at the back. However, those Guerrillas who were out of town that night remained safe and alive. None of the captured Guerrillas could come out from the cantonment alive due to appoling betrayal of the traitor Farid, a Mir Jafar incarnated! Captured Guerrillas were brutally tortured before they had to embress Sahadat. But some how the civilians who were taken into custody were also inhumanly tortured but not killed. Thus, all of them including my father, male family members and the domestic aids could be freed in almost half dead condition after the surrender of the Pakistan armed forces on 16th December 1971.

Most of these Guerrillas came from affluent class and were stars in their university life having bright future in front. But being imbued with the spirit of patriotism and driven by self conscience against the unjust atrocities these golden brave sons of the soil shunned all attractions of worldly life and picked up arms and plunged in the liberation war to free their home land. Has the nation particularly the rulers who claims to be the champion of the spirit of ‘71 been able to give due respect and recognition to such valliant selfless freedom fighters? No one writes about their tales of heroism. No seminor or simposiam is arranged to praise their supreme sacrifices. They had perished unsung and neglected. A few who are still alive are leading a deplorable life. Some are even begging for their bare existence. On the contrary one can see two families headed by two ladies being at logger heads shamelessly scratching each other’s face or pulling their hairs riding on the shoulders of the innocent people just to establish the claim that Bangladesh is their ancestral property. There is no darth of seminar, simposiam, procession, public meeting, motor show headed by them. Off and on these are organized. Similarly, disghusting rat race is on for the most corrupt, characterless, scoundrel siblings of those two families to be established as the hair apperent crown prince of Bangladesh. Really, this is a strange country indeed!

Don’t we have brave young men and women in the present generation to dispel this saying? Can it be expected in future generations? The nation who can not give or does not know how to give due recognition to the brave patriots, they can never claim to stand heads high with self respect. If this lesson of the history is not taken then the existence of an independent prospective Bangladesh will be vanquished. As a result, there would be no future of 18 Crores of Muslims population of Bangladesh.

How this nefarious design had begun to know that those who are interested might read my published book ‘Kichu Kotha Kichu Betha’. If the book can’t be procured from the market then this could be read or down loaded from the web site www.majordalimbubangla.com. I with due respect had written the heroic tales of a few of my fellow unsung freedom fighters. They were not given their due recognition or any gallantry award inspite of my best efforts as the Advisor to the Sector Commanders or a Commander of the Mukti Fauj. With unbearable pain I had pened down the factual accounts of selfless dedication of those heroic fellow freedom fighters in the book ‘Kichu Kotha Kichu Betha’. Like those thousands of heroic tales of the freedom fighters had been suppressed  in a planed way to marginalize the contribution of the freedom fighters in the eyes of the people at home and abroad for the sake of Indian interest in particular. In ’71 regardless of class difference what was the spirit of the greater majority of genuine, selfless and patriotic freedom fighters what was their mind set and aspiration. To have a better understanding in this regard for the present and future generations I shall mention below about two freedom fighters.

Before my return for Germany after treatment Shapan and Kazi came back to the country after successfuly passing out from the IMA Dehradoon, but both refused to join the army. Shapan got engaged to reestablish his business at the same time concentrated to complete his MBA. Kazi became a member of the national bascket ball team of Pakistan while he was a university student. After complision of his studies Pakistan government sent him to Germany to be trained as a proffessional coach. On return he joined the sports federation of the than East Pakistan as an official. After liberation he decided to join Bangladesh sports federation as an official and alongside he started his own business. Gen. safiullah, Gen. Zia, Gen. Nurul Islam Shishu and Brig. Khaled Musharrof tried their utmost convincing them to join the army. But both remained steadfast to their decisions agaist their counselling. Their logical reply was that they had decided to join IMA as Cadets considering that the liberation war might get prolonged should it be allowed to continue its natural course and in that case the higher training at the IMA would become usefull. But while they were undergoing training the liberation war was not allowed to follow its natural course but hijacked by India and declaring war against Pakistan could easily achieve victory over the blood and weat pof the freedom fighters of the Mukti Fauj projecting to the people of earstwhile East Pakistan and the outside world that the independent state of Bangladesh is a gift of their victory over Pakistan.

