দ্বিজাতি তত্ত্ব

স্বাধীনতার পরপরই ভারতীয় সরকার এবং তাদের আঁতেলরা জোরেশোরে প্রচারণা চালাতে শুরু করলো, বাংলাদেশের স্বাধীনতায় ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ যার ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান আর হিন্দুস্তান নামের দুইটি রাষ্ট্রে ‘ভারত মাতা’ বিভক্ত হয়েছিল সেই তত্ত্ব ভুল প্রমাণিত হয়েছে।

গান্ধী, নেহেরু, গোখেল, প্যাটেল প্রমুখ কট্টর বর্ণহিন্দু নেতাদের খায়েশ ছিল ব্রিটিশ রাজ থেকে কোনোমতে ছলেবলে কৌশলে হিন্দুস্তান নামের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র বাগিয়ে নিয়ে পুরো উপমহাদেশটাকেই গিলে খেতে এবং পরবর্তীতে ভারতমাতার পুনর্জন্ম ঘটাতে। কিন্তু তাদের সেই গুড়ে পড়লো বালি।

উপমহাদেশের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ব্রাহ্মণ্যবাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার দাবিতে সোচ্চার হয়ে উঠলো। কিন্তু অন্যান্য জাতিসত্তার তুলনায় সবচেয়ে বেশি সোচ্চার হয়ে রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে ব্রিটিশ-হিন্দু নেতাদের সব চক্রান্ত ব্যর্থ করে দিয়ে উপমহাদেশের মুসলমান জনগোষ্ঠী তাদের বাধ্য করে মুসলমানদের স্বাধীন আবাসভূমি পাকিস্তান রাষ্ট্র সৃষ্টি করতে। তুলনামূলকভাবে দুর্বল অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্রের জোরে দাবিয়ে রাখতে সচেষ্ট হয়েছিলো ভারতের আগ্রাসী চাণক্যরা ব্রিটিশদের সহায়তায়। কিন্তু এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সেই সময় থেকেই এখনঅব্দি স্বাধীনতার সংগ্রাম চলে আসছে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর ভারতীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে। ক্রমান্বয়ে এই সব জাতীয় মুক্তিসংগ্রাম তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম তাদের সংগ্রামী চেতনাকে শাণিত করেছে। যদিও স্বদেশী কিছু ভারতীয় তল্পিবাহক রাজনৈতিক দল, তাদের পোষা নেতানেত্রী এবং উচ্ছিষ্টভুক্ত বুদ্ধিজীবীদের বীণার সুরে একই তান শুনে বোঝা যায় ওরা কি জাতের প্রাণী! তাদের শাক দিয়ে মাছ ঢাকার অপচেষ্টার বিরুদ্ধে যুক্তিসঙ্গত কারণেই বলছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা দ্বিজাতি তত্ত্বের সঠিকতাই শুধু প্রমাণ করেছে তাই নয়, এই স্বাধীনতা এটাও প্রমাণ করেছে যে ভারতীয় ইউনিয়ন ব্রিটিশ সৃষ্ট একটি অবাস্তবতা যা টিকিয়ে রাখা হচ্ছে শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে। ১৯৪৭ সাল থেকেই একই প্রক্রিয়ায় অস্ত্রের জোরে টিকিয়ে রাখা হচ্ছে কৃত্রিম এই ভারতীয় ইউনিয়ন।

ইতিহাসের নিরিখে উপমহাদেশ বহুরাষ্ট্রিক একটি ভূখণ্ড। ঐতিহাসিক সীমানাগুলো বলপূর্বক সাময়িকভাবে বিকৃত করে দেয়া হলেও প্রাকৃতিক নিয়মেই একসময় রাষ্ট্রগুলোর প্রকৃত সীমানা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে ঐতিহাসিক বিধানে। স্বাধীন সত্তার ঐতিহ্য বহনকারী জাতিগুলো চিরকাল চাণক্যদের অধীনস্থ হয়ে থাকবে না। বিজাতীয় ঔপনিবেশিক শক্তিগুলোই তাদের শাসন ও শোষণের স্বার্থে অস্ত্রবলে নিজেদের একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠার জন্য এই উপমহাদেশে একটি একক রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলো। বৈদিকযুগের আর্যভাষীদের আগমনের কাল থেকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনকাল পর্যন্ত ইতিহাস ঘাঁটলে এই সত্য সহজেই অনুধাবন করা যায়। বৈদিক কালের যাযাবর বর্ণহিন্দুরা পামির মালভূমি থেকে নেমে এসে উপমহাদেশের উত্তর অঞ্চলে রামরাজ্য প্রতিষ্ঠার ধুয়া তুলে ‘অখণ্ড ভারত’ কায়েমের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়নি শক, হুন, আফগান, পারসি, পাঠান, মুঘল, আক্রমণকারী শাসকরাও।