Such a premature independence through a cesarean operation might turn into defenceless enslavement in near future. In that case what would be the role of professional officers like you all that is not known. We had joined the war to fight our own war ourselves to liberate the country with out any expectation to become careerist officers. Should it be necessary any juncture in our life time to start another liberation war for protecting insecured independence then we shall again pick up arms being freedom fighters.

such spirit and mind set reflected the charished dream of hundreds and thousands of nationalist patriotic freedom fighters and majority of the people. this charished dream has not been materialised till this date even after more than four decades due to the brtrayal, misrule, corruption and boot licking of their foreign masters of rulers men and women alike. The younger generation must also ponder who is responsible how much for this failure. the liberation war of ’71 could inspire the generation of that time with true spirit of nationalism. As they had broken all class barriers and merged with the commoners and fought united as one their, patriotism, conciousness about poluted political and social culture had sharpend. They all became more matured than their age. Therefore, they took resolute stand as an organized force on behalf of the greater majority of the down trodden people who had been unjustly persicuted, neglected, opressed and denied their just socio-economic and human rights for ages. Emergence of such an indominatible force was seen as a nightmare by the decadent tarmited vested interested quarters and as a result, they became targets of the killing sprees. State terrorism and ‘LAL GHORA’(Different Bahinies of party hoodlums and killing squards) were unleashed against them by none other than Sheikh Mujibur Rahman himself to start with followed by the others. It was again he who had boastfully introduced judicial killing in custody in newly independent Bangladesh. Though such atrocious brutality managed to suppress that spirit temporarily but ultimately all evil forces have to concede defeat to such a unified streanth which grows out of a bloody war based on the interest of the country and its people, this is the lesson of the history. Only such a united force imbued with the spirit of nationalism and interest of the vast majority can be the impregnable shield to ensure the existence of the country and the nation.

The day I reached Dhaka, I received the messege that the Prime Minister desires to meet me at her residence at 9PM next day. Accordingly I reached at the appointed time. I was taken to the sitting room by the same fellow Mr. Falu with his teeths out. little kater Bhabi moved in scewing Paan masallah. I realised she was waiting anxiously. As I stood up and conveyed my Salam she indicated a sofa to sit and sat beside me.

While placing the order she wanted to know

Hope you wouldn’t object to have a cup of tea and asked

How was your trip to America?

With out saying anything I took out three sealed envelops and handed over to her requesting to go through them.

She got her reading glasses and went through the letters mindfully. Initially she was quite surprised and then enthusiastically asked

How could this be possible?

The right answer to this is not known to me as well. I replied.

More I try to understand you more I get surprised. How can you get such difficult tasks so easily?

I only try sincerely, The result is given by Allah Subhanwatala.

You said it right, now tell me what should I do?

We have a friend named Jim Corman. He had been elected uncontested as a Congressman from his constituency over three decades and held many important and responsibble offices. He is adored by all in the corridors of power as an experienced and influential person. He would be working as the linkman between you and other friends regarding all matters. He would also be your main advisor regarding your visit and how to develop your personal relationship with the invisible pillars at the corridors of power and finding solutions to any other complexities that might arise. I shall get him introduced initially to you once you decide to invite him.

In that case, I should send him the invitation letter on my behalf at soon as possible so that he can visit at his earliest convinience. What do you say?

Rightly so, but I thing it would be better not to have the first meeting in Dhaka but to a 3ed country. Afterwards as an old aquentence if you as the Prime Minister or personally call him whenever you desire that would be a normal affair and no one would view that suspeciously.

Your reason is well understood. But at the moment I do not have any other schedule to have a foreign trip other than participating in the Commonwealth Summit in Zimbabwe beside visiting Beijing.

In that case you can do one thing. You may consider to tell the Foreign Minister to include me as a member of the deligation in that Summit. Before that you have to arrange to send me the invitation letter for Jim secretly. I shall send that to Jim and request him to come over to Harare in time. In Harare during the Summit I shall arrange a secret meeting for you to meet Jim. While talking I had to take some home made cakes(Pithas) along with tea at Bhabi’s request.

Okay, I shall be doing everything as you have suggested. Now I would like to seek your openion on two issues.

Please feel free.

Since I have formed the government Awami League and Jatiyo Party of Ershad have raised the demand to change the form of government from the Presidential to the West Minister style parliamentary government. On the other hand Jamyat is going to raise their demand to hold future national elections under a ‘care taker government’. I am hearing that they are going to launch their movements simultaniously on these two issues within and outside the parliament very soon. What is your considered openion on these two issues?

In this regard, it should be you all who have to deliiberate diligently and take decisions. However, to me both these two issues look to be sinister moves having far fetched implications so that Bangladesh can ever have a stable government to function smoothly. This of course can be debatable. I shall not go into any detailed discusson but only humbly submit the Presidential government was introduced in Bangladesh for the first time by no other person but late Sheikh Mujibur Rahman who’s words were laws. Even then why was he compelled to introduce the Presidential form of government? And after taking over the state power why late President gen. Zia and fallen dictator Gen. Ershad continued to rule the country with the Presidential form of government? Before taking any decision on this issue these two questions need to be pondered seriously. The reasons why all these three rulers had decided to retain this system should be looked into thoroughly.

There is no example of holding national elections under a care taker government anywhere in the world. In view of this an underdeveloped country like Bangladesh where more than two third people still lives below poverty line, in a country where all the governments who had come and gone uptill now had failed to meet the bare minimum requirements for the existence of its people such kind of experiment is nothing but a luxury that can’t be considered as the priority. Your priority should be the demands of the people rather than the demand of Jamayet which has got only 17 seats. Besides, in your election manifesto none of these two issues were included so you have no obligation to the people about these issues. In view of this, why you or your government should take the responsibility to oblige both Janayet and Awami League? You should explicitely explain to the people in this regard.

Many are saying that I shall not be able to defeat Hasina in the Presidential election.

I shall beg to differ with this speculation. Your party organizationally is weaker than Awami League even then you have won. Is it due to your party’s organizational streanth? Not at all. The people have voted you to victory as the wife of martyered President Gen. Ziaur Rahman and as a good Muslim, anti fascist and anti Indian non compromising leader. Your candidates have not got votes for their abilities, the votes have been casted to your party symbol ‘Pedy sheaf’(Dhaner Shish). Against this reality, those who are trying to say that you would be defeated against Hasina because her personal popularity is more than yours is irrational.

Regrettably I must say that those who are saying so, their sole aim is to curtail your power. Immediately after the results of the elections were declared Hasina claimed in a press conference that there was discreet rigging in the elections. Simulteniously, she had also vouched that this government would not be allowed to remain in peace for a moment. In that context, should you decide to weaken yourself stepping into their trap and compromise to make a way for Hasina then that’s a different matter. I must also be candid many who are around are not sicerely loyal to you. They are self seeking oppurtunist doves who move with the pull of the strings of their foreign masters attached at their back. All their allegiances center around perpetuating their self interests. Do not forget, inability to identify friends and fows was one of the main reason for the premature sad demise of President Gen. Zia.

Bhabi was attentively listning to what I had been saying. After finishing what I had to say, as I was about to stand up to beg leave Bhabi suddenly Said

Bhai, I shall once again requesting you to stand beside me as the Senior Minister.

Bhabi having due respect to your sincerity being embarassed I must say again it is not practically possible any longer for me or any one of us to join BNP and do politics. Rather please try to keep up  your promise that you had made yourself before the elections that if you win the elections and form the government then you will redress all the injustice that had been done to us so long and shall rehabilitate us in the society by bringing us back to the country. That would be more beneficial for both sides. Having said so I begged leave and came back home.

From todays conversation one thing became clear. Hasina’s outrageous uuterances at the press conference were not just a threat, the conspiracy to destabilize Khaleda Zia’s government has already started with the connivance of the Chanaykas and RAW.