একমাত্র ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদই উচ্চতর মানের সমর সম্ভার এবং বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তির বদৌলতে পুরো উপমহাদেশকে একটি প্রশাসনিক রাষ্ট্রে পরিণত করতে সক্ষম হয়েছিলো। অতএব, যুক্তিসঙ্গত কারণেই বলা যায়, একক রাষ্ট্র হিসাবে ভারতীয় ইউনিয়নের ইতিহাস অতি সাম্প্রতিক এবং কৃত্রিম। এখানে একটি সত্য প্রণিধানযোগ্য।

ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তির আগ্রাসনের আগপর্যন্ত কোন বিদেশী শক্তির পক্ষেই সম্ভব হয়নি বাংলাদেশকে পরাধীন করা। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রধান রবার্ট ক্লাইভ এসে বাংলাদেশের উপকূলে নোঙ্গর ফেলেন ব্যবসা-বাণিজ্যের উছিলায়। বাংলাদেশ তৎকালিন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে ছিল সবচেয়ে সমৃদ্ধশালী। ব্যবসায়িক সূত্রেই ক্লাইভের সাথে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে এতদঞ্চলের হিন্দু রাজন্যবর্গ এবং বেনিয়া সম্প্রদায়ের। এই সখ্যতার ধারাবাহিকতায় শিখন্ডি মীরজাফরকে কেন্দ্র করে শুরু হয় বাংলার নওয়াব সিরাজদ্দৌলার বিরুদ্ধে মুসলিম বিরোধী এক গভীর ষড়যন্ত্র। এই প্রেক্ষাপটেই সংঘটিত হয়েছিলো পলাশীর যুদ্ধ। সেই প্রহসনের যুদ্ধে উমিচাঁদ, রাজবল্লভ, ঘসেটি বেগম এবং হিন্দু বেনিয়াদের বিশ্বাসঘাতকতায় পরাজিত হন বিশাল বাংলার শেষ স্বাধীন নওয়াব সিরাজউদ্দৌলা।

বাংলাদেশ কব্জা করে নেয় ব্রিটিশ রাজ। এরপর পুরো ভারতবর্ষকেই ব্রিটিশ আগ্রাসীশক্তি উপনিবেশে পরিণত করে দিল্লীর শেষসম্রাট বাহাদুর শাহ জাফরকে পরাজিত করে। এই পরাজয়ের পিছনেও রয়েছে মুসলমানদের প্রতি চরম বিদ্বেষী হিন্দু রাজা-মহারাজা এবং ধনী বেনিয়া সম্প্রদায়ের বিশ্বাসঘাতকতার এক করুণ উপাখ্যান।

উনিশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে ব্রিটিশ অপশাসন ও শোষণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর স্বাধীনতার আন্দোলন যখন শৌর্যবীর্যে তেজঃদীপ্ত হয়ে দানা বেঁধে উঠছিলো তখনই পাশ্চাত্য ধ্যান-ধারণায় দীক্ষিত বর্ণহিন্দুদের সর্বভারতীয় নেতৃত্ব সৃষ্টি করার লক্ষে অ্যালান অক্টেভিয়ান হিউম এবং অ্যানি বেসান্ত-এর উদ্যোগে জন্ম হয় পরিকল্পনা অনুযায়ী কংগ্রেস পার্টির, ব্রিটিশ রাজের প্ররোচনায় এবং সার্বিক সহযোগিতায়। উদ্দেশ্য ছিল পরিষ্কার। জাতিগোষ্ঠীসমূহের স্বাধীনতার দাবি উপেক্ষা ও দমন করে ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান ইউনিয়নকে অটুট রেখে স্বাধীনতার পর প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ভারতের হিন্দু রাজন্যবর্গের বদান্যতা, সার্বিক সাহায্য সহযোগিতার সাথে ভারতবাসীকে বলির পাঁঠা বানানোর পুরস্কার স্বরূপ বর্ণহিন্দুদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসানো। ব্রিটিশদের এই চক্রান্তের কারণ ছিল মূলত দু’টি।

১। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদকে উপমহাদেশ দখল করতে হয়েছিল মুসলমানদের প্রচণ্ড বিরোধিতার মুখে লড়াই করে। ফলে, শুরু থেকেই মুসলমানরা হয়ে ওঠে ইংরেজদের চক্ষুশূল। পক্ষান্তরে, প্রতিহিংসার রোষানলে বিদগ্ধ বর্ণহিন্দুরা ইংরেজদের প্রতি সাহায্য সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলো মুসলমান সম্রাটের বিরুদ্ধে এবং বরণ করে নিয়েছিল মুসলমান শাসনের পরিবর্তে ইংরেজদের গোলামী।

২। ব্রিটিশ রাজ কায়েমের পর মুসলমানদের বিত্তহীন করে তাদের কাছ থেকে সমস্ত ধনসম্পদ, জমিজমা, ব্যবসা-বাণিজ্য ছিনিয়ে নিয়ে হিন্দুদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছিলো চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের মাধ্যমে। এভাবেই হিন্দুরা আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে রাতারাতি বিত্তশালী এবং প্রভাবশালী হয়ে ওঠে আর মুসলমানদের পরিণত করা হয় নিঃস্ব, পশ্চাদপদ সম্প্রদায়ে। সুদীর্ঘ দু’শ বছরের ইংরেজ গোলামির ইতিহাসের শেষদিন পর্যন্ত হিন্দু সম্প্রদায়কে ব্রিটিশরা দেখেছে অনুগত আস্থাভাজন হিসাবে, আর মুসলমান সম্প্রদায়কে দেখেছে সন্দেহজনক বিদ্রোহী হিসাবে।

পাশ্চাত্য সভ্যতা ও ধ্যান-ধারণায় বিশেষভাবে আকৃষ্ট বর্ণ এবং উচ্চ শ্রেণীর হিন্দুদের আনুগত্য সম্পর্কে ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী ছিল সুনিশ্চিত। তাই, তারা চেয়েছিল স্বাধীনতাত্তোর কালে ভারতের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসাতে হবে মুসলমানদের নয়-উচ্চবিত্তের হিন্দুদের, এতে পরোক্ষভাবে সম্ভব হবে তাদের কায়েমী স্বার্থ বাঁচিয়ে রাখা। এরই জন্য প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল কংগ্রেসকে সর্বভারতীয় পার্টি হিসাবে গড়ে তোলার।

কংগ্রেস গড়ে তুলতে সুপরিকল্পিত ভাবে ধর্মীয় চেতনাকে সতর্কতার সাথে হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো নব্য চাণক্যরা। ভারত মাতা, হিন্দুস্তান, বন্দেমাতরম ও জয়হিন্দ স্লোগান তুলে হিন্দু সম্প্রদায়ের আস্থা ও সমর্থন লাভে সফল হয়ে কংগ্রেসকে একমাত্র জাতীয় দল হিসাবে গড়ে তুলতে সক্ষম হন গান্ধী এবং দলীয় নেতৃবৃন্দ।

ধর্মনিরপেক্ষতার নামে কংগ্রেস যখন হিন্দুত্ববাদের নামাবলি গায়ে চড়াতে চাইলো সারা উপমহাদেশে তখন সব সংখ্যালঘু ভিন্নধর্মীয় সম্প্রদায়গুলো নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রাখার জন্য স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু করতে বাধ্য হয়।

মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাসভূমির দাবি জানিয়ে বাংলাদেশের ঢাকা শহরেই জন্ম নিলো মুসলিমলীগ নামের রাজনৈতিক দল নওয়াব স্যার সলিমুল্লাহর নেতৃত্বে। কংগ্রেস ও মুসলিমলীগের নৈতিক এবং দ্বান্দ্বিক বাস্তবতাই ছিল দ্বিজাতি তত্ত্ব। ক্রমান্বয়ে হিন্দুদের জন্য হিন্দুস্তান আর মুসলমানদের জন্য পাকিস্তান এই দুই দাবিতে হিন্দু-মুসলমান সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ ভয়াবহ সংঘাতের রূপ ধারণ করে। রক্তক্ষয়ী দাঙ্গায় বিপুল প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি ছড়িয়ে পড়ে সারা ভারতবর্ষে। ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের মতো পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও ত্যাগ ও তিতিক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলো বাংলাদেশের মুসলমানরাই। ইতিহাস তার সাক্ষী। পাকিস্তান আন্দোলনের প্রথম শহীদ সংগ্রামী ছিল খুলনার কারমাইকেল কলেজের এক তরুণ ছাত্র। সেই মিছিলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন আমার স্বর্গীয় পিতা আলহাজ শামসুল হক তখন সলিমুল্ল্যাহ মুসলিম হলের জেনারেল সেক্রেটারি একিসাথে মুসলিমলীগের ছাত্র এবং যুব সংগঠনের একজন শীর্ষ স্থানীয় নেতা।

রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয় ব্রিটিশ রাজ। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই দ্বিজাতি তত্ত্ব মেনে নিতে বাধ্য হয় ব্রিটিশ সরকার। ‘ভারত মাতা’কে দ্বিখণ্ডিত করে ১৯৪৭ সালে দু’টি স্বাধীন রাষ্ট্র কায়েম হয় পাকিস্তান ও হিন্দুস্তান (ভারত) নামে।

কালের স্রোতে রাজনৈতিক নেতৃবর্গের অদূরদর্শিতা, অপশাসন, শোষণ-বঞ্চনা এবং দেশি-বিদেশী কায়েমী স্বার্থবাদীগোষ্ঠীর চক্রান্তের ফলে ১৯৭১ সালে এক রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানের জনগোষ্ঠী পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত করে।

অতএব, অখণ্ড ভারতের যৌক্তিকতা কতটুকু সেটা দিবালোকের মতোই স্পষ্ট। ইতিহাসের নিরিখে বলা যায়, যে সকল জাতিগোষ্ঠী স্বাধীনতার জন্য রক্তের আহূতি দিতে প্রস্তুত তাদের চেতনাকে অস্ত্রের মাধ্যমে পরাস্ত করা কিছুতেই সম্ভব হয় না।

স্বাধীন বাংলাদেশের সৃষ্টি সেই সত্যকেই আরেকবার প্রমাণ করেছে। উপমহাদেশের চলমান স্বাধীনতার সংগ্রামে বিজয়বর্তিকা হিসাবে বাংলাদেশ চিরভাস্বর হয়ে থাকবে।

সাংবিধানিকভাবেও বিশ্ববাসীর যেকোনো স্বাধীনতার সংগ্রামে সমর্থন দিতে অঙ্গীকারবদ্ধ বাংলাদেশ। এটাই প্রতিবেশী ভারতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষ হুমকি। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষার চেতনার প্রতীক শিখা অনির্বাণকে কখনোই নেভাতে পারবে না কোনও আগ্রাসী অপশক্তি। লেখক সেটাই বিশ্বাস করে।

Two Nation Theory

Just after Bangladesh came into being the Indian government and the intellectuals there raised a hue and cry that independent Bangladesh has negated the ‘Two Nation Theory’ because of which the ‘Bharat Mata’ was wrongly dissected giving birth of two countries called Hindustan and Pakistan in 1947. Gandhi, Nehru, Gokhel, Patel etc the high cast Brahmins had the carnal desire to gulp the entire Sub Continent by hook or crook establishing one free country called Hindustan in conivence of the British Raj. Thus giving rebirth of their long cherished ‘Varat Mata’ once again. But their desire was not fullfiled as athnically different nations became vocal for their independence against the domination of Brahmanism. However, it was the Muslims in comparison became vigorously vocal with their claim for a separate homeland and through a bloody movement forced the Brahmans and British Raj to abundant their nefarious design conceding to their demand and Islamic Republic of Pakistan saw the daylight. Voice of relatively weaker nations were easily muted and brought within the fold of Indian Union applying aggressive brutal force with a nod of the departing colonial British master.