India will never want that Bangladesh gets out from its radder and dares to persuse an independent foreign policy. Bangladesh unfortunately is surounded from three sides by India. This being the ground reality it can only move forward to progress and prosperity adopting a foreign policy centering around PRC at the same time attempts should be made to develop cordial relation with America and other Europian powers along with the member copuntries of the OIC on the basis of equality and mutual interest beside countries of the 3ed world. However, Bangladesh have to be carefull not to persue any policy with any other country which might create any misunderstanding in its bilateral relation with PRC. With out a clear perception in this regard it would not be possible to move forward in any front as an self reliant independent country. The country with enormous prospect will plunge into dark dungeon with the passage of time as a non viable failed state. Therefore, from the very on set utmost secrecy should be maintained. Because, before any bilateral relation is established on firm basis if it is divulged then any such initiative taken would be easily nipped in the bud by neiboring India which maintains powerful lobby all around the Globe spending millions of Dollars. i returned to Nairobi. from there I informed everything in details about my talks with the Prime Minister to Ganga Bhai and Jim. I also expalined why we have decided to have the introductory meeting at Harare. There after time was passing in anxity and uncertainity. At that jucture one day I received an unexpected call from the Foreign Minister. He complained that I had visited Dhaka and gone back with out meeting him.

I got alermed at his such taunting remark! Has Bhabi revealed all about the plan trusting him? If she has done so then by now everything has been reached the South Block for sure and as a result all our efforts are bound to go down the drain. Not only that, if this golden opportunity is lost then the country and the nation will suffer the most. What Khaleda Zia will be losing personally that is not of any primary concern.

After that call the wind started blowing from other way round! I saw doves like Moudud and others who had joined hands with Gen. Ershad stepping on the blood of Gen. Zia had got easily entrenched themselves again in BNP under the petycoat of Khaleda Zia with the patronization of party stalwarts like Badruddoza Choudhury and Col. Mustafizur Rahman. Through Brig. Hannan Shah Mr. Kader Siddiqi of Kaderia Bahini, who was convicted and awarded death sentence for treason during late President Gen. Ziaur Rahman’s tenure along with killers like Avi and Niru were brought back from India to be rehabilitated in the national politics after Presidential pardon. That wasn’t all. Khalrda’s government also awarded with a declaration of publishing a daily news paper and adequate fund was arranged from a bank for him to buy a sate of art press from abroad. On the other hand after installing Proff. Golam Azam as the Amir of the party Jamayet being a major ally started mounting pressure on Khaleda Zia to restore his nationality. Khaleda Zia tried to make Jamayet understand that it would be more appropriate to restore his nationality through court instead of an executive order. This was not accepted by Jamayet. They thought Khaleda Zia after winning the elections was trying to by pass the issue. Thus, tug of war had started between BNP and Jamayet.

Taking advantage of this rift to enhance the distance between Jamayet and BNP at the dictate of the Chanayakas with Hasina’s all out support and assistance from no where under the leadership of Jahanara Imam a platform called ‘Ghatak dalal Nirmul Commitee’ sprouted. Co-Convenor was Col. Kazi Nuruzzaman Bir Uttam one of the sector commander during the liberation war. But both were just the figure heads. The main players behind the scene were Shahriar Kabir, C.R. Dutt, the organizer of ‘Hindu, Buddist, Christian Parisad’, Col. Osman, Col. Sawkat Ali, Muntasir Mamun, Hasan Imam, writer Shawkat Osman, Shamsur Rahman, Nilima Ibrahim, Kamal Lohani, Nasiruddin Bacchu, M.R.Akhtar Mukul, Sufiya Kamal, A.B.M.Musa, Asaduzzaman Nur, Kabir Choudhury, Gaffar Choudhury, Tuhin Afroz, Nirmulendu Gun, Barrister Amirul Islam etc. The establish a people’s court at the Surahwardy Uddan and carried out a mockery of trial and after awarding death sentence burned the effigy of Proff. Golam Azam in public with fun fair. After this drama, the alliance between BNP and Jamayet had broken down. Considering that to be the most appropriate opportunity Awami League allured Jamayet with a bait and Jamayet swallowed that bait. A classic manifestation of opportunism! After a few rounds of sevret parlays between the top leadership of Awami League including Sheikh Hasina and Jamayet it was decided that Awami League on the issue of parliamentary form of government and Jamayet on the issue of care taker government will launch vigorous movement together unitedly within parliament and outside on the street to pull down Khaleda’s government. Gen. Ershad’s Jatiyo Party would be their ally.

Such understanding is nothing but ugly face of the politics with out any morality, values and iseology. After such a match making suddenly the wind from the sail of ‘Gha Da Nirmul Commitee’ depleted. Both Jahanara Imam and Col. Nuruzzaman realized that they have just been used by Hasina and her Awami League for political gains. With a heavy heart Jahanara Imam went away in self exile to USA and died there out of Cancer. Col. Nuruzzaman after realising his mistake retired from active politics for good.

The events that followed were even more disappointing. Being embolden with Indian support Col. Mustafizur Rahman cautioned Khaleda Zia and made her convinced that her association with the leaders of Sena Parisad particularly me might turnout to be a nightmare for her. At an opportune moment I shall black mail her to own up 15th August and shall prove to the world that Gen. Zia was involved with the revolutionary uprising of 15th August which brought the political change in Bangladesh. As a result, due to the outrage of neighboring India it might become difficult for her government to stay in power. Some like minded bureaucrats, intellectuals, journalists and senior party leaders reminded Khaleda Zia that Shaheed Gen. Zia had started his politics after categorically denying in public that he had any kind of associassion with the historic revolutionary uprisings of 15th August and 7th November. There on, as dictated by Gen. Zia BNP’s position as a party had been that he succeeded to be at the center of power due to his personal popularity within the armed forces and the people. This is how without taking any responsibility for ‘Mujib’s killing’ he moved ahead on the basis of his 19 point political programe and had been successful in building his image as a popular leader. He also had also succeeded to compromise with big neighbor India stating in no uncertain terms that he had nothing to do with ‘Mujib’s killing’ whats so ever at any stage. To prove his submission he commited to the Indian government to bring back Sheikh Hasina from exile in India for rehabilitating her in the national politics assuring all kind of help and assistance for the sake of doing politics of co-existance. In view of this, any kind of relation that khaleda Zia maintains with us would prove to be perilous to the politics that had been initiated by her husband Gen. Zia. Not only that now if she decides to bring any change in the political equations and foreign relations persued by her husband then her government would become non functional. Even her life could be threatened due to the rage of India. Against this backdrop, considering all aspects from now it would not be logical for her to maintain any relation with the Sena Parisad, August revolution or it’s leaders.

These paid lackies of India however, very tactfully avoided the most pertinant and important issues.

After compromising with India just to prove that he was not associated with the revolutionary uprising of 15th August he allowed Sheikh Hasina to return to Bangladesh with unusual state protocol when Awami League was getting fragmented in four pieces due to internal power struggle but on the 13th day after her return Gen. Zia had to pay a heavy price. He was slained in a conspiratorial abortive coup attempt hatched up by RAW. There is an age old saying, ‘As you sow so you reap’. The imposters did not even told her that India right after independence has been harboring the dream to be a world power. The pre condition to materialize this cherished dream India must establish itself as the pre dominating power in the sub-continent. The wizards at the South Block ever since are trying relentlessly to regain their ‘Bharat Mata’ following the ‘Nehru Doctrain’. As long as the artificially “Indian Union’ a quire creation of the colonial British Empire exsists the ruling elites of India will not change an iota from its sinister endeavor no matter how much consession the neighboring countries make. Annexation of Kashmir, Hyedrabad, Goya, Daman, Deu and Sikkim with armed aggretion and attempts to subdue all the secessionist movements in different states bringing them under the center with emergency and brute force are glaring examples of that. Therefore, rationally it can be said so long this artificially created ‘Indian Union’ forcefully created by the aggresive outside invading British colonialist power for maximizing their interests snatching away the homelands of distinctly different ethnic nations will not disintrigate in the historic perspective there can’t be any durable stability in this region of South Asian Sub continent. As a result the plight of more than one fourth of mankind shall never improve as the stability is pre requisite for any socio-economic progress. India was never one country. That is why different nations initiated and are continuing with their struggle for regaining their lost separate self identity and independence till this date soon after Hindustan came into existence as an independent country and British had left. Such movements within India is gaining streanth with every passing day and spreading fast in different regions within India inspite of military intervention by bringing them under the central government’s rule, severe persecution, repression and brutal oppression.