However, many nation braved the brutal aggressive onslaught and

continued fighting their liberation war till this date. With the passage of time more and more nation are raising their voice for freedom and had launched armed struggle to liberate themselves from the clutches of oppressive Indian Union. All these movements are gaining streanth with every passing day against all odds. Liberaton war and our independence inspired the liberation struggle of different nation inside India. Their resolve and determination became more vigorous and many more had joined the fray over the past years. However, Indian government and most of the leaders of political parties are on the same page and denying this fact but for how long? Brutal force can supress these freedom struggles for some time but not for all times.

In the back drop of their futail efforts I dare to say

independence of Bangladesh does not only justify ‘Two Nation Theory’ but also proved that ‘Indian Union’ is an artificial entity created by the British Colonialism which has been kept united since 1947 through state terrorism against distict different ethenic nationalities who are fighting for their freedom. Historically this Sub continent comprised of multy national entities with their distict self identity and territorial boundaries. Those boundaries had been changed with force but shall be regained once again as a natural historic phenomenon by the freedom loving nations who are sacrificing their blood for independence from the clutches of the Brahmanic ruling coteries of so called Indian Union. Different nations having glorious heritage of the past within Indian Union imbued with the spirit of independence shall never accept the perpetual bondage of slavery under the Chanakkyas, the ruling elites of Indian Union at any cost.

The liberation war of Bangladesh had sharpened the spirit of the other national liberation struggles that had been started after British

colonization and are gradually on the rise infesting different parts of so called Indian Union. Although, when one listen to the corus sung by some local political partes and their leaders as lakys of outside powers and psudo intellectuals as paid agents denying this reality has to wonder what kind of quire spicies are they! To put the record straight against their malicious propaganda I shall once again retareiated that the emergence of Bangladesh as an independent nation state had not only proved the rationale of ‘Two Nation’ theory but had also proven that the ‘Indian Union’ is an artificial impractical entity created by the British colonial masters by force and had been maintained till this date applying brute force to perpetuate power and gains during colonial period and now by the ruling elites given birth by the British. The outside invedors for their vested interest and singular domination had attempted to bring the whole Sub Continent under singular state structure. Since ancient time when the language based Ariyans had intruded into the Sub Continent and untill British colonization if we look into the history then this fact can be easily ascertained. The nomads Ariyans, the highest cast Hindu Brahamins had decended from the Pamir platue and had usurped the northern part of the Sub Continent as their habitat proclaiming to create ‘Ram Rajjyo’ in a ‘Akhnd Bharat’, but failed. Only the Britiah colonizing Empire could succeed to do that with superior armaments. Therefore, it is justified to say that the entity of a ‘United India’ is a recent artificial phenomenon in history.       

In this context, the partinant fact is that a British trader called Robert Clive of British East Indian company initially anchord his fleet on the coast of greater Bengal with the plae to do trade. The reason being, at that time Bangladesh was most resourcefull flureshing state in the whole Sub Continent.

In all respect. Under the cover of trade the cunning representative of British Empire developed close contacts with the local Hindu

Landloards and the business community(Beniyas). In connivance with those cohorts Clive hatched up an anti Muslim conspiracy against the last Nawab Shirajdaula keeping his own uncle Mir Zafar the traitor in the forefront as their henchman. The conspiracy led to the war at Palashi. In that fatefull battle due to the bitryal of Mir jafar, Hindu Land Lords and aristrocracy as well as the Beniyas like Ghoshiti Begum, Ray Bollav, Umi Chad and many others Nawab Shirajdaula, the ruler of the biggest state of the Sub Continent had to concede defeat and later was ruthlessly killed in captivity. With this tragic betrayal and defeat paved the way for the British Empire to colonize the entire Sub Continent defeating the last emperor Bahadur Shah Zafar again due to the betrayal of the Hindu Rajas and Moha Rajas who hated the Muslim rulers from the core of their hearts. This is the sadest saga of treachery and betrayal of the Hindus of the Sub Continent. The story did not end there. After defeating the Muslims the British Raj had snatched away all the land, assets and wealth form the Muslims and gave them away to the Hindu allys through the decree of ‘Permanent Settlement’ creating a wealthy and strong social elite class who all through had remained their trusted lackies in ruling British India. Not only that this class of people and provided all kind of support in term of men and material to the British during the 1st and 2nd World War against the axis power.