Sacrificing blood of any nation for freedom never goes in vain. The independence struggle may be prolongated, the freedom fighters can be martyred but the spirit for freedom can never be defeated. Bangladesh and Vietnam are two most burning examples in the contemporary history. ‘Man is born free and wants to live with freedom’. This natural phenomenon is being abided by the indomitable rising world power historically rest of the world powers shall have to accept this reality sooner or later for their own interests and world peace and stability. Any arrogance to deny this devine phenomenon will destroy the present civilization like many in the past.

Due to political immaturity, short sighted power centric wrong decision of Khaleda Zia, Jim’s invitation and intimation of my inclusion in the list of deligates were not received. As a result, the rare opportunity for persuing an independent balancing foreign policy to counter undue Indian pressure to consolidate our independence and to move ahead for a brighter future got lost.

I was perturb thinking about the dark future of the ill fated country and the nation. I informed everything to Jim and said apologetically

Jim, all our sincere efforts had gone in vein.

Jim replied

It had been good, as at the very beginning we have been able to see through the real character and competence of Khaleda. So, why are you upset? Khaleda or Hasina are not immortals, both will get lost from the scene one day but Bangladesh will stay. Now, I must tell you something for your consumption, The character traits, foresight and prudence are basically responsible for any country and nation’s progress or backwardness.

Later I learned that the Foreign Minister through one of his nephew living in USA got introduced to one Mr. Kanju, a wealthy businessman and top RAW operative. He managed an invitation for khaleda Zia to participate in the Presidential annual ‘Mass brakefast prayer’ spending millions of Dollars. On this occation about 100 heads of state or government and lumineries from around the world are invited. After the Mass followed by brakefast and a photo session the ceremony finishes. According to the prevailing practice none of the invisible powerful individuals participate in that ceremonious get togather. During this visit she was received at the airport by a deputy assistant under secretary of state of the state department. Bangladesh Embassy had published the news of her visit in Washington Post spending a heafty amount. Before leaving Khaleda Zia arranged a brakefast meeting at her hotel where she invited some of the friends but none had obliged her. Khaleda felt despondant and humiliated. Jim had called and apprised me about all these. What an irony! Being influenced by the conspiracy of the Indian lackies Khaleda Zia, the so called champion of the nationalist cause and religious values could not utilize the rare opportunity to streanthen by lateral relations with United States of America that was offered to her.

After the fiasco I was continuing with ny duties as the High Commissioner. As the Doyan of the diplomatic corps I had to remain occupied with some other obligations other than normal routine. At the same time I was watching the political drama of compromise back at home.

New issues were being added every passing day in the coordinated movement of Awami League, Jamayet and Jatiyo Party against Khaleda Zia’s government as planned. At the same time from the infamos ‘Hawa Bhaban’ Tareq Zia’s and his close cronie’s over bearing high handedness, wanton corruption, unwarrented interfearence in the decisions of the government and party, internal fudes nearly cornered Khaleda Zia helplessly. At that juncture suddenly appointing Tareq Zia the senior vice Chairman of the party over the heads of many senior party leaders Khaleda Zia added fuel to fire. The internal feud within the party intensified. The senior leaders were unhappy with this decision to introduce plutocracy within the party and virtually lost interest and had became inactive. This also had an adverse reflection among the party caders and activists. As the tested and sacrificing members were not duely recognized they also became despondant.  On the otherhand Tareq Zia’s maneuvering from ‘Hawa Bhaban’ almost made the whole government mechinary ineffective. The entire bureaucracy and state institutions were in shamble. In such a dismal situation Khaleda Zia gave in to the demand of Awami League. She changed the form of government from the Presidential to Parliamentary form. After scoring this victory as she refused to accept the demand to hold the national elections under a care taker government the untied movement of the opposition parties under the leadership of Awami League and Jamayet combine intensified almost to the point of no return. In such a precarious situation the enemies within also started flexing their muscles. Particularly, her able and powerfull son Tareq Zia and his cohorts, Koko, Sayed Iskandar, Chocolet Apa and the boot lickers at the ‘Hawa Bhaban’ threw away the mith of Zia’s ‘Torne vest and broken suitcase’ to the dustbin and got involved in ramphant corruptions. Due to mega corruption the Zia family became fabulously rich over night. Khaleda Zia like an Ostrich dipped her head into the sand deun and remained tight lipped pretending as if she could not see anything untowards that were happening.

Though aging compared to that her fancy about French Shiffon Sarees, expensive Jewelleries and Wigs was getting more and more intense. Her popularity was also waning due to failures of fulfilling her election pledges. More the government of Khaleda Zia was getting weaker Awami Jote was mounting more pressure within the parliament and outside on the street. This is how her tenure was finishing and she announced elections under her government like dictator Gen. Ershad. The election was boycotted by Awami League, Jamayet and jatiyo Party so, the elections turned into a furse. After such thoughtless decision Khaleda’s position became even more precarious and weak. So, having no other alternative she conceded to the demand of Jamayet as well and introduced the system of holding national elections under a ‘care taker government’ through constitutional amendments and stepped down dissolving the parliament after handing over power to her party’s nominated President Abdur Rahman Biswas. The President nominated a care taker government. Awami League, Jamayet and Jatiyo party were not happy with that.

Therefore, Hasina and her mentor RAW attempted to stage a Coup De’tat against President Biswas through Gen. Nasim, Chief of Army Staff nominated by Khaleda Zia’s brother Maj.(R)Sayed Iskandar. Being sanguined that the Coup against the weaker government of President Abdur Rahman Biswas would be successful Hasina openly supported Gen. Nasim’s initiative exactly in the same manner she had supported Gen. Ershad when he forced the ailing elected President Sattar to hand over the power to him at the gun point. But in the face of stiff resistence organized by a few brave nationalist senior commanders Gen. Nasim’s Coup attempt was foiled. Among those Gen. Imamuzzaman, Gen. Matin, Gen. Bhuiya and Gen. Mahbub’s names are worth mentioning. Thereafter, under a neutral person an acceptable care taker government to all the major parties was formed and the elections of 1996 was held. In that election no party could manage to get single majority required to form the government. At that juncture Khaleda Zia shamefully begged support from the despotic dictator Gen. Ershad leaving aside all their ideals and knowing that Gen. Ershad as a RAW agent had a hand in Gen. Zia’s brutal killing along with Gen. Manjur and 18 other senior freedom fighter officers just for the lust of power but failed. On the other hand Sheikh hasina had the last laugh at this measurable plight of Khalrfa Zia and formed the government she being the Prime Minister with the support of Gen. Ershad’s Jatiyo Party and Proff. Golam Azam’s Jamayet e Islami.

In this elections khaleda Zia’s party got 116 seats and after failing to get support from JP and Jamayet e Islami she sat in the parliament as the leader of the opposition. Jamayet’s number of seats came down from 17 to 3. However, due to the favor of Sheikh Hasina’s government Proff. Golam Azam could het back his citizenship. Gen. Ershad could also managed to come out from the Jail. The ring leader of the abortive Coup Gen. Nasim and his cohorts were all exonerated from all the punishments they were awarded the Court Martial trial by Hasina’s government including their dismissal orders so that they could enjoy all retirement benefits.

Let us now go back to the saga of my retirement from the service once again at Nairobi before the elections of 1996.

I and Nimmi had performed our Hajj along with Khalamma and Chacha in 1993. On return to Nairobi we faced a severe calamity. One morning after hearing the Azan for Fajar nimmi was leaving the bed for the attached wash room for her Ojuh. As she stepped down she fell on the floor with a scream. I immediately woke up and found her on the floor quivering in excuisite pain and totally unmovable! Somehow, I lifted her back to the bed and had called for the ambulance. She was carefully moved to the hospital. It was suspected to be a case of slip disk. After all kind of tests and MRI the specialist had opined that one of her disk on the lower lumber had been badly degenerated and collapsed. We were stunt! Nimmi had been allthrough very health conscious. She had been doing her daily work out regularly and was very carefull about her diet. Therefore, it was unbelievable that such a thing could happen to her! She was completely bed ridden and her neck, hands and feets were under traction for long one and half month. After one and half month she could walk little distance with the support of a walking stick with much difficulties and agonizing pain. She forced us to bring her back home in that condition. The treatment continued. The Orthopedic and Neuron surgeons along with the Physiotherapists started coming to the residence as scheduled. Knowing about her accident all the near reletives rushed to Nairobi.