At the beginning of 19th century when differen nations of the Sub

Continent imbued with strong spirit of independence launced vigorous struggle against the aggressive and repressive British colonial regeim and their anti British struggles were getting intense all over the land the Raj initiated a very clever move. They decided to form a political party under the leadership of upper cast Hindues who were their lakys, well accustomed with the Western culture and values. Sir Dauglas Hume and Anny Basant under the patronage of the British Raj founded the party called ‘All India Congress Party’. Later, Gandhi was imported from South Africa and made him the Supremo of the

Congress Party. The objective was very clear. The British wanted to give independence to Indian Union as a single state rewarding their henchmen, the upper cast Hindu elites as the ruling class and at the same time to mute the on going liberation struggle of different nations. There were two good reasons for such a sinister design.

  1. British hated Muslims as they faced severe resistance from them to colonize the Sub Continent. Therefore, they never trusted the Muslims but considered them rebellious. Hindus hated Muslims being subject under Muslim rule over more than 500 years so they not only connived with the British to over throw the Muslim ruler but had also became loyal surrogates of the invading British emperial colonizer.
  2. Islam as a divine revelation and living philosophy had always posed as a threatening challenge to both Hinduism and Christianity. So, they were turned into poppers and Hindus affluent through the issuance of Ordinance of ‘Permanent Settlement’, where by Land, immovable and movable properties, business, means of productin and all other sources of earning were snatched away from the Muslims and handed over to the Hindus. Thus Muslims remained neglected, avorsive, oppressed and persecuted as a backward community till this date in India and the Hindus progressively became predominating socio economic power.

Gandhi and all other leaders of Congress Party, Neo Chanakkays

used the religion very cleverly and had been successful to get the

support of the majority Hindu population by chanting slogans like

‘Bharat Mata’, ‘Hindustan’, ‘Bonde Mahtaram’, ‘joy Hind’ etc.

Under the clock of secularism when Congress was determined to

establish its hegemony over the rest of the ethnic and religious

minorities. That had forced them to launch armed struggle against

Brahminism to uphold their age old separate self identity and heritage.

For establishing a separate home land for the muslims the largest

minority a political party named All India Muslim League was founded at Dhaka under the leadership of Nawab Sir Salimullah. This was the brain child of a few Aligorians young student leaders. Moral and dialectical reality of the time was the basis of the ‘Tow Nation’ theory. Gradually the conflicting demand claimed by cast Hindus to create independent Hindustan and Muslims to establish Pakistan

polarazied and turned fearcely violent. Bloody clashes errupted all over India causing enormous loss of lives and properties. Anti British movement was spearheaded by the valiant people of Bengal. Likewise, the Muslims of Bengal played the vanguard role in this struggle to achieve a separate home land, Pakistan for the Muslims of the Sub Continant. The history testified this truth. The first martyer for this cause was a young student activist of the Karmaical college of Khulna. The bloody movement jeopardized the mechanization of both the Hindu Congress leaders and British Raj. The demand of the Muslim became irreversible and finally the British Raj had to accept the ‘Two Nation’ theory and devide India to create two independent states Pakistan and Hindustan in 1947. Congress had to accede with bitterness the dissection of the so called ‘Varot Mata’.

Over the passage of time visionless power hungry ruling elits and the unscrupulous military junta of the West Pakistan with feudal mindset forced the people of the than East Pakistan had to pick up arms against the un called for exploitation, repression and genocide to get their freedom and independent Bangladesh was born with lot of sacrifices. However, in no way, emergence of independent Bangladesh has not negated the ‘Two Nation’ theory. How much the dream of the ‘Akhond Bharat’

is justified that is as clear as broad day light. Historically, no nation imbued with the spirit of freedom and ready to sacrifice their blood can’t be subdued for ever with brut force of arms. Independence of Bangladesh is a burning example. Bangladesh will ever remain to be a becon to the other on going liberation struggles of the Sub Continent. Constitutionally Bangladesh is bound to provide support to any justified liberation struggle across the world. This is a significant concern and threat to neighboring India. No aggressive power on earth can extinguish the eternal flame of independence.