Shapan and Keya had been suffering from similar kind of back problem and were nearly getting crippled. taking the advice from one of Shapan’s friend both had gone to Singapore to consult with a famous Orthopedic Surgeon Dr. freddy Chu. He after inspectimg them clearly said that chances of success of any spinal surgery is fifty fifty so, he would not recommend that but instead he would prefer to treat them with traditional Chinese method if they like. As they agreed, both were treated by him and recovered fully over a period of time. As they insisted I took Nimmi to Dr. fredy Chu. Shapan had made all the arrangements. After examining her he said her case was much more complicated than Shapan and Keya so, she would be required to come to Singapore for two weeks after every three months. She would be treated by him and an experienced Chinese Physiotherapist during those two weeks. This is how the first one year will go. Thereafter, schedule could be changed depending on her progress. The treatment started. With the time she had been progressing much faster than it was expected due to the treatment and kind mercy of Allah Subhan Wa Tala, the most gracious and most mercifull. By the end of first year Nimmi recovered a lot. Watching her recovery Dr. Fredy Chu decided in the second year she would be visiting twice after every six months instead of every three months. During the first half of the second year Nimmi was almost normal. She was doing her workout as prescribed, walking regularly and following her diet chart religiously. But she was advised to carry the walking stick as a handy tool to protect herself from any mishap.

At that juncture my tenure at Nairobi was finishing so, I wrote a letter to the honorable Prime Minister through the Foreign Minister requesting to post me at Singapore or any country close by on humaniterian ground to facilitate Nimmi’s treatment. Against that request I received my posting order at Brasil, a far away country from the Foreign Ministry. Being surprised with such a posting order I wrote another letter to Khaleda Zia. There I stated that Brazil being a far flung country it would be enormously expensive and cumbersome to continue Nimmi’s treatment at Singapore so, I humbly submited to reconsider the posting order after considering all aspects. I received the reply from the Foreign Ministry. I was informed that for not complying with the order the government has decided to send me home on compulsory retirement! My replacement was being sent and I should hand over charge to him and comply with the government order. Within three to four days after receiving the reply as my successor one carrier diplomat had arrived. Through the handing over the charge my long twenty years of diplomatic carrier came to an end somewhat in an unusual way. On 11th April 1995 the newly appointed diplomat became the High Commissioner. Such a decision of the government made us uneasy and emberassed. At that crucial time once again Ghulam Rabbani Khan came as a God sent angel. Reassuring me not to get disappointed he said

Revoval from the service is nothing new in your chequred carrier. You also remained alive even after five fetal attempts on your life. Through all these calamities the Great Creator and our Sustainer had been kind to show you the right path to move ahead in the past likewise in future also His blessings would be on you to find the right path through which He would achieve whatever He desires to obtain out of you. This is my firm conviction. You must not be sad but face everything like a brave freedom fighter. Rabbul Alamin is all knowing and watching everything. The way you have completely surrendered to Him with firm faith and shunning all worldly attractions selflessly taken a solemn vow to dedicate yourself for the cause of the humanity and Muslim Ummah just for earning his pleasure and moving forward crossing many arduous ups and downs basing on His mercy, I have no doubt in my mind that you would be certainly rewarded by Him here in this word and here after. He would also do justice to all wrong doings and unjust acts.

This Rabbani Khan is a strangely unique person! He is a piece of Diamond more precious than the Kohinoor. His spiritual vision is more than an ocean. Though in the worldly life his attenments and credentials are envious but at heart he is a Fakir in true sense and meaning of the word. Alongside rendering all his worldly responsibilities with a unflinching faith he with utmost sincerity he is doing everything that is needed to be closer to his Allah, the All Mighty Creator and the Sustainer behind everybody’s eyes. His depth of imagination and thought process had ober helmned me from the very beginning I had become closer. Though he is a mortal like any one of us but at times he appeared to be someone from other worlds!